শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

সারাদেশ

মায়ের কবরের পাশে শায়িত তাসনিম রিফাত

মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন নিহত সেনা সদস্য তাসনিম রিফাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে রাজশাহীর দামকুড়ার বিন্দারামপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার মরদেহ নিজ গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে এক দুর্ঘটনায় রিফাতসহ দুই সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়।  বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয় রিফাতের মরদেহ। সেখান থেকে ফ্রিজিং গাড়িতে করে তাসনিমের মরদেহ নেওয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। নিজ গ্রামে মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি ও আর্তনাদে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম। তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমান এলাকাবাসী। স্বজনরা জানান, একদিন পর প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন রিফাত। এরপর তার বগুড়া সেনানিবাসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। গত বছর ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের মৃত্যুর পর বারবার রাজশাহীতে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক কর্মকর্তা।  আইএসপিআর জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। 

মায়ের কবরের পাশে শায়িত তাসনিম রিফাত

মায়ের কবরের পাশে শায়িত তাসনিম রিফাত

মায়ের কবরের পাশে শায়িত হলেন নিহত সেনা সদস্য তাসনিম রিফাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে রাজশাহীর দামকুড়ার বিন্দারামপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার মরদেহ নিজ গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে এক দুর্ঘটনায় রিফাতসহ দুই সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়।  বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয় রিফাতের মরদেহ। সেখান থেকে ফ্রিজিং গাড়িতে করে তাসনিমের মরদেহ নেওয়া হয় গ্রামের বাড়িতে। নিজ গ্রামে মরদেহ পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি ও আর্তনাদে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো গ্রাম। তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমান এলাকাবাসী। স্বজনরা জানান, একদিন পর প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন রিফাত। এরপর তার বগুড়া সেনানিবাসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। গত বছর ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের মৃত্যুর পর বারবার রাজশাহীতে ফিরতে চেয়েছিলেন তিনি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক কর্মকর্তা।  আইএসপিআর জানিয়েছে, আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তার সাথে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সঙ্কটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এসময় রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একইসাথে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নদী দিয়ে এখনো মরদেহ ভেসে আসছে। আশপাশে জমে থাকা কাদার স্তূপ আলকাতরার মতো ঘন আকার ধারণ করেছে। সেখানেও লাশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালের মর্গগুলোতে আর জায়গা খালি নেই। যেসব দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর পরিচয় দ্রুত শনাক্তের জন্য স্বজনদেরকে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোর মাধ্যমে ছবি দেখানো হচ্ছে। বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর নেপালিরা এখন মরদেহ নিয়ে এক বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে পড়েছে। অনেক মরদেহ এমনভাবে বিকৃত হয়ে গেছে যে চেনার উপায় নেই। সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে বসতবাড়ি থেকে বহু দূরের এলাকাতে। নিরাপদে সংরক্ষণের জায়গা ফুরিয়ে আসায় ভারতপুর জেলায় ইতোমধ্যে গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি মরদেহে ট্যাগ ও একটি অবস্থান নম্বর লাগানোর আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর মরদেহগুলো প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে গণকবরে রাখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনরা এসব দেহ শনাক্ত করতে পারবেন।  দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। সেখানে নদীর তীরজুড়ে ২৫০টির বেশি দেহ পাওয়া গেছে। বিকৃত হওয়ার কারণে মাত্র নয়টির পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এই জেলার জঙ্গলেও গণকবর তৈরি করা হয়েছে।  মরদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে স্থানীয় কর্মকর্তারা এক ‘মর্মান্তিক’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তারা স্বজনদেরকে মরদেহগুলোর ছবি দেখতে বলছেন। শনাক্ত করার মতো বৈশিষ্ট্য খুঁজে দেখতে বলা হচ্ছে। যেমন- গলার হার, বিয়ের আংটি, উল্কি বা শরীরের কোনো ক্ষতচিহ্ন।  উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ছবি পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোতে সাজানো হয়েছে। স্বজনদেরকে ধৈর্য নিয়ে একটির পর আরেকটি ছবি দেখতে হচ্ছে। ছবিগুলো নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি মর্গের বাইরের দেয়ালেও ভেতরে থাকা মরদেহগুলোর ছবি টানানো হয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে কেবল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারছে। রোববার নেপালের পররাষ্ট্রসচিব অমৃত বাহাদুর রাই বলেন, নিহতদের মরদেহ নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য সরকার ১ হাজারের বেশি ফ্রিজার ইউনিট চেয়েছে। নদী উপত্যকার কিছু নিচু এলাকায় এখনো সড়কপথে যাওয়া যাচ্ছে। সেখানে কাদার নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছেন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীরা।  ত্রিশূলী নদীর তীরের শহর দেবীঘাটে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আমাবাদুত্ত ভট্ট বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। এখান থেকে আমরা ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। বেশিরভাগ বাড়ির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ধ্বংস হয়ে গেছে। সব কাদা সরাতে অনেকদিন লাগবে। তখন মরদেহের আর কী অবশিষ্ট থাকবে, কে জানে।’ দেবীঘাটে বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরবাড়ির জায়গায় ফিরছেন। সেখানে অনেক বাড়িই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ৪৯ বছর বয়সী উষা নেপালির বাড়িতে অবশিষ্ট বলতে আছে শুধু কয়েকটি কংক্রিটের ব্লক ও বেঁকে যাওয়া ধাতব কাঠামো। এই বাড়িতেই তিনি চার সন্তান ও তিন নাতি-নাতনিকে বড় করেছেন। কাঁদতে কাঁদতে উষা নেপালি বলেন, ‘এখানেই আমার জীবনের সবকিছু দিয়েছি। এখন জানি না কোথায় যাব, কী করব। গায়ের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই জমি এখন আর নিরাপদ নয়, কিন্তু এটাই আমাদের শেষ সম্বল।’ ত্রিশূলী নদীর পাশে বসবাস যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে তা রোববার আরেকবার দেখা যায়। নদীর পানি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। এরপর দেবীঘাটের অনেক বাসিন্দা ঘরে অবশিষ্ট থাকা কিছু জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে শুরু করেন। তাদের অনেকে স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় পাড়ি জমাবেন। বন্যার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরের কয়েক মিনিটে শুধু নিজের স্বর্ণের গয়না নেওয়ার সময় পেয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সী যমুনা মাগার। বাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দেবীঘাটে এরপর কীভাবে বসবাস করবেন তা বুঝতে পারছেন না। যমুনা বলেন, ‘আমরা এর আগেও বন্যার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু কখনো এমন বন্যার কথা ভাবিনি। আমাদের যা কিছু ছিল, সবই হারিয়ে গেছে। নিজের জীবন, সন্তানদের নিয়ে আমি এতটাই চিন্তিত যে এখানে আর থাকতে চাই না।’

