বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

আন্তর্জাতিক

‘পরমাণু অস্ত্র পেলেই ব্যবহার করবে ইরান’, সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প

‘পরমাণু অস্ত্র পেলেই ব্যবহার করবে ইরান’, সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প

ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হলে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ভয়াবহ প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, পরমাণু অস্ত্র হাতে পেলে ইরান তা ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও দেশটির সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। রবিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি সমস্যা দেখতে চান? শুধু জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যা নয়, প্রাণহানির সমস্যাও? ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পেতে দিন, কারণ তারা এটি ব্যবহার করবে।’ হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘র‍্যাপিড রেসপন্স ৪৭’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এমন সম্ভাবনা আছে।’ তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছেন তিনি। তেহরানের সঙ্গে ‘সুন্দর, বড় ও চমৎকার একটি চুক্তি’ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান চুক্তিতে সম্মত হলেও সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কি চুক্তিটি মেনে চলবে?’ ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান নীতিগত অবস্থান। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র পেলে তা ‘তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করবে’। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং সংকটের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো। এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে ‘আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি’ অভিযানের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে সামরিক পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন ট্রাম্প। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বললেও তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ বন্ধ করেননি তিনি। ফলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সামরিক সংঘাতের দিকে এগোবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতায় গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জন্ম নেওয়া নবজাতকের মুখে গোঁফ! সত্যি নাকি এআই’র কারসাজি

ইকুয়েডরে জন্ম নেওয়া একটি নবজাতককে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুটির ওপরের ঠোঁটের ঠিক ওপরে গোঁফের মতো দেখতে একটি গাঢ় পশমের আস্তরণ রয়েছে। শিশুটির এই ব্যতিক্রমী ও অস্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও হাজার হাজার মানুষ অনলাইনে শেয়ার করেছেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।  তবে এই ভিডিওটির সত্যতা এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গত ২৩ অক্টোবর ‘মেট্রো ইকুয়েডর’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ভিডিওটির উৎস এবং শিশুটির মুখের এই আপাত পশমের কোনো চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।  ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে যে, শিশুটির ঠোঁটের ওপরের ওই গাঢ় দাগটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ফিল্টারের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে কিনা। আরও পড়ুনআরও পড়ুনফুটবল খেলা দেখতে স্ত্রীকে চেয়ারে বেঁধে রাখলেন স্বামী, এরপর... বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতকদের শরীরে অনেক সময় ‘লানুগো’ নামক হালকা ও নরম লোম থাকতে পারে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে জন্মের পরপরই মুখে স্পষ্ট গোঁফের মতো এমন গাঢ় পশম গজানোর ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আরও পড়ুনআরও পড়ুন৩০ বছরেই ৩২ হাজার কোটির মালিক, তবু দিনে কাজ করেন ১৪ ঘণ্টা, কে এই নারী? ফলে এটি কোনো প্রকৃত চিকিৎসাগত ঘটনা হওয়ার চেয়ে ডিজিটাল কারসাজি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।  সব মিলিয়ে, ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নাকি নিছকই ডিজিটাল সম্পাদনার ফল, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  তবে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিওটি পুরোপুরি ভুয়া এবং ডিজিটালভাবে কারসাজি করা। ভিডিওটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর মাথা এবং মুখভঙ্গির সঙ্গে গোঁফটি স্বাভাবিকভাবে মানাচ্ছে না। শিশুটি নড়াচড়া করার সময় গোঁফের আশপাশে সামান্য ঝিকিমিকি বা ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।  এ ছাড়া হাসপাতালের ঘরের চারপাশের আলো এবং শিশুর ত্বকের ওপর পড়া ছায়ার সঙ্গে গোঁফের আলো বা ছায়ার কোনো মিল নেই। এর গঠন ও আলো বেশ অসঙ্গতিপূর্ণ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ঘটনার পক্ষে কোনো হাসপাতাল, চিকিৎসক, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট রেকর্ড বা শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

