রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

প্রযুক্তি

যেসব শব্দের কারণে রিমুভ হতে পারে ফেসবুক পোস্ট

যেসব শব্দের কারণে রিমুভ হতে পারে ফেসবুক পোস্ট

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ নিজেদের মতামত, ছবি ও নানা ধরনের তথ্য প্রকাশ করেন। তবে মেটার নীতিমালা বা ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ লঙ্ঘন করলে যেকোনো পোস্ট বা মন্তব্য সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে প্ল্যাটফর্মটি।ফেসবুকের কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও প্রতিবেদনে সহিংসতা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, যৌনতা এবং নিষিদ্ধ ব্যক্তি বা সংগঠন সম্পর্কে কী ধরনের কনটেন্ট সরানো হতে পারে, তার কিছু দিক উঠে এসেছে।সহিংসতার হুমকি বা উস্কানিকাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি ফেসবুকের নীতিমালায় গুরুতরভাবে দেখা হয়। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে গুলি করা বা হত্যার আহ্বানের মতো বক্তব্য কনটেন্ট অপসারণের কারণ হতে পারে।তবে সব ধরনের আক্রমণাত্মক বা গালিগালাজপূর্ণ ভাষা একইভাবে বিবেচিত হয় না। কোনো বক্তব্য বাস্তবে ক্ষতির ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ তৈরি করছে কি না, সেটিও কনটেন্ট পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।ঘৃণাত্মক বক্তব্যজাতি, ধর্ম, বর্ণ বা কোনো সুরক্ষিত গোষ্ঠীর মানুষকে হেয় বা অপমান করে বক্তব্য দিলে তা হেট স্পিচ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।কোনো গোষ্ঠীর মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করে অপমান করা বা তাদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করাও নীতিমালা ভঙ্গের আওতায় পড়তে পারে।নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও সংগঠনসহিংস বা বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি কিংবা সংগঠনের প্রশংসা, সমর্থন বা প্রচারমূলক বক্তব্যও ফেসবুকের নীতিমালার আওতায় পড়ে।বিশেষ করে সন্ত্রাসী বা সহিংস উগ্রবাদী সংগঠনকে সমর্থন, প্রশংসা কিংবা তাদের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করে এমন কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।যৌনতা ও নগ্নতার ক্ষেত্রে কড়াকড়িযৌনভাবে স্পষ্ট কনটেন্ট এবং নগ্নতার বিষয়ে ফেসবুকের নীতিমালা তুলনামূলকভাবে কঠোর। যৌন উত্তেজক ছবি, ভিডিও কিংবা স্পষ্ট যৌন বর্ণনাযুক্ত কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।শিল্পকর্ম বা সৃজনশীল কনটেন্টের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা প্রযোজ্য হতে পারে।অনুবাদের ভুলেও হতে পারে সমস্যাফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বিভিন্ন ভাষার শব্দ ও বাক্যের অর্থ সবসময় সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। ফলে কোনো বক্তব্যের প্রকৃত অর্থের বদলে ভুল অনুবাদ বা প্রসঙ্গের কারণে কনটেন্ট ফ্ল্যাগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।বিশেষ করে স্থানীয় ভাষা ও আঞ্চলিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।ব্যঙ্গ বা রূপক ভাষাতেও সতর্কতাফেসবুকের এআইভিত্তিক সিস্টেম সবসময় ব্যঙ্গ, রসিকতা বা রূপক অর্থ সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। ফলে কোনো বক্তব্যের উদ্দেশ্য ক্ষতিকর না হলেও ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্যাংশের ভিত্তিতে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে।তাই বিতর্কিত বিষয়, রাজনৈতিক বক্তব্য বা সংবেদনশীল প্রসঙ্গে পোস্ট করার সময় শব্দ নির্বাচনে সতর্ক থাকা জরুরি। তবে কোনো নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করলেই যে পোস্ট নিশ্চিতভাবে মুছে যাবে—এমন সরল নিয়ম নেই। কনটেন্টের সামগ্রিক অর্থ, প্রসঙ্গ, ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য এবং মেটার সংশ্লিষ্ট নীতিমালার ওপর সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে।

শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্ট: অভিভাবকদের করণীয়

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে। কখনো বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, আবার কখনো শিশুদের নামে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার মাধ্যমে খুব অল্প বয়সেই তারা বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কনটেন্টের সংস্পর্শে আসছে। বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনায় না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় শিশুদের সামনে যেমন শেখার ও সৃজনশীলতার নতুন দরজা খুলছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নানা ঝুঁকিও।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক, সৃজনশীল ও ইতিবাচক কনটেন্টের পাশাপাশি সহিংসতা, অশালীনতা, সাইবার বুলিং, আত্মক্ষতির প্ররোচনা, শরীর ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ক্ষতিকর ধারণাসহ বয়স-অনুপযোগী নানা ধরনের কনটেন্ট রয়েছে। এসব কনটেন্ট শিশুর চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।কনটেন্ট তৈরিতে শিশুদের ব্যবহারশিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়—কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরি করে আয় ও মনিটাইজেশনের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। এতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আয়ের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন।সমস্যা তৈরি হয় যখন এই প্রবণতায় শিশুদেরও বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর স্বাভাবিক জীবন, ব্যক্তিগত পরিসর ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনা না করেই তাদের দিয়ে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। কখনো শিশুরাই হয়ে উঠছে ভিডিওর মূল বিষয়, আবার কখনো তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত, আচরণ, পোশাক বা কথাবার্তাকে দর্শক আকর্ষণের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকলেও শিশুকে এভাবে কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।শিশু শুধু ব্যবহারকারী নয়, অধিকারধারীশিশুকে শুধু ডিজিটাল কনটেন্টের ভোক্তা কিংবা বাণিজ্যিক মুনাফার উপকরণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ডিজিটাল পরিবেশেও শিশু একজন অধিকারধারী। তার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মতপ্রকাশের সুযোগ এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।এ দায়িত্ব শুধু অভিভাবকের নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—সব পক্ষকেই শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।বিশ্বজুড়ে বয়সসীমা নিয়ে আলোচনাশিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা, অভিভাবকের সম্মতি এবং বয়স যাচাইয়ের মতো বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবছে।অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ডেনমার্কসহ অন্যান্য দেশেও কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।গবেষণায়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের সাইবার বুলিং, বয়স-অনুপযোগী কনটেন্টের সংস্পর্শ, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ঝুঁকির সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।বিশেষ করে আত্মক্ষতির প্ররোচনা, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ক্ষতিকর ধারণা কিংবা নিজের শরীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে—এমন কনটেন্ট শিশুদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ।শিশু ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখলে কী করবেন?শিশু কোনো অস্বস্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ফেললে প্রথমেই তাকে বকাঝকা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। এতে শিশু ভবিষ্যতে অনলাইনে কোনো সমস্যায় পড়লেও তা বাবা-মায়ের কাছে গোপন করতে পারে।বরং শান্তভাবে তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। কী দেখেছে, কোথায় দেখেছে এবং সেটি দেখে তার কেমন লেগেছে—এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করতে হবে।১. খোলামেলা যোগাযোগ তৈরি করুনশিশুর সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি, যাতে সে অনলাইনে কোনো ভয়ংকর, অস্বস্তিকর বা বিভ্রান্তিকর কিছু দেখলে নির্ভয়ে বাবা-মাকে জানাতে পারে।অনলাইনে সে কার সঙ্গে কথা বলছে এবং কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে—এসব বিষয়ে বয়স ও পরিপক্বতা অনুযায়ী নিয়মিত আলোচনা করা যেতে পারে।২. নির্দিষ্ট ডিজিটাল নিয়ম তৈরি করুনকখন, কোথায় এবং কতক্ষণ মোবাইল বা অন্য ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে পরিবারের নিজস্ব নিয়ম থাকা প্রয়োজন।বিশেষ করে খাবারের সময়, পড়াশোনা, ঘুম এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়কে স্ক্রিনমুক্ত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।৩. প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করুনশিশুর বয়স অনুযায়ী প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, নিরাপদ সার্চ, প্রাইভেসি সেটিংস এবং কনটেন্ট ফিল্টারের মতো সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে।একই সঙ্গে শিশুকে অনলাইনে নিজের পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত ছবি বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।৪. ক্ষতিকর কনটেন্ট রিপোর্ট ও ব্লক করুনকোনো পোস্ট, ভিডিও বা অ্যাকাউন্ট শিশুর জন্য ক্ষতিকর হলে সেটি রিপোর্ট বা ব্লক করার পদ্ধতি তাকে শেখানো যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ‘নট ইন্টারেস্টেড’ ধরনের অপশন ব্যবহার করেও অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট কমানো সম্ভব।সাইবার বুলিং কিংবা সরাসরি হুমকির ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।৫. অফলাইন সময় বাড়ানশিশুর জীবন যেন শুধু মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।বই পড়া, খেলাধুলা, ছবি আঁকা, গান, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো গেলে স্ক্রিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব।পুরোপুরি নিষেধ নয়, দরকার নিরাপদ অভ্যাসশিশুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখাই সব ক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান নয়। বরং তার বয়স, মানসিক পরিপক্বতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।এর জন্য প্রয়োজন অভিভাবকের সচেতনতা, সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার। শিশুর হাতে প্রযুক্তি তুলে দেওয়া সহজ; কিন্তু সেই প্রযুক্তি কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানোই বড় দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন শিশুর শৈশব কেড়ে না নেয়; বরং শেখা, সৃজনশীলতা ও বিকাশের নিরাপদ সহযাত্রী হয়ে ওঠে—সেদিকেই নজর দিতে হবে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সব পক্ষকে।

শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্ট: অভিভাবকদের করণীয়

নতুন ভাইরাস তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই! বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের বিরুদ্ধে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন গবেষকেরা। পরীক্ষাগারে এসব ভাইরাস পুনরুৎপাদনও করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ সাফল্য একই সঙ্গে জৈব নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ক্ষতিকর জীবাণু বা জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা হতে পারে।গবেষণাটিতে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি এআই মডেল ইভো১ (Evo1) ও ইভো২ (Evo2) ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত ভাষাভিত্তিক এআই মডেলের মতো শুধু শব্দ বা বাক্য বিশ্লেষণের পরিবর্তে এসব মডেলকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ ও মানুষের জেনেটিক কোডের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ও অনুমান করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।গবেষণায় ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে পারে এমন ব্যাকটেরিওফাজ নামে পরিচিত ভাইরাসের শত শত নকশা তৈরি করে এআই। এর মধ্যে ১৬টি নকশা পরীক্ষাগারে সফলভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে।গবেষকদের মতে, এ ধরনের নতুন ব্যাকটেরিওফাজ তৈরির সক্ষমতা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর না হলে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে ব্যাকটেরিওফাজ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে গবেষণা চলছে।স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি বলেন, জেনারেটিভ এআই দিয়ে জটিল জৈবিক নকশা তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সম্পূর্ণ জিনোমের নকশা তৈরি এবং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যা পুনরুৎপাদন করতে পারে ও কোষের ভেতরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—এটি গবেষকদের জন্য নতুন একটি ক্ষেত্র।তবে গবেষণার ফলাফল নিয়ে সতর্ক করেছেন জৈব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এআইয়ের মাধ্যমে নতুন ভাইরাল জিনোম তৈরি করার সক্ষমতা এখন আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নয়; বরং প্রযুক্তিটিকে কীভাবে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।গবেষণাসংশ্লিষ্ট এক মন্তব্যে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডা. টমাস ইংলেসবি ও ডা. মরিটজ হাঙ্কে বলেন, এই গবেষণা জরুরি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন নতুন ভাইরাস তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আরও কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন।গবেষকেরা অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁদের পরীক্ষায় মানুষের মতো জটিল জীবকে সংক্রমিত করতে পারে এমন ভাইরাসকে এআইয়ের প্রশিক্ষণ ডেটাসেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। গবেষণাটি শুধু ব্যাকটেরিওফাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং সব পরীক্ষা করা হয়েছে নিয়ন্ত্রিত ও সুরক্ষিত গবেষণাগারে।গবেষক ব্রায়ান হি আরও জানান, প্রযুক্তিটির ব্যবহার যাতে ইতিবাচক উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।তবে এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এমন এআই মডেল, যেগুলো জটিল কাজ নিজের মতো করে সম্পন্ন করতে পারে, সেগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।সব মিলিয়ে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এআই দিয়ে জীববৈজ্ঞানিক নকশা তৈরির এই সক্ষমতা প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণায় বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পাশাপাশি কঠোর জৈব নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন ভাইরাস তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই! বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস-প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ফলসেটিয়া এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ফলসেটিয়া বাসস্টেশনের পশ্চিম ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকাগামী ডি-লিংক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পাটুরিয়াগামী একটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় প্রাইভেট কারটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে গাড়ির চালক ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হন।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।বরংগাইল হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।দুর্ঘটনার পর কিছু সময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল ধীরগতির হলেও পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাস-প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ

মোবাইল ফোনের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রিন্সিপাল ১০০ শপিং মলের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে সংঘটিত দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই) কাঁচপুর, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. বাবু ওরফে রবি ওরফে রনি (৪০), মো. ইছহাক ওরফে সাগর (৪২), মো. কামাল (৪০), মো. আলমগীর (৪৫), মো. জামাল (৩৮), আলাউদ্দিন (৪৫), মো. সুমন (৪১), মো. রুবেল (২৩) এবং আলামিন ওরফে বাম্বু আলামিন (২৩)। তাদের সবার বাড়ি কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন সোনারগাঁয়ের প্রিন্সিপাল ১০০ শপিং মলের একটি মোবাইল ফোনের দোকানে পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোকান মালিক সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের সহায়তায় চোর চক্রটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং চুরি হওয়া মালামাল কোথায় নেওয়া হয়েছে, তা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মোবাইল ফোনের দোকানে দুঃসাহসিক চুরি, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেপ্তার

গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড যাচ্ছে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায়

ঢাকা | মঙ্গলবার, ৭ জুলাই রাজধানীর গুলিস্তানের দীর্ঘদিনের যানজট কমাতে ফুলবাড়িয়া আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ড কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া হাসনাবাদ এলাকায় স্থানান্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাঘৈর তেগরিয়া, তেগরিয়া আন্ডারপাস সংলগ্ন এলাকা ও ইকুরিয়া হাসনাবাদ—এই তিনটি স্থান পর্যালোচনা করা হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা, সড়ক সংযোগ, যান চলাচলের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনায় ইকুরিয়া হাসনাবাদ এলাকাকে সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক আন্তঃজেলা বাস চলাচল করে। এসব বাসের কারণে গুলিস্তান, বঙ্গভবন, গোলাপশাহ মাজার, দৈনিক বাংলা মোড়সহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। কর্তৃপক্ষের আশা, বাসস্ট্যান্ডটি রাজধানীর প্রবেশমুখের কাছাকাছি ইকুরিয়ায় স্থানান্তর করা হলে আন্তঃজেলা বাসগুলোকে আর শহরের কেন্দ্র পর্যন্ত প্রবেশ করতে হবে না। এতে গুলিস্তানসহ ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকার যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড যাচ্ছে কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়ায়

এআই দিয়ে ভুয়া অ্যাডমিট কার্ড তৈরি, পরীক্ষাকেন্দ্রে আটক ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া এইচএসসি অ্যাডমিট কার্ড দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে এক শিক্ষার্থী ও তার সহযোগী আটক হয়েছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় অ্যাডমিট কার্ডের কোড নম্বর ও বিষয়ের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে শিক্ষা বোর্ড নিশ্চিত করে যে প্রবেশপত্রটি সম্পূর্ণ জাল। তদন্তে জানা যায়, টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত তার সহযোগী ইনজামুল হকের সহায়তায় এআই ব্যবহার করে ভুয়া অ্যাডমিট কার্ড তৈরি করেছিলেন। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ না করার শর্তে তাদের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে।

