রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

আন্তর্জাতিক

নেপালে ১০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের খবর

নেপালে ১০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের খবর

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা থামেল থেকে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও ভিসা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থামেল এলাকার একাধিক হোটেল থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধানের জন্য নেপালের অভিবাসন দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের বরাত দিয়ে নেপালি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে থামেল ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেলগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিবাসন বিভাগ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। অভিযানের স্থান ও গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) শরদ কুমার থাপা ছেত্রী জানান, থামেল এলাকায় বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহজনক তৎপরতার খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, থামেল এলাকার ‘হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস’, ‘হোটেল দি ভেদা’ এবং ‘হোটেল আল-রহমান’ নামের তিনটি বাণিজ্যিক আবাসিক হোটেল থেকে এই ১০ জনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন: ফাহিমা আক্তার হাসান (৪৬), মাহমুদ (৪৮), মাহবুব হাসান (৪৫), রিপন মাহমুদ (৪৯), মো. কারামত আলী খান (৩০), সাইদুর রহমান (৩০), মো. খলিলুর রহমান (৫০), আরিফুর রহমান (২৮), মো. মারুফ মৃধা (৪২), মোহাম্মদ হানিফ মিয়া (৬৪)। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘খাতুনে জান্নাত’ নামের এক নারী পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের বিষয়ে নেপাল অভিবাসন দপ্তরের পরিচালক তিকারাম ঢাকাল জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আটককৃতদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত একজন নিজ ভিসার মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ধরে (ওভারস্টে) অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। অন্য আসামিরা কী উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন এবং কী কাজে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আটক ব্যক্তিরা থামেলের ‘মুসলিমা টোল’ এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তেন। পাশাপাশি তাঁরা যে ভিসায় নেপালে প্রবেশ করেছিলেন, তার শর্ত লঙ্ঘন করে অর্থ উপার্জনমূলক এবং অন্যান্য অননুমোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডুকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও নেপাল পুলিশ একাধিক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছিল, যারা ইউরোপ বা উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের কাঠমান্ডুতে এনে জিম্মি করত এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত। পুলিশের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এই ১০ জনও একই ধরনের কোনো মানব পাচার, চাকরির ভুয়া প্রলোভন বা অবৈধ অর্থ লেনদেনকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কি না। নেপালের অভিবাসন দপ্তরের তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) মতো আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তার সাথে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সঙ্কটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এসময় রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একইসাথে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নদী দিয়ে এখনো মরদেহ ভেসে আসছে। আশপাশে জমে থাকা কাদার স্তূপ আলকাতরার মতো ঘন আকার ধারণ করেছে। সেখানেও লাশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালের মর্গগুলোতে আর জায়গা খালি নেই। যেসব দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর পরিচয় দ্রুত শনাক্তের জন্য স্বজনদেরকে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোর মাধ্যমে ছবি দেখানো হচ্ছে। বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর নেপালিরা এখন মরদেহ নিয়ে এক বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে পড়েছে। অনেক মরদেহ এমনভাবে বিকৃত হয়ে গেছে যে চেনার উপায় নেই। সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে বসতবাড়ি থেকে বহু দূরের এলাকাতে। নিরাপদে সংরক্ষণের জায়গা ফুরিয়ে আসায় ভারতপুর জেলায় ইতোমধ্যে গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি মরদেহে ট্যাগ ও একটি অবস্থান নম্বর লাগানোর আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর মরদেহগুলো প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে গণকবরে রাখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনরা এসব দেহ শনাক্ত করতে পারবেন।  দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। সেখানে নদীর তীরজুড়ে ২৫০টির বেশি দেহ পাওয়া গেছে। বিকৃত হওয়ার কারণে মাত্র নয়টির পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এই জেলার জঙ্গলেও গণকবর তৈরি করা হয়েছে।  মরদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে স্থানীয় কর্মকর্তারা এক ‘মর্মান্তিক’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তারা স্বজনদেরকে মরদেহগুলোর ছবি দেখতে বলছেন। শনাক্ত করার মতো বৈশিষ্ট্য খুঁজে দেখতে বলা হচ্ছে। যেমন- গলার হার, বিয়ের আংটি, উল্কি বা শরীরের কোনো ক্ষতচিহ্ন।  উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ছবি পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোতে সাজানো হয়েছে। স্বজনদেরকে ধৈর্য নিয়ে একটির পর আরেকটি ছবি দেখতে হচ্ছে। ছবিগুলো নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি মর্গের বাইরের দেয়ালেও ভেতরে থাকা মরদেহগুলোর ছবি টানানো হয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে কেবল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারছে। রোববার নেপালের পররাষ্ট্রসচিব অমৃত বাহাদুর রাই বলেন, নিহতদের মরদেহ নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য সরকার ১ হাজারের বেশি ফ্রিজার ইউনিট চেয়েছে। নদী উপত্যকার কিছু নিচু এলাকায় এখনো সড়কপথে যাওয়া যাচ্ছে। সেখানে কাদার নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছেন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীরা।  ত্রিশূলী নদীর তীরের শহর দেবীঘাটে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আমাবাদুত্ত ভট্ট বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। এখান থেকে আমরা ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। বেশিরভাগ বাড়ির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ধ্বংস হয়ে গেছে। সব কাদা সরাতে অনেকদিন লাগবে। তখন মরদেহের আর কী অবশিষ্ট থাকবে, কে জানে।’ দেবীঘাটে বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরবাড়ির জায়গায় ফিরছেন। সেখানে অনেক বাড়িই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ৪৯ বছর বয়সী উষা নেপালির বাড়িতে অবশিষ্ট বলতে আছে শুধু কয়েকটি কংক্রিটের ব্লক ও বেঁকে যাওয়া ধাতব কাঠামো। এই বাড়িতেই তিনি চার সন্তান ও তিন নাতি-নাতনিকে বড় করেছেন। কাঁদতে কাঁদতে উষা নেপালি বলেন, ‘এখানেই আমার জীবনের সবকিছু দিয়েছি। এখন জানি না কোথায় যাব, কী করব। গায়ের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই জমি এখন আর নিরাপদ নয়, কিন্তু এটাই আমাদের শেষ সম্বল।’ ত্রিশূলী নদীর পাশে বসবাস যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে তা রোববার আরেকবার দেখা যায়। নদীর পানি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। এরপর দেবীঘাটের অনেক বাসিন্দা ঘরে অবশিষ্ট থাকা কিছু জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে শুরু করেন। তাদের অনেকে স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় পাড়ি জমাবেন। বন্যার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরের কয়েক মিনিটে শুধু নিজের স্বর্ণের গয়না নেওয়ার সময় পেয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সী যমুনা মাগার। বাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দেবীঘাটে এরপর কীভাবে বসবাস করবেন তা বুঝতে পারছেন না। যমুনা বলেন, ‘আমরা এর আগেও বন্যার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু কখনো এমন বন্যার কথা ভাবিনি। আমাদের যা কিছু ছিল, সবই হারিয়ে গেছে। নিজের জীবন, সন্তানদের নিয়ে আমি এতটাই চিন্তিত যে এখানে আর থাকতে চাই না।’

নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

নেপালে আকস্মিক বন্যার পর এখনো শত শত বিদেশি পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের তালিকা: ভারত: দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। চীন: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯০ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেন: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর থেকে ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। মালয়েশিয়া: ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সঙ্গে ভ্রমণরত ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্য: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে তিব্বতে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন নেপালের নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। কানাডা: কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ জন কানাডীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন পর্যটকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধারে নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

চীনের তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জনসহ নিখোঁজ ৫৪৬, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

চীন-নেপাল সীমান্তে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং পোর্টে কাদা ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র, জননিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও পর্যটন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যৌথ অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাইয়ের পর এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। বেইজিংভিত্তিক সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চীন সীমান্ত এলাকার মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্ধার ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন, ব্রিটেনের ১৫ জন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন করে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ জন, মালয়েশিয়া, জার্মানি ও রাশিয়ার ৩ জন করে, আয়ারল্যান্ড, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের ২ জন করে এবং কাজাখস্তান, ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল, ইউক্রেন, স্পেন ও হাঙ্গেরির ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। চাইনিজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। এদিকে পাশ্ববর্তী দেশ নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারী হিসাব ও স্থানীয় গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

চীনের তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জনসহ নিখোঁজ ৫৪৬, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

‘যোদ্ধার’ মতো বেঁচে ফেরা ৯৭ বছরের বৃদ্ধা এখন নেপালের নতুন প্রতীক

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ৯৭ বছর বয়সী গুণ মায়া বোহারা উদ্ধার পেয়ে আশার প্রতীক ও বন্যার নতুন মুখ হয়ে উঠেছেন।  রোববার (৩০ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চার ঘণ্টার দীর্ঘ চেষ্টার পর পুলিশ ও নেপাল সেনাবাহিনী তাকে একটি এক্সেভেটর বা কোদালের ভেতরে বসিয়ে নিরাপদে বের করে আনে। একটি বৃদ্ধাশ্রম ভেঙে পড়ার পর গুণ মায়া বোহারা তার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি নেপালি। খবর পেয়ে কাঠমান্ডু থেকে ছুটে আসা তার নাতি দীপক বোহারা জানান, উদ্ধারপ্রাপ্ত বৃদ্ধাকে যুদ্ধ জয় করে ফেরা ‘এক যোদ্ধার’ মতো দেখাচ্ছিল। এক্সেভেটরের বাকেটে করে কাদামাখা পোশাকে এই বৃদ্ধাকে নিয়ে আসার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি কীভাবে এই ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে ছিলেন তা বলতে পারছেন না বলে দ্য টাইমসের বরাতে ল্য পারিসিয়েন জানিয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। রসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসের কারণে ভোটেকোশী নদীতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩০০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ নতুন করে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, এই মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির পর পুনর্গঠন কাজের জন্য দেশটিকে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে, যা তাদের পুরো অর্থনীতির প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ।

‘যোদ্ধার’ মতো বেঁচে ফেরা ৯৭ বছরের বৃদ্ধা এখন নেপালের নতুন প্রতীক

ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নেপালে ফের বন্যার সতর্কতা

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। এর মধ্যেই নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ পানিতে উপচে পড়ায় ফের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ খবর জানিয়েছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত সব নিরাপত্তা কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে এপিকে বলেন, কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতায় থাকলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, উদ্ধার কাজ বন্ধ হয়নি। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রদর্শিত স্যাটেলাইট চিত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার যে স্থানে হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছিল ঠিক একই এলাকায় নতুন এই হ্রদটি তৈরি হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র এবং প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে যে নদীর উজানের গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে একটি বর্ধমান হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা যেকোনও সময় ফেটে গিয়ে নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ আবার বন্যা ঘটাতে পারে।

ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নেপালে ফের বন্যার সতর্কতা

নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভূমিধসে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় ভাটি অঞ্চলে নতুন করে বিধ্বংসী বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সীমান্তসংলগ্ন দুই দেশেই উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কায় নেপালের রাসুয়া জেলাসহ ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু পাহাড়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের জলচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় চীনের সব উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় যানবাহনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি নিশ্চিত করেছে। নেপাল অংশেও উদ্ধার তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। চীনা প্রকৌশলীদের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার হ্রদটিতে আটকে থাকা পানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটারে, যা আগের দিনের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে হ্রদের ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করে সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করছে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল। গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদী দিয়ে নেমে আসা কাদা, পাথর ও বরফের তীব্র স্রোতে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই আকস্মিক বন্যায় কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, কালভার্ট ও পাকা সেতু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নেপালের রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, হ্রদের পানি বৃদ্ধির পর স্থানীয় জনপদে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে চীনের জিরং কাউন্টিতেও ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি চীনা উদ্ধারকর্মীরা। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের এই অংশে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন। হিমালয় অঞ্চলের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে বলেন, ‘এমন বিধ্বংসী রূপ আগে কখনো দেখা যায়নি, যেখানে অত্যন্ত মজবুত ও সুনির্মিত ভবনগুলো টুথপিকের মতো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ এক দুর্যোগ। আমরা সেখানে সহায়তা পাঠাচ্ছি এবং দেশটির নেতাদের জানিয়ে দিয়েছি যে তাদের প্রয়োজনে যা চাওয়া হবে, আমরা তা-ই সরবরাহ করব।’

নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ

‘তৈফুন ব্লক-৪’ বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

তুরস্কের তৈরি নতুন ‘তৈফুন ব্লক-৪’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে তেল আবিবে নতুন করে কৌশলগত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তুর্কি ভাষার 'তৈফুন' অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় নামের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার। তৈফুনের সরাসরি আঘাত হানার ক্ষমতার আওতায় এখন গোটা ইসরাইল। মিডলইস্ট মনিটর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জানায়, তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা রকেটসান নির্মিত ৭.২ টন ওজনের এবং ১০ মিটার দীর্ঘ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় আকারে অনেক বড় ও ভারী। এটি তার উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গিয়ে গতিপথ পরিবর্তন বা ম্যানুভার করতে সক্ষম, ফলে প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। ক্ষেপণাস্ত্র্টি মূল লক্ষ্যবিন্দু থেকে সর্বোচ্চ ৫ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে গিয়ে আঘাত করতে পারে। সামরিক প্রযুক্তির পরিভাষায় এই সক্ষমতাকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং কার্যকর লক্ষ্যভেদ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি প্রতি ঘণ্টায় শব্দের গতির সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি বা মাক ৫.৫-এর উপরে । কোনো ধরনের মার্কিন বা ইউরোপীয় অনুমোদন ছাড়াই স্বাধীনভাবে কৌশলগত হামলা চালানোর এই ক্ষমতা তুরস্কের সামরিক শক্তিতে এক বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির তাত্ত্বিক পাল্লার মধ্যে পুরো ইসরায়েল অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, ইসরায়েলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা আপাতত এই ঝুঁকিকে কিছুটা খাটো করেই দেখছেন। তাদের মতে, অ্যারো-২, অ্যারো-৩ এবং ডেভিডস স্লিং সমন্বিত ইসরায়েলের বহুমাত্রিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের তৈরি উন্নত বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার লক্ষ্যেই তৈরি। তা ছাড়া তুরস্ক একটি ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র এবং এনপিটিতে স্বাক্ষরকারী। তাছাড়া তৈফুন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়, বরং এটি সাধারণ বা প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্র বহন করায় এর ধ্বংসক্ষমতাও সীমাবদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অবনতিশীল কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তেল আবিবে পৌঁছানোর সামর্থ্য নিয়ে আঙ্কারার এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক বাধা প্রদান ও মানসিক মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ। এর পরও ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের সাথে ইসরাইলের সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখনো খুবই কম, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘তৈফুন ব্লক-৪’ বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া দপ্তর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও দিল্লি বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) মঙ্গলবার সকাল পৌনে সাতটার পূর্বাভাসে জানায়, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী তিন ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।সোমবার অতিবৃষ্টির কারণে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দিন তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।আইএমডির বিজ্ঞানী ড. শশী কান্ত জানান, উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ পুবালি বাতাসের সংঘর্ষের ফলে দিল্লিতে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরগাঁওয়ের রাজীব চক, ইফকো চক ও রেলওয়ে রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পানিতে ডুবে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন স্কুলের কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা এবং অফিসগুলোতে কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া দপ্তর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও দিল্লি বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) মঙ্গলবার সকাল পৌনে সাতটার পূর্বাভাসে জানায়, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী তিন ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।সোমবার অতিবৃষ্টির কারণে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দিন তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।আইএমডির বিজ্ঞানী ড. শশী কান্ত জানান, উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ পুবালি বাতাসের সংঘর্ষের ফলে দিল্লিতে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরগাঁওয়ের রাজীব চক, ইফকো চক ও রেলওয়ে রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পানিতে ডুবে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন স্কুলের কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা এবং অফিসগুলোতে কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়া অগ্নি-নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার একাধিক সড়কে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে হোটেল ছেড়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কেউ নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রশাসনের অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশের অনুমতি, ফায়ার অ্যালার্ম ও জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার সিঁড়িসহ প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাবিধি না মানায় কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট থানার পুলিশ এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানে উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অংশ নেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজ্য সরকার কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টির বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাসন সংকটে বাংলাদেশিরা হোটেল বন্ধের ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই নিউমার্কেট এলাকায় রয়েছেন। হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে। নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবার ব্যবসা গড়ে উঠেছে। হোটেল বন্ধের প্রভাব এসব ব্যবসার ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে বাসগুলো যাত্রী নিয়ে কলকাতায় আসছে। কিন্তু পর্যটকদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন নেই। আশপাশের এলাকায় গেলেও অনেক হোটেলের ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণের বেশি বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন। তবে হোটেল মালিকদের কিছুটা সময় দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো। অন্যদিকে নিউমার্কেটের রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও হোটেল বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন ভিসা চালুর পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছিল। এমন সময়ে একের পর এক হোটেল বন্ধ হওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্য নতুন করে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেল ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তিনি রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।  এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, আগামী ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফর করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন কমিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রেস সচিব সালেহ শিবলী রয়টার্সকে বলেন, সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা এবং ‘অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে’ ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের সফর নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ছয় মাসের সরকার ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে গত সপ্তাহে ঢাকা ইঙ্গিত দিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরে পাঠানোর আগে আরও অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন। এদিকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতেই অবস্থান করছেন। তাঁকে দেশে ফেরত পাঠাতে নয়াদিল্লির কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। ভারত জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত নভেম্বরে তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে শেখ হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করে এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব

ভূমিকম্পের ৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছরের বৃদ্ধাকে জীবন্ত উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার চার দিন পর ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে অন্তত ৭৩ জন নিহত এবং ৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধসে নিতুংলিয়া গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় বাঁশের তৈরি একটি ঘর ধসে পড়লে তার নিচে আটকা পড়েন পলিনা পোবি নামের ওই বৃদ্ধা। তিনি আগে থেকেই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ায় নড়াচড়া কিংবা কথা বলতে পারছিলেন না। ফলে স্বজনরা কয়েক দিন ধরে তাকে খুঁজে পাননি।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঘটনার চতুর্থ দিনে স্বজনরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পান। কয়েক দিন খাবার ও পানি ছাড়া আটকে থাকার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।স্থানীয় প্রশাসন এ ঘটনাকে অলৌকিক বলে উল্লেখ করেছে। উদ্ধার করার পর পলিনা পোবিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।এদিকে দ্বীপজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। তারপরও নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্গম এলাকাগুলোতে দ্রুত খাদ্য, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে সামরিক বিমান ও জাহাজ ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯৮ টন ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে।ভূমিকম্পের পর থেকে তিন হাজারের বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষজন শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়।

ভূমিকম্পের ৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছরের বৃদ্ধাকে জীবন্ত উদ্ধার

বিধানসভায় কেন ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়?

ভারতের তামিলনাড়ুর প্রয়াত সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকের প্রভাবশালী নেতা এম করুণানিধিকে সম্মানসূচক পদবি ছাড়া নাম ধরে উল্লেখ করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বিধানসভায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। বিধানসভায় স্বাস্থ্য ও রাজস্ব বিভাগের অনুদানের দাবির ওপর আলোচনা চলাকালে বনমন্ত্রী আর ভি রঞ্জিত কুমার অতীতের নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে অর্থ বিতরণের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি ‘তিরুমঙ্গলম ফর্মুলা’ উল্লেখ করে দাবি করেন, তাঁর কাঞ্চীপুরম কেন্দ্রে আগের নির্বাচনে ভোটপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ রুপি পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছিল। বক্তব্যের একপর্যায়ে বনমন্ত্রী প্রয়াত ডিএমকে নেতা এম করুণানিধিকে শুধু নাম ধরে উল্লেখ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন বিরোধী ডিএমকের বিধায়কেরা। তারা বিষয়টিকে বিধানসভার প্রচলিত সৌজন্য ও শিষ্টাচারের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বনমন্ত্রীকে বক্তব্য থামাতে বলেন এবং প্রয়াত এই নেতাকে সম্মানসূচক সম্বোধন ছাড়া নাম ধরে উল্লেখ করাকে অনভিপ্রেত বলে স্বীকার করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, ‘আমি তার (বনমন্ত্রীর) পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি।’ মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিধানসভার কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়।

বিধানসভায় কেন ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়?

সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘ওয়াও’: ট্রাম্প

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত **‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’**কে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তার মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তারা আরও কার্যকরভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।চুক্তিতে স্বাক্ষর করা তিন দেশের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ‘বড়, সাহসী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন।সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কথা রয়েছে। চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রে যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সামরিক শিল্পে সহযোগিতার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যও এর প্রতি ওয়াশিংটনের ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘ওয়াও’: ট্রাম্প