বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

চট্টগ্রামে দুই শিশুর পেটে মিলল সাড়ে ৭ হাজার ইয়াবা

মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুর পেটে করে চট্টগ্রামে পাচার করা হচ্ছিল সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে এক নারীসহ দুই শিশুকে আটক করে র‍্যাব-৭। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শিশু দুটির পেট থেকে এসব ইয়াবা বের করে আনা হয়। আটক দুই শিশুর নাম শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকর (৯)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। র‍্যাবের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে অপরাধী চক্র শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিয়েছে। র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক মো. লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার গণনা চলছে। গণনা শেষে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু সুস্থ আছে। তবে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। র‍্যাবের অধিনায়ক আরও বলেন, আটক নারীর সঙ্গে দুই শিশুর কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই নারীই শিশু দুটিকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, শিশু দুটির সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি তাঁদের জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাঁদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তাঁরা দুবার পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে র‍্যাবকে জানিয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে দুই শিশুসহ ওই নারীকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শিশু দুটিকে পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিশু দুটির পেট থেকে প্রায় ৬ হাজার ইয়াবা বের করে আনা হয়। এরপর রাতের দিকে তাঁদের পেট থেকে ক্যাপসুলে থাকা সাড়ে ৭ হাজারের বেশি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব সূত্রে জানা যায়। এক্স-রে করে শিশু দুটির পেটের ভেতরে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী এক্স-রেতে তাঁদের পেট পরিষ্কার পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, সাধারণত ইয়াবা প্লাস্টিকে পেঁচিয়ে ছোট ছোট ক্যাপসুলের মতো বানিয়ে গিলে পেটে নেওয়া হয়। এভাবে মাদক বহন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ক্যাপসুল দুর্ঘটনাবশত অন্ত্রে আটকে গেলে বা ফুটো হয়ে গেলে বহনকারীর গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। তিনি বলেন, ক্যাপসুলের ভেতরের মাদকদ্রব্য শরীরে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিষক্রিয়া হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনায় আজ সোমবার বিস্তারিত ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

'ভেঙে পড়ো না, নিরাশ হয়ো না, সাহায্য আসবেই, এটা আল্লাহর ওয়াদা'

আজ পবিত্র শুক্রবার, জুমার দিন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় মুসলমানদের কাছে এ দিনটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময় রয়েছে বলেও হাদিসে উল্লেখ পাওয়া যায়।বিপদ, দুশ্চিন্তা ও হতাশার সময়ে মুমিনদের জন্য সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। হাদিসে এ দুই আয়াতের ফজিলত ও গুরুত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাবান সুরা ও আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি সুরা ইখলাস ও আয়াতুল কুরসির কথা উল্লেখ করেন। পরে উম্মতের জন্য উপকারী ও পছন্দনীয় আয়াত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াতের কথা বলেন।সুরা বাকারার ২১৪ নম্বর আয়াতেও মুমিনদের জন্য রয়েছে আশা ও ধৈর্যের বার্তা। কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষ যেন ভেঙে না পড়ে এবং আল্লাহর সাহায্যের ব্যাপারে নিরাশ না হয়—আয়াতটির বক্তব্যে সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়েছে।আয়াতটির অর্থের একটি অংশ হলো—‘জেনে রেখো, আল্লাহর সাহায্য অতি নিকট।’ বিপদ ও হতাশার সময়ে এই আয়াত অর্থসহ পড়া এবং মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য ও ক্ষমা প্রার্থনা করা একজন মুমিনের মনে আশা ও সাহস জাগাতে পারে। জীবনে যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, আল্লাহর ওপর 

'ভেঙে পড়ো না, নিরাশ হয়ো না, সাহায্য আসবেই, এটা আল্লাহর ওয়াদা'

লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা

বরিশালের উজিরপুর পৌরসভায় স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান। লাল ফিতা কাটা, ঢোল-বাদ্য এবং মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে সাঁকো উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে নিজেদের অর্থায়নে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছে। সাঁকো তৈরিতে বাঁশের পাশাপাশি সুপারিগাছও ব্যবহার করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার বিকেলে সাঁকো উদ্বোধনের সময় স্থানীয়রা ফুল ও বেলুন দিয়ে আশপাশের এলাকা সাজান। আয়োজন করা হয় ঢোল-বাদ্যের। পাশাপাশি বয়াতিদের গান পরিবেশনের ব্যবস্থাও ছিল। পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী-পুরুষদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।সাঁকো উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘটনাটিকে ‘উন্নয়নের নামে লোকদেখানো প্রদর্শনী’ হিসেবে মন্তব্য করে প্রশ্ন তুলেছেন—যোগাযোগের মতো মৌলিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করে একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তি কতটা কমবে।অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের অর্থায়নে অর্থ সংগ্রহ করে সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন অনেকে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের চলাচলের সমস্যা সাময়িকভাবে হলেও কমাতে এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগটি ইতিবাচক।বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘সাঁকোটি উদ্বোধনের জন্য আগাম কোনো প্রস্তুতি আমার জানা ছিল না। এলাকার নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থীরা চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এ কারণে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সুপারিগাছ ও বাঁশ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেন।’তিনি আরও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে আমাকে সেখানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত দেড় থেকে দুই শত মানুষ লাল ফিতা ধরে আমাকে কাটার অনুরোধ করলে আমি তা করি। এর মধ্যেই গান-বাজনা ও মিষ্টি বিতরণের আয়োজন করা হয়। পুরো বিষয়টিই এলাকাবাসীর উৎসাহে হয়েছে।’তবে স্থানীয়দের দীর্ঘমেয়াদি চলাচলের সমস্যা সমাধানে একটি স্থায়ী সেতু বা উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লাল ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা

প্রাক্তনের স্মৃতিতে গভীর রাতে ঘুম উধাও? জেনে নিন মুক্তির উপায়

প্রাক্তনের কথা মনে পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। একটি সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অভ্যাস, স্মৃতি ও আবেগ অনেক দিন পর্যন্ত মনের মধ্যে থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে গভীর রাতে চারপাশ যখন নীরব হয়ে আসে, তখন পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি আরও বেশি করে মনে পড়তে পারে।পুরোনো কথোপকথন, একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত কিংবা প্রাক্তনের মুখ হঠাৎ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করেও ঘুম আসে না। অনেকের কাছেই এই অভিজ্ঞতা পরিচিত।মনোবিশ্লেষকদের মতে, অতীতের আবেগ নিয়ে দীর্ঘ সময় ভাবতে থাকলে মানসিক অস্থিরতার পাশাপাশি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দও ব্যাহত হতে পারে।কেন বারবার মনে পড়ে প্রাক্তনকে?১. পুরোনো অভ্যাস সহজে বদলায় নামানুষ পরিচিত অভ্যাস ও রুটিনের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নেয়। সম্পর্কের সময় যে মানুষটি প্রতিদিনের জীবনের অংশ ছিলেন, হঠাৎ তার অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে অজান্তেই পুরোনো স্মৃতিগুলো বারবার ফিরে আসে।২. ভালো লাগার স্মৃতির টানভালোবাসার সম্পর্কের সময় মস্তিষ্কে আনন্দ ও স্বস্তির সঙ্গে যুক্ত নানা রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। বিচ্ছেদের পর সেই পরিচিত অনুভূতির অভাব তৈরি হলে মন অনেক সময় পুরোনো সুখের মুহূর্তগুলোর দিকে ফিরে যেতে চায়।৩. সম্পর্কের সমাপ্তি পরিষ্কার না হলেসব সম্পর্কের শেষটা সবসময় পরিষ্কার ব্যাখ্যা বা ‘ক্লোজার’-এর মাধ্যমে হয় না। অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে যায়। ‘কেন এমন হলো?’, ‘কোথায় ভুল ছিল?’—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর না পেলে পুরোনো সম্পর্ক নিয়ে ভাবনা আরও দীর্ঘ হতে পারে।প্রাক্তনের কথা মনে পড়লে ঘুম আসে না কেন?বিচ্ছেদজনিত দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও মানসিক চাপ ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। স্ট্রেসের কারণে শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বাড়তে পারে, ফলে শরীর বিশ্রাম নিতে চাইলেও মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে।অনেকে ঘুমানোর আগে পুরোনো ছবি দেখেন, পুরোনো চ্যাট পড়েন কিংবা প্রাক্তনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘাঁটেন। এসব অভ্যাস আবেগকে আরও উসকে দিতে পারে এবং ঘুম আসতে দেরি হয়।দীর্ঘদিন এমন চললে কী হতে পারে?সকালে ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভূত হতে পারে।কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।মেজাজ খিটখিটে ও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা ও মানসিক চাপ থাকলে উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।দৈনন্দিন কাজের আগ্রহ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।প্রাক্তনের স্মৃতি থেকে বেরিয়ে আসবেন কীভাবে?নিজেকে সময় দিনএকটি সম্পর্ক থেকে মানসিকভাবে বেরিয়ে আসতে সবার সমান সময় লাগে না। নিজেকে জোর করে সবকিছু ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে সময় দিন। নিজের অনুভূতিগুলোকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করুন।পুরোনো স্মৃতি থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করুনবারবার পুরোনো ছবি, চ্যাট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখলে আবেগ আরও তীব্র হতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে কিছু সময়ের জন্য এসব থেকে দূরে থাকা উপকারী হতে পারে।নিজের পছন্দের কাজে মন দিনগান শোনা, বই পড়া, খেলাধুলা, ছবি আঁকা, সিনেমা দেখা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। নতুন অভিজ্ঞতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড মনকে ধীরে ধীরে বর্তমানের দিকে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।নিজেকে দোষী ভাববেন নাসম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার জন্য নিজেকেই সবসময় দায়ী করার প্রয়োজন নেই। সম্পর্কের শেষ মানেই ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়। বরং সেটিকে জীবনের একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিনযদি দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মন খারাপের কারণে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।প্রাক্তনের স্মৃতি পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়তো সম্ভব নয়। তবে সেই স্মৃতিকে জীবনের একটি অধ্যায় হিসেবে মেনে নিয়ে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। অতীতকে সঙ্গে না টেনে বর্তমানকে গুরুত্ব দেওয়াই শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে আনতে পারে স্বস্তির ঘুম ও স্বাভাবিক জীবন।