এআই দিয়ে ভুয়া অ্যাডমিট কার্ড তৈরি, পরীক্ষাকেন্দ্রে আটক ২

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

ডিজিটাল ট্রাস্ট ও শক্তিশালী জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিল্প ও মিডিয়ার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ বিস্তারিত: দেশের দ্রুতগতির ডিজিটাল অগ্রযাত্রাকে টেকসই, নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য করতে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল ট্রাস্ট নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডিজিটাল অবকাঠামো নিরাপদ রাখতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ফিনিক্স সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ আয়োজনের মূল আয়োজক ছিল দ্য টিম ফিনিক্স গ্রুপ। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করতে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সরকার ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

হাতজোড় করে ভিক্ষা চাইছে রোবট, বিদ্যুৎ বিলের জন্য চায় টাকা (ভিডিও)

রিচার্জ করার অর্থ নেই, বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে—এমন আর্জি জানিয়ে ভিক্ষা করছে এক মানবাকৃতির রোবট। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রোবটটি হাতজোড় করছে এবং আকুতির সুরে টাকা দেওয়ার অনুরোধ করছে। চীনের সিচুয়ান প্রদেশে রোবটের ভিক্ষা করার এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রোবটটি তার সামনে একটি থালা রেখেছে, যাতে মানুষ খুচরা অর্থ দিতে পারে। পাশাপাশি রাখা রয়েছে একটি কিউআর কোড, যার মাধ্যমে ডিজিটালভাবেও অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশে থাকা একটি সাউন্ড বক্স থেকে শোনা যায় রোবটটি বলছে—“রিচার্জ করার জন্য কোনো টাকা নেই। দয়া করে বিদ্যুৎ বিলের অর্থ দিয়ে সহায়তা করুন।” ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, রোবটটি তৈরি করেছে Unitree Robotics। এটি Unitree G1 মডেলের রোবট। এর আগেও একই মডেলের একটি রোবট Chimborazo আগ্নেয়গিরিতে অভিযান চালিয়েছিল। এদিকে ভিডিওটি নিয়ে স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন, রোবটকে বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, সহজে অর্থ আয়ের উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি রোবটটিকে এভাবে ব্যবহার করছেন।      

হাতজোড় করে ভিক্ষা চাইছে রোবট, বিদ্যুৎ বিলের জন্য চায় টাকা (ভিডিও)

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১০১ হারানো মোবাইল উদ্ধার, স্বস্তি মালিকদের

চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া ১০১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১৭ জুন) Nasirabad-এ অবস্থিত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন Md. Masud Alam। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হারানো সম্পদ উদ্ধারে জনসেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় জেলার ১৭টি থানায় মোবাইল হারানো সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) পর্যালোচনা করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার সমন্বয়ে পরিচালিত অনুসন্ধানের মাধ্যমে ১০১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, জনগণের হারানো সম্পদ উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিতে পারা পুলিশের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে কাজ করছে জেলা পুলিশ। তিনি আরও জানান, জনগণের জানমাল রক্ষা, হারানো সম্পদ উদ্ধার এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে উপকারভোগীরা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, পুলিশের এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ১০১ হারানো মোবাইল উদ্ধার, স্বস্তি মালিকদের

এআই মামলা ঘিরে বিআরটিএর নামে প্রতারণা: ওটিপি নিয়ে ৭ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ, ৩ জন গ্রেপ্তার

এআই মামলা ঘিরে বিআরটিএর নামে প্রতারণা, ওটিপি নিয়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ অফিসের ব্যস্ততা কিংবা দিনের কর্মব্যস্ততার মাঝেই হঠাৎ মোবাইল ফোনে একটি এসএমএস ‘আপনার গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করেছে, জরিমানা পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সঙ্গে দেওয়া বিআরটিএর ওয়েবসাইটের মতো দেখতে একটি লিংক। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও আইনি ঝামেলার ভয় দেখিয়ে এমন বার্তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ব্যাংক হিসাব খালি করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে ট্রাফিক জরিমানা আদায়ের নামে ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়া চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি জানায়, খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. রাব্বি শেখ (২৪), ফেনী জেলার সদর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. রিয়াদ হোসেন (৩১) এবং ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩১)। সোমবার (১৫ জুন) সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) পৃথক অভিযানে প্রযুক্তিগত তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সানা শামিনুর রহমান। তিনি বলেন, ডিএমপির এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মামলা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর একটি প্রতারক চক্র এটিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা শুরু করে। চক্রটি বিআরটিএর ওয়েবসাইটের অনুরূপ একটি ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছিল। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে জানাত, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করায় মামলা হয়েছে। এসএমএসে থাকা লিংকে প্রবেশ করলে ভুক্তভোগীদের বিআরটিএর ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি করা একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নেওয়া হতো। সেখানে জরিমানা পরিশোধের কথা বলে ব্যাংক কার্ডের তথ্য, অ্যাকাউন্টের তথ্য ও ওটিপি সংগ্রহ করত প্রতারকরা। এমনকি দ্রুত জরিমানা পরিশোধ করলে ৫০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে এমন প্রলোভনও দেখানো হতো। তিনি আরও বলেন, ওটিপি সংগ্রহের পর প্রতারকরা ভুক্তভোগীদের ব্যাংক হিসাব থেকে নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করত। এভাবে গ্রেপ্তার তিন আসামি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট সাত লাখ ২৫ হাজার ছয়শ টাকা আত্মসাৎ করেছে। সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের অভিযানিক দল প্রযুক্তিগত তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা, ফেনী ও ঢাকার দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। সানা শামিনুর রহমান বলেন, প্রথমে খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকা থেকে রাব্বি শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফেনীর সদর এলাকা থেকে রিয়াদ হোসেন এবং ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক ভুক্তভোগী তার মোবাইল ফোনে বিআরটিএর নামে ট্রাফিক জরিমানা সংক্রান্ত একটি এসএমএস পান। এসএমএসে দেওয়া লিংকে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, তার অফিসের গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করলে এক হাজার পাঁচশ টাকা দিতে হবে বলেও উল্লেখ ছিল। বিষয়টি সত্য মনে করে তিনি, জরিমানা পরিশোধের জন্য ভুয়া অনলাইন পেমেন্ট পোর্টালে প্রবেশ করেন। সেখানে স্ত্রীর ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ব্যাংক অ্যাপের লগইন তথ্য ও ওটিপি প্রদান করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান, জরিমানা পরিশোধ না হয়ে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৩ লাখ টাকা অন্য একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে একই ধরনের আরও দুটি অভিযোগ পাওয়ার পর সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি ভুয়া ট্রাফিক মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে মানুষের ব্যাংক কার্ড, অ্যাকাউন্ট ও ওটিপি তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করছিল।bistarito teg soho head line 

এআই মামলা ঘিরে বিআরটিএর নামে প্রতারণা: ওটিপি নিয়ে ৭ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ, ৩ জন গ্রেপ্তার

সাইবার হামলা থেকে বাঁচতে নতুন গাইডলাইন প্রকাশ

প্রযুক্তি ডেস্ক: দেশে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন নিরাপত্তা গাইডলাইন প্রকাশ করেছে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। তথ্য চুরি এবং র‍্যানসমওয়্যারের মতো হামলা প্রতিরোধে এই গাইডলাইন মানার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইমেইল ফিশিং এবং দুর্বল পাসওয়ার্ডের কারণেই সবচেয়ে বেশি সাইবার হামলা ঘটে। কর্মীদের মধ্যে সাইবার সিকিউরিটি সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো (CII) হিসেবে ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাইবার হামলা থেকে বাঁচতে নতুন গাইডলাইন প্রকাশ

নতুন এআই ফিচার আনল গুগল, কী সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা?

প্রযুক্তি ডেস্ক: সার্চ জায়ান্ট গুগল তাদের অ্যান্ড্রয়েড এবং ওয়ার্কস্পেস ইকোসিস্টেমে নতুন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ফিচার যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজ আরও সহজ হবে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন ফিচারের মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় ইমেইল লেখা, ছবি এডিটিংয়ে ম্যাজিক ইরেজার এবং ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের উন্নত সংস্করণ। গুগল সিইও সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, "এআই এখন শুধু প্রযুক্তি নয়, এটি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।" ব্যবহারকারীরা আগামী মাসের আপডেটেই এই নতুন সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

নতুন এআই ফিচার আনল গুগল, কী সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা?