বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

জাতীয়

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

বেতন বাড়ানোর দাবিতে গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই দিকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সর্বশেষ বেলা সোয়া একটার দিকেও অবরোধ চলছিল। পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈরের আকলিচালা এলাকায় এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার সামনে বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে কয়েকটি কারখানার ফটকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকার ১৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। মহাসড়ক বন্ধ থাকায় উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ আছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু শ্রমিকের মূল্য বাড়েনি। আমাদের বেতন বাড়াতে হবে, না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’ শ্রমিক কারিমা বেগমের অভিযোগ, ‘বর্তমানে যে বেতন পাচ্ছি, তা দিয়ে সংসার চলছে না। খুবই হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি, তারপরও টানাটানি করে চলতে হয়। তাই বেতন বাড়ানোর দাবিতেই আমরা সড়কে নেমেছি।’ এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কোনাবাড়ী এলাকায় বাসে আটকে থাকা যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসে আটকা পড়ে আছি। কোনো দিকেই যানবাহন চলছে না। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম, তার ওপর যানজটে একেবারে নাজেহাল অবস্থা।’ শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন বলে জানান গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন। তিনি জানান, পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

ক্ষতিকর উপাদান সন্দেহে ১৩৫ টন চালের নমুনা পরীক্ষা

ক্ষতিকর উপকরণ আছে কিনা নিশ্চিত হতে ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালের নমুনা অধিকতর পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠনো হয়েছে। ভারত থেকে সরকারিভাবে (জিটুজি) পদ্ধতিতে আমদানি করা এসব চালের নমুনা গত ১৭ আগস্ট চট্টগ্রামের  হালিশহর সিএসডি  (কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম)  থেকে সংগ্রহ করে অধিকতর পরীক্ষার জন্য ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। এই চালে আফলাটক্সিনের মতো ক্ষতিকারক উপাদান থাকতে পারে- এমন সন্দেহ থেকে অধিকতর পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় খাদ্য অধিদপ্তর। গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তি  বলেন, আমরা পরীক্ষার রিপোর্ট খাদ্য বিভাগের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। শুধু আফলাটক্সিন নয়, স্টেপ বাই স্টেপ প্রতিটি বিষয় আমরা দেখেছি। যেটা পাওয়া যাচ্ছে, সেটা আমাদের যে লেবেল আছে সেটা পার হয়ে যায়নি। তাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। গুদামটির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ বলেন, খাদ্য বিভাগের একটি টিম এসে ১৩৫ টন চালের নমুনা পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়।  চালানটি থেকে এসব চাল আলাদা করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর এসব চালের বিতরণ স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয় খাদ্য বিভাগ থেকে। সেই অনুযায়ী, আমরা এসব চালের বিতরণ স্থগিত রেখেছি। জানা গেছে, ভারত থেকে একটি জাহাজে খাদ্য চালানটি আমদানি করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর পর ২৪ ও ২৫ জুলাই সেগুলো খালাস করা হয়। তবে নিম্নমান এবং ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে সন্দেহে ১৩৫ টন চাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে অধিকতর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গত ১৭ আগস্ট গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল চট্টগ্রামে আসে। দলটি হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডির কয়েকটি স্তূপ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। খাদ্য বিভাগের চট্টগ্রামের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক মো. সাকিব রেজওয়ান জানান, আমদানি করা চালের একটি চালানের অল্প কিছু চালে আফলাটক্সিনের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকায় অধিকতর পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিডি প্রতিদিন/ আনাই

ক্ষতিকর উপাদান সন্দেহে ১৩৫ টন চালের নমুনা পরীক্ষা

ওয়াজ মাহফিল থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে রফিকুল ইসলাম মাদানী