৩১ আগস্ট ২০২৬
নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

নেপালে আকস্মিক বন্যার পর এখনো শত শত বিদেশি পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের তালিকা: ভারত: দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। চীন: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯০ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেন: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর থেকে ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। মালয়েশিয়া: ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সঙ্গে ভ্রমণরত ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্য: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে তিব্বতে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন নেপালের নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। কানাডা: কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ জন কানাডীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন পর্যটকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধারে নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৩১ আগস্ট ২০২৬
চীনের তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জনসহ নিখোঁজ ৫৪৬, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

চীনের তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জনসহ নিখোঁজ ৫৪৬, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

চীন-নেপাল সীমান্তে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং পোর্টে কাদা ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র, জননিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও পর্যটন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যৌথ অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাইয়ের পর এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। বেইজিংভিত্তিক সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চীন সীমান্ত এলাকার মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্ধার ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন, ব্রিটেনের ১৫ জন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন করে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ জন, মালয়েশিয়া, জার্মানি ও রাশিয়ার ৩ জন করে, আয়ারল্যান্ড, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের ২ জন করে এবং কাজাখস্তান, ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল, ইউক্রেন, স্পেন ও হাঙ্গেরির ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। চাইনিজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। এদিকে পাশ্ববর্তী দেশ নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারী হিসাব ও স্থানীয় গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

৩০ আগস্ট ২০২৬
‘যোদ্ধার’ মতো বেঁচে ফেরা ৯৭ বছরের বৃদ্ধা এখন নেপালের নতুন প্রতীক

‘যোদ্ধার’ মতো বেঁচে ফেরা ৯৭ বছরের বৃদ্ধা এখন নেপালের নতুন প্রতীক

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ৯৭ বছর বয়সী গুণ মায়া বোহারা উদ্ধার পেয়ে আশার প্রতীক ও বন্যার নতুন মুখ হয়ে উঠেছেন।  রোববার (৩০ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চার ঘণ্টার দীর্ঘ চেষ্টার পর পুলিশ ও নেপাল সেনাবাহিনী তাকে একটি এক্সেভেটর বা কোদালের ভেতরে বসিয়ে নিরাপদে বের করে আনে। একটি বৃদ্ধাশ্রম ভেঙে পড়ার পর গুণ মায়া বোহারা তার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি নেপালি। খবর পেয়ে কাঠমান্ডু থেকে ছুটে আসা তার নাতি দীপক বোহারা জানান, উদ্ধারপ্রাপ্ত বৃদ্ধাকে যুদ্ধ জয় করে ফেরা ‘এক যোদ্ধার’ মতো দেখাচ্ছিল। এক্সেভেটরের বাকেটে করে কাদামাখা পোশাকে এই বৃদ্ধাকে নিয়ে আসার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি কীভাবে এই ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে ছিলেন তা বলতে পারছেন না বলে দ্য টাইমসের বরাতে ল্য পারিসিয়েন জানিয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। রসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসের কারণে ভোটেকোশী নদীতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩০০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ নতুন করে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, এই মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির পর পুনর্গঠন কাজের জন্য দেশটিকে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে, যা তাদের পুরো অর্থনীতির প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ।

৩০ আগস্ট ২০২৬
ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নেপালে ফের বন্যার সতর্কতা

ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নেপালে ফের বন্যার সতর্কতা

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। এর মধ্যেই নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ পানিতে উপচে পড়ায় ফের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ খবর জানিয়েছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত সব নিরাপত্তা কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে এপিকে বলেন, কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতায় থাকলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, উদ্ধার কাজ বন্ধ হয়নি। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রদর্শিত স্যাটেলাইট চিত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার যে স্থানে হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছিল ঠিক একই এলাকায় নতুন এই হ্রদটি তৈরি হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র এবং প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে যে নদীর উজানের গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে একটি বর্ধমান হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা যেকোনও সময় ফেটে গিয়ে নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ আবার বন্যা ঘটাতে পারে।

২৮ আগস্ট ২০২৬
নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ

নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভূমিধসে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় ভাটি অঞ্চলে নতুন করে বিধ্বংসী বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সীমান্তসংলগ্ন দুই দেশেই উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কায় নেপালের রাসুয়া জেলাসহ ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু পাহাড়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের জলচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় চীনের সব উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় যানবাহনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি নিশ্চিত করেছে। নেপাল অংশেও উদ্ধার তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। চীনা প্রকৌশলীদের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার হ্রদটিতে আটকে থাকা পানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটারে, যা আগের দিনের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে হ্রদের ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করে সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করছে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল। গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদী দিয়ে নেমে আসা কাদা, পাথর ও বরফের তীব্র স্রোতে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই আকস্মিক বন্যায় কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, কালভার্ট ও পাকা সেতু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নেপালের রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, হ্রদের পানি বৃদ্ধির পর স্থানীয় জনপদে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে চীনের জিরং কাউন্টিতেও ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি চীনা উদ্ধারকর্মীরা। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের এই অংশে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন। হিমালয় অঞ্চলের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে বলেন, ‘এমন বিধ্বংসী রূপ আগে কখনো দেখা যায়নি, যেখানে অত্যন্ত মজবুত ও সুনির্মিত ভবনগুলো টুথপিকের মতো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ এক দুর্যোগ। আমরা সেখানে সহায়তা পাঠাচ্ছি এবং দেশটির নেতাদের জানিয়ে দিয়েছি যে তাদের প্রয়োজনে যা চাওয়া হবে, আমরা তা-ই সরবরাহ করব।’

২৮ আগস্ট ২০২৬
‘তৈফুন ব্লক-৪’ বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

‘তৈফুন ব্লক-৪’ বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

তুরস্কের তৈরি নতুন ‘তৈফুন ব্লক-৪’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে তেল আবিবে নতুন করে কৌশলগত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তুর্কি ভাষার 'তৈফুন' অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় নামের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার। তৈফুনের সরাসরি আঘাত হানার ক্ষমতার আওতায় এখন গোটা ইসরাইল। মিডলইস্ট মনিটর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জানায়, তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা রকেটসান নির্মিত ৭.২ টন ওজনের এবং ১০ মিটার দীর্ঘ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় আকারে অনেক বড় ও ভারী। এটি তার উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গিয়ে গতিপথ পরিবর্তন বা ম্যানুভার করতে সক্ষম, ফলে প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। ক্ষেপণাস্ত্র্টি মূল লক্ষ্যবিন্দু থেকে সর্বোচ্চ ৫ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে গিয়ে আঘাত করতে পারে। সামরিক প্রযুক্তির পরিভাষায় এই সক্ষমতাকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং কার্যকর লক্ষ্যভেদ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি প্রতি ঘণ্টায় শব্দের গতির সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি বা মাক ৫.৫-এর উপরে । কোনো ধরনের মার্কিন বা ইউরোপীয় অনুমোদন ছাড়াই স্বাধীনভাবে কৌশলগত হামলা চালানোর এই ক্ষমতা তুরস্কের সামরিক শক্তিতে এক বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির তাত্ত্বিক পাল্লার মধ্যে পুরো ইসরায়েল অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, ইসরায়েলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা আপাতত এই ঝুঁকিকে কিছুটা খাটো করেই দেখছেন। তাদের মতে, অ্যারো-২, অ্যারো-৩ এবং ডেভিডস স্লিং সমন্বিত ইসরায়েলের বহুমাত্রিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের তৈরি উন্নত বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার লক্ষ্যেই তৈরি। তা ছাড়া তুরস্ক একটি ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র এবং এনপিটিতে স্বাক্ষরকারী। তাছাড়া তৈফুন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়, বরং এটি সাধারণ বা প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্র বহন করায় এর ধ্বংসক্ষমতাও সীমাবদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অবনতিশীল কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তেল আবিবে পৌঁছানোর সামর্থ্য নিয়ে আঙ্কারার এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক বাধা প্রদান ও মানসিক মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ। এর পরও ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের সাথে ইসরাইলের সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখনো খুবই কম, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২৬ আগস্ট ২০২৬
টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া দপ্তর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও দিল্লি বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) মঙ্গলবার সকাল পৌনে সাতটার পূর্বাভাসে জানায়, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী তিন ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।সোমবার অতিবৃষ্টির কারণে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দিন তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।আইএমডির বিজ্ঞানী ড. শশী কান্ত জানান, উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ পুবালি বাতাসের সংঘর্ষের ফলে দিল্লিতে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরগাঁওয়ের রাজীব চক, ইফকো চক ও রেলওয়ে রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পানিতে ডুবে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন স্কুলের কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা এবং অফিসগুলোতে কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

২৫ আগস্ট ২০২৬
টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া দপ্তর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও দিল্লি বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) মঙ্গলবার সকাল পৌনে সাতটার পূর্বাভাসে জানায়, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী তিন ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।সোমবার অতিবৃষ্টির কারণে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দিন তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।আইএমডির বিজ্ঞানী ড. শশী কান্ত জানান, উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ পুবালি বাতাসের সংঘর্ষের ফলে দিল্লিতে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরগাঁওয়ের রাজীব চক, ইফকো চক ও রেলওয়ে রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পানিতে ডুবে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন স্কুলের কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা এবং অফিসগুলোতে কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

২৫ আগস্ট ২০২৬

গণভোট অবৈধ হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে: মামুনুল হক

গণভোটকে অবৈধ বলা হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসদরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মামুনুল হক এসব কথা বলেন। মামুনুল হক বলেন, ‘ক্ষমতার মসনদে বসে ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটকে অবৈধ বলেন, এ দুঃসাহস আপনাকে কে দিয়েছে? জনগণের ভোটাধিকারকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করলে জনগণকেই অসম্মান করা হয়। ভালোয় ভালোয় সংস্কার করেন। গণভোট যদি অবৈধ হয়ে থাকে, আপনার সরকারও অবৈধ সরকার।’ লংমার্চকে সরকারকে সতর্ক করার কর্মসূচি উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা যে যাত্রা শুরু করেছি, এটা হলো সরকারকে সতর্ক করার যাত্রা। এই লংমার্চ সরকারকে সজাগ করার লংমার্চ। সরকার যদি সতর্ক না হয়, এবার হলুদ কার্ড দেখানো হবে। এরপর আপনারা প্রত্যেকে আস্তে আস্তে লাল কার্ড প্রস্তুত করবেন। প্রস্তুত থাকবেন তো, ইনশাআল্লাহ।’ মামুনুল হক আরও বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের ক্ষমতার মসনদে কোনো ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে পারবে না। যে বেশি ফ্যাসিবাদী হতে চাইবে, হাসিনা হতে চাইবে, তাকেই হাসিনার পরিণাম বরণ করতে হবে।’ পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেক্স রিপোর্ট ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেক্স রিপোর্ট
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইনফান্তিনো বললেন, ‘অবিস্মরণীয় সব স্মৃতির জন্য কৃতজ্ঞ’

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। সোমবার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্টে জাতীয় দলকে বিদায় বলেছেন তিনি। মেসির বিদায়ের ঘোষণার পর ইনস্টাগ্রামে তাকে অভিনন্দন জানান ইনফান্তিনো। ফিফা সভাপতি লিখেছেন, ‘একটি অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য (লিওনেল মেসিকে) অভিনন্দন, যা লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং সুন্দর এই খেলাটিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে।’ মেসির রেকর্ড ও অর্জনের কথাও তুলে ধরেছেন ইনফান্তিনো। তিনি লিখেছেন, ‘২০২২ ফিফা বিশ্বকাপজয়ী, আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোল করার পাশাপাশি ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডের অধিকারী। তোমার এই জাদুকরী প্রতিভা ও বিনয় চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তবে ইনফান্তিনোর বার্তার সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল মেসির প্রভাব নিয়ে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য তাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফিফা সভাপতি লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনার জার্সিতে অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি উপহার দেয়ার জন্য এবং বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।’

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্বপ্ন অনেক থাকে কিন্তু সব তো পূরণ হয় না: লাবণ্য

স্বপ্ন অনেক থাকে কিন্তু সব তো পূরণ হয় না: লাবণ্য

শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন লাবণ্য চৌধুরী। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। দীর্ঘ এই পথচলায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। সম্প্রতি অভিনয় করেছেন ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে’-তে। নতুন এই কাজ, অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।‘মিশন ডিডিএলজে’-তে অভিনয় করছেন। আপনার চরিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাই।এখানে আমার চরিত্রের নাম দিয়া। সে খুব চঞ্চল একটা মেয়ে। তবে নব্বই দশকের প্রেমের গল্পের প্রতি তার আলাদা ধরনের আকর্ষণ রয়েছে। সে ওই সময়ের মতো একটি প্রেমের গল্প ও জীবন চায়। সেই স্বপ্ন থেকেই নিজের মতো করে সেই সময়ের প্রেমের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকে। নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক ভাইয়া গল্পটি দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। আর ‘মিশন ডিডিএলজে’ নামটির অর্থ কী, সেটি দর্শক সিনেমাটি দেখলেই বুঝতে পারবেন।এখন নিয়মিতই বিভিন্ন ওটিটি কনটেন্ট মুক্তি পাচ্ছে। এর মধ্যে ‘মিশন ডিডিএলজে’ দর্শক কেন দেখবেন?এই কনটেন্টের মধ্যে অনেকগুলো লেয়ার আছে। এর অন্যতম হলো নব্বই দশকের একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প। যারা নব্বই দশকের গল্প পছন্দ করেন কিংবা সেই সময়ের প্রেমের একটা আলাদা অনুভূতি পেতে চান, তারা আমাদের গল্পটি দেখতে পারেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, এখানে নব্বই দশকের অনেক সিনেমার রেফারেন্স রয়েছে। ফলে দর্শকের জন্য গল্পের মধ্যে নস্টালজিয়ার একটা ব্যাপারও থাকবে।নব্বই দশকের প্রেমের গল্প হওয়ায় চরিত্রটি ধারণ করতে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল?সেভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না। কারণ, এখানে মূল চরিত্রটি বর্তমান সময়ের একটি ছেলে-মেয়ে, যে নব্বই দশকের মেয়ের মতো জীবনযাপন করতে এবং সেই সময়ের মতো প্রেমের গল্প পেতে চায়। তাই আমাকে সরাসরি নব্বই দশকের কোনো চরিত্র ধারণ করতে হয়নি। যদি সত্যিকার অর্থেই ওই সময়ের একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে হতো, তাহলে চ্যালেঞ্জটা হয়তো আরও বেশি থাকত।বর্তমানে অভিনয়ের কোন মাধ্যমে বেশি মনোযোগ দিতে চান?নাটকে আগে খুব একটা কাজ করা হয়নি। মূলত পড়াশোনার চাপ ছিল। এখন সেই চাপ কিছুটা কমেছে। তাই আপাতত নাটকে একটু বেশি মনোযোগ দিতে চাই। তবে ভালো গল্প ও ভালো চরিত্র পেলে সিনেমা কিংবা ওটিটিতেও অবশ্যই কাজ করতে চাই।‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আপনার ক্যারিয়ারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আমার জীবনের একটি বিরাট মাইলফলক। বলতে গেলে, এটি আমার ক্যারিয়ারে ১০-এ ১০ পাওয়ার মতো একটি সিনেমা। এই কাজটির জন্যই আমি সবচেয়ে বেশি দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। বিশেষ করে মিডিয়ায় আমার যোগাযোগটা আরও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে অনেক গুণী শিল্পী কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি, যা আমার অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।শুনেছি গায়িকা হওয়ার জন্য গান শিখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত অভিনেত্রী হয়ে গেলেন কীভাবে?ছোটবেলায় আমাদের অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু জীবনের সব স্বপ্ন তো আর পূরণ হয় না। কয়েক বছর গান শিখেছিলাম। বিশেষ করে আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমি গান শিখি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গান নিয়ে আর এগিয়ে যাওয়া হয়নি। হয়তো গান আমাকে সেভাবে টানেনি বলেই এমনটা হয়েছে।তবে নাচের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। নাচ শিখেছি। আর এখন অভিনয় নিয়েই আছি। অভিনয়ই এখন আমার সবচেয়ে বড় জায়গা।অভিনয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যেতে চাই। আমি মনে করি, সিনেমায় সব সময় নায়িকা চরিত্রেই অভিনয় করতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। আমার লক্ষ্য একজন সুঅভিনেত্রী হওয়া। এমন একজন অভিনেত্রী হতে চাই, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন এবং নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সক্ষমতা রাখবেন। সামনে আরও ভালো কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র এবং ভালো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

এক দশকের অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপে ফিরছেন শাকিব খান

এক দশকের অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপে ফিরছেন শাকিব খান

বহুল আলোচিত অ্যাকশন-থ্রিলার সিনেমা ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ অবশেষে সবরকম জটিলতার মেঘ কেটে পর্দায় আসছে। প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর ঢালিউড কিং শাকিব খানের এ সিনেমাটি নতুনরূপে পর্দায় আসছে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ধাপের দৃশ্যধারণ ও টিজার প্রকাশের পর একসময় দর্শকহৃদয়ে ব্যাপক উন্মাদনা ছড়িয়েছিল ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ সিনেমাটি।  যদিও এ সিনেমাটি এক দশক আগে মুক্তির কথা থাকলেও অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতা ও টানাপোড়েনে হুট করে মাঝপথে থেমে যায় এর নির্মাণকাজ। দীর্ঘ বিরতি শেষে সেই স্থবিরতা ভেঙে সিনেমাটি নতুন রূপে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সময় ও আধুনিক সিনেমাপ্রেমী দর্শকচাহিদার কথা ভেবে সিনেমাটির মূল গল্পে সংশোধন ও নতুন উপাদান যুক্ত করা হবে। প্রযোজক, পরিচালক ও শাকিব খান— তিন পক্ষই প্রকল্পটি নতুন পরিকল্পনায় নতুন রূপে শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন। গল্পের পরিমার্জনের পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী তালিকাতেও কিছু রদবদল আনার কথা তারা ভেবেছেন।  আর এ সিনেমাটির পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে বরাবরের মতোই থাকছেন কিং খান। আগামী বছর থেকেই  ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ সিনেমাটির মূল দৃশ্যধারণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন নির্মাতারা। ২০২৭ সালের ঈদের বাইরের কোনো একটি সুবিধাজনক সময়ে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাবে এ সিনেমাটি। ভার্টেক্স মিডিয়ার ব্যানারে জানে আলমের প্রযোজনায় নির্মিতব্য এ ছবিটি পরিচালনা করছেন আশিকুর রহমান। আধুনিক নির্মাণ কৌশল ও নতুন রূপে শাকিব খানের এই প্রত্যাবর্তন ঢালিউডের বিনোদন অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

৮ বছর পর অভিনয়ে প্রীতি জিনতা

দীর্ঘ আট বছর পর বড় পর্দায় ফিরছেন বলিউড অভিনেত্রী Preity Zinta। অভিনয় থেকে বিরতির কারণ, পরিবারকে সময় দেওয়া এবং নতুন সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।প্রীতি জানান, অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও এই সময়টায় কাজকে তিনি মিস করেননি। কারণ তার পুরো মনোযোগ ছিল পরিবার ও সন্তানদের ঘিরে।তার ভাষায়, “সত্যি বলতে আমি অভিনয়কে মিস করিনি। পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটছিল। সন্তানদের বড় করে তোলা এবং ব্যক্তিগত জীবনে মন দেওয়াই ছিল আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। ক্যারিয়ারে যত অর্জনই থাকুক না কেন, মা হওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমায় একজন মুসলিম নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রীতি। ছবিতে তার স্বামীর চরিত্রে রয়েছেন Sunny Deol। গল্পে দেখা যাবে, দাঙ্গার সময় তারা নিজেদের লাহোরের বাড়িতে এক হিন্দু নারীকে আশ্রয় দেন।প্রীতির মতে, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা চরিত্রটি উপলব্ধি করতে তাকে অনেক সাহায্য করেছে।তিনি বলেন, “এ কারণেই সিনেমাটির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছি। এখন ২০২৬ সাল হলেও আমার কাছে পরিবারের গুরুত্ব সবার আগে। তাহলে ভাবুন, ১৯৪৭ সালে মানুষের কাছে পরিবারের মূল্য কতটা ছিল। সেই সময়ের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই চরিত্রটিকে বুঝতে পেরেছি।”আট বছর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো সহজ ছিল না বলেও স্বীকার করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, পরিচালক Rajkumar Santoshi শুটিংয়ের প্রথম দিনেই ছবির সবচেয়ে কঠিন আবেগঘন দৃশ্য ধারণের সিদ্ধান্ত নেন।প্রীতি বলেন, “প্রথম দিন সবচেয়ে কঠিন দৃশ্যটি রেখে রাজকুমার সন্তোষী আমাকে যেন নির্যাতনই করেছিলেন। আমি শুধু সানি দেওলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। এতটাই নার্ভাস ছিলাম যে কাঁপছিলাম। তখন সানি দেওলই আমাকে সাহস জুগিয়েছিলেন।” তিনি আরও জানান, পুরো রাত শুটিং চলেছিল। লুক টেস্টের পরদিন সংলাপ অনুশীলন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং কাজ সহজ হয়ে যায়।

৮ বছর পর অভিনয়ে প্রীতি জিনতা

অবশেষে ধর্ষণ মামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে খুঁজছে পুলিশ

নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত একটি সালিশে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। তবে কয়েক বছর ধরে তিনি পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন।পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে পরিচিতি পান রিপন মিয়া। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ সংলাপভিত্তিক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১৯ সালে খোলা তার ‘রিপন মিয়া’ নামের ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে রিপন মিয়া তাদের বাড়িতে যান। সে সময় স্কুলছাত্রীটি বাড়ির উঠানে রান্নার কাজ করছিল এবং তার বাবা স্থানীয় বাজারে ও মা বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে তাকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।পরিবারের দাবি, ভিডিওতে অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার কারণে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও পরে ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে দাবি করা হয়। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সালিশের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার উদ্যোগকে আইনবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন।এদিকে ঘটনার পর থেকেই রিপন মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।রিপনের স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তিনি জানেন না। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন।ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন এবং মেয়ের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবশেষে ধর্ষণ মামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে খুঁজছে পুলিশ

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়া অগ্নি-নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার একাধিক সড়কে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে হোটেল ছেড়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কেউ নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রশাসনের অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশের অনুমতি, ফায়ার অ্যালার্ম ও জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার সিঁড়িসহ প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাবিধি না মানায় কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট থানার পুলিশ এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানে উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অংশ নেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজ্য সরকার কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টির বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাসন সংকটে বাংলাদেশিরা হোটেল বন্ধের ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই নিউমার্কেট এলাকায় রয়েছেন। হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে। নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবার ব্যবসা গড়ে উঠেছে। হোটেল বন্ধের প্রভাব এসব ব্যবসার ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে বাসগুলো যাত্রী নিয়ে কলকাতায় আসছে। কিন্তু পর্যটকদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন নেই। আশপাশের এলাকায় গেলেও অনেক হোটেলের ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণের বেশি বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন। তবে হোটেল মালিকদের কিছুটা সময় দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো। অন্যদিকে নিউমার্কেটের রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও হোটেল বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন ভিসা চালুর পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছিল। এমন সময়ে একের পর এক হোটেল বন্ধ হওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্য নতুন করে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেল ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২৪ আগস্ট ২০২৬
কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা
শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্ট: অভিভাবকদের করণীয়

শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্ট: অভিভাবকদের করণীয়

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে। কখনো বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, আবার কখনো শিশুদের নামে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার মাধ্যমে খুব অল্প বয়সেই তারা বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কনটেন্টের সংস্পর্শে আসছে। বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনায় না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় শিশুদের সামনে যেমন শেখার ও সৃজনশীলতার নতুন দরজা খুলছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নানা ঝুঁকিও।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক, সৃজনশীল ও ইতিবাচক কনটেন্টের পাশাপাশি সহিংসতা, অশালীনতা, সাইবার বুলিং, আত্মক্ষতির প্ররোচনা, শরীর ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ক্ষতিকর ধারণাসহ বয়স-অনুপযোগী নানা ধরনের কনটেন্ট রয়েছে। এসব কনটেন্ট শিশুর চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।কনটেন্ট তৈরিতে শিশুদের ব্যবহারশিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়—কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরি করে আয় ও মনিটাইজেশনের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। এতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আয়ের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন।সমস্যা তৈরি হয় যখন এই প্রবণতায় শিশুদেরও বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর স্বাভাবিক জীবন, ব্যক্তিগত পরিসর ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনা না করেই তাদের দিয়ে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। কখনো শিশুরাই হয়ে উঠছে ভিডিওর মূল বিষয়, আবার কখনো তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত, আচরণ, পোশাক বা কথাবার্তাকে দর্শক আকর্ষণের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকলেও শিশুকে এভাবে কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।শিশু শুধু ব্যবহারকারী নয়, অধিকারধারীশিশুকে শুধু ডিজিটাল কনটেন্টের ভোক্তা কিংবা বাণিজ্যিক মুনাফার উপকরণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ডিজিটাল পরিবেশেও শিশু একজন অধিকারধারী। তার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মতপ্রকাশের সুযোগ এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।এ দায়িত্ব শুধু অভিভাবকের নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—সব পক্ষকেই শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।বিশ্বজুড়ে বয়সসীমা নিয়ে আলোচনাশিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা, অভিভাবকের সম্মতি এবং বয়স যাচাইয়ের মতো বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবছে।অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ডেনমার্কসহ অন্যান্য দেশেও কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।গবেষণায়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের সাইবার বুলিং, বয়স-অনুপযোগী কনটেন্টের সংস্পর্শ, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ঝুঁকির সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।বিশেষ করে আত্মক্ষতির প্ররোচনা, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ক্ষতিকর ধারণা কিংবা নিজের শরীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে—এমন কনটেন্ট শিশুদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ।শিশু ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখলে কী করবেন?শিশু কোনো অস্বস্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ফেললে প্রথমেই তাকে বকাঝকা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। এতে শিশু ভবিষ্যতে অনলাইনে কোনো সমস্যায় পড়লেও তা বাবা-মায়ের কাছে গোপন করতে পারে।বরং শান্তভাবে তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। কী দেখেছে, কোথায় দেখেছে এবং সেটি দেখে তার কেমন লেগেছে—এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করতে হবে।১. খোলামেলা যোগাযোগ তৈরি করুনশিশুর সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি, যাতে সে অনলাইনে কোনো ভয়ংকর, অস্বস্তিকর বা বিভ্রান্তিকর কিছু দেখলে নির্ভয়ে বাবা-মাকে জানাতে পারে।অনলাইনে সে কার সঙ্গে কথা বলছে এবং কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে—এসব বিষয়ে বয়স ও পরিপক্বতা অনুযায়ী নিয়মিত আলোচনা করা যেতে পারে।২. নির্দিষ্ট ডিজিটাল নিয়ম তৈরি করুনকখন, কোথায় এবং কতক্ষণ মোবাইল বা অন্য ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে পরিবারের নিজস্ব নিয়ম থাকা প্রয়োজন।বিশেষ করে খাবারের সময়, পড়াশোনা, ঘুম এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়কে স্ক্রিনমুক্ত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।৩. প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করুনশিশুর বয়স অনুযায়ী প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, নিরাপদ সার্চ, প্রাইভেসি সেটিংস এবং কনটেন্ট ফিল্টারের মতো সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে।একই সঙ্গে শিশুকে অনলাইনে নিজের পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত ছবি বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।৪. ক্ষতিকর কনটেন্ট রিপোর্ট ও ব্লক করুনকোনো পোস্ট, ভিডিও বা অ্যাকাউন্ট শিশুর জন্য ক্ষতিকর হলে সেটি রিপোর্ট বা ব্লক করার পদ্ধতি তাকে শেখানো যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ‘নট ইন্টারেস্টেড’ ধরনের অপশন ব্যবহার করেও অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট কমানো সম্ভব।সাইবার বুলিং কিংবা সরাসরি হুমকির ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।৫. অফলাইন সময় বাড়ানশিশুর জীবন যেন শুধু মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।বই পড়া, খেলাধুলা, ছবি আঁকা, গান, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো গেলে স্ক্রিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব।পুরোপুরি নিষেধ নয়, দরকার নিরাপদ অভ্যাসশিশুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখাই সব ক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান নয়। বরং তার বয়স, মানসিক পরিপক্বতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।এর জন্য প্রয়োজন অভিভাবকের সচেতনতা, সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার। শিশুর হাতে প্রযুক্তি তুলে দেওয়া সহজ; কিন্তু সেই প্রযুক্তি কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানোই বড় দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন শিশুর শৈশব কেড়ে না নেয়; বরং শেখা, সৃজনশীলতা ও বিকাশের নিরাপদ সহযাত্রী হয়ে ওঠে—সেদিকেই নজর দিতে হবে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সব পক্ষকে।

যেসব শব্দের কারণে রিমুভ হতে পারে ফেসবুক পোস্ট

যেসব শব্দের কারণে রিমুভ হতে পারে ফেসবুক পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের মতামত, ছবি ও নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ করেন। তবে মেটার নীতিমালা বা ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ লঙ্ঘন করলে যেকোনো পোস্ট বা মন্তব্য সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে প্ল্যাটফর্মটি।ফেসবুকের কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রতিবেদনে সহিংসতা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, যৌনতা এবং নিষিদ্ধ ব্যক্তি বা সংগঠন সম্পর্কে কী ধরনের কনটেন্ট সরানো হতে পারে, তার কিছু দিক উঠে এসেছে।সহিংসতার হুমকি বা উস্কানিকাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি ফেসবুকের নীতিমালায় গুরুতরভাবে দেখা হয়। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে গুলি করা বা হত্যার আহ্বানের মতো বক্তব্য কনটেন্ট অপসারণের কারণ হতে পারে।তবে সব ধরনের আক্রমণাত্মক বা গালিগালাজপূর্ণ ভাষা একইভাবে বিবেচিত হয় না। কোনো বক্তব্য বাস্তবে ক্ষতির ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ তৈরি করছে কি না, সেটিও কনটেন্ট পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।ঘৃণাত্মক বক্তব্যজাতি, ধর্ম, বর্ণ বা কোনো সুরক্ষিত গোষ্ঠীর মানুষকে হেয় বা অপমান করে বক্তব্য দিলে তা হেট স্পিচ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।কোনো গোষ্ঠীর মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করে অপমান করা বা তাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করাও নীতিমালা ভঙ্গের আওতায় পড়তে পারে।নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও সংগঠনসহিংস বা বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের প্রশংসা, সমর্থন বা প্রচারমূলক বক্তব্যও ফেসবুকের নীতিমালার আওতায় পড়ে।বিশেষ করে সন্ত্রাসী বা সহিংস উগ্রবাদী সংগঠনকে সমর্থন, প্রশংসা কিংবা তাদের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে এমন কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।যৌনতা ও নগ্নতার ক্ষেত্রে কড়াকড়িযৌনভাবে স্পষ্ট কনটেন্ট এবং নগ্নতার বিষয়ে ফেসবুকের নীতিমালা তুলনামূলকভাবে কঠোর। যৌন উত্তেজক ছবি, ভিডিও কিংবা স্পষ্ট যৌন বর্ণনাযুক্ত কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।শিল্পকর্ম বা সৃজনশীল কনটেন্টের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা প্রযোজ্য হতে পারে।অনুবাদের ভুলেও হতে পারে সমস্যাফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বিভিন্ন ভাষার শব্দ ও বাক্যের অর্থ সবসময় সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। ফলে কোনো বক্তব্যের প্রকৃত অর্থের বদলে ভুল অনুবাদ বা প্রসঙ্গের কারণে কনটেন্ট ফ্ল্যাগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।বিশেষ করে স্থানীয় ভাষা ও আঞ্চলিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।ব্যঙ্গ বা রূপক ভাষাতেও সতর্কতাফেসবুকের এআইভিত্তিক সিস্টেম সবসময় ব্যঙ্গ, রসিকতা বা রূপক অর্থ সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। ফলে কোনো বক্তব্যের উদ্দেশ্য ক্ষতিকর না হলেও ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্যাংশের ভিত্তিতে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।তাই বিতর্কিত বিষয়, রাজনৈতিক বক্তব্য বা সংবেদনশীল প্রসঙ্গে পোস্ট করার সময় শব্দ নির্বাচনে সতর্ক থাকা জরুরি। তবে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করলেই যে পোস্ট নিশ্চিতভাবে মুছে যাবে—এমন সরল নিয়ম নেই। কনটেন্টের সামগ্রিক অর্থ, প্রসঙ্গ, ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য এবং মেটার সংশ্লিষ্ট নীতিমালার ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস-প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ফলসেটিয়া এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ফলসেটিয়া বাসস্টেশনের পশ্চিম ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকাগামী ডি-লিংক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পাটুরিয়াগামী একটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেট কারটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে গাড়ির চালক ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হন।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।দুর্ঘটনার পর কিছু সময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল ধীরগতির হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস-প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ

মোবাইল ফোনের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রিন্সিপাল ১০০ শপিং মলের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে সংঘটিত দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) কাঁচপুর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. বাবু ওরফে রবি ওরফে রনি (৪০), মো. ইছহাক ওরফে সাগর (৪২), মো. কামাল (৪০), মো. আলমগীর (৪৫), মো. জামাল (৩৮), আলাউদ্দিন (৪৫), মো. সুমন (৪১), মো. রুবেল (২৩) এবং আলামিন ওরফে বাম্বু আলামিন (২৩)। তাদের সবার বাড়ি কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন সোনারগাঁয়ের প্রিন্সিপাল ১০০ শপিং মলের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকান মালিক সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের সহায়তায় চোর চক্রটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোবাইল ফোনের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড যাচ্ছে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায়

ঢাকা | মঙ্গলবার, ৭ জুলাই রাজধানীর গুলিস্তানের দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে ফুলবাড়িয়া আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ড কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া হাসনাবাদ এলাকায় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাঘৈর তেগরিয়া, তেগরিয়া আন্ডারপাস সংলগ্ন এলাকা ও ইকুরিয়া হাসনাবাদ—এই তিনটি স্থান পর্যালোচনা করা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা, সড়ক সংযোগ, যান চলাচলের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনায় ইকুরিয়া হাসনাবাদ এলাকাকে সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আন্তঃজেলা বাস চলাচল করে। এসব বাসের কারণে গুলিস্তান, বঙ্গভবন, গোলাপশাহ মাজার, দৈনিক বাংলা মোড়সহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষের আশা, বাসস্ট্যান্ডটি রাজধানীর প্রবেশমুখের কাছাকাছি ইকুরিয়ায় স্থানান্তর করা হলে আন্তঃজেলা বাসগুলোকে আর শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত প্রবেশ করতে হবে না। এতে গুলিস্তানসহ ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড যাচ্ছে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায়
চুয়াডাঙ্গায় রয়েল পরিবহনের বাস উল্টে আহত ২৩, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

চুয়াডাঙ্গায় রয়েল পরিবহনের বাস উল্টে আহত ২৩, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ এলাকায় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে গেছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২৩ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আহতদের মধ্যে এক নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসটি সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি পাখিভ্যানকে ওভারটেক করতে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ২৩ জনের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি সাতজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আহতদের মধ্যে বুলবুলী (৩৫) নামে এক নারীর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা রাজশাহীতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনসহ মোট ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে।