রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

খেলা

‘পোকার’ বিতর্কের মাঝেই জোড়া গোলে জ্বলে উঠলেন নেইমার

‘পোকার’ বিতর্কের মাঝেই জোড়া গোলে জ্বলে উঠলেন নেইমার

বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়, সীমিত সময় খেলার সুযোগ এবং ‘পোকার’ খেলা নিয়ে টানা সমালোচনার মধ্যেই মাঠে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছেন নেইমার জুনিয়র। ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের জার্সিতে জোড়া গোল করে দলকে হার এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। রোববার (২৩ জুলাই) ব্রাজিলেইরো সিরি ‘এ’-এর ম্যাচে চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে সান্তোস। ম্যাচে দলের দুই গোলই করেন নেইমার। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বকাপে মাত্র দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মোট ৩৫ মিনিট খেলার সুযোগ পাওয়া নেইমার এবার সান্তোসের হয়ে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন। ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে সতীর্থের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু পাস আদান-প্রদানের পর প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে প্রথম গোলটি করেন তিনি। গোল উদযাপনে হাত দিয়ে পোকার খেলার ভঙ্গি করেন নেইমার, যা সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রতীকী জবাব হিসেবে দেখছেন অনেক ফুটবলভক্ত। এরপর ম্যাচের ৫১ ও ৬২ মিনিটে দুটি গোল করে এগিয়ে যায় চ্যাপেকোয়েন্স। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সান্তোস পেনাল্টি পেলে ৮৯তম মিনিটে স্পট কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন নেইমার। তার জোড়া গোলেই হার এড়িয়ে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে সান্তোস। বিশ্বকাপে নিজের সম্ভাব্য শেষ আসর খেলতে চেয়েছিলেন নেইমার। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে জায়গা পেলেও পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ৩৫ মিনিট মাঠে থাকার সুযোগ পান। শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। সেই ম্যাচে শেষদিকে পেনাল্টি থেকে দলের একমাত্র গোলটি করেছিলেন নেইমার। বিশ্বকাপ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বিদায়ের ইঙ্গিত দেন। তবে সেটি জাতীয় দল নাকি শুধু বিশ্বকাপ—সেটি স্পষ্ট করেননি। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি জনপ্রিয় পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে দেশে ফিরে সাও পাওলোতেও আরেকটি পোকার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ায় বিতর্ক আরও বাড়ে। সমালোচনার জবাবে নেইমার বলেন,“আমি দ্বিতীয় অনুশীলন সেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন দেখলাম অনেকে আমার পোকার খেলা নিয়ে কথা বলছে। সকালে আমি অনুশীলন করেছি, খেলতে যাইনি, আবার অনুশীলনেই ফিরেছি। তখন আমার ছুটি ছিল। মানুষ তো কথা বলবেই। আমি অনুশীলন করতে চাই। তোমরা কি আমাকে অনুশীলন করতে দেবে, নাকি সবসময় পেছনে লেগেই থাকবে? নিজেদের জীবন নিয়ে ভাবো।” মাঠের পারফরম্যান্সে সমালোচনার জবাব দিয়ে নেইমার আবারও প্রমাণ করলেন, ফিট থাকলে তিনি এখনও দলের জন্য বড় পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম।

ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন

বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে ফাইনালে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। তবে স্পেনের বিপক্ষে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি লিওনেল স্কালোনির দল। একপেশে লড়াইয়ে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফাইনালের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচটি ঘিরে নানা ধরনের গুঞ্জন, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমের পরিবেশ, খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা এবং ম্যাচের আগের ঘটনাগুলো নিয়ে বিভিন্ন দাবি ভাইরাল হয়। এমন পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন (এএফএ)। ফেডারেশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় জাতীয় দল, কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান। তিনি বলেন, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং একটি ম্যাচের ফলাফল দিয়ে তাদের পরিশ্রমকে বিচার করা ঠিক হবে না। একই সঙ্গে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব কিংবা ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণায় বিশ্বাস না করতে। তাপিয়া আরও বলেন, ফাইনালের আগে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে যেসব দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো সত্যতা নেই। দলের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং জয়ের লক্ষ্য ছিল অটুট। সবাই দেশের হয়ে সর্বোচ্চটা দেওয়ার জন্যই মাঠে নেমেছিলেন। ফাইনালে হার অবশ্যই হতাশাজনক, তবে এই দল আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সমর্থকদের অব্যাহত ভালোবাসা ও সমর্থনই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও উল্লেখ করেন এএফএ সভাপতি।

ফাইনালের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ নিয়ে মুখ খুলল আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন

সার্জারির পর ভিনিসিয়ুসকে চেনাই যাচ্ছে না! ‘চিন হারমোনাইজেশন’ নিয়ে তুমুল আলোচনা

বিশ্বকাপ শেষে এবার ভিন্ন কারণে আলোচনায় ব্রাজিল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মুখের গঠন পরিবর্তনের জন্য তিনি ‘চিন হারমোনাইজেশন’ নামে একটি কসমেটিক প্রক্রিয়া করিয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম। নতুন ছবিতে তাঁর চিবুক ও চোয়ালের গঠন আগের তুলনায় আরও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যা দেখে অনেক সমর্থক বলছেন— ভিনিসিয়ুসকে চেনাই যাচ্ছে না। ‘চিন হারমোনাইজেশন’ হলো এমন একটি প্রসাধনী চিকিৎসা, যেখানে ফিলার বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিবুক, চোয়াল ও মুখের ভারসাম্য উন্নত করার চেষ্টা করা হয়। ভিনিসিয়ুসের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার নয়, বিশেষ ধরনের ফিলার ব্যবহার করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রাথমিক ফোলাভাব কমে গেলে তাঁর মুখের আকৃতিতে আরও স্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যাবে।

সার্জারির পর ভিনিসিয়ুসকে চেনাই যাচ্ছে না! ‘চিন হারমোনাইজেশন’ নিয়ে তুমুল আলোচনা

এনজোর লাল কার্ডের পর রেফারির মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে চেয়েছিলেন মেসি!

দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে আর্জেন্টিনাকে খেলা শেষ করতে হয়েছে ১০ জন নিয়ে। নতুন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, এনজোর লাল কার্ড পাওয়ার পরপর লিওনেল মেসি এসে রেফারিকে মাটিতে পড়ে থাকা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর অবস্থা দেখতে বলছেন। ভিডিওতে এটাও পরিষ্কার দেখা গেছে যে, তাগলিয়াফিকো ইনজুরির অভিনয় করেছেন।   স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের পর এনজো মুখ খুলেছেন। দেশের জন্য সবকিছু দেওয়ার প্রতিজ্ঞা তার কণ্ঠে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের পর লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার সময় তিনি সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান এবং ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে ক্ষোভে সাইডলাইনের একটি মাইক্রোফোনে লাথি মারেন। ফাইনাল হারের পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এনজো। তিনি লেখেন, ‘সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনি বুঝতে পারবেন, ফলাফলের চেয়েও বড় কিছু রয়েছে। অনেক বছর ধরে এই দলটি আমাদের সেরাটা দিয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছে। তারা শিখিয়েছে প্রতিযোগিতা কেবল জয়ের জন্য নয়, শার্টটির জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া এবং কখনো হার না মানার নাম।’ 

এনজোর লাল কার্ডের পর রেফারির মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে চেয়েছিলেন মেসি!

আর্জেন্টিনায় খেলা দেখার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের দিন ম্যাচ চলাকালীন তীব্র উত্তেজনায় বুয়েন্স আইরেসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা (এসএএমই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এছাড়া আরও একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগ জানিয়েছে, মৃত দুই ব্যক্তির বয়স ছিল ৬৭ ও ৮৮ বছর। চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে সিপিআর দিলেও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এদিকে ৭২ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি বুকে তীব্র ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ম্যাচ শেষে বুয়েন্স আইরেসের ওবেলিস্ক চত্বরে উদ্ভূত বিশৃঙ্খলায়ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অতিরিক্ত ভিড়, মারামারি ও ওপর থেকে পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হওয়ার খবর দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।

আর্জেন্টিনায় খেলা দেখার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ২০১০ সালের পর আবারও ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ শিরোপা নিজেদের করে নিল লা রোজা। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলেই নির্ধারিত হয় শিরোপার ভাগ্য। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে স্পেন। বল দখল, পাসিং ও সুযোগ তৈরিতে পুরো ম্যাচে ছিল তাদের আধিপত্য। প্রথমার্ধে লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল ওয়ারজাবালের একাধিক প্রচেষ্টা দুর্দান্তভাবে রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তার একের পর এক সেভই নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। অন্যদিকে লিওনেল মেসিকে ঘিরে বড় প্রত্যাশা থাকলেও ফাইনালে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি আর্জেন্টিনাকে। পুরো ম্যাচে তারা বলের দখলে পিছিয়ে ছিল এবং স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণভাগের সামনে কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। ম্যাচের শেষদিকে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে না পারলেও অতিরিক্ত সময়েও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্পেন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরোর আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে ফেরান তোরেস গোল করে স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন। এরপর শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে শিরোপা নিশ্চিত করে ইউরোপের দেশটি। এই জয়ের মাধ্যমে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলল স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ সংগঠিত ফুটবল খেলে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির সামনে কঠিন সমীকরণ, এগিয়ে এমবাপে

বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসিকে টপকে শীর্ষে উঠেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ উন্নীত করেছেন তিনি। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির গোলসংখ্যা বর্তমানে ৮। ফলে ফাইনালে শুধু দুই গোল করলেও গোল্ডেন বুট নিশ্চিত হবে না তার। কারণ, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে বিবেচনায় আসে অ্যাসিস্ট। এমবাপে ইতোমধ্যে ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন, যা মেসির সমান। এরপরও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে খেলা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখা হবে— আর এই দিক থেকেও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এমবাপে। তাই গোল্ডেন বুট জিততে হলে মেসিকে শুধু গোলই নয়, অ্যাসিস্টেও এগিয়ে থাকতে হবে অথবা এমবাপের চেয়ে বেশি গোল করতে হবে ফাইনালে। এদিকে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ গোল করে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন এমবাপে। অন্যদিকে, মেসির লক্ষ্য এখন দলকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত এই সম্মানও অর্জন করা।

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির সামনে কঠিন সমীকরণ, এগিয়ে এমবাপে

ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বললেন লামিনে ইয়ামাল!ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বললেন লামিনে ইয়ামাল!

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক্ষিত ফাইনালে আগামী ১৯ জুলাই মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ?? ও স্পেন ??। আর সেই ম্যাচকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই প্রজন্মের দুই তারকা—লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। সম্প্রতি ক্রীড়াভিত্তিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম DAZN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন— "আমি এখন কিছুটা বড় হয়েছি, লিওর বয়সও বেড়েছে। আশা করছি ফাইনালে ওর মুখোমুখি হতে পারব। বিশেষ করে ফিনালিসিমা যেহেতু হয়নি, তাই এই ফাইনালটি আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ।" ? ২০০৭ সালে বার্সেলোনা ফাউন্ডেশনের একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে মাত্র ছয় মাস বয়সী ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন তরুণ মেসি। সেই ছবিই আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। ? তখন কেউ ভাবেনি, মেসির কোলে থাকা সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তরুণ তারকা হয়ে উঠবে। ? এবার আর কোনো ফটোশুট নয়—বিশ্বকাপের ফাইনালে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকা। ? মেসি নাকি ইয়ামাল—কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ?    

ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বললেন লামিনে ইয়ামাল!ফাইনালে মেসির মুখোমুখি হওয়া নিয়ে যা বললেন লামিনে ইয়ামাল!

মুখোমুখি ফ্রান্স-স্পেন: সেমিফাইনালে কার ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ?

আজ (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ?? ও স্পেন ??। টেক্সাসের AT&T Stadium-এ অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। ?? ফ্রান্সের সেমিফাইনাল ইতিহাস ?️ মোট ৮মবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে। ❌ প্রথম তিন সেমিফাইনালেই পরাজয়: ১৯৫৮: ব্রাজিলের কাছে ৫-২ ১৯৮২: পশ্চিম জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হার ১৯৮৬: পশ্চিম জার্মানির কাছে ২-০ ✅ এরপর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন: ১৯৯৮: ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ হারিয়ে ফাইনাল, পরে চ্যাম্পিয়ন। ২০০৬: পর্তুগালকে ১-০ হারিয়ে ফাইনাল। ২০১৮: বেলজিয়ামকে ১-০ হারিয়ে ফাইনাল, পরে চ্যাম্পিয়ন। ২০২২: মরক্কোকে ২-০ হারিয়ে ফাইনাল। ⭐ এবার টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, যা আগে কেবল ব্রাজিল ও জার্মানিই করতে পেরেছিল। ?? স্পেনের সেমিফাইনাল ইতিহাস ?️ বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো (প্রথাগত সেমিফাইনাল হিসেবে প্রথমটি ছিল ২০১০) এই ধাপে। ✅ সেমিফাইনালে শতভাগ সফলতা। ? ২০১০ বিশ্বকাপ: জার্মানিকে ১-০ গোলে হারায়। কার্লেস পুয়োলের ঐতিহাসিক হেডে নিশ্চিত হয় জয়। পরে ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে। ? ১৯৫০ সালে স্পেন চতুর্থ হয়েছিল, তবে তখন প্রথাগত সেমিফাইনাল ব্যবস্থা ছিল না। ⚽ আজকের ম্যাচে ফ্রান্স নামছে অভিজ্ঞতার শক্তি নিয়ে, আর স্পেন নামছে সেমিফাইনালে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে।

মুখোমুখি ফ্রান্স-স্পেন: সেমিফাইনালে কার ইতিহাস কতটা সমৃদ্ধ?

ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ৩০০ কোটির ম্যাচ

বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। মাঠের লড়াইয়ের আগেই এই ম্যাচ গড়েছে নতুন ইতিহাস। স্প্যানিশ দৈনিক AS–এর তথ্য অনুযায়ী, দুই দলের খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বাজারমূল্য ৩০০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এটিই ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ? বাজারমূল্যে কারা এগিয়ে? ?? ফ্রান্স: প্রায় ১৭৮ কোটি ডলার ?? স্পেন: প্রায় ১৪৩ কোটি ডলার ? সবচেয়ে দামি তারকারা ⭐ লামিনে ইয়ামাল (স্পেন): ২৩.৪ কোটি ডলার ⚡ কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ২১ কোটি ডলার ? মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স): ১৭.৫ কোটি ডলার ? পেদ্রি (স্পেন): ১৭.৫ কোটি ডলার ? আরও কিছু তথ্য ? দুই দলে ৭ জন খেলোয়াড়ের বাজারমূল্য ১১.৭ কোটি ডলার বা তার বেশি। ? দুই দল মিলিয়ে ২২ জন খেলোয়াড়ের মূল্য ৫.৮ কোটি ডলারের বেশি। ?? এই তালিকায় ১৫ জন ফরাসি, ?? ৭ জন স্প্যানিশ খেলোয়াড়। ? গোলকিপারদের বাজারমূল্যে এগিয়ে স্পেন ?? ফ্রান্সের ৩ গোলকিপার: ৬.৭ কোটি ডলার ?? স্পেনের ৩ গোলকিপার: ১১.৪ কোটি ডলার ⚽ মাঠে ইতিহাস, তারকাদের মহারণ আর ফাইনালের টিকিট—সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক রোমাঞ্চকর রাত।

ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ৩০০ কোটির ম্যাচ

বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল: পাসে এগিয়ে স্পেন, গোল ও শটে বেশি কার্যকর ফ্রান্স

বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও ফ্রান্স। অনেকের চোখে এটি যেন 'ফাইনালের আগে ফাইনাল'। পরিসংখ্যান বলছে, দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও খেলার ধরনে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। ? পাসিংয়ে এগিয়ে স্পেন প্রথম ৬ ম্যাচে মোট ৪,০৭৫টি পাস। ম্যাচপ্রতি গড়ে ৬৭৯.২টি পাস। পাস সফলতার হার ৯১%। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, সেমিফাইনালিস্টদের মধ্যে শুধু আর্জেন্টিনাই স্পেনের চেয়ে বেশি পাস খেলেছে। ?? ফ্রান্সের ম্যাচপ্রতি গড় ৫৬১.৫টি পাস। পাস সফলতার হার ৯০%। ? শট ও গোলে এগিয়ে ফ্রান্স দুই দলই এখন পর্যন্ত নিয়েছে ১১০টি করে শট। ফ্রান্স: লক্ষ্যে ৪৭টি শট, গোল ১৬টি। স্পেন: লক্ষ্যে ৪০টি শট, গোল ১১টি। ⚡ আক্রমণের ধরনে পার্থক্য স্পেন: ম্যাচপ্রতি গড়ে ২৪.৩টি ক্রস, উইংভিত্তিক আক্রমণে বেশি নির্ভরশীল। ফ্রান্স: ম্যাচপ্রতি ১৬.৫টি ক্রস, তবে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় এগিয়ে। ? একদিকে স্পেনের দখলভিত্তিক ফুটবল, অন্যদিকে ফ্রান্সের দ্রুত ও কার্যকর আক্রমণ—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই সেমিফাইনাল।

বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল: পাসে এগিয়ে স্পেন, গোল ও শটে বেশি কার্যকর ফ্রান্স

ইতিহাসের হাতছানি নিয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি মরক্কো

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেবার ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান ও আরব দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো, তবে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে দুই দল আবারও মুখোমুখি, যেখানে প্রতিশোধ ও নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে অ্যাটলাস লায়ন্স। ফ্রান্স এবারও দারুণ ছন্দে রয়েছে। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়ে ১৪ গোল করেছে দিদিয়ের দেশমের দল, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র দুটি। দলের আক্রমণভাগে রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা কিলিয়ান এমবাপে, যার গোলসংখ্যা ইতোমধ্যে সাত। তার সঙ্গে উসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিসে ও ব্রাডলি বারকোলা মিলে গড়ে তুলেছেন ভয়ঙ্কর এক আক্রমণভাগ। তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অন্যদিকে, আফ্রিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো আর শুধু ‘অঘটনের দল’ নয়, তারা এখন শিরোপার দাবিদার হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। কাতার বিশ্বকাপের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (আফকন) জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত দলটি। বর্তমানে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে থাকা মরক্কো এবার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। মরক্কো কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন, “আমরা এখন আর শুধু চমক নই, এটি আমাদের গর্ব। আশা করি এই ধারাবাহিকতা বহু বছর ধরে ধরে রাখতে পারব।” তবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো। দলের অন্যতম ভরসা ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে খেলতে পারবেন না। চলতি আসরে তিন গোল করে তিনি দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন। অন্যদিকে, ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম প্রতিশোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি বলেন, “ফুটবলে প্রতিশোধ বলে কিছু নেই। ম্যাচের দিন যে ভালো খেলবে, সেই জিতবে। মরক্কো খুব ভালো দল, তাদের হারাতে হলে আমাদেরও সেরাটা খেলতে হবে।” কাতার বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনালের পর এই প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ইতিহাস বলছে, এখন পর্যন্ত ৬ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও মরক্কো। এর মধ্যে ৪টিতে জিতেছে ফ্রান্স, আর ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মরক্কো এখনও ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে চায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

ইতিহাসের হাতছানি নিয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি মরক্কো

সাফল্যের কৃতিত্ব সতীর্থদের দিলেন মেসি, বললেন—‘তাদের কারণেই এখনও খেলছি’

বিশ্বকাপ | মঙ্গলবার, ৭ জুলাই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থদের। তিনি বলেছেন, দলের ভালোবাসা, সমর্থন ও ঐক্যবদ্ধ পরিবেশই তাকে এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুপ্রেরণা জোগায়। মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেন, “আমি আমার সতীর্থদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাদের সঙ্গে খেলতে পারাটা আমার জন্য বিশেষ আনন্দের। তারা শুধু সতীর্থ নয়, আমার বন্ধু। এত ভালোবাসা ও সমর্থন পাওয়া সত্যিই দারুণ অনুভূতি।” ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মেসি এবারের বিশ্বকাপে ৪ ম্যাচে ৭ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন। সমান ৭ গোল রয়েছে কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হলান্ডের নামেও, যদিও তারা একটি ম্যাচ বেশি খেলেছেন। নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গে মেসি বলেন, “এই দল এবং এই সতীর্থদের কারণেই আমি আজও আরেকটি বিশ্বকাপে খেলতে পারছি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যেতে পারছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “তারা সবসময় বাড়তি চেষ্টা করে, যাতে আমি প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে পারি। তারা এটা হৃদয় থেকে করে, কারণ তারা সত্যিই সেটাই অনুভব করে।”

সাফল্যের কৃতিত্ব সতীর্থদের দিলেন মেসি, বললেন—‘তাদের কারণেই এখনও খেলছি’

মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের ইংল্যান্ড

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটি সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও জয় ধরে রাখে থমাস টুখেলের দল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে আধিপত্য দেখায় মেক্সিকো। তবে কার্যকর পাল্টা আক্রমণে প্রথমার্ধেই জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। বিরতির ঠিক আগে হুলিয়ান কুইনোনেস গোল করে ব্যবধান কমান। দ্বিতীয়ার্ধে হ্যারি কেইন পেনাল্টি থেকে ইংল্যান্ডের তৃতীয় গোল করেন। তবে ৫৪ মিনিটে হেসুস গায়ার্দোকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংল্যান্ডের জ্যারেল কোয়ানসা। ফলে বাকি সময় ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় ইংলিশদের। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে মেক্সিকো একের পর এক আক্রমণ চালালেও আর মাত্র একটি গোলই শোধ করতে পারে। রাউল হিমিনেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-২ করলেও শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা। পরিসংখ্যানে মেক্সিকোর আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তারা ৬৭ শতাংশ বলের দখল রেখে ১৯টি শট নেয়, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড মাত্র ৫টি শটের ৪টিই লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় এবং সেখান থেকেই তিনটি গোল আদায় করে নেয়। এই হারের মধ্য দিয়ে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো। ১৯৮৬ সালের পর নিজেদের মাটিতে আবারও কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে গেল তাদের। এছাড়া এটি আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর ইতিহাসের তৃতীয় প্রতিযোগিতামূলক হার।

মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের ইংল্যান্ড

হালান্ডের নরওয়ে, নাকি ভিনিসিয়ুসের ব্রাজিল—কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কার?

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আজ (রোববার) দিবাগত রাত ২টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও ইউরোপের চমক নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে দুই দলই মাঠে নামছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। শুরুর দিকে কিছুটা ছন্দহীন থাকলেও সময়ের সঙ্গে নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। তবে একাধিক খেলোয়াড়ের চোট দলটির জন্য চিন্তার কারণ। শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে অল্পের জন্য বিদায় এড়ানো সেলেসাওদের এবার আরও উন্নত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। অন্যদিকে, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে নরওয়ে। গ্রুপ পর্বে ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে এবং ফ্রান্সের কাছে হেরে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে ওঠার পর শেষ ৩২-এ আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় তারা। নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা আর্লিং হালান্ড। চলতি বিশ্বকাপে দলের করা ১০ গোলের মধ্যে ৫টিই এসেছে এই তারকা স্ট্রাইকারের পা থেকে। প্রথম বিশ্বকাপ খেলেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন তিনি। এছাড়া মিডফিল্ডে মার্টিন ওডেগার্ডও দলের অন্যতম ভরসা। ব্রাজিলের আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। চলতি বিশ্বকাপে ৪ গোল করে তিনি ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে ২০০২ সালের রোনালদো নাজারিও ও রিভালদোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে এমন কীর্তি গড়েছেন তিনি। পরিসংখ্যান অবশ্য ব্রাজিলের জন্য খুব একটা সুখকর নয়। নরওয়ের বিপক্ষে চার দেখায় এখনো কোনো জয় পায়নি সেলেসাওরা। দুই জয়ের পাশাপাশি দুটি ম্যাচ ড্র করেছে নরওয়ে। এর মধ্যে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারানোর স্মরণীয় জয়ও রয়েছে তাদের। সবশেষ ২০০৬ সালের প্রীতি ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। এছাড়া ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা টানা ছয়টি নকআউট ম্যাচেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। সেই হতাশার রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য নিয়েই আজ মাঠে নামবে আনচেলত্তির দল। অপ্টা সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৫৩.৬ শতাংশ, নরওয়ের ২২.৪ শতাংশ এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৪ শতাংশ।

হালান্ডের নরওয়ে, নাকি ভিনিসিয়ুসের ব্রাজিল—কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কার?

পেলে-এমবাপেকে ছাড়িয়ে মেসির নতুন ইতিহাস, ভোজিনহার অনন্য কীর্তি

কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচে গোল করে একের পর এক রেকর্ড নিজের নামে লিখিয়েছেন লিওনেল মেসি। একই সঙ্গে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কেড়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহাও। ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান ও রেকর্ডগুলো— ২০: বিশ্বকাপে (পুরুষ ও নারী মিলিয়ে) প্রথম ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ারের ২০তম গোল করলেন লিওনেল মেসি। ১২: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৬ গোল ও ৬ অ্যাসিস্টসহ ১২ গোলে অবদান রেখে পেলে ও কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। ৮: বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তি গড়লেন মেসি। ৭+: প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০২২ ও ২০২৬) সাত বা তার বেশি গোল করলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ৭: এক আসরের বিশ্বকাপে মেসির গোল এখন ৭টি। আর্জেন্টিনার হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী গুইলারমো স্তাবিলের (৮) থেকে মাত্র এক গোল পিছিয়ে তিনি। ৫: বিশ্বকাপের নকআউটে টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করে জর্জি সারোসি ও ভাভার পাশে নাম লেখালেন মেসি। ১০: বিশ্বকাপের শেষ ছয়টি নকআউট ম্যাচে মেসির সরাসরি অবদান ১০ গোলে (৬ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট)। ১৪: ৩৫ বছর বয়সের পর বিশ্বকাপে ১৪ গোল করেছেন মেসি, যা অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের তুলনায় অনেক বেশি। ১৪: বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়া ২২ দলের মধ্যে ১৪টির বিপক্ষে গোল করেছেন তিনি। ৩: ৩৯ বছর ৯ দিন বয়সে বিশ্বকাপের নকআউটে গোল করা তৃতীয় বয়স্ক খেলোয়াড় মেসি। ১: লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ১৯৬৬ সালের পর প্রথম আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার হিসেবে এক ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট দুটিই করেছেন। ৩০ ও ১৩: বিশ্বকাপে মেসির ৩০তম ম্যাচ এবং নকআউটে ১৩তম ম্যাচ, যা ইতিহাসের অন্যতম সেরা রেকর্ড। ১: কেপ ভার্দের দেরয় দুয়ার্তে বিশ্বকাপের নকআউটে দেশের হয়ে প্রথম গোলদাতা হলেন। ১০০: আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে ১০০তম ম্যাচে দায়িত্ব পালন করলেন লিওনেল স্কালোনি। তার অধীনে আর্জেন্টিনার জয় এখন ৭২টি। ৫: ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা বিশ্বকাপের নকআউটে খেলা পঞ্চম ৪০+ বয়সী ফুটবলার। ১৮: এই বিশ্বকাপে ভোজিনহার মোট ১৮টি সেভ, যা আসরের অন্যতম সেরা। ৮: বিশ্বকাপের নকআউটে কোনো আফ্রিকান গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ ৮ সেভ করার নতুন রেকর্ড গড়েছেন ভোজিনহা। এর মধ্যে ৫টি সেভই ছিল মেসির শট থেকে। ৫৩: এবারের বিশ্বকাপে সেট-পিস থেকে হয়েছে ৫৩ গোল, যা ১৯৬৬ সালের পর সর্বোচ্চ। ১২: বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে ১২তম জয় তুলে নিয়ে জার্মানির যৌথ রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে আর্জেন্টিনা।

পেলে-এমবাপেকে ছাড়িয়ে মেসির নতুন ইতিহাস, ভোজিনহার অনন্য কীর্তি