জন্ম নেওয়া নবজাতকের মুখে গোঁফ! সত্যি নাকি এআই’র কারসাজি

দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মানিক সরকার

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে আটক করেছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর শনিবার তাঁদের আটক করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ বাসস্ট্যান্ডের কাছ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে আটক হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলে। অন্যদিকে, একই দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মানিক সরকারকে আটক করা হয়। তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)—সিপিআই(এম)-এর নেতা এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলো অনুষ্ঠিত হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে কি না, কিংবা তাঁদের পরবর্তী আইনি অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মানিক সরকার

পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিতে কেন ক্ষুব্ধ ভারত

হিমালয়ের বিতর্কিত একটি অঞ্চলে পাকিস্তান ও চীন নিজেদের সীমান্ত নির্ধারণে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়েছে। গত সপ্তাহে দুই দেশ পাকিস্তান-চীন সীমান্ত যৌথ কমিশন গঠনসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সই করেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।বহু দশক ধরে ভারত ওই অঞ্চলে পাকিস্তান-চীন সীমান্তকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দিল্লির দাবি, এই ভূখণ্ড ভারতের অংশ। তাই পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্তকেই ভারত স্বীকৃতি দেয় না।পাকিস্তান চুক্তিটিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দেশটির মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও চীনের সহযোগিতা আরও গভীর হবে।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। আমরা তথাকথিত যৌথ কমিশন প্রত্যাখ্যান করছি, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।’বিশেষ সংবেদনশীল এক সময়ে এই ঘোষণা এসেছে। হিমালয় সীমান্তের বড় অংশজুড়ে ভারত ও চীনের সেনাদের পৃথক করা বিতর্কিত রেখা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি) ঘিরে কয়েক বছর ধরে সামরিক উত্তেজনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এর মধ্যেই বেইজিং ও ইসলামাবাদ এমন একটি সীমান্ত এলাকায় সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, যার ওপর ভারতেরও দাবি রয়েছে।এই যৌথ কমিশনের আওতায় রয়েছে শাকসগাম উপত্যকা। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চল ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত এটিকে লাদাখে অবস্থিত নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।দিল্লির দাবি, শাকসগাম উপত্যকা জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক দেশীয় রাজ্যের অংশ ছিল। পাকিস্তান ওই অঞ্চল অবৈধভাবে দখল করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করে। ভারত সরকার ১৯৬৩ সালের ওই চুক্তিকে কখনো স্বীকৃতি দেয়নি। দিল্লির মতে, চুক্তিটি অবৈধ ও অকার্যকর।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ভারতের ভূখণ্ড, যা অবৈধ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের দখলে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার পাকিস্তানের নেই।’পাকিস্তানের অবস্থান ভিন্ন। দেশটি বলে, জম্মু ও কাশ্মীর এখনো একটি বিতর্কিত অঞ্চল। তাই ১৯৬৩ সালের চীন-সংক্রান্ত সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবস্থানে ভারত নেই। পাকিস্তান ওই চুক্তিকে বৈধ বলে মনে করে।দিল্লির শিব নাডার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জেকব বলেন, সর্বশেষ ঘটনাটি দুই পক্ষের বহু পুরোনো বৈরিতার আরেকটি প্রকাশ। একেবারে নতুন কিছু নয়।বিবিসিকে তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তিতেই একটি যৌথ সীমান্ত কমিশনের কথা বলা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, কেন এই ব্যবস্থা এই সময়ে কার্যকর করা হলো।জেকবের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের বৃহত্তর সীমান্ত নির্ধারণের প্রচেষ্টা। পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যেও এই সীমান্তে যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগ্রহ থাকতে পারে।জেকব বলেন, এই উন্নয়নে ভারতের ‘উদ্বিগ্ন’ হওয়া উচিত। তাঁর মতে, আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পদক্ষেপটি ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি ধারাকে উপেক্ষা করছে বলে মনে হয়।চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কাশ্মীর বিরোধের নিষ্পত্তির পর যে দেশ শেষ পর্যন্ত ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তার সঙ্গে চুক্তিটি পুনরায় আলোচনার কথা ছিল বলে জানান তিনি।