বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

সারাদেশ

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ বেলা সোয়া একটার দিকেও অবরোধ চলছিল। পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের আকলিচালা এলাকায় এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার সামনে বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে কয়েকটি কারখানার ফটকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকার ১৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। মহাসড়ক বন্ধ থাকায় উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ আছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকের মূল্য বাড়েনি। আমাদের বেতন বাড়াতে হবে, না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ শ্রমিক কারিমা বেগমের অভিযোগ, ‘বর্তমানে যে বেতন পাচ্ছি, তা দিয়ে সংসার চলছে না। খুবই হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি, তারপরও টানাটানি করে চলতে হয়। তাই বেতন বাড়ানোর দাবিতেই আমরা সড়কে নেমেছি।’ এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কোনাবাড়ী এলাকায় বাসে আটকে থাকা যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসে আটকা পড়ে আছি। কোনো দিকেই যানবাহন চলছে না। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম, তার ওপর যানজটে একেবারে নাজেহাল অবস্থা।’ শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন বলে জানান গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ বেলা সোয়া একটার দিকেও অবরোধ চলছিল। পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের আকলিচালা এলাকায় এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার সামনে বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে কয়েকটি কারখানার ফটকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকার ১৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। মহাসড়ক বন্ধ থাকায় উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ আছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকের মূল্য বাড়েনি। আমাদের বেতন বাড়াতে হবে, না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ শ্রমিক কারিমা বেগমের অভিযোগ, ‘বর্তমানে যে বেতন পাচ্ছি, তা দিয়ে সংসার চলছে না। খুবই হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি, তারপরও টানাটানি করে চলতে হয়। তাই বেতন বাড়ানোর দাবিতেই আমরা সড়কে নেমেছি।’ এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কোনাবাড়ী এলাকায় বাসে আটকে থাকা যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসে আটকা পড়ে আছি। কোনো দিকেই যানবাহন চলছে না। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম, তার ওপর যানজটে একেবারে নাজেহাল অবস্থা।’ শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন বলে জানান গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

‘পরমাণু অস্ত্র পেলেই ব্যবহার করবে ইরান’, সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প

‘পরমাণু অস্ত্র পেলেই ব্যবহার করবে ইরান’, সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প

ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হলে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ভয়াবহ প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, পরমাণু অস্ত্র হাতে পেলে ইরান তা ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও দেশটির সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। রবিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি সমস্যা দেখতে চান? শুধু জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যা নয়, প্রাণহানির সমস্যাও? ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পেতে দিন, কারণ তারা এটি ব্যবহার করবে।’ হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘র‍্যাপিড রেসপন্স ৪৭’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এমন সম্ভাবনা আছে।’ তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছেন তিনি। তেহরানের সঙ্গে ‘সুন্দর, বড় ও চমৎকার একটি চুক্তি’ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান চুক্তিতে সম্মত হলেও সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কি চুক্তিটি মেনে চলবে?’ ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান নীতিগত অবস্থান। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র পেলে তা ‘তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করবে’। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং সংকটের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো। এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে ‘আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি’ অভিযানের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে সামরিক পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন ট্রাম্প। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বললেও তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ বন্ধ করেননি তিনি। ফলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সামরিক সংঘাতের দিকে এগোবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতায় গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

২৬ অক্টোবর ২০২৬
জন্ম নেওয়া নবজাতকের মুখে গোঁফ! সত্যি নাকি এআই’র কারসাজি

জন্ম নেওয়া নবজাতকের মুখে গোঁফ! সত্যি নাকি এআই’র কারসাজি

ইকুয়েডরে জন্ম নেওয়া একটি নবজাতককে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুটির ওপরের ঠোঁটের ঠিক ওপরে গোঁফের মতো দেখতে একটি গাঢ় পশমের আস্তরণ রয়েছে। শিশুটির এই ব্যতিক্রমী ও অস্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও হাজার হাজার মানুষ অনলাইনে শেয়ার করেছেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।  তবে এই ভিডিওটির সত্যতা এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গত ২৩ অক্টোবর ‘মেট্রো ইকুয়েডর’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ভিডিওটির উৎস এবং শিশুটির মুখের এই আপাত পশমের কোনো চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।  ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে যে, শিশুটির ঠোঁটের ওপরের ওই গাঢ় দাগটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ফিল্টারের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে কিনা। আরও পড়ুনআরও পড়ুনফুটবল খেলা দেখতে স্ত্রীকে চেয়ারে বেঁধে রাখলেন স্বামী, এরপর... বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতকদের শরীরে অনেক সময় ‘লানুগো’ নামক হালকা ও নরম লোম থাকতে পারে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে জন্মের পরপরই মুখে স্পষ্ট গোঁফের মতো এমন গাঢ় পশম গজানোর ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আরও পড়ুনআরও পড়ুন৩০ বছরেই ৩২ হাজার কোটির মালিক, তবু দিনে কাজ করেন ১৪ ঘণ্টা, কে এই নারী? ফলে এটি কোনো প্রকৃত চিকিৎসাগত ঘটনা হওয়ার চেয়ে ডিজিটাল কারসাজি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।  সব মিলিয়ে, ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নাকি নিছকই ডিজিটাল সম্পাদনার ফল, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  তবে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিওটি পুরোপুরি ভুয়া এবং ডিজিটালভাবে কারসাজি করা। ভিডিওটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর মাথা এবং মুখভঙ্গির সঙ্গে গোঁফটি স্বাভাবিকভাবে মানাচ্ছে না। শিশুটি নড়াচড়া করার সময় গোঁফের আশপাশে সামান্য ঝিকিমিকি বা ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।  এ ছাড়া হাসপাতালের ঘরের চারপাশের আলো এবং শিশুর ত্বকের ওপর পড়া ছায়ার সঙ্গে গোঁফের আলো বা ছায়ার কোনো মিল নেই। এর গঠন ও আলো বেশ অসঙ্গতিপূর্ণ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ঘটনার পক্ষে কোনো হাসপাতাল, চিকিৎসক, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট রেকর্ড বা শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

২৫ অক্টোবর ২০২৬
দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মানিক সরকার

দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মানিক সরকার

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে আটক করেছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর শনিবার তাঁদের আটক করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে আটক হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে। অন্যদিকে, একই দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মানিক সরকারকে আটক করা হয়। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)—সিপিআই(এম)-এর নেতা এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, কিংবা তাঁদের পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

১০ অক্টোবর ২০২৬
পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিতে কেন ক্ষুব্ধ ভারত

পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিতে কেন ক্ষুব্ধ ভারত

হিমালয়ের বিতর্কিত একটি অঞ্চলে পাকিস্তান ও চীন নিজেদের সীমান্ত নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশ পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন গঠনসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।বহু দশক ধরে ভারত ওই অঞ্চলে পাকিস্তান-চীন সীমান্তকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দিল্লির দাবি, এই ভূখণ্ড ভারতের অংশ। তাই পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্তকেই ভারত স্বীকৃতি দেয় না।পাকিস্তান চুক্তিটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও চীনের সহযোগিতা আরও গভীর হবে।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা তথাকথিত যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান করছি, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’বিশেষ সংবেদনশীল এক সময়ে এই ঘোষণা এসেছে। হিমালয় সীমান্তের বড় অংশজুড়ে ভারত ও চীনের সেনাদের পৃথক করা বিতর্কিত রেখা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ঘিরে কয়েক বছর ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই বেইজিং ও ইসলামাবাদ এমন একটি সীমান্ত এলাকায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, যার ওপর ভারতেরও দাবি রয়েছে।এই যৌথ কমিশনের আওতায় রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত এটিকে লাদাখে অবস্থিত নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।দিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। পাকিস্তান ওই অঞ্চল অবৈধভাবে দখল করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত সরকার ১৯৬৩ সালের ওই চুক্তিকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির মতে, চুক্তিটি অবৈধ ও অকার্যকর।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ভারতের ভূখণ্ড, যা অবৈধ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের দখলে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার পাকিস্তানের নেই।’পাকিস্তানের অবস্থান ভিন্ন। দেশটি বলে, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত অঞ্চল। তাই ১৯৬৩ সালের চীন-সংক্রান্ত সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবস্থানে ভারত নেই। পাকিস্তান ওই চুক্তিকে বৈধ বলে মনে করে।দিল্লির শিব নাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জেকব বলেন, সর্বশেষ ঘটনাটি দুই পক্ষের বহু পুরোনো বৈরিতার আরেকটি প্রকাশ। একেবারে নতুন কিছু নয়।বিবিসিকে তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তিতেই একটি যৌথ সীমান্ত কমিশনের কথা বলা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এই ব্যবস্থা এই সময়ে কার্যকর করা হলো।জেকবের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বৃহত্তর সীমান্ত নির্ধারণের প্রচেষ্টা। পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেও এই সীমান্তে যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগ্রহ থাকতে পারে।জেকব বলেন, এই উন্নয়নে ভারতের ‘উদ্বিগ্ন’ হওয়া উচিত। তাঁর মতে, আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পদক্ষেপটি ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি ধারাকে উপেক্ষা করছে বলে মনে হয়।চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাশ্মীর বিরোধের নিষ্পত্তির পর যে দেশ শেষ পর্যন্ত ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তার সঙ্গে চুক্তিটি পুনরায় আলোচনার কথা ছিল বলে জানান তিনি।জেকবের মতে, ভারতের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক তথ্য পরিবেশনের দিক থেকেও জটিল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও তথ্য পরিবেশনে চীনের তুলনামূলক প্রাধান্য রয়েছে। সিজিটিএন, সিআরআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের উপস্থিতি তাদের বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের বয়ান ও মানচিত্র তুলে ধরার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ভারত প্রায়ই এমন প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা বিশ্বের অন্যান্য রাজধানী উপেক্ষা করতে পারে।তবে সীমান্তে বাস্তবে যে কার্যক্রম চলছে, তার তুলনায় এই উদ্বেগের মাত্রা কিছুটা ভিন্ন। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এই অঞ্চলে ইতোমধ্যেই বিস্তৃত অবকাঠামো ও যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) ও কারাকোরাম মহাসড়ক।যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং বর্তমানে আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমি ও হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি বলেন, নতুন কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক।বিবিসিকে হাক্কানি বলেন, সীমান্ত ও সীমানা সহযোগিতা জোরদার করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষার জন্য এটি একটি প্রক্রিয়া।তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের প্রতি একটি বার্তাও দেয়। তা হলো, বেইজিং এখনো কাশ্মীর প্রশ্নকে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দেখে।হাক্কানি বলেন, চীন কখনো কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের অবস্থান মেনে নেয়নি। গিলগিট-বালতিস্তানকেও তারা পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, ভারতের নয়। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের এই অঞ্চলটি চীনের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করে। ভারত এটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।হাক্কানির মতে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের অবস্থানও বদলেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান এখনো মনে করে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ বাকি। কিন্তু ভারত যখন তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অংশে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মতো অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন করেছে, তখন ১৯৬৩ সাল থেকে চীনের সঙ্গে যে বিষয়টি অঘোষিত অবস্থায় রয়েছে, সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাকিস্তান কোনো সমস্যা দেখছে না।বেইজিংয়ের জন্যও এই ব্যবস্থা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে ভারতের প্রতি নিজেদের অবস্থান জানানোর বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন হাক্কানি।তাঁর মতে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য কৌশলগত ও ভূকৌশলগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একই সঙ্গে ভারতকে চীন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী হুমকির ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষণার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। হাক্কানি বলেন, চীন সাধারণত তাদের সিদ্ধান্ত কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর আগেই পরিকল্পনা করে। তাই যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তও অনেক আগেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলন সফরের পর এই তথ্য প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে আশ্বস্ত করা এবং ভারতকে মনে করিয়ে দেওয়া যে বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি।তবে জাবিন টি জেকব সতর্ক করে বলেন, এই বিষয়টির প্রতিটি দিককে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে এলএসি-তে এর কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।এ থেকে বোঝা যায়, গত সপ্তাহের ঘোষণার গুরুত্ব হয়তো বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের মধ্যে নয়। বরং ভারত যে ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্যেই এর গুরুত্ব থাকতে পারে।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের অবস্থান ‘স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক’। দিল্লির মতে, পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। এতে ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।হাক্কানি মনে করেন, বিরোধটি শুধু সীমান্তের আইনি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে ভারত ও চীনের মূল মতভেদ ভূকৌশলগত, শুধু মানচিত্রগত নয়। তাই সীমান্ত নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কী অর্জন করা সম্ভব, তারও কিছু সীমা রয়েছে।হাক্কানি আরও বলেন, পাকিস্তান এখনো ভারতের বিরুদ্ধে চীনের ‘দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধক’। ইসলামাবাদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততা দিল্লির প্রতি সেই বার্তাই প্রকাশ করতে থাকবে।

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, আঘাত হানতে পারে কোন অঞ্চলে?

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, আঘাত হানতে পারে কোন অঞ্চলে?

উত্তর আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ড উপকূলের কাছে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এটি শক্তি সঞ্চয় করে আজ সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে শক্তি আরও বাড়লে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’, যে নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউজ-১৮ বাংলা। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরে, এটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এসময় বজ্রপাতের পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর এবং সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার কারণে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার হতে পারে। বৃষ্টির ফলে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আজ পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।    

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মজুত বাড়ায় বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

মজুত বাড়ায় বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। লোহিত সাগরমুখী ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর সৌদি আরব ইয়ানবু টার্মিনালে তেল পরিবহন বন্ধ রাখায় বাজারে যে সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, বিনিয়োগকারীরা এখন তার সাথে মার্কিন মজুত বৃদ্ধির বিষয়টি হিসাব করছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৩ সেন্ট বা দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ১০৭ দশমিক ৮২ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচারসের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৭ সেন্ট বা দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ১০৪ দশমিক ৮৬ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে মঙ্গলবার উভয় আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কেই তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। ইয়ানবু টার্মিনালে খালাস বন্ধ থাকা এবং ইউরোপে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হ্রাসের কারণে দাম গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালে ১০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের খবর

নেপালে ১০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের খবর

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা থামেল থেকে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও ভিসা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থামেল এলাকার একাধিক হোটেল থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধানের জন্য নেপালের অভিবাসন দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের বরাত দিয়ে নেপালি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে থামেল ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেলগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিবাসন বিভাগ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। অভিযানের স্থান ও গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) শরদ কুমার থাপা ছেত্রী জানান, থামেল এলাকায় বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহজনক তৎপরতার খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, থামেল এলাকার ‘হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস’, ‘হোটেল দি ভেদা’ এবং ‘হোটেল আল-রহমান’ নামের তিনটি বাণিজ্যিক আবাসিক হোটেল থেকে এই ১০ জনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন: ফাহিমা আক্তার হাসান (৪৬), মাহমুদ (৪৮), মাহবুব হাসান (৪৫), রিপন মাহমুদ (৪৯), মো. কারামত আলী খান (৩০), সাইদুর রহমান (৩০), মো. খলিলুর রহমান (৫০), আরিফুর রহমান (২৮), মো. মারুফ মৃধা (৪২), মোহাম্মদ হানিফ মিয়া (৬৪)। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘খাতুনে জান্নাত’ নামের এক নারী পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের বিষয়ে নেপাল অভিবাসন দপ্তরের পরিচালক তিকারাম ঢাকাল জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আটককৃতদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত একজন নিজ ভিসার মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ধরে (ওভারস্টে) অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। অন্য আসামিরা কী উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন এবং কী কাজে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আটক ব্যক্তিরা থামেলের ‘মুসলিমা টোল’ এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তেন। পাশাপাশি তাঁরা যে ভিসায় নেপালে প্রবেশ করেছিলেন, তার শর্ত লঙ্ঘন করে অর্থ উপার্জনমূলক এবং অন্যান্য অননুমোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডুকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও নেপাল পুলিশ একাধিক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছিল, যারা ইউরোপ বা উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের কাঠমান্ডুতে এনে জিম্মি করত এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত। পুলিশের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এই ১০ জনও একই ধরনের কোনো মানব পাচার, চাকরির ভুয়া প্রলোভন বা অবৈধ অর্থ লেনদেনকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কি না। নেপালের অভিবাসন দপ্তরের তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) মতো আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তার সাথে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সঙ্কটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এসময় রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একইসাথে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নদী দিয়ে এখনো মরদেহ ভেসে আসছে। আশপাশে জমে থাকা কাদার স্তূপ আলকাতরার মতো ঘন আকার ধারণ করেছে। সেখানেও লাশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালের মর্গগুলোতে আর জায়গা খালি নেই। যেসব দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর পরিচয় দ্রুত শনাক্তের জন্য স্বজনদেরকে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোর মাধ্যমে ছবি দেখানো হচ্ছে। বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর নেপালিরা এখন মরদেহ নিয়ে এক বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে পড়েছে। অনেক মরদেহ এমনভাবে বিকৃত হয়ে গেছে যে চেনার উপায় নেই। সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে বসতবাড়ি থেকে বহু দূরের এলাকাতে। নিরাপদে সংরক্ষণের জায়গা ফুরিয়ে আসায় ভারতপুর জেলায় ইতোমধ্যে গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি মরদেহে ট্যাগ ও একটি অবস্থান নম্বর লাগানোর আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর মরদেহগুলো প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে গণকবরে রাখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনরা এসব দেহ শনাক্ত করতে পারবেন।  দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। সেখানে নদীর তীরজুড়ে ২৫০টির বেশি দেহ পাওয়া গেছে। বিকৃত হওয়ার কারণে মাত্র নয়টির পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এই জেলার জঙ্গলেও গণকবর তৈরি করা হয়েছে।  মরদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে স্থানীয় কর্মকর্তারা এক ‘মর্মান্তিক’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তারা স্বজনদেরকে মরদেহগুলোর ছবি দেখতে বলছেন। শনাক্ত করার মতো বৈশিষ্ট্য খুঁজে দেখতে বলা হচ্ছে। যেমন- গলার হার, বিয়ের আংটি, উল্কি বা শরীরের কোনো ক্ষতচিহ্ন।  উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ছবি পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোতে সাজানো হয়েছে। স্বজনদেরকে ধৈর্য নিয়ে একটির পর আরেকটি ছবি দেখতে হচ্ছে। ছবিগুলো নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি মর্গের বাইরের দেয়ালেও ভেতরে থাকা মরদেহগুলোর ছবি টানানো হয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে কেবল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারছে। রোববার নেপালের পররাষ্ট্রসচিব অমৃত বাহাদুর রাই বলেন, নিহতদের মরদেহ নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য সরকার ১ হাজারের বেশি ফ্রিজার ইউনিট চেয়েছে। নদী উপত্যকার কিছু নিচু এলাকায় এখনো সড়কপথে যাওয়া যাচ্ছে। সেখানে কাদার নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছেন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীরা।  ত্রিশূলী নদীর তীরের শহর দেবীঘাটে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আমাবাদুত্ত ভট্ট বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। এখান থেকে আমরা ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। বেশিরভাগ বাড়ির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ধ্বংস হয়ে গেছে। সব কাদা সরাতে অনেকদিন লাগবে। তখন মরদেহের আর কী অবশিষ্ট থাকবে, কে জানে।’ দেবীঘাটে বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরবাড়ির জায়গায় ফিরছেন। সেখানে অনেক বাড়িই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ৪৯ বছর বয়সী উষা নেপালির বাড়িতে অবশিষ্ট বলতে আছে শুধু কয়েকটি কংক্রিটের ব্লক ও বেঁকে যাওয়া ধাতব কাঠামো। এই বাড়িতেই তিনি চার সন্তান ও তিন নাতি-নাতনিকে বড় করেছেন। কাঁদতে কাঁদতে উষা নেপালি বলেন, ‘এখানেই আমার জীবনের সবকিছু দিয়েছি। এখন জানি না কোথায় যাব, কী করব। গায়ের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই জমি এখন আর নিরাপদ নয়, কিন্তু এটাই আমাদের শেষ সম্বল।’ ত্রিশূলী নদীর পাশে বসবাস যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে তা রোববার আরেকবার দেখা যায়। নদীর পানি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। এরপর দেবীঘাটের অনেক বাসিন্দা ঘরে অবশিষ্ট থাকা কিছু জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে শুরু করেন। তাদের অনেকে স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় পাড়ি জমাবেন। বন্যার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরের কয়েক মিনিটে শুধু নিজের স্বর্ণের গয়না নেওয়ার সময় পেয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সী যমুনা মাগার। বাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দেবীঘাটে এরপর কীভাবে বসবাস করবেন তা বুঝতে পারছেন না। যমুনা বলেন, ‘আমরা এর আগেও বন্যার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু কখনো এমন বন্যার কথা ভাবিনি। আমাদের যা কিছু ছিল, সবই হারিয়ে গেছে। নিজের জীবন, সন্তানদের নিয়ে আমি এতটাই চিন্তিত যে এখানে আর থাকতে চাই না।’

৩১ আগস্ট ২০২৬
নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

নেপালে আকস্মিক বন্যার পর এখনো শত শত বিদেশি পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের তালিকা: ভারত: দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। চীন: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯০ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেন: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর থেকে ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। মালয়েশিয়া: ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সঙ্গে ভ্রমণরত ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্য: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে তিব্বতে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন নেপালের নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। কানাডা: কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ জন কানাডীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন পর্যটকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধারে নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

৩১ আগস্ট ২০২৬
“

জমি দখল বা চাঁদা তুলতে নয়, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি

রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, কোনো অনৈতিক স্বার্থ, জমি দখল কিংবা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে নয়, বরং মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই তিনি সেদিন মাঠে নেমেছিলেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান সমন্বয় করতে গিয়েছিলেন, আর তার হাতে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল নিজের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু সেই ছবি দিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ‘নানা ধরনের ন্যারেটিভ’ তৈরি করে ‘বিভিন্ন ধরনের খবর’ প্রকাশ করতে শুরু করে। গণমাধ্যমের সংবাদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘গণমাধ্যমের ভূমিকায় আমি হতাশ হয়েছি, কেন আমাকে এভাবে টার্গেট করা হলো।’ তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গিয়ে বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করতে চান, যাতে দল বিব্রত না হয়, প্রধানমন্ত্রীর কাজ বাধাগ্রস্ত না হয়। সরকারের দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক বলেন, ‘আমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আমি মাদক নির্মূলে কাজ করার অনুমতি চেয়েছি। তিনি সুযোগ করে দিয়েছেন।’

ডেক্স রিপোর্ট ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ডেক্স রিপোর্ট
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

মেসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইনফান্তিনো বললেন, ‘অবিস্মরণীয় সব স্মৃতির জন্য কৃতজ্ঞ’

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। সোমবার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্টে জাতীয় দলকে বিদায় বলেছেন তিনি। মেসির বিদায়ের ঘোষণার পর ইনস্টাগ্রামে তাকে অভিনন্দন জানান ইনফান্তিনো। ফিফা সভাপতি লিখেছেন, ‘একটি অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য (লিওনেল মেসিকে) অভিনন্দন, যা লাখ লাখ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং সুন্দর এই খেলাটিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে।’ মেসির রেকর্ড ও অর্জনের কথাও তুলে ধরেছেন ইনফান্তিনো। তিনি লিখেছেন, ‘২০২২ ফিফা বিশ্বকাপজয়ী, আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বকালের সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোল করার পাশাপাশি ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডের অধিকারী। তোমার এই জাদুকরী প্রতিভা ও বিনয় চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তবে ইনফান্তিনোর বার্তার সবচেয়ে আবেগঘন অংশটি ছিল মেসির প্রভাব নিয়ে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য তাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফিফা সভাপতি লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনার জার্সিতে অবিস্মরণীয় সব স্মৃতি উপহার দেয়ার জন্য এবং বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের এক সুতোয় বাঁধার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।’

২৫ অক্টোবর ২০২৬
স্বপ্ন অনেক থাকে কিন্তু সব তো পূরণ হয় না: লাবণ্য

স্বপ্ন অনেক থাকে কিন্তু সব তো পূরণ হয় না: লাবণ্য

শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন লাবণ্য চৌধুরী। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। দীর্ঘ এই পথচলায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। সম্প্রতি অভিনয় করেছেন ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে’-তে। নতুন এই কাজ, অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।‘মিশন ডিডিএলজে’-তে অভিনয় করছেন। আপনার চরিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাই।এখানে আমার চরিত্রের নাম দিয়া। সে খুব চঞ্চল একটা মেয়ে। তবে নব্বই দশকের প্রেমের গল্পের প্রতি তার আলাদা ধরনের আকর্ষণ রয়েছে। সে ওই সময়ের মতো একটি প্রেমের গল্প ও জীবন চায়। সেই স্বপ্ন থেকেই নিজের মতো করে সেই সময়ের প্রেমের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকে। নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক ভাইয়া গল্পটি দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। আর ‘মিশন ডিডিএলজে’ নামটির অর্থ কী, সেটি দর্শক সিনেমাটি দেখলেই বুঝতে পারবেন।এখন নিয়মিতই বিভিন্ন ওটিটি কনটেন্ট মুক্তি পাচ্ছে। এর মধ্যে ‘মিশন ডিডিএলজে’ দর্শক কেন দেখবেন?এই কনটেন্টের মধ্যে অনেকগুলো লেয়ার আছে। এর অন্যতম হলো নব্বই দশকের একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প। যারা নব্বই দশকের গল্প পছন্দ করেন কিংবা সেই সময়ের প্রেমের একটা আলাদা অনুভূতি পেতে চান, তারা আমাদের গল্পটি দেখতে পারেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, এখানে নব্বই দশকের অনেক সিনেমার রেফারেন্স রয়েছে। ফলে দর্শকের জন্য গল্পের মধ্যে নস্টালজিয়ার একটা ব্যাপারও থাকবে।নব্বই দশকের প্রেমের গল্প হওয়ায় চরিত্রটি ধারণ করতে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল?সেভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না। কারণ, এখানে মূল চরিত্রটি বর্তমান সময়ের একটি ছেলে-মেয়ে, যে নব্বই দশকের মেয়ের মতো জীবনযাপন করতে এবং সেই সময়ের মতো প্রেমের গল্প পেতে চায়। তাই আমাকে সরাসরি নব্বই দশকের কোনো চরিত্র ধারণ করতে হয়নি। যদি সত্যিকার অর্থেই ওই সময়ের একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে হতো, তাহলে চ্যালেঞ্জটা হয়তো আরও বেশি থাকত।বর্তমানে অভিনয়ের কোন মাধ্যমে বেশি মনোযোগ দিতে চান?নাটকে আগে খুব একটা কাজ করা হয়নি। মূলত পড়াশোনার চাপ ছিল। এখন সেই চাপ কিছুটা কমেছে। তাই আপাতত নাটকে একটু বেশি মনোযোগ দিতে চাই। তবে ভালো গল্প ও ভালো চরিত্র পেলে সিনেমা কিংবা ওটিটিতেও অবশ্যই কাজ করতে চাই।‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আপনার ক্যারিয়ারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আমার জীবনের একটি বিরাট মাইলফলক। বলতে গেলে, এটি আমার ক্যারিয়ারে ১০-এ ১০ পাওয়ার মতো একটি সিনেমা। এই কাজটির জন্যই আমি সবচেয়ে বেশি দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। বিশেষ করে মিডিয়ায় আমার যোগাযোগটা আরও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে অনেক গুণী শিল্পী কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি, যা আমার অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।শুনেছি গায়িকা হওয়ার জন্য গান শিখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত অভিনেত্রী হয়ে গেলেন কীভাবে?ছোটবেলায় আমাদের অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু জীবনের সব স্বপ্ন তো আর পূরণ হয় না। কয়েক বছর গান শিখেছিলাম। বিশেষ করে আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমি গান শিখি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গান নিয়ে আর এগিয়ে যাওয়া হয়নি। হয়তো গান আমাকে সেভাবে টানেনি বলেই এমনটা হয়েছে।তবে নাচের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। নাচ শিখেছি। আর এখন অভিনয় নিয়েই আছি। অভিনয়ই এখন আমার সবচেয়ে বড় জায়গা।অভিনয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যেতে চাই। আমি মনে করি, সিনেমায় সব সময় নায়িকা চরিত্রেই অভিনয় করতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। আমার লক্ষ্য একজন সুঅভিনেত্রী হওয়া। এমন একজন অভিনেত্রী হতে চাই, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন এবং নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সক্ষমতা রাখবেন। সামনে আরও ভালো কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র এবং ভালো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

এক দশকের অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপে ফিরছেন শাকিব খান

এক দশকের অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপে ফিরছেন শাকিব খান

বহুল আলোচিত অ্যাকশন-থ্রিলার সিনেমা ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ অবশেষে সবরকম জটিলতার মেঘ কেটে পর্দায় আসছে। প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর ঢালিউড কিং শাকিব খানের এ সিনেমাটি নতুনরূপে পর্দায় আসছে। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ধাপের দৃশ্যধারণ ও টিজার প্রকাশের পর একসময় দর্শকহৃদয়ে ব্যাপক উন্মাদনা ছড়িয়েছিল ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ সিনেমাটি।  যদিও এ সিনেমাটি এক দশক আগে মুক্তির কথা থাকলেও অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতা ও টানাপোড়েনে হুট করে মাঝপথে থেমে যায় এর নির্মাণকাজ। দীর্ঘ বিরতি শেষে সেই স্থবিরতা ভেঙে সিনেমাটি নতুন রূপে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে ‘অপারেশন অগ্নিপথ’। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সময় ও আধুনিক সিনেমাপ্রেমী দর্শকচাহিদার কথা ভেবে সিনেমাটির মূল গল্পে সংশোধন ও নতুন উপাদান যুক্ত করা হবে। প্রযোজক, পরিচালক ও শাকিব খান— তিন পক্ষই প্রকল্পটি নতুন পরিকল্পনায় নতুন রূপে শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন। গল্পের পরিমার্জনের পাশাপাশি অভিনয়শিল্পী তালিকাতেও কিছু রদবদল আনার কথা তারা ভেবেছেন।  আর এ সিনেমাটির পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে বরাবরের মতোই থাকছেন কিং খান। আগামী বছর থেকেই  ‘অপারেশন অগ্নিপথ’ সিনেমাটির মূল দৃশ্যধারণ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন নির্মাতারা। ২০২৭ সালের ঈদের বাইরের কোনো একটি সুবিধাজনক সময়ে দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পাবে এ সিনেমাটি। ভার্টেক্স মিডিয়ার ব্যানারে জানে আলমের প্রযোজনায় নির্মিতব্য এ ছবিটি পরিচালনা করছেন আশিকুর রহমান। আধুনিক নির্মাণ কৌশল ও নতুন রূপে শাকিব খানের এই প্রত্যাবর্তন ঢালিউডের বিনোদন অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

৮ বছর পর অভিনয়ে প্রীতি জিনতা

দীর্ঘ আট বছর পর বড় পর্দায় ফিরছেন বলিউড অভিনেত্রী Preity Zinta। অভিনয় থেকে বিরতির কারণ, পরিবারকে সময় দেওয়া এবং নতুন সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।প্রীতি জানান, অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও এই সময়টায় কাজকে তিনি মিস করেননি। কারণ তার পুরো মনোযোগ ছিল পরিবার ও সন্তানদের ঘিরে।তার ভাষায়, “সত্যি বলতে আমি অভিনয়কে মিস করিনি। পরিবার নিয়ে দারুণ সময় কাটছিল। সন্তানদের বড় করে তোলা এবং ব্যক্তিগত জীবনে মন দেওয়াই ছিল আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। ক্যারিয়ারে যত অর্জনই থাকুক না কেন, মা হওয়াই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।”১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমায় একজন মুসলিম নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রীতি। ছবিতে তার স্বামীর চরিত্রে রয়েছেন Sunny Deol। গল্পে দেখা যাবে, দাঙ্গার সময় তারা নিজেদের লাহোরের বাড়িতে এক হিন্দু নারীকে আশ্রয় দেন।প্রীতির মতে, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা চরিত্রটি উপলব্ধি করতে তাকে অনেক সাহায্য করেছে।তিনি বলেন, “এ কারণেই সিনেমাটির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছি। এখন ২০২৬ সাল হলেও আমার কাছে পরিবারের গুরুত্ব সবার আগে। তাহলে ভাবুন, ১৯৪৭ সালে মানুষের কাছে পরিবারের মূল্য কতটা ছিল। সেই সময়ের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই চরিত্রটিকে বুঝতে পেরেছি।”আট বছর পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো সহজ ছিল না বলেও স্বীকার করেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, পরিচালক Rajkumar Santoshi শুটিংয়ের প্রথম দিনেই ছবির সবচেয়ে কঠিন আবেগঘন দৃশ্য ধারণের সিদ্ধান্ত নেন।প্রীতি বলেন, “প্রথম দিন সবচেয়ে কঠিন দৃশ্যটি রেখে রাজকুমার সন্তোষী আমাকে যেন নির্যাতনই করেছিলেন। আমি শুধু সানি দেওলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। এতটাই নার্ভাস ছিলাম যে কাঁপছিলাম। তখন সানি দেওলই আমাকে সাহস জুগিয়েছিলেন।” তিনি আরও জানান, পুরো রাত শুটিং চলেছিল। লুক টেস্টের পরদিন সংলাপ অনুশীলন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে এবং কাজ সহজ হয়ে যায়।

৮ বছর পর অভিনয়ে প্রীতি জিনতা

অবশেষে ধর্ষণ মামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে খুঁজছে পুলিশ

নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত একটি সালিশে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে। তবে কয়েক বছর ধরে তিনি পার্শ্ববর্তী নন্দুরা গ্রামে বসবাস করছিলেন।পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও ২০১৬ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও নির্মাণের মাধ্যমে পরিচিতি পান রিপন মিয়া। ‘হাই আই এম রিপন ভিডিও’ এবং ‘আই লাভ ইউ, এটাই বাস্তব’ সংলাপভিত্তিক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০১৯ সালে খোলা তার ‘রিপন মিয়া’ নামের ফেসবুক পেজে বর্তমানে প্রায় ১৯ লাখ অনুসারী রয়েছে।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাত ৮টার দিকে রিপন মিয়া তাদের বাড়িতে যান। সে সময় স্কুলছাত্রীটি বাড়ির উঠানে রান্নার কাজ করছিল এবং তার বাবা স্থানীয় বাজারে ও মা বাইরে ছিলেন। এ সুযোগে তাকে জোর করে বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান।পরিবারের দাবি, ভিডিওতে অভিনয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রিপন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতেন। লোকলজ্জার কারণে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখা হলেও পরে ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার রাতে স্থানীয় একটি বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তির দাবি, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে রিপন মিয়া অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান বলে দাবি করা হয়। পরে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সালিশের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার উদ্যোগকে আইনবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেন।এদিকে ঘটনার পর থেকেই রিপন মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।রিপনের স্ত্রী চম্পা আক্তার বলেন, ঘটনার বিস্তারিত তিনি জানেন না। তার স্বামী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানিয়েছেন।ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন এবং মেয়ের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবশেষে ধর্ষণ মামলা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে খুঁজছে পুলিশ

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়া অগ্নি-নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার একাধিক সড়কে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে হোটেল ছেড়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কেউ নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রশাসনের অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশের অনুমতি, ফায়ার অ্যালার্ম ও জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার সিঁড়িসহ প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাবিধি না মানায় কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট থানার পুলিশ এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানে উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অংশ নেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজ্য সরকার কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টির বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাসন সংকটে বাংলাদেশিরা হোটেল বন্ধের ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই নিউমার্কেট এলাকায় রয়েছেন। হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে। নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবার ব্যবসা গড়ে উঠেছে। হোটেল বন্ধের প্রভাব এসব ব্যবসার ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে বাসগুলো যাত্রী নিয়ে কলকাতায় আসছে। কিন্তু পর্যটকদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন নেই। আশপাশের এলাকায় গেলেও অনেক হোটেলের ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণের বেশি বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন। তবে হোটেল মালিকদের কিছুটা সময় দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো। অন্যদিকে নিউমার্কেটের রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও হোটেল বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন ভিসা চালুর পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছিল। এমন সময়ে একের পর এক হোটেল বন্ধ হওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্য নতুন করে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেল ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

২৪ আগস্ট ২০২৬
কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা
যেসব শব্দের কারণে রিমুভ হতে পারে ফেসবুক পোস্ট

যেসব শব্দের কারণে রিমুভ হতে পারে ফেসবুক পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের মতামত, ছবি ও নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ করেন। তবে মেটার নীতিমালা বা ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ লঙ্ঘন করলে যেকোনো পোস্ট বা মন্তব্য সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে প্ল্যাটফর্মটি।ফেসবুকের কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রতিবেদনে সহিংসতা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, যৌনতা এবং নিষিদ্ধ ব্যক্তি বা সংগঠন সম্পর্কে কী ধরনের কনটেন্ট সরানো হতে পারে, তার কিছু দিক উঠে এসেছে।সহিংসতার হুমকি বা উস্কানিকাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি ফেসবুকের নীতিমালায় গুরুতরভাবে দেখা হয়। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে গুলি করা বা হত্যার আহ্বানের মতো বক্তব্য কনটেন্ট অপসারণের কারণ হতে পারে।তবে সব ধরনের আক্রমণাত্মক বা গালিগালাজপূর্ণ ভাষা একইভাবে বিবেচিত হয় না। কোনো বক্তব্য বাস্তবে ক্ষতির ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ তৈরি করছে কি না, সেটিও কনটেন্ট পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।ঘৃণাত্মক বক্তব্যজাতি, ধর্ম, বর্ণ বা কোনো সুরক্ষিত গোষ্ঠীর মানুষকে হেয় বা অপমান করে বক্তব্য দিলে তা হেট স্পিচ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।কোনো গোষ্ঠীর মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করে অপমান করা বা তাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করাও নীতিমালা ভঙ্গের আওতায় পড়তে পারে।নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও সংগঠনসহিংস বা বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের প্রশংসা, সমর্থন বা প্রচারমূলক বক্তব্যও ফেসবুকের নীতিমালার আওতায় পড়ে।বিশেষ করে সন্ত্রাসী বা সহিংস উগ্রবাদী সংগঠনকে সমর্থন, প্রশংসা কিংবা তাদের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে এমন কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।যৌনতা ও নগ্নতার ক্ষেত্রে কড়াকড়িযৌনভাবে স্পষ্ট কনটেন্ট এবং নগ্নতার বিষয়ে ফেসবুকের নীতিমালা তুলনামূলকভাবে কঠোর। যৌন উত্তেজক ছবি, ভিডিও কিংবা স্পষ্ট যৌন বর্ণনাযুক্ত কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।শিল্পকর্ম বা সৃজনশীল কনটেন্টের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা প্রযোজ্য হতে পারে।অনুবাদের ভুলেও হতে পারে সমস্যাফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বিভিন্ন ভাষার শব্দ ও বাক্যের অর্থ সবসময় সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। ফলে কোনো বক্তব্যের প্রকৃত অর্থের বদলে ভুল অনুবাদ বা প্রসঙ্গের কারণে কনটেন্ট ফ্ল্যাগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।বিশেষ করে স্থানীয় ভাষা ও আঞ্চলিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।ব্যঙ্গ বা রূপক ভাষাতেও সতর্কতাফেসবুকের এআইভিত্তিক সিস্টেম সবসময় ব্যঙ্গ, রসিকতা বা রূপক অর্থ সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। ফলে কোনো বক্তব্যের উদ্দেশ্য ক্ষতিকর না হলেও ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্যাংশের ভিত্তিতে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।তাই বিতর্কিত বিষয়, রাজনৈতিক বক্তব্য বা সংবেদনশীল প্রসঙ্গে পোস্ট করার সময় শব্দ নির্বাচনে সতর্ক থাকা জরুরি। তবে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করলেই যে পোস্ট নিশ্চিতভাবে মুছে যাবে—এমন সরল নিয়ম নেই। কনটেন্টের সামগ্রিক অর্থ, প্রসঙ্গ, ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য এবং মেটার সংশ্লিষ্ট নীতিমালার ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে।

নিজের আইডিয়া থেকে কার্যকর টুলস, ক্লড এআই কাজে লাগানোর ৪ উপায়

নিজের আইডিয়া থেকে কার্যকর টুলস, ক্লড এআই কাজে লাগানোর ৪ উপায়

একটি সাধারণ নির্দেশনা থেকেই তৈরি হতে পারে অ্যানিমেশন, ত্রিমাত্রিক দৃশ্য কিংবা নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী ইন্টারঅ্যাকটিভ সফটওয়্যার। প্রোগ্রামিংয়ের জটিল কোড নিজে না লিখেও এসব কাজের প্রাথমিক সংস্করণ তৈরি করতে সহায়তা করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অ্যানথ্রোপিকের ক্লড ওপাস ৫.৫ মডেলকে নির্দিষ্ট প্রম্পট দিয়ে এমন নানা ডিজিটাল উপকরণ তৈরির নির্দেশ দেওয়া যায়। ব্যবহারকারীর দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী মডেলটি প্রয়োজনীয় কোড তৈরি করতে পারে, যা পরীক্ষা করে পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে আরও উন্নত করা সম্ভব। জাভাস্ক্রিপ্ট দিয়ে অ্যানিমেশন তৈরি জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে ছোট অ্যানিমেটেড গল্প তৈরি করতে পারে ক্লড। এ জন্য চরিত্র, পটভূমি ও দৃশ্যের বিবরণ দিয়ে নির্দেশনা দিতে হবে। নির্দেশনা ও গল্পের বর্ণনা যত বিস্তারিত দেয়া হবে, অ্যানিমেশনটি তত নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দন হবে। প্রম্পটঃ “জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে ২৮ সেকেন্ডের একটি অ্যানিমেটেড গল্প তৈরি করো। একটি চরিত্র বনের মধ্য দিয়ে হাঁটবে, নদী পার হবে এবং শেষে সূর্যাস্ত দেখবে। দৃশ্য পরিবর্তন ও চরিত্রের গতিবিধি কোডের মাধ্যমে তৈরি করো এবং অ্যানিমেশনটি চালানোর উপযোগী সম্পূর্ণ কোড দাও।” দৈনন্দিন খরচের হিসাব রাখার টুল প্রতিদিনের খরচ লিখে রাখা, কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে তা দেখা এবং মাসিক বাজেটের সঙ্গে খরচের তুলনা করার জন্য ক্লড দিয়ে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ টুল তৈরি করা যায়। এতে খরচের তথ্য যোগ করলে মোট ব্যয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব হবে এবং বিভিন্ন খাতের ব্যয়ের চিত্র চার্টের মাধ্যমে দেখা যাবে। প্রম্পটঃ “দৈনন্দিন খরচের হিসাব রাখার জন্য একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েব অ্যাপ তৈরি করো। এতে খরচের পরিমাণ, তারিখ ও খাত যোগ করার ব্যবস্থা থাকবে। মোট দৈনিক ও মাসিক খরচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করবে এবং খাবার, যাতায়াত ও কেনাকাটার মতো খাতভিত্তিক ব্যয়ের চার্ট দেখাবে। মাসিক বাজেট নির্ধারণ ও কত টাকা অবশিষ্ট আছে তা দেখানোর সুবিধাও রাখো। চালানোর উপযোগী সম্পূর্ণ কোড দাও।” নিজের জন্য কুইজ গেম তৈরি ক্লড দিয়ে নিজের পছন্দের বিষয় নিয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ কুইজ গেম তৈরি করা যায়। এতে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন, সঠিক উত্তরের জন্য পয়েন্ট, ভুল উত্তরের ব্যাখ্যা এবং শেষে মোট স্কোর দেখানোর ব্যবস্থা রাখা সম্ভব। প্রম্পটঃ “এইচটিএমএল, সিএসএস ও জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ কুইজ গেম তৈরি করো। এতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাধারণ জ্ঞানবিষয়ক ১০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের চারটি উত্তর বিকল্প থাকবে। সঠিক উত্তরে পয়েন্ট যোগ হবে, ভুল হলে সঠিক উত্তর ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেখাবে। শেষে মোট স্কোর ও ফলাফল দেখানোর ব্যবস্থা রাখো। আকর্ষণীয় ডিজাইনসহ চালানোর উপযোগী সম্পূর্ণ কোড দাও।” ঘরে আসবাবের অবস্থান যাচাই নতুন আসবাব কেনার আগে ঘরে সেটি রাখলে কেমন দেখাবে, তা বোঝার জন্য ঘরের ইন্টারঅ্যাকটিভ থ্রিডি মডেল তৈরি করা যায়। ঘরের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ, দরজা-জানালার অবস্থান ও আসবাবের মাপ উল্লেখ করে একটি মডেল তৈরির নির্দেশ দিলে সেটিতে আসবাবের অবস্থান পরিবর্তন করে জায়গার ব্যবহার যাচাই করা সম্ভব। প্রম্পটঃ “ঘরের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ, দরজা-জানালার অবস্থান এবং বিছানা, সোফা ও টেবিলের মাপ দিয়ে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ থ্রিডি মডেল তৈরি করো। মাউস দিয়ে আসবাবগুলো সরিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রাখার সুবিধা দাও। প্রতিটি আসবাবের অবস্থান পরিবর্তন করলে চলাচলের জন্য কতটা জায়গা অবশিষ্ট থাকে, তা দেখাও। চালানোর উপযোগী সম্পূর্ণ কোড ও ব্যবহারের নির্দেশনা দাও।”

নতুন ভাইরাস তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই! বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের বিরুদ্ধে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন গবেষকেরা। পরীক্ষাগারে এসব ভাইরাস পুনরুৎপাদনও করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ সাফল্য একই সঙ্গে জৈব নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ক্ষতিকর জীবাণু বা জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা হতে পারে।গবেষণাটিতে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি এআই মডেল ইভো১ (Evo1) ও ইভো২ (Evo2) ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত ভাষাভিত্তিক এআই মডেলের মতো শুধু শব্দ বা বাক্য বিশ্লেষণের পরিবর্তে এসব মডেলকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ ও মানুষের জেনেটিক কোডের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ও অনুমান করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।গবেষণায় ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে পারে এমন ব্যাকটেরিওফাজ নামে পরিচিত ভাইরাসের শত শত নকশা তৈরি করে এআই। এর মধ্যে ১৬টি নকশা পরীক্ষাগারে সফলভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে।গবেষকদের মতে, এ ধরনের নতুন ব্যাকটেরিওফাজ তৈরির সক্ষমতা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর না হলে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে ব্যাকটেরিওফাজ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে গবেষণা চলছে।স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি বলেন, জেনারেটিভ এআই দিয়ে জটিল জৈবিক নকশা তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সম্পূর্ণ জিনোমের নকশা তৈরি এবং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যা পুনরুৎপাদন করতে পারে ও কোষের ভেতরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—এটি গবেষকদের জন্য নতুন একটি ক্ষেত্র।তবে গবেষণার ফলাফল নিয়ে সতর্ক করেছেন জৈব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এআইয়ের মাধ্যমে নতুন ভাইরাল জিনোম তৈরি করার সক্ষমতা এখন আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নয়; বরং প্রযুক্তিটিকে কীভাবে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।গবেষণাসংশ্লিষ্ট এক মন্তব্যে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডা. টমাস ইংলেসবি ও ডা. মরিটজ হাঙ্কে বলেন, এই গবেষণা জরুরি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন নতুন ভাইরাস তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আরও কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন।গবেষকেরা অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁদের পরীক্ষায় মানুষের মতো জটিল জীবকে সংক্রমিত করতে পারে এমন ভাইরাসকে এআইয়ের প্রশিক্ষণ ডেটাসেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। গবেষণাটি শুধু ব্যাকটেরিওফাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং সব পরীক্ষা করা হয়েছে নিয়ন্ত্রিত ও সুরক্ষিত গবেষণাগারে।গবেষক ব্রায়ান হি আরও জানান, প্রযুক্তিটির ব্যবহার যাতে ইতিবাচক উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।তবে এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এমন এআই মডেল, যেগুলো জটিল কাজ নিজের মতো করে সম্পন্ন করতে পারে, সেগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।সব মিলিয়ে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এআই দিয়ে জীববৈজ্ঞানিক নকশা তৈরির এই সক্ষমতা প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণায় বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পাশাপাশি কঠোর জৈব নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন ভাইরাস তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই! বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস-প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ফলসেটিয়া এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ফলসেটিয়া বাসস্টেশনের পশ্চিম ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকাগামী ডি-লিংক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পাটুরিয়াগামী একটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেট কারটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে গাড়ির চালক ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হন।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।দুর্ঘটনার পর কিছু সময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল ধীরগতির হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস-প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ

মোবাইল ফোনের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রিন্সিপাল ১০০ শপিং মলের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে সংঘটিত দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) কাঁচপুর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. বাবু ওরফে রবি ওরফে রনি (৪০), মো. ইছহাক ওরফে সাগর (৪২), মো. কামাল (৪০), মো. আলমগীর (৪৫), মো. জামাল (৩৮), আলাউদ্দিন (৪৫), মো. সুমন (৪১), মো. রুবেল (২৩) এবং আলামিন ওরফে বাম্বু আলামিন (২৩)। তাদের সবার বাড়ি কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন সোনারগাঁয়ের প্রিন্সিপাল ১০০ শপিং মলের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকান মালিক সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের সহায়তায় চোর চক্রটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোবাইল ফোনের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার
চুয়াডাঙ্গায় রয়েল পরিবহনের বাস উল্টে আহত ২৩, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

চুয়াডাঙ্গায় রয়েল পরিবহনের বাস উল্টে আহত ২৩, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ এলাকায় ঢাকাগামী রয়েল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে গেছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় অন্তত ২৩ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আহতদের মধ্যে এক নারীর হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসটি সরোজগঞ্জ বাজার এলাকায় একটি পাখিভ্যানকে ওভারটেক করতে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ২৩ জনের মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি সাতজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আহতদের মধ্যে বুলবুলী (৩৫) নামে এক নারীর একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা অথবা রাজশাহীতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. এহসানুল হক তন্ময় জানান, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তারা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সাতজনসহ মোট ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে।