মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি রোববারই স্বাক্ষর হতে পারে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
রোববার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম Fars News Agency এক প্রতিবেদনে জানায়, আলোচনায় থাকা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে তেহরান এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেয়নি।
ইরানি আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আলোচনায় উত্থাপিত প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।”
চুক্তিটি নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক ও সামরিক মহলের অনেকেই মনে করছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি ইরানের জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষা করবে না। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz-এর ওপর ইরানের প্রভাব কমে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌযানের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে।
এদিকে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, যখন ইরানি আলোচকরা বলছেন আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তখন ট্রাম্প অস্বাভাবিক তাড়াহুড়া করে চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিচ্ছেন।
আইআরজিসির কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, ১৪ জুন নিজের জন্মদিন উপলক্ষে ট্রাম্প একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন এবং সেই কারণেই তিনি দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন।
এর আগে শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর আমলে হওয়া ওই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দিয়েছিল।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার প্রশাসনের নীতির কারণে ইরান এখন আর পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে এগোতে পারছে না এবং বর্তমান আলোচনা এমন একটি কাঠামো তৈরি করবে যা ভবিষ্যতেও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে সীমাবদ্ধ রাখবে।
তবে তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, আলোচনা এখনো চলমান এবং চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বহুল আলোচিত এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।