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কে ডাকাত দলের হামলার মুখে পড়েছেন ‘শিশু বক্তা’ নামে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানী। গতকাল রোববার রাতে কুমিল্লায় একটি ওয়াজ মাহফিল শেষে ঢাকায় ফেরার পথে উপজেলার পাকুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানিয়েছেন। ফেসবুক লাইভে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ‘বস্তল থেকে গাউসিয়াগামী সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় পৌঁছালে একদল ডাকাত তাঁদের গাড়ির গতিরোধের চেষ্টা করে। এ সময় সড়কের ওপর বড় বড় ইট-পাথর ফেলে রাখা ছিল।’ মাদানী দাবি করেন, পরিস্থিতি বুঝতে পেরে চালক দ্রুত গাড়িটি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গজ পেছনে সরিয়ে নেন। চালকের উপস্থিত বুদ্ধি ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তাঁরা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান। মাদানী আরও দাবি করেন, ডাকাতেরা আশপাশের কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ওয়াজ মাহফিল শেষে ফেরার পথে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়া উদ্বেগজনক। মহান আল্লাহর রহমতে তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় পুলিশের তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বক্তা। এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, পুলিশ দুই মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। পুলিশ কাছাকাছি উপস্থিত না থাকলে এত অল্প সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। তবে, এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ওয়াজ মাহফিল থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে রফিকুল ইসলাম মাদানী

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী তাঁর জামিন নামঞ্জুর করার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত বুধবার ওই শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এদিকে অভিযোগের তদন্তে গতকাল শনিবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তবে তদন্ত এখনো চলমান। ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা খুলে বলে। এরপর ২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন। অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; কোনো ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। শিক্ষককে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট

বৈশ্বিক সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকি এড়াতে আগেই বন্ধ রাখা হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট। এরপরও সাইবার হামলার শিকার হয়েছে ওয়েবসাইটটি। অন্তত দুটি স্থানে স্প্যাম বা সাইবার হামলার চিহ্ন শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো ঠিক করতে কাজ করছেন ব্যাংকটির তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের কর্মীরা। রবিবার (২৫ অক্টোবর) ছুটির পর ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হলেও বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি চালু করা সম্ভব হয়নি। জনতা ব্যাংকের আইটি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ওয়েবসাইটের দুটি স্থানে সাইবার হামলার আলামত পাওয়া গেছে। ত্রুটিগুলো শনাক্ত করে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। আজকের মধ্যেই ওয়েবসাইটটি পুরোপুরি নিরাপদ করে সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ শূন্য থাকায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ১৯ অক্টোবর জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। এর পরদিন থেকে দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়। বিশ্বজুড়ে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্তের পর বৈশ্বিক সাইবার হামলার আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গত ২১ অক্টোবর যৌথ সতর্কতা জারি করে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত সার্ভারে দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত সিকিউরিটি প্যাচ বা হালনাগাদ দেওয়া সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলো সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই সতর্কতার অংশ হিসেবে বাড়তি সুরক্ষার তাগিদে গত বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাধারণের জন্য সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল। ছুটি শেষে আজ রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পোর্টাল যথারীতি চালু করা হলেও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের কারণে সেটি আর চালু করা সম্ভব হয়নি।

সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট

রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সোমবার ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা সফরের প্রথম দিন সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। একই দিন জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আগে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার হ্রাসের বিষয়গুলো সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে। একই দিন প্রধানমন্ত্রী জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। পরে তিনি জাপানের তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও তার দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। জাপানের আরও ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিকালে টোকিওর জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন। সেখানে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব খাতে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে পৃথকভাবে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটি ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন সময়ে উচ্চপর্যায়ের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেন। এসব সফরের ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাবেন। বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে ১২টি অগ্রাধিকার খাতে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত। এতে পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দূষণে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে ঢাকা

বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় আজও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে রয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, রোববার ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান সূচক-একিউআই স্কোর ছিল ১৭১। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে এই মেগাসিটি।  একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুচিং শহর যার স্কোর ২১০। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতে মুম্বাই শহর (স্কোর ১৯১)। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ১৮০) এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা শহর (স্কোর ১৭৮)। দূষিত বাতাসে শীর্ষ দশে থাকা অন্য শহরগুলোর বাতাসের মানের স্কোর ১৪৪ থেকে ২১০-এর মধ্যে। বায়ুমানের আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে তা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। এ ছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে তা সাধারণভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। একিউআই স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে সেটিকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে পৌঁছালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। এমন অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকা এবং অন্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

দূষণে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচে ঢাকা

‘শেখ হাসিনা আইতাছে’ স্লোগানে মিছিল, ছাত্রলীগের ১৭ কর্মী আ/ট/ক

কুমিল্লা নগরে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরের চকবাজার-সংলগ্ন নুরপুর তেলিকোনা সড়কে মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘শেখ হাসিনা আইতাছে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে জুমার নামাজের খুতবা চলাকালে কয়েকজন ব্যক্তি নুরপুর তেলিকোনা সড়কে মিছিল করেন। মিছিলটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। পরে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তিনি জানান, ঘটনার ভিডিও পর্যালোচনা করে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কাইয়ুম নামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক কর্মী রয়েছেন। তিনি ছাত্রলীগের কুমিল্লা মহানগর শাখার কর্মী এবং মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ শাখার সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের অনুসারী বলে পুলিশ জানিয়েছে। কাইয়ুমের বাড়ি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সাওয়ালপুর পূর্বপাড়া এলাকায়। তাঁর সঙ্গে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আজিজুর রহমান, হাসিব ও জামিল ইসলামসহ মোট ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। মিছিলের একটি ভিডিও শুক্রবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজনের হাতে লাঠি এবং মুখে মাস্ক ছিল বলেও ভিডিওতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, শুক্রবার দুপুরে সড়কটিতে কয়েকজন যুবককে প্রথমে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা যায়। পরে তারা হঠাৎ একটি ব্যানার বের করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। পুলিশ কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে তাহসিন বাহারের সঙ্গে কাইয়ুমের হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তার নির্দেশনায় কুমিল্লায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মিছিলটি করা হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কাইয়ুমের মুঠোফোনে এ-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। মিছিলের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

‘শেখ হাসিনা আইতাছে’ স্লোগানে মিছিল, ছাত্রলীগের ১৭ কর্মী আ/ট/ক

চট্টগ্রামে এনসিপি নেতার মৃত্যু, ছিলেন জুলাইযোদ্ধা

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা তানভীরুল ইসলামের (২৬) মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  তানভীরুল ইসলাম এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং বায়েজিদ থানা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার হিলপাড়া গ্রামে। তার বাবা মো. আবু ইউসুফ ও মা তাসলিমা বেগম। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার ভাড়া বাসায় তানভীরুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি গতকাল রাতে জানাজানি হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তানভীরুল। তার কোমরের এক পাশ দিয়ে বুলেট ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি তালিকাভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধা ছিলেন। গুলির ক্ষত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক কষ্টে ভুগছিলেন। ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হওয়ায় তাকে নিয়মিত হাসপাতালে যেতে হতো। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল আলম আশেক। অন্যদিকে তানভীরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত দলটি। এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ শোক বার্তা জানানো হয়।    

চট্টগ্রামে এনসিপি নেতার মৃত্যু, ছিলেন জুলাইযোদ্ধা

সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় যুবলীগ নেত্রী আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় সুলতানা বেগম (৩৫) নামে জেলা যুব মহিলা লীগের এক নেত্রীকে আটক করেছে বিজিবি।  বুধবার (২১ অক্টেবার) বিকেলে সোনামসজিদ জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে আটক করা হয় তাকে। পরে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।  এদিন রাতে বিজিবির ৫৯ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আল-আমিন অপু এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ সংগঠন মহিলা যুবলীগের নেত্রী সুলতানা বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে সুলতানা নিজেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করেছেন। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় একটি নাশকতার মামলা রয়েছে বলে জানতে পেরেছে বিজিবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আটক সুলতানা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুব মহিলা লীগের কোষাধ্যক্ষ। তিনি সদর উপজেলার শেয়ালা কলোনি এলাকার জুলমত আলীর মেয়ে। এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, বিজিবি একজন যুবলীগ নেত্রীকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।  

সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সময় যুবলীগ নেত্রী আটক

তালাক ছাড়াই অন্যত্র বিয়ে, পরে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরতে পারবেন? ইসলাম কী বলে

