ওয়াশিংটন, ১১ জুন: ইরানের বিরুদ্ধে আবারও ‘কঠোর’ সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “গতকাল আমরা কঠোর আঘাত হেনেছি, আজও তা অব্যাহত থাকবে।”

ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত একটি নতুন চুক্তিতে সই করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “যেকোনো চাপ ও হুমকির বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।”

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর ইরানের প্রায় ২০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়। জবাবে ইরান জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরানের ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনও হামলা প্রতিহতের কথা জানিয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান আলোচনায় সময়ক্ষেপণ করছে এবং এর জন্য দেশটিকে মূল্য দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান চুক্তিতে রাজি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

তবে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কাতারের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার তেহরানে পৌঁছে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা শুরু করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপের মাধ্যমে ইরানের অবস্থান দুর্বল করতে পারবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, “নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যান।”

বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক যুদ্ধ এড়াতে চায়। তবে সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।