জেকবের মতে, ভারতের জন্য বিষয়টি আন্তর্জাতিক তথ্য পরিবেশনের দিক থেকেও জটিল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও তথ্য পরিবেশনে চীনের তুলনামূলক প্রাধান্য রয়েছে। সিজিটিএন, সিআরআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের উপস্থিতি তাদের বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের বয়ান ও মানচিত্র তুলে ধরার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ভারত প্রায়ই এমন প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা বিশ্বের অন্যান্য রাজধানী উপেক্ষা করতে পারে।তবে সীমান্তে বাস্তবে যে কার্যক্রম চলছে, তার তুলনায় এই উদ্বেগের মাত্রা কিছুটা ভিন্ন। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এই অঞ্চলে ইতোমধ্যেই বিস্তৃত অবকাঠামো ও যোগাযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) ও কারাকোরাম মহাসড়ক।যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং বর্তমানে আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমি ও হাডসন ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি বলেন, নতুন কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক।বিবিসিকে হাক্কানি বলেন, সীমান্ত ও সীমানা সহযোগিতা জোরদার করা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষার জন্য এটি একটি প্রক্রিয়া।তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের প্রতি একটি বার্তাও দেয়। তা হলো, বেইজিং এখনো কাশ্মীর প্রশ্নকে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দেখে।হাক্কানি বলেন, চীন কখনো কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের অবস্থান মেনে নেয়নি। গিলগিট-বালতিস্তানকেও তারা পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, ভারতের নয়। পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের এই অঞ্চলটি চীনের সঙ্গে সীমান্ত ভাগাভাগি করে। ভারত এটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে।হাক্কানির মতে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের অবস্থানও বদলেছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান এখনো মনে করে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ বাকি। কিন্তু ভারত যখন তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অংশে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মতো অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন করেছে, তখন ১৯৬৩ সাল থেকে চীনের সঙ্গে যে বিষয়টি অঘোষিত অবস্থায় রয়েছে, সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাকিস্তান কোনো সমস্যা দেখছে না।বেইজিংয়ের জন্যও এই ব্যবস্থা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে ভারতের প্রতি নিজেদের অবস্থান জানানোর বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন হাক্কানি।তাঁর মতে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য কৌশলগত ও ভূকৌশলগত—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একই সঙ্গে ভারতকে চীন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী হুমকির ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেওয়া যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষণার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। হাক্কানি বলেন, চীন সাধারণত তাদের সিদ্ধান্ত কয়েক মাস, এমনকি কয়েক বছর আগেই পরিকল্পনা করে। তাই যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তও অনেক আগেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলন সফরের পর এই তথ্য প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে আশ্বস্ত করা এবং ভারতকে মনে করিয়ে দেওয়া যে বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনেনি।তবে জাবিন টি জেকব সতর্ক করে বলেন, এই বিষয়টির প্রতিটি দিককে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এই মুহূর্তে এলএসি-তে এর কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই।এ থেকে বোঝা যায়, গত সপ্তাহের ঘোষণার গুরুত্ব হয়তো বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তনের মধ্যে নয়। বরং ভারত যে ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্যেই এর গুরুত্ব থাকতে পারে।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের অবস্থান ‘স্পষ্ট এবং ধারাবাহিক’। দিল্লির মতে, পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করে রাখা ভারতীয় ভূখণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য। এতে ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।হাক্কানি মনে করেন, বিরোধটি শুধু সীমান্তের আইনি প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মতে, সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে ভারত ও চীনের মূল মতভেদ ভূকৌশলগত, শুধু মানচিত্রগত নয়। তাই সীমান্ত নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কী অর্জন করা সম্ভব, তারও কিছু সীমা রয়েছে।হাক্কানি আরও বলেন, পাকিস্তান এখনো ভারতের বিরুদ্ধে চীনের ‘দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধক’। ইসলামাবাদের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পৃক্ততা দিল্লির প্রতি সেই বার্তাই প্রকাশ করতে থাকবে।

পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তিতে কেন ক্ষুব্ধ ভারত

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, আঘাত হানতে পারে কোন অঞ্চলে?

উত্তর আন্দামান সাগরে থাইল্যান্ড উপকূলের কাছে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এটি শক্তি সঞ্চয় করে আজ সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরবর্তী সময়ে শক্তি আরও বাড়লে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি সৃষ্টি হলে এর নাম হবে ‘অর্ণব’, যে নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউজ-১৮ বাংলা। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২১ বা ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘূর্ণাবর্তটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। পরে, এটি অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এসময় বজ্রপাতের পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে ওড়িশা, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড় ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। সৌরাষ্ট্র থেকে বঙ্গোপসাগর এবং সিকিম থেকে উত্তর ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত অক্ষরেখার কারণে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে আজ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার হতে পারে। বৃষ্টির ফলে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আজ পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।    

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, আঘাত হানতে পারে কোন অঞ্চলে?

মজুত বাড়ায় বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। লোহিত সাগরমুখী ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর সৌদি আরব ইয়ানবু টার্মিনালে তেল পরিবহন বন্ধ রাখায় বাজারে যে সরবরাহের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, বিনিয়োগকারীরা এখন তার সাথে মার্কিন মজুত বৃদ্ধির বিষয়টি হিসাব করছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৩ সেন্ট বা দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ১০৭ দশমিক ৮২ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচারসের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৭ সেন্ট বা দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ১০৪ দশমিক ৮৬ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে মঙ্গলবার উভয় আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কেই তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৩ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। ইয়ানবু টার্মিনালে খালাস বন্ধ থাকা এবং ইউরোপে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হ্রাসের কারণে দাম গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল

মজুত বাড়ায় বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

নেপালে ১০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের খবর

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা থামেল থেকে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও ভিসা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থামেল এলাকার একাধিক হোটেল থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধানের জন্য নেপালের অভিবাসন দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের বরাত দিয়ে নেপালি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে থামেল ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেলগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিবাসন বিভাগ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। অভিযানের স্থান ও গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) শরদ কুমার থাপা ছেত্রী জানান, থামেল এলাকায় বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহজনক তৎপরতার খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, থামেল এলাকার ‘হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস’, ‘হোটেল দি ভেদা’ এবং ‘হোটেল আল-রহমান’ নামের তিনটি বাণিজ্যিক আবাসিক হোটেল থেকে এই ১০ জনকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন: ফাহিমা আক্তার হাসান (৪৬), মাহমুদ (৪৮), মাহবুব হাসান (৪৫), রিপন মাহমুদ (৪৯), মো. কারামত আলী খান (৩০), সাইদুর রহমান (৩০), মো. খলিলুর রহমান (৫০), আরিফুর রহমান (২৮), মো. মারুফ মৃধা (৪২), মোহাম্মদ হানিফ মিয়া (৬৪)। পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘খাতুনে জান্নাত’ নামের এক নারী পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের বিষয়ে নেপাল অভিবাসন দপ্তরের পরিচালক তিকারাম ঢাকাল জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আটককৃতদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত একজন নিজ ভিসার মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ধরে (ওভারস্টে) অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। অন্য আসামিরা কী উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন এবং কী কাজে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আটক ব্যক্তিরা থামেলের ‘মুসলিমা টোল’ এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তেন। পাশাপাশি তাঁরা যে ভিসায় নেপালে প্রবেশ করেছিলেন, তার শর্ত লঙ্ঘন করে অর্থ উপার্জনমূলক এবং অন্যান্য অননুমোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডুকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও নেপাল পুলিশ একাধিক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছিল, যারা ইউরোপ বা উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের কাঠমান্ডুতে এনে জিম্মি করত এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত। পুলিশের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এই ১০ জনও একই ধরনের কোনো মানব পাচার, চাকরির ভুয়া প্রলোভন বা অবৈধ অর্থ লেনদেনকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কি না। নেপালের অভিবাসন দপ্তরের তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) মতো আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

নেপালে ১০ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তার সাথে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সঙ্কটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এসময় রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একইসাথে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নদী দিয়ে এখনো মরদেহ ভেসে আসছে। আশপাশে জমে থাকা কাদার স্তূপ আলকাতরার মতো ঘন আকার ধারণ করেছে। সেখানেও লাশ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালের মর্গগুলোতে আর জায়গা খালি নেই। যেসব দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর পরিচয় দ্রুত শনাক্তের জন্য স্বজনদেরকে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোর মাধ্যমে ছবি দেখানো হচ্ছে। বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর নেপালিরা এখন মরদেহ নিয়ে এক বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে পড়েছে। অনেক মরদেহ এমনভাবে বিকৃত হয়ে গেছে যে চেনার উপায় নেই। সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে বসতবাড়ি থেকে বহু দূরের এলাকাতে। নিরাপদে সংরক্ষণের জায়গা ফুরিয়ে আসায় ভারতপুর জেলায় ইতোমধ্যে গণকবর দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিটি মরদেহে ট্যাগ ও একটি অবস্থান নম্বর লাগানোর আগে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরপর মরদেহগুলো প্লাস্টিকের ব্যাগে মুড়িয়ে গণকবরে রাখা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে স্বজনরা এসব দেহ শনাক্ত করতে পারবেন।  দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলায়। সেখানে নদীর তীরজুড়ে ২৫০টির বেশি দেহ পাওয়া গেছে। বিকৃত হওয়ার কারণে মাত্র নয়টির পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এই জেলার জঙ্গলেও গণকবর তৈরি করা হয়েছে।  মরদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে স্থানীয় কর্মকর্তারা এক ‘মর্মান্তিক’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। তারা স্বজনদেরকে মরদেহগুলোর ছবি দেখতে বলছেন। শনাক্ত করার মতো বৈশিষ্ট্য খুঁজে দেখতে বলা হচ্ছে। যেমন- গলার হার, বিয়ের আংটি, উল্কি বা শরীরের কোনো ক্ষতচিহ্ন।  উদ্ধার করা মরদেহগুলোর ছবি পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইডশোতে সাজানো হয়েছে। স্বজনদেরকে ধৈর্য নিয়ে একটির পর আরেকটি ছবি দেখতে হচ্ছে। ছবিগুলো নেপাল পুলিশের ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি মর্গের বাইরের দেয়ালেও ভেতরে থাকা মরদেহগুলোর ছবি টানানো হয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে কেবল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারছে। রোববার নেপালের পররাষ্ট্রসচিব অমৃত বাহাদুর রাই বলেন, নিহতদের মরদেহ নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য সরকার ১ হাজারের বেশি ফ্রিজার ইউনিট চেয়েছে। নদী উপত্যকার কিছু নিচু এলাকায় এখনো সড়কপথে যাওয়া যাচ্ছে। সেখানে কাদার নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছেন অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারীরা।  ত্রিশূলী নদীর তীরের শহর দেবীঘাটে পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট আমাবাদুত্ত ভট্ট বলেন, ‘এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। এখান থেকে আমরা ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেছি। বেশিরভাগ বাড়ির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ধ্বংস হয়ে গেছে। সব কাদা সরাতে অনেকদিন লাগবে। তখন মরদেহের আর কী অবশিষ্ট থাকবে, কে জানে।’ দেবীঘাটে বন্যা থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো ধীরে ধীরে নিজেদের ঘরবাড়ির জায়গায় ফিরছেন। সেখানে অনেক বাড়িই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ৪৯ বছর বয়সী উষা নেপালির বাড়িতে অবশিষ্ট বলতে আছে শুধু কয়েকটি কংক্রিটের ব্লক ও বেঁকে যাওয়া ধাতব কাঠামো। এই বাড়িতেই তিনি চার সন্তান ও তিন নাতি-নাতনিকে বড় করেছেন। কাঁদতে কাঁদতে উষা নেপালি বলেন, ‘এখানেই আমার জীবনের সবকিছু দিয়েছি। এখন জানি না কোথায় যাব, কী করব। গায়ের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই জমি এখন আর নিরাপদ নয়, কিন্তু এটাই আমাদের শেষ সম্বল।’ ত্রিশূলী নদীর পাশে বসবাস যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে তা রোববার আরেকবার দেখা যায়। নদীর পানি হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। এরপর দেবীঘাটের অনেক বাসিন্দা ঘরে অবশিষ্ট থাকা কিছু জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে শুরু করেন। তাদের অনেকে স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় পাড়ি জমাবেন। বন্যার সতর্কবার্তা পাওয়ার পরের কয়েক মিনিটে শুধু নিজের স্বর্ণের গয়না নেওয়ার সময় পেয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সী যমুনা মাগার। বাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দেবীঘাটে এরপর কীভাবে বসবাস করবেন তা বুঝতে পারছেন না। যমুনা বলেন, ‘আমরা এর আগেও বন্যার মুখোমুখি হয়েছি। কিন্তু কখনো এমন বন্যার কথা ভাবিনি। আমাদের যা কিছু ছিল, সবই হারিয়ে গেছে। নিজের জীবন, সন্তানদের নিয়ে আমি এতটাই চিন্তিত যে এখানে আর থাকতে চাই না।’

