সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্ট: অভিভাবকদের করণীয়


ডেক্স রিপোর্ট
ডেক্স রিপোর্ট

শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্ট: অভিভাবকদের করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে। কখনো বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, আবার কখনো শিশুদের নামে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার মাধ্যমে খুব অল্প বয়সেই তারা বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কনটেন্টের সংস্পর্শে আসছে। বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনায় না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় শিশুদের সামনে যেমন শেখার ও সৃজনশীলতার নতুন দরজা খুলছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নানা ঝুঁকিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক, সৃজনশীল ও ইতিবাচক কনটেন্টের পাশাপাশি সহিংসতা, অশালীনতা, সাইবার বুলিং, আত্মক্ষতির প্ররোচনা, শরীর ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ক্ষতিকর ধারণাসহ বয়স-অনুপযোগী নানা ধরনের কনটেন্ট রয়েছে। এসব কনটেন্ট শিশুর চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কনটেন্ট তৈরিতে শিশুদের ব্যবহার

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়—কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরি করে আয় ও মনিটাইজেশনের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। এতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আয়ের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন।

সমস্যা তৈরি হয় যখন এই প্রবণতায় শিশুদেরও বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর স্বাভাবিক জীবন, ব্যক্তিগত পরিসর ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনা না করেই তাদের দিয়ে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। কখনো শিশুরাই হয়ে উঠছে ভিডিওর মূল বিষয়, আবার কখনো তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত, আচরণ, পোশাক বা কথাবার্তাকে দর্শক আকর্ষণের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকলেও শিশুকে এভাবে কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।

শিশু শুধু ব্যবহারকারী নয়, অধিকারধারী

শিশুকে শুধু ডিজিটাল কনটেন্টের ভোক্তা কিংবা বাণিজ্যিক মুনাফার উপকরণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ডিজিটাল পরিবেশেও শিশু একজন অধিকারধারী। তার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মতপ্রকাশের সুযোগ এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

এ দায়িত্ব শুধু অভিভাবকের নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—সব পক্ষকেই শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

বিশ্বজুড়ে বয়সসীমা নিয়ে আলোচনা

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা, অভিভাবকের সম্মতি এবং বয়স যাচাইয়ের মতো বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ডেনমার্কসহ অন্যান্য দেশেও কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

গবেষণায়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের সাইবার বুলিং, বয়স-অনুপযোগী কনটেন্টের সংস্পর্শ, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ঝুঁকির সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।

বিশেষ করে আত্মক্ষতির প্ররোচনা, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ক্ষতিকর ধারণা কিংবা নিজের শরীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে—এমন কনটেন্ট শিশুদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ।

শিশু ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখলে কী করবেন?

শিশু কোনো অস্বস্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ফেললে প্রথমেই তাকে বকাঝকা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। এতে শিশু ভবিষ্যতে অনলাইনে কোনো সমস্যায় পড়লেও তা বাবা-মায়ের কাছে গোপন করতে পারে।

বরং শান্তভাবে তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। কী দেখেছে, কোথায় দেখেছে এবং সেটি দেখে তার কেমন লেগেছে—এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

১. খোলামেলা যোগাযোগ তৈরি করুন

শিশুর সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি, যাতে সে অনলাইনে কোনো ভয়ংকর, অস্বস্তিকর বা বিভ্রান্তিকর কিছু দেখলে নির্ভয়ে বাবা-মাকে জানাতে পারে।

অনলাইনে সে কার সঙ্গে কথা বলছে এবং কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে—এসব বিষয়ে বয়স ও পরিপক্বতা অনুযায়ী নিয়মিত আলোচনা করা যেতে পারে।

২. নির্দিষ্ট ডিজিটাল নিয়ম তৈরি করুন

কখন, কোথায় এবং কতক্ষণ মোবাইল বা অন্য ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে পরিবারের নিজস্ব নিয়ম থাকা প্রয়োজন।

বিশেষ করে খাবারের সময়, পড়াশোনা, ঘুম এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়কে স্ক্রিনমুক্ত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

৩. প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করুন

শিশুর বয়স অনুযায়ী প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, নিরাপদ সার্চ, প্রাইভেসি সেটিংস এবং কনটেন্ট ফিল্টারের মতো সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে শিশুকে অনলাইনে নিজের পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত ছবি বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

৪. ক্ষতিকর কনটেন্ট রিপোর্ট ও ব্লক করুন

কোনো পোস্ট, ভিডিও বা অ্যাকাউন্ট শিশুর জন্য ক্ষতিকর হলে সেটি রিপোর্ট বা ব্লক করার পদ্ধতি তাকে শেখানো যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ‘নট ইন্টারেস্টেড’ ধরনের অপশন ব্যবহার করেও অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট কমানো সম্ভব।

সাইবার বুলিং কিংবা সরাসরি হুমকির ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

৫. অফলাইন সময় বাড়ান

শিশুর জীবন যেন শুধু মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

বই পড়া, খেলাধুলা, ছবি আঁকা, গান, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো গেলে স্ক্রিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

পুরোপুরি নিষেধ নয়, দরকার নিরাপদ অভ্যাস

শিশুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখাই সব ক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান নয়। বরং তার বয়স, মানসিক পরিপক্বতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এর জন্য প্রয়োজন অভিভাবকের সচেতনতা, সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার।

শিশুর হাতে প্রযুক্তি তুলে দেওয়া সহজ; কিন্তু সেই প্রযুক্তি কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানোই বড় দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন শিশুর শৈশব কেড়ে না নেয়; বরং শেখা, সৃজনশীলতা ও বিকাশের নিরাপদ সহযাত্রী হয়ে ওঠে—সেদিকেই নজর দিতে হবে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সব পক্ষকে।

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্ট: অভিভাবকদের করণীয়

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও ক্রমেই জড়িয়ে পড়ছে। কখনো বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে, আবার কখনো শিশুদের নামে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার মাধ্যমে খুব অল্প বয়সেই তারা বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কনটেন্টের সংস্পর্শে আসছে। বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনায় না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ায় শিশুদের সামনে যেমন শেখার ও সৃজনশীলতার নতুন দরজা খুলছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে নানা ঝুঁকিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক, সৃজনশীল ও ইতিবাচক কনটেন্টের পাশাপাশি সহিংসতা, অশালীনতা, সাইবার বুলিং, আত্মক্ষতির প্ররোচনা, শরীর ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ক্ষতিকর ধারণাসহ বয়স-অনুপযোগী নানা ধরনের কনটেন্ট রয়েছে। এসব কনটেন্ট শিশুর চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কনটেন্ট তৈরিতে শিশুদের ব্যবহার

শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়—কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরি করে আয় ও মনিটাইজেশনের সুযোগ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। এতে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে আয়ের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন।

সমস্যা তৈরি হয় যখন এই প্রবণতায় শিশুদেরও বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর স্বাভাবিক জীবন, ব্যক্তিগত পরিসর ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনা না করেই তাদের দিয়ে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। কখনো শিশুরাই হয়ে উঠছে ভিডিওর মূল বিষয়, আবার কখনো তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত, আচরণ, পোশাক বা কথাবার্তাকে দর্শক আকর্ষণের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকলেও শিশুকে এভাবে কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করা তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।

শিশু শুধু ব্যবহারকারী নয়, অধিকারধারী

শিশুকে শুধু ডিজিটাল কনটেন্টের ভোক্তা কিংবা বাণিজ্যিক মুনাফার উপকরণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ডিজিটাল পরিবেশেও শিশু একজন অধিকারধারী। তার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, মতপ্রকাশের সুযোগ এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

এ দায়িত্ব শুধু অভিভাবকের নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—সব পক্ষকেই শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

বিশ্বজুড়ে বয়সসীমা নিয়ে আলোচনা

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সসীমা, অভিভাবকের সম্মতি এবং বয়স যাচাইয়ের মতো বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ডেনমার্কসহ অন্যান্য দেশেও কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।

গবেষণায়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের সাইবার বুলিং, বয়স-অনুপযোগী কনটেন্টের সংস্পর্শ, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ঝুঁকির সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।

বিশেষ করে আত্মক্ষতির প্ররোচনা, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ক্ষতিকর ধারণা কিংবা নিজের শরীর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে—এমন কনটেন্ট শিশুদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ।

শিশু ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখলে কী করবেন?

শিশু কোনো অস্বস্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ফেললে প্রথমেই তাকে বকাঝকা বা ভয় দেখানো উচিত নয়। এতে শিশু ভবিষ্যতে অনলাইনে কোনো সমস্যায় পড়লেও তা বাবা-মায়ের কাছে গোপন করতে পারে।

বরং শান্তভাবে তার সঙ্গে কথা বলতে হবে। কী দেখেছে, কোথায় দেখেছে এবং সেটি দেখে তার কেমন লেগেছে—এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

১. খোলামেলা যোগাযোগ তৈরি করুন

শিশুর সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি, যাতে সে অনলাইনে কোনো ভয়ংকর, অস্বস্তিকর বা বিভ্রান্তিকর কিছু দেখলে নির্ভয়ে বাবা-মাকে জানাতে পারে।

অনলাইনে সে কার সঙ্গে কথা বলছে এবং কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে—এসব বিষয়ে বয়স ও পরিপক্বতা অনুযায়ী নিয়মিত আলোচনা করা যেতে পারে।

২. নির্দিষ্ট ডিজিটাল নিয়ম তৈরি করুন

কখন, কোথায় এবং কতক্ষণ মোবাইল বা অন্য ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে পরিবারের নিজস্ব নিয়ম থাকা প্রয়োজন।

বিশেষ করে খাবারের সময়, পড়াশোনা, ঘুম এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়কে স্ক্রিনমুক্ত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

৩. প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করুন

শিশুর বয়স অনুযায়ী প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, নিরাপদ সার্চ, প্রাইভেসি সেটিংস এবং কনটেন্ট ফিল্টারের মতো সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে শিশুকে অনলাইনে নিজের পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত ছবি বা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করার বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

৪. ক্ষতিকর কনটেন্ট রিপোর্ট ও ব্লক করুন

কোনো পোস্ট, ভিডিও বা অ্যাকাউন্ট শিশুর জন্য ক্ষতিকর হলে সেটি রিপোর্ট বা ব্লক করার পদ্ধতি তাকে শেখানো যেতে পারে। প্রয়োজন হলে ‘নট ইন্টারেস্টেড’ ধরনের অপশন ব্যবহার করেও অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট কমানো সম্ভব।

সাইবার বুলিং কিংবা সরাসরি হুমকির ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

৫. অফলাইন সময় বাড়ান

শিশুর জীবন যেন শুধু মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক হয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

বই পড়া, খেলাধুলা, ছবি আঁকা, গান, প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো গেলে স্ক্রিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

পুরোপুরি নিষেধ নয়, দরকার নিরাপদ অভ্যাস

শিশুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখাই সব ক্ষেত্রে একমাত্র সমাধান নয়। বরং তার বয়স, মানসিক পরিপক্বতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এর জন্য প্রয়োজন অভিভাবকের সচেতনতা, সন্তানের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার।

শিশুর হাতে প্রযুক্তি তুলে দেওয়া সহজ; কিন্তু সেই প্রযুক্তি কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানোই বড় দায়িত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেন শিশুর শৈশব কেড়ে না নেয়; বরং শেখা, সৃজনশীলতা ও বিকাশের নিরাপদ সহযাত্রী হয়ে ওঠে—সেদিকেই নজর দিতে হবে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সব পক্ষকে।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
শিশু সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষতিকর কনটেন্ট: অভিভাবকদের করণীয়
0:00 0:00
1.0x