প্রাক্তনের স্মৃতিতে গভীর রাতে ঘুম উধাও? জেনে নিন মুক্তির উপায়

পল্লবীতে আবার গুলিতে আহত দুজন, মাদক কারবারের জের ধারণা পুলিশের

রাজধানীর পল্লবীতে চলন্ত গাড়ি থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আলমগীর হোসেন (৪৫) ও জ্যোৎস্না নামের এক পথচারী নারী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আলমগীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে আলমগীরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ল্যাংড়া রুবেল ও মুসলিম নামের দুজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, তারা এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। তবে ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পল্লবী থানার সেকশন-১১, ব্লক-বি, লাইন-২-এর ২৬ নম্বর বাসার সামনে ইমনের চায়ের দোকানের কাছে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি চলন্ত প্রাইভেটকার থেকে আলমগীরকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে তাঁর মাথা, পেট ও নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া জ্যোৎস্না নামের এক নারীও গুলিবিদ্ধ হন।পরে আলমগীরকে প্রথমে পল্লবীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।আলমগীরের চাচা মো. আশিক জানান, আলমগীরের বাসা মিরপুর সেকশন-১১-এর ৩ নম্বর রোডে। তিনি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য এবং পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।আশিকের দাবি, বিকেলে মিল্লাত ক্যাম্পের সামনে একটি প্রাইভেটকারে চারজন ব্যক্তি এসে আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত চলে যান। এতে আলমগীরের মাথার ডান পাশ, পেটের ডান পাশ ও নিতম্বে গুলি লাগে।ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আলমগীর নামের একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন। তাঁর মাথাসহ শরীরের কয়েকটি স্থানে গুলি লেগেছে। জরুরি বিভাগে তাঁর চিকিৎসা চলছে।পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশীর বলেন, ‘একটি গাড়ি থেকে দুর্বৃত্তরা তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রাথমিকভাবে মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।’ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক সরকার বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।এদিকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পল্লবী ও আশপাশের এলাকায় আবারও গুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে গত মাসে মিরপুরের কাফরুলে ভাড়াটে শ্যুটারদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন।ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিবি ও মিরপুর মডেল থানা-পুলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে।ডিবির তদন্ত অনুযায়ী, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য একই থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ ভাড়াটে শ্যুটার নিয়োগ করেছিলেন। তবে ওই হামলায় বাবু বেঁচে গেলেও গুলিতে ইউসুফ নিহত হন। আহত হন সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন।ডিবির ভাষ্য, হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঢাকার বাইরে থেকে শ্যুটার এনে ২৫ লাখ টাকায় ভাড়া করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে চারজন সরাসরি গুলি চালান এবং বাকিরা সহযোগী হিসেবে কাজ করেন।

পল্লবীতে আবার গুলিতে আহত দুজন, মাদক কারবারের জের ধারণা পুলিশের

ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে

রাজধানীতে আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিভিন্ন সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। দিনের শুরুতেই জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আয়োজনের সময়সূচি।সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাবিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।ঢাকা-১৮ আসনে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনদুপুর ১২টায় রাজধানীর উত্তরার নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঢাকা-১৮ আসনে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়েছে।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব হাজী মোস্তফা জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

ঢাকায় আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ৩

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে।পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (৫ আগস্ট) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পথে স্থানীয় একটি নির্জন বাগানে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার কথা বলে ওই ছাত্রীকে নিয়ে যায় কয়েকজন। সেখানে তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের শিকার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীকে বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।গ্রেফতাররা হলেন উপজেলার রাহাত (১৭), সিয়াম (১৭) এবং ইমন। এ ঘটনায় আরও দুজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীর ভাই জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার বোনকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্যক্ত করত। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়।স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। এরপর থানায় মামলা করা হয়। বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন কুমার সাহা বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ৩

দাওয়াত দিতে এসে কিলঘুষিতে মধ্যবয়সীর মৃত্যু, মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়িসহ আটক ৩

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ছেলের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত দিতে এসে দাওয়াতে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের বাবা মো. আবুল বাশার (৫০) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।নিহতের পরিবারের দাবি, মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের জামাই মারধর করলে গুরুতর আহত হন আবুল বাশার। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত আবুল বাশার ওই গ্রামের মৃত চেরাগ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা জানান, ঘটনার আগে আবুল বাশার স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। পরে জানতে পারেন, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের বাড়িতে এসেছেন। এরপর তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে যান।স্বজনদের ভাষ্য, অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ময়না আক্তারের গর্ভধারণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আগামী শুক্রবার আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে মেয়ের শ্বশুর আব্দুল মতিন, শাশুড়ি রোজিনা বেগম এবং ননদের জামাই মো. হৃদয় তাদের বাড়িতে আসেন। তবে একই দিনে ভাতিজার বিয়ে থাকায় আবুল বাশার ওই অনুষ্ঠানে যেতে অপারগতার কথা জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে অতিথিরা চলে যেতে চাইলে আবুল বাশার তাদের খেয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তখন আব্দুল মতিন তার গলা চেপে ধরে বুকে ঘুষি মারেন। এ সময় রোজিনা বেগম ও হৃদয়ও তাকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের হেফাজতে নেয়।আটক ব্যক্তিরা হলেন—দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের আব্দুল মতিন, তার স্ত্রী রোজিনা বেগম এবং তাদের মেয়ের জামাই মো. হৃদয়।নিহতের স্ত্রী ঝর্না বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে তাদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে আব্দুল মতিনের ছেলে মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে দাওয়াতের পাশাপাশি খাসির মাংস ও বিভিন্ন ধরনের নাশতা নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অন্য পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার কারণে তার স্বামী রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন।ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের জামাইকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দাওয়াত দিতে এসে কিলঘুষিতে মধ্যবয়সীর মৃত্যু, মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়িসহ আটক ৩

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্যাংকে জমা থাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেছে প্রশাসন।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।নিহত ব্যক্তি উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা তৈয়ব আলী সরকার। গত ২৩ জুন তাঁর বড় মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিরা হলেন রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, তার স্বামী হামিদুল ইসলাম এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তৈয়ব আলীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁর ছোট মেয়ে রহিমা বেগম চেক বই চুরি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি তৈয়ব আলী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান এবং তাঁর হিসাব থেকে যেন কোনো অর্থ উত্তোলন করা না হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ করেন।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১৪ মার্চ চিকিৎসার কথা বলে রহিমা বেগম বাবাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বড় মেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিতে চাইলে তাতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে দুই দফায় ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত ১৯ মে রাতে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় বালিশ চাপা দিয়ে তৈয়ব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে দ্রুত তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, মরদেহ উত্তোলনের পর প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন

লটারিতে মিলল নতুন ঠিকানা, ঝুপড়িঘর থেকে ফ্ল্যাটে উঠছে ৭৩০ পরিবার

বহু বছর ধরে পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটানোর পর এবার নতুন ঠিকানায় যাওয়ার অপেক্ষায় শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভীন আক্তার। রিকশাচালক স্বামী মনিরুল আলম ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি উঠতে যাচ্ছেন কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের একটি আধুনিক বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাটে।রোববার (২ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ লটারির মাধ্যমে প্রকল্পটির ৭৩০টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মধ্যে এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত পারভীন আক্তার বলেন, "মনে হচ্ছে আমি এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।"একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জেলে রেজাউল করিম। তিনি বলেন, "কোনোদিন ভাবিনি বহুতল ভবনে থাকার সুযোগ পাব। তালিকায় নিজের নাম দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি।"জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ হাজার ১২৮টি পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন। এর মধ্যে ১২২টি ভবনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগে ৬০০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। সর্বশেষ লটারির মাধ্যমে আরও ৭৩০টি পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে।প্রকল্পে শুধু আবাসন নয়, বাসিন্দাদের জন্য মসজিদ, মন্দির, সাইক্লোন শেল্টার ও মার্কেটসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নাগরিক সুবিধাও রাখা হয়েছে।প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজুল ইসলাম বলেন, গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে তারা কাজ করছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষকে আন্তর্জাতিকমানের, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, লটারির মাধ্যমে ৭৩০টি পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পরিবার এখন নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। তাদের পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, প্রকল্প এলাকায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লটারি অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

লটারিতে মিলল নতুন ঠিকানা, ঝুপড়িঘর থেকে ফ্ল্যাটে উঠছে ৭৩০ পরিবার

এবার নিজ এলাকাতেই করা যাবে এনআইডি সংশোধন

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে নির্ধারিত শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়েই বয়স সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা যাবে। গত ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ১২তম সভা শেষে এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, এনআইডি-সংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও নাগরিকবান্ধব করতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভোটার এলাকা পরিবর্তন (মাইগ্রেশন) সম্পূর্ণ অনলাইনে করার প্রস্তাব রয়েছে। এ সেবা গ্রহণে নির্ধারিত ফি দিতে হবে, যা নতুন বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সিনিয়র সচিব বলেন, আইন অনুযায়ী প্রতি ১৫ বছর পর জাতীয় পরিচয়পত্র নবায়নের বিধান রয়েছে। এ জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে পারিবারিক তথ্য (ফ্যামিলি ট্রি) জমা দিতে হবে, যাতে তথ্য যাচাই আরও সহজ হয়। এনআইডি নবায়নের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ফি রাখা হবে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন কেন্দ্রীয়ভাবে নিষ্পত্তি করা হলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি বা সমমানের পাবলিক পরীক্ষার সনদে উল্লেখিত জন্মতারিখের ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারাই এসব আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এতে আবেদনকারীরা দ্রুত সেবা পাবেন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ওপর চাপও কমবে। এদিকে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি অনলাইনে আপলোড করা হবে। তদন্তে তথ্য সঠিক পাওয়া গেলে কেন্দ্র থেকেই অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার একটি ধাপ কমে যাবে এবং সেবা আরও দ্রুত ও সহজ হবে।

এবার নিজ এলাকাতেই করা যাবে এনআইডি সংশোধন

ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তরা রাজাবাড়ি এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৭

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উত্তরা অঞ্চল-৮-এর ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি এসটিএস এলাকায় ময়লা অপসারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাতজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হয়েছেন।রোববার (২ আগস্ট) এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ডিএনসিসির আওতাধীন উত্তরা অঞ্চল-৮-এর ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি এসটিএস এলাকায় ময়লা অপসারণকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।তিনি জানান, সংঘর্ষে আহত সাতজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে কুয়েত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশের উপকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় প্রশাসক ও সংসদ সদস্যের ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে।ঘটনার কারণ ও হামলার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তরা রাজাবাড়ি এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৭

গ্যাস বিস্ফোরণে নবদম্পতি ও ছোট্ট হাফসার মর্মান্তিক বিদায়

মাত্র দেড় মাস আগের কথা। নতুন সংসার ঘিরে বুকভরা হাজারও স্বপ্ন আর একরাশ আশা নিয়ে স্বামী ও আট বছরের ছোট্ট ভাগনিকে সঙ্গে করে রাজধানীতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফাহিমা আক্তার। ভেবেছিলেন ইট-পাথরের শহরে নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমে গড়ে তুলবেন ভালোবাসার সুন্দর একটি নীড়। কিন্তু বিধাতা হয়তো লিখেছিলেন অন্য এক করুণ ইতিহাস! একটি অবহেলা আর গ্যাস লাইনের লিকেজ মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সব স্বপ্ন পুড়িয়ে ছাই করে দিল। কয়েক দিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবনের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় না-ফেরার দেশে চলে গেলেন কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে ফাহিমা। একই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন এবং শুক্রবারে মারা যান প্রিয় ভাগনি হাফসা। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক বিদায়ে দেবিদ্বারে এখন বইছে শোকের মাতম, স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। মৃত ফাহিমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ নানা পণ্যের অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল নিজের ব্যবসাকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার। সেই লক্ষ্যেই স্বামী শাহিনের হাত ধরে উঠে এসেছিলেন রাজধানীর বাড্ডায় ভাড়া বাসায়। পরম মমতা আর মায়ের স্নেহে বড় করে তুলবেন—এই আশায় সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বড় বোনের আট বছরের শিশুকন্যা হাফসাকে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের ৯নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মীর্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির শাহিনের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের সঙ্গে ঢাকায় পড়তে এসেছিল ফাহিমার ভাগনি হাফসা। গত ২১ জুলাই রাত ৩টার দিকে হঠাৎ বাসাটায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে ঘটে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে দুটি কক্ষে। আগুনের জ্বলন্ত দাহে আশঙ্কাজনকভাবে দগ্ধ হন ফাহিমা, তার স্বামী শাহিন ও শিশু হাফসা। উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ফাহিমা কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শনিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান তার স্বামী ও সঙ্গে থাকা ভাগনি হাফসা। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শুক্রবার বাদ মাগরিব শিশু হাফসাকে দাফন করা হয় তার বাবার বাড়ি দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। আর শাহিনকে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রামে তার পারিবারিক কবরস্থানে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় দেবিদ্বার পৌর সদরের গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বাঙ্গুরী গ্রামে শাহিনের পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর পাশেই দাফন হয় ফাহিমার। মেয়েকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিতা গোলাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, বাসায় ওঠার পরপরই আমরা বাড়ির মালিককে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি জানিয়েছিলাম; কিন্তু তারা আমাদের এই কথাকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি! সময়মতো একটু ব্যবস্থা নিলে আজ আমার মা বেঁচে থাকত। অবহেলার কারণে আজ আমার মেয়েকে হারালাম, আমি এই অবহেলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, মেয়ের সঙ্গে আমার বড় মেয়ের ঘরের নাতনি হাফসাও ঢাকায় গিয়েছিল। ওদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ছিল আমাদের; কিন্তু সামান্য একটা অবহেলা আর অসাবধানতায় এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ৯নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবু হানিফ বলেন, শাহিন ও ফাহিমা দম্পতির মৃত্যুতে আমরা এলাকাবাসী শোকাহত। নিজেদের কর্ম দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এক বুক আশা নিয়ে তারা ঢাকায় সংসার পেতেছিলেন। এভাবে একটি নবদম্পতি ও নিষ্পাপ শিশুর করুণ পরিণতি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।

গ্যাস বিস্ফোরণে নবদম্পতি ও ছোট্ট হাফসার মর্মান্তিক বিদায়

শরীরের বিশেষ স্থানে লুকানো দেড় কোটি টাকার স্বর্ণের বার, যশোরে আটক চোরাচালানকারী

যশোরে শরীরের বিশেষ স্থানে লুকিয়ে রাখা সাড়ে চার পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সুমন মন্ডল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা। রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সুমন মন্ডল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামিয়া বাজার এলাকার প্রাণনাথ মন্ডলের ছেলে। যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খাঁন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি দল ভোরে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে সুমন মন্ডলকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তার শরীরের বিশেষ স্থানে লুকিয়ে রাখা ৪টি পূর্ণাঙ্গ এবং ১টি অর্ধেক স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ৬৮০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি বিজিবিকে জানিয়েছেন, তিনি স্বর্ণের বারগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে যশোর হয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন। ঘটনার পর বিজিবি উদ্ধার করা স্বর্ণ জব্দ করে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে।

শরীরের বিশেষ স্থানে লুকানো দেড় কোটি টাকার স্বর্ণের বার, যশোরে আটক চোরাচালানকারী

মরণফাঁদে পরিণত দুই সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ১০ গ্রামের ২৭ হাজার মানুষ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের পশ্চিম সনমান্দী খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩৫ বছর পুরোনো দুটি সেতু এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতু দুটির রেলিং ভেঙে গেছে, কংক্রিট খসে বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা লোহার রড এবং বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রামের ২৭ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু দুটি ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অলিপুরা-সনমান্দী সড়ক এবং মারবদী কবরস্থানের সামনে পশ্চিম সনমান্দী খালের ওপর সেতু দুটি নির্মাণ করে। এরপর দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেও বড় ধরনের কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি। বর্তমানে সনমান্দী, ছনকান্দা, বৈদ্যারকান্দি, মারবদী, কান্দাপাড়া, সাজালেরকান্দীসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম এই দুটি সেতু। প্রতিদিন অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল, ভ্যান, ছোট যানবাহন এবং অসংখ্য পথচারী সেতু দুটি ব্যবহার করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর একাধিক স্থানে রেলিং সম্পূর্ণ ভেঙে খালে পড়ে গেছে। কংক্রিটের স্তর খসে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে এবং সেতুর বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেতু কেঁপে ওঠে। ভাঙা রেলিংয়ের পাশ দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর বেহাল অবস্থার কথা জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও অটোরিকশাচালকেরা নিজেদের অর্থ সংগ্রহ করে কয়েকবার ভাঙা অংশ মেরামত করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২৭ হাজার মানুষ এই দুই সেতু ব্যবহার করেন। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা জরুরি। অটোরিকশাচালক মালেক বলেন, দিনে কয়েকবার যাত্রী নিয়ে সেতু পার হতে হয়। সবসময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে। নিজেদের টাকায় কয়েকবার মেরামত করেছি, কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। সনমান্দী হাসান খান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। রেলিং ভাঙা থাকায় সবসময় ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়। সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম টিক্কা জানান, সেতু দুটি পুনর্নির্মাণের জন্য উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হবে। সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প পরিচালকের কাছে পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। এর আগে রেলিং সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়রা নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে সেই কাজ বন্ধ করে দেন।

মরণফাঁদে পরিণত দুই সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ১০ গ্রামের ২৭ হাজার মানুষ

কসবায় চলন্ত বাসের চাকা পাংচার, খাদে উল্টে আহত অন্তত ১২ যাত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় চলন্ত যাত্রীবাহী বাসের চাকা পাংচার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের গোলাসার এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিগন্ত পরিবহনের একটি লোকাল বাস কসবার কুটি এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পথে গোলাসার এলাকায় পৌঁছালে বাসটির একটি চাকা হঠাৎ পাংচার হয়ে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং আহত যাত্রীদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। আহতদের পরিচয় ও তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

কসবায় চলন্ত বাসের চাকা পাংচার, খাদে উল্টে আহত অন্তত ১২ যাত্রী