এক ব্যক্তির স্ত্রীকে তার বাবা তালাক ছাড়াই অন্য এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেন। ওই দম্পতি ২৩ বছর একসঙ্গে সংসার করার পর দ্বিতীয় স্বামীর মৃত্যু হয়। এরপর নারীটি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আসতে চান। প্রথম বিয়ের কাগজপত্রও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম স্বামীর সঙ্গে ওই নারীর পুনরায় একসঙ্গে থাকার সুযোগ আছে কি না? সম্প্রতি এ বিষয়ে জবাব দিয়েছেন জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুরের ফতোয়া বিভাগের নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম।  প্রশ্নে এক ব্যক্তি জানান, তার স্ত্রীকে তালাক না করিয়েই স্ত্রীর বাবা জোর করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেন। ওই ব্যক্তি ২৩ বছর পর মারা গেছেন। এখন নারীটি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আশ্রয় চাইছেন। প্রথম বিয়ের সব কাগজপত্রও রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের আবার একসঙ্গে থাকার সুযোগ আছে কি না? এর জবাবে নায়েবে মুফতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, কোনো নারী এক স্বামীর বিবাহবন্ধনে থাকা অবস্থায় তালাক বা শরিয়তসম্মতভাবে বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারবেন না। প্রথম বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে হলেও তা সহিহ হবে না। সে ক্ষেত্রে নারী প্রথম স্বামীর স্ত্রী হিসেবেই বহাল থাকবেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুন‘মাইন্ড ডায়েটে’ মস্তিষ্কের বয়স কমতে পারে আড়াই বছর এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৪ নম্বর আয়াত উল্লেখ করা হয়। আয়াতের অর্থে বলা হয়েছে, অন্যের বিবাহবন্ধনে থাকা নারীরা বিবাহের জন্য নিষিদ্ধ। ফতোয়াটিতে আরও বলা হয়, প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা সত্য হলে এবং প্রথম স্বামী কখনো তালাক না দিয়ে থাকলে, দ্বিতীয় বিয়ে শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ হয়নি। ফলে দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে ২৩ বছর স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাসও বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক হিসেবে গণ্য হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করার কথা বলা হয়েছে। ফতোয়া আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যুর পর যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রথম স্বামী কখনো তালাক দেননি এবং প্রথম বিবাহ শরিয়তসম্মতভাবে বহাল ছিল, তাহলে প্রথম স্বামী-স্ত্রীর বিবাহও বহাল থাকবে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে বিয়ের প্রয়োজন হবে না। ফতোয়ার উত্তরে ‘আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া’র কিতাবুন নিকাহ, বিবাহের জন্য নিষিদ্ধ নারীদের আলোচনার উদ্ধৃতিও দেওয়া হয়েছে। সেখানে অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করা বৈধ নয় বলে উল্লেখ রয়েছে।

তালাক ছাড়াই অন্যত্র বিয়ে, পরে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরতে পারবেন? ইসলাম কী বলে

ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে ৫ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা

দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে স্থাপিত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ দশমিক  শূন্য ৭ মেগাওয়াট।  এসব ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু এবং নেট মিটারিং কার্যকর হলে বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে  কমে আসবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোতে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা ৪ হাজার ৬৬৩ কিলোওয়াট।  আর পাঁচটি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এই সক্ষমতা ৪০৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট বা ৫ দশমিক শূন্য ৭ মেগাওয়াট। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারিভাবে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট  কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি কার্যালয়ের ভবনের ছাদগুলোতে ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে নেট মিটারিংয়ের অনুমোদনসহ কিছু প্রক্রিয়া এখনো চলমান।  এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ের সুযোগ বাড়বে। দিনের বেলায় নিজস্ব চাহিদার একটি অংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা গেলে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজনও কমতে পারে। বিভাগ ও জেলাভিত্তিক সক্ষমতা এবং বিভাগওয়ারি ব্যয়: ঢাকা বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে কিশোরগঞ্জে সর্বোচ্চ ৩৬০, মানিকগঞ্জে ৭৭, গোপালগঞ্জে ৭৩, ফরিদপুরে ৫৯, ঢাকা ও রাজবাড়ীতে ৫০ করে, শরীয়তপুরে ২৪ এবং গাজীপুরে ১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতে এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা। খুলনা বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ ১৮০, মেহেরপুরে ৮০, ঝিনাইদহ ও নড়াইলে ৬০ করে এবং বাগেরহাটে ৫০ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এছাড়া বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ২০০ কিলোওয়াট সক্ষমতা স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৭৮ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। রংপুরের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে দিনাজপুরে ১৫১, গাইবান্ধায় ১২২, ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০, নীলফামারীতে ৪৮, কুড়িগ্রামে ৪৫, রংপুরে ২৯, পঞ্চগড়ে ২৫ এবং লালমনিরহাটে ২০ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ৭৭ দশমিক ৫ কিলোওয়াট সক্ষমতায় ব্যয় হয়েছে ৩৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। রাজশাহী বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে সিরাজগঞ্জে ১৫০, নওগাঁয় ১০৫, বগুড়ায় ১০০, রাজশাহীতে ৫০, পাবনায় ৪৭.২৬, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩০ করে এবং জয়পুরহাটে ১৩.১২৫ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। আর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ৩৮ কিলোওয়াট সক্ষমতায় ব্যয় হয়েছে ১৮ লাখ ২১ হাজার টাকা। সিলেট বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে মৌলভীবাজারে ১৮০, সিলেটে ১০০, সুনামগঞ্জে ৯০ এবং হবিগঞ্জে ১০ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ৭০ কিলোওয়াট সক্ষমতায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে নোয়াখালীতে ২২৫, কক্সবাজারে ৮৫, চাঁদপুরে ৫০, ফেনীতে ৪৫, বান্দরবানে ৪১ এবং চট্টগ্রাম জেলায় ৩৯ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে । এই বিভাগে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। বরিশাল বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে বরগুনায় ৬০ এবং পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠিতে ৫০ কিলোওয়াট করে সক্ষমতা রয়েছে। এই বিভাগে মোট ৪১ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ২০ কিলোওয়াট সক্ষমতায় ব্যয় হয়েছে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা কার্যালয়গুলোর মধ্যে জামালপুর ও নেত্রকোনায় ১০০ করে, শেরপুরে ৬০ এবং ময়মনসিংহ জেলায় ৫০ কিলোওয়াট সক্ষমতা রয়েছে। তবে এই বিভাগে ব্যয়ের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা ও ব্যয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।  ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ভাড়া ভবনে পরিচালিত হওয়ায় সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে দরপত্র আহ্বান করা হলেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যায়নি। খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গায় বরাদ্দের তুলনায় দরপত্রের প্রস্তাবিত মূল্য বেশি হওয়ায় কাজ এগোয়নি। বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠিতে বরাদ্দ থাকলেও অর্থ ব্যয় করা হয়নি। অন্যদিকে, বরিশাল ও ভোলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর ও রাঙামাটিতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতার তথ্য পাওয়া যায়নি। ক্যাপেক্স মডেল ও বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়: সরকার নিজস্ব অর্থায়নে অর্থাৎ ‘ক্যাপেক্স মডেল’-এ এই ব্যবস্থাগুলো স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে কার্যালয়গুলো দিনের বেলায় নিজস্ব চাহিদার একটি অংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করছে, যা গ্রিডের ওপর চাপ ও বিদ্যুৎ বিল কমাচ্ছে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়গুলোর নেট মিটারিংয়ের আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। তবে নেট মিটারিংয়ের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকায় উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিপরীতে বিল সমন্বয় এখনো শুরু হয়নি। ওজোপাডিকো আরও জানায়, শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতি মাসে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫ হাজার ইউনিট। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮০০ ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার প্রয়োজন কমছে এবং কার্যালয়টির বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখছে। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ছাদে স্থাপিত ৫ মেগাওয়াটের বেশি সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা জাতীয় পর্যায়ে খুব বড় অবদান না হলেও এগুলোকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো গেলে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ পর্যায়ে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।  একই সঙ্গে নেট মিটারিং সংযোগ দিতে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও নেট মিটারিং সংযোগের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় কে বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে বিশেষ গুরত্ব দিচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগের আওতায় মেহেরপুরে ইতোমধ্যে ৮০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাহিদাজনিত চাপ কমাতে সহায়তা করবে। বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারি ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ গ্রহণ করেছে। কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে সাড়ে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াট আসবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৯৩৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদান ১ হাজার ৬৪২ মেগাওয়াট, যা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মোট সক্ষমতার বড় অংশ। বিডি প্রতিদিন/ আনাই

ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে ৫ মেগাওয়াটের বেশি সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা

দেশে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে ৪৭.২ শতাংশ নারীর : ইউনিসেফ

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। তাদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সের আগেই। বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে এ চিত্র জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, বাল্যবিবাহ বন্ধ, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে শিশুদের কল্যাণে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। তার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। ইউনিসেফের মতে, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। একই সঙ্গে অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এতে তাদের শারীরিক সুস্থতা ও ব্যক্তিগত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভবিষ্যতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকার কড়াইল বস্তির পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেন ক্যাথরিন রাসেল। এ ছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ১৪ বছর বয়সী বুশরার সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্যাথরিন রাসেল বলেন, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা বুশরার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা করেছেন। তিনি বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা তাদের, তাদের কমিউনিটি ও বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে। ঢাকা সফরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ক্যাথরিন রাসেল। এ সময় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। ক্যাথরিন রাসেল বলেন, বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না করার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক বলেন, সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। এখন তাদের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে দেওয়া যাবে না। এ শিশুদের পাশাপাশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

দেশে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হচ্ছে ৪৭.২ শতাংশ নারীর : ইউনিসেফ

পূজামণ্ডপে অনুদান দিয়ে বিএনপির পক্ষে ভোট চাইলেন এমপি আলো

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মমতাজ আলো। গতকাল সোমবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কেন্দ্রীয় মন্দিরে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্থানীয় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সংরক্ষিত-২৮ আসন এবং গাইবান্ধা-১,২, ৩ ও ৫ আসনের দায়িত্বে নিয়োজিত এই সংসদ সদস্য বিগত নির্বাচনে দলের ফলাফলের উল্লেখ করে বলেন, ‘গত সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আপনারা বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে পারেননি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শুধু তাই নয়, গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি আসনের চারটিতেই আমরা হেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর কোনো ভুল করবেন না আপনারা। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে এবার ভোট দেবেন।’ বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মমতাজ আলো দাবি করেন, স্থানীয় নাগরিকরা যেন সম্মানের সঙ্গে বাস করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় পূজা মণ্ডপ কমিটির সভাপতি জিতেন্দ্র নাথ সরকারের হাতে আর্থিক সহায়তার অনুদান তুলে দেন সংসদ সদস্য। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজারীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জেলা বিএনপির সহসভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ এবং সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামাণিক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলিসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পূজামণ্ডপে অনুদান দিয়ে বিএনপির পক্ষে ভোট চাইলেন এমপি আলো

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সং/ঘ/র্ষ, ৫ পু/লি/শ/সহ আহত ৩০

গোপালগঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ফকিরকান্দি ও ঘোষেরচর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকালে গোপালগঞ্জ শহরতলির ঘোষেরচর এলাকার একটি মাঠে দুই গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলা চলাকালে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় ফকিরকান্দির কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঘোষেরচরের বাসিন্দা হান্নান মোল্লাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর টর্চের আলো জ্বালিয়ে ও মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হন। পরে তারা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শতাধিক পুলিশ সদস্য কাজ করেন বলে জানা গেছে। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সং/ঘ/র্ষ, ৫ পু/লি/শ/সহ আহত ৩০

জমি দখল বা চাঁদা তুলতে নয়, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি

রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, কোনো অনৈতিক স্বার্থ, জমি দখল কিংবা চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে নয়, বরং মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেই তিনি সেদিন মাঠে নেমেছিলেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মাদকবিরোধী অভিযান সমন্বয় করতে গিয়েছিলেন, আর তার হাতে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল নিজের নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু সেই ছবি দিয়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো ‘নানা ধরনের ন্যারেটিভ’ তৈরি করে ‘বিভিন্ন ধরনের খবর’ প্রকাশ করতে শুরু করে। গণমাধ্যমের সংবাদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘গণমাধ্যমের ভূমিকায় আমি হতাশ হয়েছি, কেন আমাকে এভাবে টার্গেট করা হলো।’ তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গিয়ে বলেছেন, তিনি পদত্যাগ করতে চান, যাতে দল বিব্রত না হয়, প্রধানমন্ত্রীর কাজ বাধাগ্রস্ত না হয়। সরকারের দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক বলেন, ‘আমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। আমি মাদক নির্মূলে কাজ করার অনুমতি চেয়েছি। তিনি সুযোগ করে দিয়েছেন।’

জমি দখল বা চাঁদা তুলতে নয়, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছি