বহু বছর ধরে পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটানোর পর এবার নতুন ঠিকানায় যাওয়ার অপেক্ষায় শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভীন আক্তার। রিকশাচালক স্বামী মনিরুল আলম ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি উঠতে যাচ্ছেন কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের একটি আধুনিক বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাটে।
রোববার (২ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ লটারির মাধ্যমে প্রকল্পটির ৭৩০টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মধ্যে এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত পারভীন আক্তার বলেন, "মনে হচ্ছে আমি এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।"
একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জেলে রেজাউল করিম। তিনি বলেন, "কোনোদিন ভাবিনি বহুতল ভবনে থাকার সুযোগ পাব। তালিকায় নিজের নাম দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি।"
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ হাজার ১২৮টি পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন। এর মধ্যে ১২২টি ভবনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগে ৬০০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। সর্বশেষ লটারির মাধ্যমে আরও ৭৩০টি পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে।
প্রকল্পে শুধু আবাসন নয়, বাসিন্দাদের জন্য মসজিদ, মন্দির, সাইক্লোন শেল্টার ও মার্কেটসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নাগরিক সুবিধাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজুল ইসলাম বলেন, গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে তারা কাজ করছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষকে আন্তর্জাতিকমানের, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, লটারির মাধ্যমে ৭৩০টি পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পরিবার এখন নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। তাদের পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, প্রকল্প এলাকায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লটারি অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।