নেপালিরা এখন বন্যায় বিধ্বস্ত, মরদেহে বিপর্যস্ত

নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

নেপালে আকস্মিক বন্যার পর এখনো শত শত বিদেশি পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। বিভিন্ন দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজের তালিকা: ভারত: দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৭৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। চীন: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৯০ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। ইউক্রেন: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর থেকে ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। মালয়েশিয়া: ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সঙ্গে ভ্রমণরত ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া: অস্ট্রেলিয়ার সহকারী অভিবাসনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্য: নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে তিব্বতে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে কতজন নেপালের নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। কানাডা: কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ জন কানাডীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের কয়েকজন পর্যটকও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধারে নেপালে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেপালে এখনো নিখোঁজ শত শত বিদেশি নাগরিক

চীনের তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জনসহ নিখোঁজ ৫৪৬, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

চীন-নেপাল সীমান্তে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরং পোর্টে কাদা ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। চীনা পররাষ্ট্র, জননিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও পর্যটন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যৌথ অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাইয়ের পর এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। বেইজিংভিত্তিক সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, চীন সীমান্ত এলাকার মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্ধার ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে নেপালের ১০৪ জন, ভারতের ৪৯ জন, লাটভিয়ার ৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন, ব্রিটেনের ১৫ জন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার ৬ জন করে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ জন, মালয়েশিয়া, জার্মানি ও রাশিয়ার ৩ জন করে, আয়ারল্যান্ড, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের ২ জন করে এবং কাজাখস্তান, ফিনল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, পর্তুগাল, ইউক্রেন, স্পেন ও হাঙ্গেরির ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন। চাইনিজ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। এদিকে পাশ্ববর্তী দেশ নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে সরকারী হিসাব ও স্থানীয় গণমাধ্যম থেকে জানা গেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

চীনের তিব্বতে ২৩ দেশের ২৬১ জনসহ নিখোঁজ ৫৪৬, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

‘যোদ্ধার’ মতো বেঁচে ফেরা ৯৭ বছরের বৃদ্ধা এখন নেপালের নতুন প্রতীক

নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ৯৭ বছর বয়সী গুণ মায়া বোহারা উদ্ধার পেয়ে আশার প্রতীক ও বন্যার নতুন মুখ হয়ে উঠেছেন।  রোববার (৩০ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চার ঘণ্টার দীর্ঘ চেষ্টার পর পুলিশ ও নেপাল সেনাবাহিনী তাকে একটি এক্সেভেটর বা কোদালের ভেতরে বসিয়ে নিরাপদে বের করে আনে। একটি বৃদ্ধাশ্রম ভেঙে পড়ার পর গুণ মায়া বোহারা তার ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে বিবিসি নেপালি। খবর পেয়ে কাঠমান্ডু থেকে ছুটে আসা তার নাতি দীপক বোহারা জানান, উদ্ধারপ্রাপ্ত বৃদ্ধাকে যুদ্ধ জয় করে ফেরা ‘এক যোদ্ধার’ মতো দেখাচ্ছিল। এক্সেভেটরের বাকেটে করে কাদামাখা পোশাকে এই বৃদ্ধাকে নিয়ে আসার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি কীভাবে এই ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে ছিলেন তা বলতে পারছেন না বলে দ্য টাইমসের বরাতে ল্য পারিসিয়েন জানিয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। রসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসের কারণে ভোটেকোশী নদীতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩০০ জনেরও বেশি ভারতীয় নাগরিকসহ প্রায় ৩ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ নতুন করে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে জানিয়েছেন, এই মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির পর পুনর্গঠন কাজের জন্য দেশটিকে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে, যা তাদের পুরো অর্থনীতির প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ।

‘যোদ্ধার’ মতো বেঁচে ফেরা ৯৭ বছরের বৃদ্ধা এখন নেপালের নতুন প্রতীক

ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নেপালে ফের বন্যার সতর্কতা

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শুক্রবারও (২৮ আগস্ট) কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। এর মধ্যেই নতুন করে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ পানিতে উপচে পড়ায় ফের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এ খবর জানিয়েছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় নিয়োজিত সব নিরাপত্তা কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে এপিকে বলেন, কর্তৃপক্ষ উচ্চ সতর্কতায় থাকলেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, উদ্ধার কাজ বন্ধ হয়নি। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিতে প্রদর্শিত স্যাটেলাইট চিত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার যে স্থানে হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছিল ঠিক একই এলাকায় নতুন এই হ্রদটি তৈরি হয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র এবং প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে যে নদীর উজানের গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে একটি বর্ধমান হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে, যা যেকোনও সময় ফেটে গিয়ে নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ আবার বন্যা ঘটাতে পারে।

ভয়াবহ বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নেপালে ফের বন্যার সতর্কতা

নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভূমিধসে সৃষ্ট একটি কৃত্রিম হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় ভাটি অঞ্চলে নতুন করে বিধ্বংসী বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সীমান্তসংলগ্ন দুই দেশেই উদ্ধার তৎপরতা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কায় নেপালের রাসুয়া জেলাসহ ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু পাহাড়ে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের জলচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় চীনের সব উদ্ধারকর্মী ও প্রয়োজনীয় যানবাহনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি নিশ্চিত করেছে। নেপাল অংশেও উদ্ধার তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। চীনা প্রকৌশলীদের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার হ্রদটিতে আটকে থাকা পানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটারে, যা আগের দিনের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমে হ্রদের ত্রিমাত্রিক নকশা তৈরি করে সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারি করছে চীনের একটি বিশেষজ্ঞ দল। গত বুধবার হিমবাহ ধসের পর পাহাড়ি নদী দিয়ে নেমে আসা কাদা, পাথর ও বরফের তীব্র স্রোতে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওই আকস্মিক বন্যায় কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, কালভার্ট ও পাকা সেতু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে পুরো এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নেপালের রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, হ্রদের পানি বৃদ্ধির পর স্থানীয় জনপদে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে পানির উচ্চতা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে চীনের জিরং কাউন্টিতেও ধ্বংসস্তূপ জমে থাকায় শুক্রবার পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি চীনা উদ্ধারকর্মীরা। সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের এই অংশে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন। হিমালয় অঞ্চলের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব উল্লেখ করে বলেন, ‘এমন বিধ্বংসী রূপ আগে কখনো দেখা যায়নি, যেখানে অত্যন্ত মজবুত ও সুনির্মিত ভবনগুলো টুথপিকের মতো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ এক দুর্যোগ। আমরা সেখানে সহায়তা পাঠাচ্ছি এবং দেশটির নেতাদের জানিয়ে দিয়েছি যে তাদের প্রয়োজনে যা চাওয়া হবে, আমরা তা-ই সরবরাহ করব।’

নতুন করে উপচে পড়ল হ্রদ, প্রাণে বাঁচতে ফের ছুটছে নেপাল-তিব্বতের মানুষ

‘তৈফুন ব্লক-৪’ বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

তুরস্কের তৈরি নতুন ‘তৈফুন ব্লক-৪’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে তেল আবিবে নতুন করে কৌশলগত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তুর্কি ভাষার 'তৈফুন' অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় নামের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার। তৈফুনের সরাসরি আঘাত হানার ক্ষমতার আওতায় এখন গোটা ইসরাইল। মিডলইস্ট মনিটর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জানায়, তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা রকেটসান নির্মিত ৭.২ টন ওজনের এবং ১০ মিটার দীর্ঘ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় আকারে অনেক বড় ও ভারী। এটি তার উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গিয়ে গতিপথ পরিবর্তন বা ম্যানুভার করতে সক্ষম, ফলে প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। ক্ষেপণাস্ত্র্টি মূল লক্ষ্যবিন্দু থেকে সর্বোচ্চ ৫ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে গিয়ে আঘাত করতে পারে। সামরিক প্রযুক্তির পরিভাষায় এই সক্ষমতাকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং কার্যকর লক্ষ্যভেদ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি প্রতি ঘণ্টায় শব্দের গতির সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি বা মাক ৫.৫-এর উপরে । কোনো ধরনের মার্কিন বা ইউরোপীয় অনুমোদন ছাড়াই স্বাধীনভাবে কৌশলগত হামলা চালানোর এই ক্ষমতা তুরস্কের সামরিক শক্তিতে এক বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির তাত্ত্বিক পাল্লার মধ্যে পুরো ইসরায়েল অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, ইসরায়েলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা আপাতত এই ঝুঁকিকে কিছুটা খাটো করেই দেখছেন। তাদের মতে, অ্যারো-২, অ্যারো-৩ এবং ডেভিডস স্লিং সমন্বিত ইসরায়েলের বহুমাত্রিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের তৈরি উন্নত বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার লক্ষ্যেই তৈরি। তা ছাড়া তুরস্ক একটি ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র এবং এনপিটিতে স্বাক্ষরকারী। তাছাড়া তৈফুন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়, বরং এটি সাধারণ বা প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্র বহন করায় এর ধ্বংসক্ষমতাও সীমাবদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অবনতিশীল কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তেল আবিবে পৌঁছানোর সামর্থ্য নিয়ে আঙ্কারার এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক বাধা প্রদান ও মানসিক মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ। এর পরও ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের সাথে ইসরাইলের সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখনো খুবই কম, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘তৈফুন ব্লক-৪’ বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রবল বর্ষণের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আবহাওয়া দপ্তর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও দিল্লি বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) মঙ্গলবার সকাল পৌনে সাতটার পূর্বাভাসে জানায়, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী তিন ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।সোমবার অতিবৃষ্টির কারণে দিল্লির বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দিন তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ১৫টি ফ্লাইট জয়পুর, চণ্ডীগড় ও লখনউতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়।আইএমডির বিজ্ঞানী ড. শশী কান্ত জানান, উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ থেকে আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ পুবালি বাতাসের সংঘর্ষের ফলে দিল্লিতে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিতে দিল্লির পার্শ্ববর্তী গুরগাঁওয়ের রাজীব চক, ইফকো চক ও রেলওয়ে রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কও পানিতে ডুবে গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন স্কুলের কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা এবং অফিসগুলোতে কর্মীদের ঘরে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি