শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

রাজনীতি

গণভোট অবৈধ হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে: মামুনুল হক

গণভোট অবৈধ হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে: মামুনুল হক

গণভোটকে অবৈধ বলা হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসদরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মামুনুল হক এসব কথা বলেন। মামুনুল হক বলেন, ‘ক্ষমতার মসনদে বসে ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটকে অবৈধ বলেন, এ দুঃসাহস আপনাকে কে দিয়েছে? জনগণের ভোটাধিকারকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করলে জনগণকেই অসম্মান করা হয়। ভালোয় ভালোয় সংস্কার করেন। গণভোট যদি অবৈধ হয়ে থাকে, আপনার সরকারও অবৈধ সরকার।’ লংমার্চকে সরকারকে সতর্ক করার কর্মসূচি উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা যে যাত্রা শুরু করেছি, এটা হলো সরকারকে সতর্ক করার যাত্রা। এই লংমার্চ সরকারকে সজাগ করার লংমার্চ। সরকার যদি সতর্ক না হয়, এবার হলুদ কার্ড দেখানো হবে। এরপর আপনারা প্রত্যেকে আস্তে আস্তে লাল কার্ড প্রস্তুত করবেন। প্রস্তুত থাকবেন তো, ইনশাআল্লাহ।’ মামুনুল হক আরও বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের ক্ষমতার মসনদে কোনো ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে পারবে না। যে বেশি ফ্যাসিবাদী হতে চাইবে, হাসিনা হতে চাইবে, তাকেই হাসিনার পরিণাম বরণ করতে হবে।’ পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী, আপনাদের কি ২০২৪ সালের কথা মনে পড়ে? স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছেন, মনে পড়ে? আপনাদের সঙ্গে লড়াই করা শহীদ সঙ্গীদের দাবি পূরণ হয়েছে? হয়নি। আর সেই দাবি পূরণ করার জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি পূরণ করেই আমরা ঘরে ফিরব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় নামার কারণ হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, ’২৪-এর চার্টার বাস্তবায়ন, আপনাদের জুলাই ফিরিয়ে দেওয়া এবং মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা।’ গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে। প্রতারণা করছে এবং কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। ১১ দল আপনাদের পাশে আছে, আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। দেখবেন, ইনশা আল্লাহ আমাদের ঐক্যবদ্ধ এই প্রয়াস, এই চেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন এবং আমরা সফল হয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ আজ শুরু হলেও এটি শেষ নয়। আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় এনপিপি নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমীন, এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে: ডা. শফিকুর রহমান

‘প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ’, দুদককে আসিফ মাহমুদ

অন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যুব ও ক্রিয়া মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য ও পদায়নের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক। এর প্রেক্ষিতে ‘প্রমাণ’ জনগণের সামনে প্রকাশ করার জন্য বলেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।  বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে পোস্ট করেছেনতিনি। এ বিষয়ে রাতে বিস্তারিত কথা বলার বিষয়েও জানিয়েছেন আসফি মাহমুদ। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘১৮৮ জন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার টাকা করে ২ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকার দুর্নীতি করেছেন একজন উপদেষ্টা, একজন সচিব, একজন যুগ্মসচিব এবং একজন উপসচিবসহ আরও অনেকে মিলে। দুদক বলছে, প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ। এ বিষয়ে রাতে বিস্তারিত কথা বলবো।’ এর আগে, বুধবার দুপুরে দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম জানান, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ পদোন্নতি সংক্রান্ত অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এই অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ, পদোন্নতি এবং পছন্দের ব্যক্তিদের পছন্দের জায়গায় পদায়নের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপসচিব মো. মাসুম আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য ৪ সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান দলের প্রধান করা হয়েছে উপ-পরিচালক জাহিদ কালামকে।

‘প্রমাণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করুন প্লিজ’, দুদককে আসিফ মাহমুদ

সপ্তাহখানেকের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী

সপ্তাহখানেকের মধ্যেই দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘দেশে চলমান বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি একটি বৈশ্বিক সংকট। তবে সরকার হাত গুটিয়ে বসে নেই।’ গ্যাসের সরবরাহ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশাবাদী। সরকার ও দল হিসেবে বিএনপি একে অপরের সহযোগী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রিজভী বলেন, চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দ্রুত সব ধরনের সংকটের সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সপ্তাহখানেকের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: রিজভী

চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে শুটিংয়ের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী বর্ষার আগেই এই সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একইসঙ্গে তিনি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বর্ষা এলেই হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে শুটিং করার যে নাটক দেখা যায়, ২০২৭ সালে তা আর দেখতে চাই না।’ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সারজিস আলম। এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক বলেন, ‘বর্ষা শেষ হয়ে শরৎ, হেমন্ত ও শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, এমপি, ক্ষমতাসীন দল ও মেয়ররা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা ভুলে যাবেন। পরবর্তী বর্ষায় আবার চট্টগ্রাম ডুবে গেলে তারা জামাকাপড় পরে হাঁটু বা কোমর পানিতে নামবেন, কেউ নৌকা বা মাচা নিয়ে আসবেন- এমন লোক দেখানো কর্মকাণ্ড আর দেখতে চাই না।’ তিনি বলেন, ‘এই নাটক ২০২৭ সালে আমরা আর ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দেখতে চাই না। এই নাটক আমরা এই চট্টগ্রামের মেয়র, প্রশাসক কিংবা এমপিদের থেকে আর দেখতে চাই না।’ সারজিস আলম বলেন, ‘সরকারের হাতে প্রায় এক বছর সময় রয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী, লাইফলাইন ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামকে শুধু লোক দেখানোর স্বার্থে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলে চট্টগ্রামবাসীর এমন ‘সেবক’-এর প্রয়োজন নেই।’ নগরবাসীর জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম। চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, ‘পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকার অবস্থা তিনি ঘুরে দেখেছেন। এসব সড়কের অবস্থা এমন যে, অসুস্থ মানুষের হাসপাতালে যাওয়ার চেয়ে ঘরে বসে থাকাই ভালো বলে তাদের মনে হয়েছে।’ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক রাজধানীর একজন মানুষকে চিকিৎসার জন্য কেন ঢাকায় যেতে হবে? চট্টগ্রামকে যদি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নগরী বলা হয়, তাহলে এখানকার মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনাসহ নগরবাসীর মৌলিক প্রয়োজনগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।’ আগামী বর্ষার আগেই এসব সমস্যা সমাধানে আগামী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক আলাদা একটি মেগা পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সারজিস আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে লোক দেখানো কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’  নগরের পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আগামী বর্ষার আগেই দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান সারজিস আলম। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জাতীয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানান।

চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে শুটিংয়ের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস

আসিফ মাহমুদের সঙ্গে ওমরাহ পালনে আরও আছেন যারা

পবিত্র ওমরাহ পালন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে পবিত্র নগরী মক্কায় পৌঁছে তিনি ওমরাহ পালন করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ডায়াস্পোরা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য আয়মান রাহাড, কেন্দ্রীয় সদস্য ও মিডিয়া উপকমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক এ আদেলসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে দলের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। ওমরাহ পালনের সময় দেশবাসীর কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন এনসিপির নেতারা। ওমরাহ শেষে তাঁরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আসিফ মাহমুদ। বর্তমানে তিনি মক্কায় অবস্থান করছেন। এরপর তাঁর মদিনা মুনাওয়ারায় যাওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরের একটি ফ্লাইটে স্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন আসিফ মাহমুদ।

আসিফ মাহমুদের সঙ্গে ওমরাহ পালনে আরও আছেন যারা

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর তিনি শ্রদ্ধা জানান বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। আরও পড়ুনআরও পড়ুনসন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল তিনি বলেন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার আগেই জুমার নামাজের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, সুরা ফতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেছেন।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নতুন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে দলীয় এমপিদের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ও সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সংসদ সদস্যদের কাছে আবেগঘন বক্তব্য রেখে বৃহস্পতিবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলীয় সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সভায় উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের শুরুতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। কয়েক মিনিটের মধ্যে কয়েকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এ সময় সভায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বক্তব্যে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করেন ফখরুল। দলের প্রতি তাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন তার ওপর আস্থা রেখে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুল বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি তাকে অনেক সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে। সারা জীবন সেই সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করবেন তিনি। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেন। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, সেখানে গেলে সহকর্মীদের মিস করবেন। এ সময় তিনি দলের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে সভায় চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম মনি সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানের পদ্ধতি সম্পর্কে তাদের অবহিত করেন। তিনিও মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। চিফ হুইপ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল নিজেও ভোট দেবেন। তিনি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে। পরে সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনিও বিএনপির সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান ও এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ দলের অন্যান্য সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সে ক্ষেত্রে বুধবারের সংসদীয় দলের সভাটিই একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তার শেষ সভা হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে দলীয় এমপিদের প্রতি মির্জা ফখরুলের আহ্বান

খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)। দিনটি উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ সারা দেশে বিশেষ দোয়া মাহফিল। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়ে একযোগে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বেলা ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে পৃথক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে খালেদা জিয়ার জন্ম। তাঁদের আদিবাড়ি ফেনীতে। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।প্রদত্ত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, ৮০ বছর বয়সে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা জিয়ার দুই ছেলের মধ্যে বড় তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো প্রয়াত।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, রাষ্ট্রপতি পদে আগাম নাম প্রকাশ করবে না বিএনপি

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। ইতোমধ্যে মনোনীত প্রার্থীর সম্মতিপত্রে মির্জা ফখরুল স্বাক্ষর করেছেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।তবে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। এরপরই বিএনপির প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হবে।দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষমতা দলের চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেছে। এ কারণে আগেভাগে প্রার্থীর নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।এদিকে বিএনপির পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে দুটি পৃথক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই প্রার্থীর সমর্থনে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকায় কৌশলগত কারণেই একাধিক ফর্ম সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনপুষ্ট ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের বিশেষ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পদ বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান হুইপ।

অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে কাল, রাষ্ট্রপতি পদে আগাম নাম প্রকাশ করবে না বিএনপি

আমার সহধর্মিণী আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল

নিজের স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক জীবনের নানা কঠিন সময়ে স্ত্রীর সাহস, ত্যাগ ও সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেছেন তিনি।সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে পারিবারিক জীবন ও রাজনীতিতে স্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল।স্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমি আল্লাহর কাছে সবসময় শুকরিয়া আদায় করি। আমি খুব ভাগ্যবান যে তার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। তিনি আমার জীবনসঙ্গী হয়েছেন।’মির্জা ফখরুল জানান, বিয়ের পর থেকেই তার কর্মজীবনে বিভিন্ন জায়গায় বদলি ও পদায়ন হয়েছে। পরে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ফলে তার জীবন অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলেছে। এই সময়ে স্ত্রী তাকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন।তিনি জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন একটি বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। চাকরির পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে তাকে। মেয়েদের হলিক্রস স্কুলে পড়ানোর সময় পরিবারের সদস্যদের গণপরিবহনে যাতায়াতসহ নানা ধরনের কষ্ট করতে হয়েছে।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি নিজে চাকরি করেছেন, দীর্ঘদিন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তার চেষ্টাতেই আমার মেয়েরা লেখাপড়া শিখেছে। হলিক্রসে পড়াশোনা করেছে এবং অনেক কষ্ট করেছেন। আমার মেয়েরা ও আমার স্ত্রী টেম্পোতে যাতায়াত করত। এই কষ্টটা তিনি অনেক করেছেন।’রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংকটময় সময়েও স্ত্রীর দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, রাজনৈতিক কারণে পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও স্ত্রী সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রত্যেকটা বিপদের সময় উনি সাহস করে দাঁড়াতেন। আমাকে যখন পুলিশ নিয়ে যাচ্ছে, তখন উনি খুব সাহস করে আমার ব্যাগ গুছিয়ে দিয়েছেন। ২০২৩ বা ২০১৪ সালের দিকে এক রাতে পুলিশ রেইড করল। উনি বললেন, আমি দরজা খুলব না। ভোর হওয়ার আগে পর্যন্ত আমি দরজা খুলব না। ইতোমধ্যে মিডিয়াতে খবর দেওয়ায় মিডিয়ার লোকজন চলে এসেছে। পরে ভোরবেলা উনি দরজা খুলেছেন, আমাকে পুলিশ নিয়ে গেছে।’স্ত্রীর এমন সাহসিকতার প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি করার কারণে স্ত্রী কখনো তার ওপর বিরক্ত হননি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ে স্ত্রীর সহযোগিতা ও ত্যাগের মূল্য অনেক বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

আমার সহধর্মিণী আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি: মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠক শেষে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।বৈঠক শেষে জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এককভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। পরে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর অলি আহমদকে জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা

সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ’ বলা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়ে রুমিন বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ করেন না।সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ঘেঁষা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে টকশোতে খালেদ মুহিউদ্দীন রুমিন ফারহানার কাছে জানতে চান, তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন কি না।জবাবে রুমিন বলেন, ‘না, আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না।’আলোচনায় খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, গত এক বছরে রুমিন ফারহানার বক্তব্য পছন্দ করা অনেকের মধ্যেই এমন অভিযোগ তৈরি হয়েছে যে, তিনি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখছেন এবং আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ ধরে রাখার কাজ করছেন।এর জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, যদি এসব অভিযোগ সত্য ধরেও নেওয়া হয়, তাহলে তিনি নিজেকে ‘লাইফ সেভিং মেশিন’-এর সঙ্গে তুলনা করবেন। তার ভাষায়, বিএনপি যখন ‘আইসিইউতে’ থাকে, তখন তিনি বিএনপিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন; আবার আওয়ামী লীগ যখন ‘আইসিইউতে’ থাকে, তখন আওয়ামী লীগকেও বাঁচানোর চেষ্টা করেন।রুমিন বলেন, ‘যখন আপনার প্রতিপক্ষের হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যাবে, তখন তাকে আঘাত করা সবচেয়ে বড় কাপুরুষের কাজ। আমি আপনাকে তখনই বীর বলব, যখন আপনার প্রতিপক্ষ সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থায় থাকা অবস্থায় তাকে আঘাত করবেন।’আওয়ামী লীগ ক্ষমতাবান থাকা অবস্থায় যারা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাদের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। রুমিনের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যায় হলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রতিবাদ করা উচিত।আলোচনায় আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ যদি দীর্ঘদিন অন্যায় করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অন্যায় পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিবাদ করা কেন হবে না।জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ঘৃণার পালটা ঘৃণা যখন আপনি শুরু করবেন, তখন ঘৃণার চাষের বাইরে আপনি কিছু দেখবেন না।’তিনি বলেন, কেউ যদি আওয়ামী লীগের চেয়ে ভালো হওয়ার দাবি করে, তাহলে আওয়ামী লীগের করা একই ধরনের কাজ পুনরায় করা উচিত নয়। অন্যায়, মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির বিরোধিতা করতে হলে তা সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে করতে হবে।রুমিন ফারহানা বলেন, ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নিলে সেটি ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নয়। তার ভাষায়, ‘যখন আমি ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদ বেছে নিই, তার মানে আমি আসলে ন্যায়কে সমর্থন করি না।’টকশোর আলোচনায় তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি অন্যায় হলে তার প্রতিবাদ করা তার কাছে নীতিগত অবস্থানের বিষয়। একই নীতি সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা

কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘কিসের হাসিনা! তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়।’ তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ তাদের এ ধরনের রাজনীতি গ্রহণ করবে না।শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। তারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। কোনো ধরনের অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা সফল হবে না।এর আগে সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে তিনি কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারে। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।তিনি বলেন, ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রকে শুধু যোগাযোগ ও পর্যটনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, বন্দর, জ্বালানি ও পর্যটনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে যুক্ত করতে হবে।কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে এ জেলা আরও বড় অবদান রাখতে পারে। কক্সবাজারকে দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।একই সঙ্গে পর্যটন উন্নয়নে পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করেই পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। শুধু উঁচু ভবন নির্মাণ করলেই পর্যটনের উন্নয়ন হবে না।কক্সবাজারের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন এলাকাকে ইসিএ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটনের বিকাশে এসব এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে জরিপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে কোথায় এবং কীভাবে পর্যটনের বিকাশ ঘটানো যায়, তা বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।কক্সবাজারে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ বাড়াতে মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ বাড়বে এবং দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্নাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে কক্সবাজারে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে।

কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পেটাও না কেন ওদের, সাদ্দামকে কাদের

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দ্বিতীয় দিনে ওই কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। পরে আদালতে সেটি বাজিয়ে শোনানো হয়।রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত রেকর্ডে শোনা যায়, ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ওবায়দুল কাদেরকে জানান, তাদের সমাবেশ শেষ হলেও আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলছিল এবং প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলনের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পেটাও না কেন? মারো না কেন ওদের? চড়াও হতে দাও কেন? সুযোগ দাও কেন?’সাদ্দাম হোসেন জানান, ওই দিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে জামায়াতের কর্মীরাও ছিলেন। জবাবে কাদের বলেন, বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।ফোনালাপে আরও শোনা যায়, সাদ্দাম দাবি করেন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের শাহবাগমুখী না হতে এবং আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, এমন নির্দেশ কে দিয়েছেন।শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালের ১১ জুলাইয়ের এই ফোনালাপের রেকর্ড অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে।তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধীনস্থ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ‘পেটাও না কেন, মারো না কেন’—এ ধরনের নির্দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পেটাও না কেন ওদের, সাদ্দামকে কাদের

জনগণের অধিকার আদায়ে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ: জামায়াত আমির

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে’ বিল, গ্যাস সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গণে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হলে তা দ্বিগুণ শক্তিতে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানান।তিনি আরও জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে আরও তিনটি লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর, ১০ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক ভিত্তি থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় নাহিদ ইসলাম ছাত্রদলের সমালোচনা করে অভিযোগ করেন, সংগঠনটি আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হল দখলের চেষ্টা করছে।

জনগণের অধিকার আদায়ে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ: জামায়াত আমির