রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

বাংলাদেশ

গ্যাস বিস্ফোরণে নবদম্পতি ও ছোট্ট হাফসার মর্মান্তিক বিদায়

গ্যাস বিস্ফোরণে নবদম্পতি ও ছোট্ট হাফসার মর্মান্তিক বিদায়

মাত্র দেড় মাস আগের কথা। নতুন সংসার ঘিরে বুকভরা হাজারও স্বপ্ন আর একরাশ আশা নিয়ে স্বামী ও আট বছরের ছোট্ট ভাগনিকে সঙ্গে করে রাজধানীতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফাহিমা আক্তার। ভেবেছিলেন ইট-পাথরের শহরে নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমে গড়ে তুলবেন ভালোবাসার সুন্দর একটি নীড়। কিন্তু বিধাতা হয়তো লিখেছিলেন অন্য এক করুণ ইতিহাস! একটি অবহেলা আর গ্যাস লাইনের লিকেজ মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সব স্বপ্ন পুড়িয়ে ছাই করে দিল। কয়েক দিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবনের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় না-ফেরার দেশে চলে গেলেন কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে ফাহিমা। একই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন এবং শুক্রবারে মারা যান প্রিয় ভাগনি হাফসা। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক বিদায়ে দেবিদ্বারে এখন বইছে শোকের মাতম, স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। মৃত ফাহিমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ নানা পণ্যের অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল নিজের ব্যবসাকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার। সেই লক্ষ্যেই স্বামী শাহিনের হাত ধরে উঠে এসেছিলেন রাজধানীর বাড্ডায় ভাড়া বাসায়। পরম মমতা আর মায়ের স্নেহে বড় করে তুলবেন—এই আশায় সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন বড় বোনের আট বছরের শিশুকন্যা হাফসাকে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের ৯নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মীর্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির শাহিনের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের সঙ্গে ঢাকায় পড়তে এসেছিল ফাহিমার ভাগনি হাফসা। গত ২১ জুলাই রাত ৩টার দিকে হঠাৎ বাসাটায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে ঘটে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে দুটি কক্ষে। আগুনের জ্বলন্ত দাহে আশঙ্কাজনকভাবে দগ্ধ হন ফাহিমা, তার স্বামী শাহিন ও শিশু হাফসা। উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ফাহিমা কয়েক দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শনিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান তার স্বামী ও সঙ্গে থাকা ভাগনি হাফসা। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শুক্রবার বাদ মাগরিব শিশু হাফসাকে দাফন করা হয় তার বাবার বাড়ি দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। আর শাহিনকে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রামে তার পারিবারিক কবরস্থানে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় দেবিদ্বার পৌর সদরের গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বাঙ্গুরী গ্রামে শাহিনের পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর পাশেই দাফন হয় ফাহিমার। মেয়েকে হারিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে পিতা গোলাম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, বাসায় ওঠার পরপরই আমরা বাড়ির মালিককে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি জানিয়েছিলাম; কিন্তু তারা আমাদের এই কথাকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি! সময়মতো একটু ব্যবস্থা নিলে আজ আমার মা বেঁচে থাকত। অবহেলার কারণে আজ আমার মেয়েকে হারালাম, আমি এই অবহেলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তিনি আরও বলেন, মেয়ের সঙ্গে আমার বড় মেয়ের ঘরের নাতনি হাফসাও ঢাকায় গিয়েছিল। ওদের একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশা ছিল আমাদের; কিন্তু সামান্য একটা অবহেলা আর অসাবধানতায় এক নিমেষেই সব শেষ হয়ে গেল। ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ৯নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আবু হানিফ বলেন, শাহিন ও ফাহিমা দম্পতির মৃত্যুতে আমরা এলাকাবাসী শোকাহত। নিজেদের কর্ম দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এক বুক আশা নিয়ে তারা ঢাকায় সংসার পেতেছিলেন। এভাবে একটি নবদম্পতি ও নিষ্পাপ শিশুর করুণ পরিণতি কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।

শরীরের বিশেষ স্থানে লুকানো দেড় কোটি টাকার স্বর্ণের বার, যশোরে আটক চোরাচালানকারী

যশোরে শরীরের বিশেষ স্থানে লুকিয়ে রাখা সাড়ে চার পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সুমন মন্ডল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা। রোববার (২৬ জুলাই) ভোরে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সুমন মন্ডল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামিয়া বাজার এলাকার প্রাণনাথ মন্ডলের ছেলে। যশোর ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খাঁন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি দল ভোরে নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে সুমন মন্ডলকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তার শরীরের বিশেষ স্থানে লুকিয়ে রাখা ৪টি পূর্ণাঙ্গ এবং ১টি অর্ধেক স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ৬৮০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ ৯৯ হাজার ৮০০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি বিজিবিকে জানিয়েছেন, তিনি স্বর্ণের বারগুলো ঢাকা থেকে সংগ্রহ করে যশোর হয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন। ঘটনার পর বিজিবি উদ্ধার করা স্বর্ণ জব্দ করে এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করেছে।

শরীরের বিশেষ স্থানে লুকানো দেড় কোটি টাকার স্বর্ণের বার, যশোরে আটক চোরাচালানকারী

মরণফাঁদে পরিণত দুই সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ১০ গ্রামের ২৭ হাজার মানুষ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের পশ্চিম সনমান্দী খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩৫ বছর পুরোনো দুটি সেতু এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতু দুটির রেলিং ভেঙে গেছে, কংক্রিট খসে বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা লোহার রড এবং বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১০ গ্রামের ২৭ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু দুটি ব্যবহার করছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অলিপুরা-সনমান্দী সড়ক এবং মারবদী কবরস্থানের সামনে পশ্চিম সনমান্দী খালের ওপর সেতু দুটি নির্মাণ করে। এরপর দীর্ঘ প্রায় তিন দশকেও বড় ধরনের কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ হয়নি। বর্তমানে সনমান্দী, ছনকান্দা, বৈদ্যারকান্দি, মারবদী, কান্দাপাড়া, সাজালেরকান্দীসহ আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম এই দুটি সেতু। প্রতিদিন অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল, ভ্যান, ছোট যানবাহন এবং অসংখ্য পথচারী সেতু দুটি ব্যবহার করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর একাধিক স্থানে রেলিং সম্পূর্ণ ভেঙে খালে পড়ে গেছে। কংক্রিটের স্তর খসে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে এবং সেতুর বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় সেতু কেঁপে ওঠে। ভাঙা রেলিংয়ের পাশ দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর বেহাল অবস্থার কথা জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও অটোরিকশাচালকেরা নিজেদের অর্থ সংগ্রহ করে কয়েকবার ভাঙা অংশ মেরামত করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২৭ হাজার মানুষ এই দুই সেতু ব্যবহার করেন। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা জরুরি। অটোরিকশাচালক মালেক বলেন, দিনে কয়েকবার যাত্রী নিয়ে সেতু পার হতে হয়। সবসময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে। নিজেদের টাকায় কয়েকবার মেরামত করেছি, কিন্তু কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। সনমান্দী হাসান খান উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সেতু ব্যবহার করতে হয়। রেলিং ভাঙা থাকায় সবসময় ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়। সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম টিক্কা জানান, সেতু দুটি পুনর্নির্মাণের জন্য উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই কাজ শুরু হবে। সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প পরিচালকের কাছে পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। এর আগে রেলিং সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়রা নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে সেই কাজ বন্ধ করে দেন।

মরণফাঁদে পরিণত দুই সেতু, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ১০ গ্রামের ২৭ হাজার মানুষ

কসবায় চলন্ত বাসের চাকা পাংচার, খাদে উল্টে আহত অন্তত ১২ যাত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় চলন্ত যাত্রীবাহী বাসের চাকা পাংচার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের গোলাসার এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিগন্ত পরিবহনের একটি লোকাল বাস কসবার কুটি এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতলী বাসস্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পথে গোলাসার এলাকায় পৌঁছালে বাসটির একটি চাকা হঠাৎ পাংচার হয়ে যায়। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং আহত যাত্রীদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। আহতদের পরিচয় ও তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

কসবায় চলন্ত বাসের চাকা পাংচার, খাদে উল্টে আহত অন্তত ১২ যাত্রী

আনোয়ারায় পারিবারিক কলহে মা-বাবাকে কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ছেলে

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মা-বাবাকে কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের একমাত্র ছেলে রমিরাজ দাশ গুপ্তকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কাপড় কাটার একটি কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা থানা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে নিহতদের স্বজন তপন দাশ গুপ্ত বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতরা হলেন উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশ গুপ্ত (৫৫)। পুলিশ জানায়, রমিরাজ ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অবাধ্য আচরণ করতেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে বিরোধে জড়াতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই তাদের মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে রমিরাজ ঘরে থাকা কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে কল্পনা দাশ গুপ্তের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাবা স্বপন দাশ গুপ্তের ওপরও হামলা চালান তিনি। কাঁচি দিয়ে গলা ও পেটে একাধিক আঘাত করলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলেই অভিযুক্ত রমিরাজ দাশ গুপ্তকে গ্রেপ্তার করে এবং হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কাঁচিটি জব্দ করে। পুলিশ নিহত কল্পনা দাশ গুপ্তের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে এবং স্বপন দাশ গুপ্তের মরদেহ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানান, পারিবারিক কলহ ও একমাত্র সন্তানের অবাধ্য আচরণের জেরেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আনোয়ারায় পারিবারিক কলহে মা-বাবাকে কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ছেলে

ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবি, সাঙ্গু নদী থেকে দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া পর্যটক মো. জাওয়াদ উল ইসলাম মাহিয়ানের (২৪) মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৩৮ বিজিবির তিন্দু ক্যাম্পসংলগ্ন সাঙ্গু নদীর তীরে স্থানীয়রা একটি মরদেহ ভাসতে দেখে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর আগে ২৪ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে থানচি উপজেলার তিন্দু এলাকায় সাঙ্গু নদীতে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে গেলে মাহিয়ান নিখোঁজ হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, বিজিবি, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরদিন ২৫ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে তিন সদস্যের একটি ডুবুরি দল থানচিতে এসে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ সদস্যের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। মোট আটজন ডুবুরি দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে ঘটনার দুই দিন পর নদীর তীরে ভেসে ওঠা মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় পরিবারের স্বজনদের অপেক্ষার অবসান হলেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন আগামী ৩০ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত থানচি সদর থেকে তিন্দুমুখ নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় নৌভ্রমণ থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবি, সাঙ্গু নদী থেকে দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

ফেনীতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: সিসিটিভি, সুরতহাল ও চিরকুট ঘিরে বাড়ছে রহস্য

ফেনীর পরশুরামে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ফারহানা আক্তার প্রিয়া (১৬) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একের পর এক নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে। মৃত্যুর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এটি আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা নাকি অন্য কোনো অপরাধ—তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। গত ২৩ জুলাই পরশুরাম উপজেলা গেটসংলগ্ন কাদের টাওয়ারের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে প্রিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার মৃত সাইফুল ইসলাম ও ফারজানা আক্তারের মেয়ে। প্রায় চার বছর ধরে তিনি কেতরাঙ্গা মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জাহেদা আক্তার তিমুর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন তাকে পরশুরামের দক্ষিণ তালবাড়িয়ার একটি সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের কেউ উপস্থিত না থাকায় মায়ের সম্মতিতে গৃহকর্তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে মিলল নতুন তথ্য ঘটনার পর গৃহকর্ত্রী দাবি করেছিলেন, তিনি বাসার দরজায় তালা দিয়ে যাননি। কিন্তু ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সকাল ৮টা ২৪ মিনিটে ফ্ল্যাটের দরজায় তালা লাগিয়ে চাবি নিজের ব্যাগে রেখে বিদ্যালয়ে যান। এছাড়া সকাল ৬টা ৪৯ মিনিটে প্রিয়াকে কিছু হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হতে এবং প্রায় পাঁচ মিনিট পর আবার ফিরে আসতে দেখা যায়। এরপর তাকে আর বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে গৃহকর্ত্রী ফিরে এসে তালা খোলার চেষ্টা করেন। পরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় কেয়ারটেকারের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে প্রিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নানা তথ্য পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে— সিলিং ফ্যান থেকে মেঝের দূরত্ব প্রায় ৮ ফুট মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা প্রায় ৯ ফুট গলার ফাঁসের গিঁট ফ্যান থেকে প্রায় ৩০ ইঞ্চি নিচে প্রিয়ার পা মেঝে থেকে প্রায় ১০ ইঞ্চি ওপরে ছিল শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি তবে ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট, 'Love' আকৃতির একটি লোহার পাত এবং অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। চিরকুটে ইংরেজি অক্ষরে "I", তার নিচে "K+P", এবং সর্বশেষে বাংলা ভাষায় "করেছি" লেখা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া মরদেহের নিচে রক্তের ফোঁটা পাওয়া যায়, যা প্রাথমিকভাবে ঋতুস্রাবজনিত হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। বাম হাতে দুটি কাটা দাগও পাওয়া গেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে পুলিশ। প্রতিবেশীদের অভিযোগ ভবনের কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন, ঘটনার আগের রাতে গৃহকর্ত্রী ও প্রিয়ার মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। কেউ কেউ মারধরের অভিযোগও তুলেছেন। যদিও এসব অভিযোগ এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। স্বজনদের অভিযোগ প্রিয়ার খালা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় চার বছর গৃহকর্মীর কাজ করলেও পরিবারের হাতে কোনো বেতন পৌঁছায়নি। মৃত্যুর পর থানায় বসে চার বছরের পারিশ্রমিক বাবদ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা তাদের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রিয়াকে লেখাপড়া করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কখনো স্কুলে ভর্তি করানো হয়নি। উদ্ধার হওয়া চিরকুটের লেখাও প্রিয়ার নিজের কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। পুলিশ কী বলছে? পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, আত্মহত্যা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা কিংবা অন্য কোনো অপরাধ—সব দিক বিবেচনায় রেখেই তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ, আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ একসঙ্গে পর্যালোচনা করেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। স্থানীয়দেরও দাবি, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।

ফেনীতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: সিসিটিভি, সুরতহাল ও চিরকুট ঘিরে বাড়ছে রহস্য

ট্রেনের স্টাফের ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

কুষ্টিয়ার রেলওয়ে কোর্ট স্টেশনে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রী ও ট্রেনের এক স্টাফের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বাবা-ছেলে ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঘটনার তদন্তে পাকশী রেল বিভাগ ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শফিউল আওয়াল সুমন (৪০) ও তার বাবা আব্দুর রহিম (৬৫)। তাদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে পৌঁছায়। নির্ধারিত বিরতি শেষে ১২টা ৩০ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে গেলেও মাত্র তিন মিনিট পর এসি চেইন পুল করে ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ট্রেনের স্টাফ ও কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় এক স্টাফের ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে যাত্রীরা ও স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ শুরু করলে ট্রেনটি দীর্ঘ সময় স্টেশনে আটকে থাকে। এর ফলে ট্রেনটি দুপুর ২টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনে অবস্থান করে এবং প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিলম্বে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। ঘটনার পর পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সিআরএনবি, ডিটিও, ডিসিও, ডিএমই (সি অ্যান্ড ডব্লিউ) ও ডিএমওকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রেনের স্টাফের ছুরিকাঘাতে বাবা-ছেলে আহত, তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি

যাত্রাবাড়ীতে পিকআপভর্তি ৭০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডিবির অভিযানে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ গাঁজা, জব্দ করা হয়েছে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ? বিস্তারিত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিকআপভর্তি ৭০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ। শনিবার (২৫ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শনিবার সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের মতিঝিল বিভাগের একটি বিশেষ দল যাত্রাবাড়ী থানার দোলাইপাড় মোড়ের উত্তর-পশ্চিম পাশে টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেসের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মো. রমজান চৌধুরী (২০) নামে এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৭০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি নীল রঙের পিকআপ গাড়িও জব্দ করেছে পুলিশ। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার রমজান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ জানায়, মাদক পাচার ও সরবরাহ চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং এ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

যাত্রাবাড়ীতে পিকআপভর্তি ৭০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রাজধানীর কাফরুলে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত

রাজধানীর কাফরুল এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউসুফ আলী (৪৫) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১৩-এর ই-ব্লক, ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা হঠাৎ ঘটনাস্থলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে ইউসুফ আলী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ হামলায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের পরিচয় ও শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। নিহত ইউসুফ আলীর গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার উজিরপুর থানার সাকরাল গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত শাহজাহান। তিনি পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মিরপুরের কাফরুল এলাকায় বসবাস করতেন। ঘটনার কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য জানতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।

রাজধানীর কাফরুলে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাড়াহুড়ো নয়, আলোচনায় সবচেয়ে বেশি মির্জা ফখরুলের নাম

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আপাতত কোনো তাড়াহুড়ো করছে না সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে দলীয় নাকি নির্দলীয় কাউকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি। সরকার ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ সংবিধানের সম্ভাব্য অষ্টাদশ সংশোধনী। সরকার আগামী সেপ্টেম্বরের অধিবেশনে সংশোধনী বিল সংসদে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, জুলাই জাতীয় সনদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সুপারিশ এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। নীতিনির্ধারকদের মতে, যদি সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির বর্তমান আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক ভূমিকার পরিবর্তে আরও কার্যকর সাংবিধানিক ক্ষমতা যুক্ত করা হয়, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা ও বিবেচনার ধরনও পরিবর্তিত হতে পারে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের একটি অংশ তাকে রাষ্ট্রপতি করার পক্ষে সক্রিয়ভাবে মত দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে শুধু তার নামই নয়, সরকার ও বিএনপির উচ্চপর্যায়ে বিকল্প আরও কয়েকজনের নামও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংবিধান সংশোধনের অগ্রগতি এবং দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাড়াহুড়ো নয়, আলোচনায় সবচেয়ে বেশি মির্জা ফখরুলের নাম

বরিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত অন্তত ১০

বরিশালের ঢাকা-বরিশাল ও বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী এলাকার সাজু পাম্পসংলগ্ন স্থানে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। একই দিন ভোরে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভাঙ্গা পোল এলাকায় দ্বিতীয় দুর্ঘটনা ঘটে। গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাগামী রাতুল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে চলাচলরত একটি রিকশার ওপর উঠে যায়। এতে রিকশাচালক মোশারফ হোসেন (৬০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত মোশারফ হোসেন উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় বাস ও রিকশার অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, শুক্রবার ভোরে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভাঙ্গা পোল এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীগামী একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত চালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ট্রাকের ভেতর থেকে হেলপারকে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হেলপার মো. হামিদ মণ্ডল (২০) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদ্মাকর এলাকার বাসিন্দা। আহত চালক আরিফুল ইসলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আরাবপুর এতিমখানা মোড় এলাকার বাসিন্দা। লেবুখালী হাইওয়ে পুলিশের এসআই মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতি অথবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আহত চালক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বরিশালে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত অন্তত ১০

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে পদত্যাগপত্রটি সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছায় বলে বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছিল। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি (Autonomic Neuropathy) রোগ ধরা পড়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যেই সাময়িকভাবে অচেতন হয়ে পড়েন, যা রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে বিকেল ৫টার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অথবা অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ বস্তু, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ

রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ কয়েকটি বস্তু উদ্ধার করে সেগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা নিয়ন্ত্রিতভাবে বোমা সদৃশ বস্তু নিষ্ক্রিয় করার অংশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম। তিনি জানান, রাত ৭টার পর পুলিশ মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা থাকার খবর পায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মতিঝিল থানা পুলিশ এবং ডিএমপির সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। প্রাথমিকভাবে বোমা সদৃশ অন্তত দুটি বস্তু শনাক্ত করে সেগুলো সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আরও সন্দেহজনক বস্তু থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় পুরো এলাকা তল্লাশি চালিয়ে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটির উৎস, উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে। পুলিশ জানিয়েছে, সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে বিশেষজ্ঞ দল সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে বোমা সদৃশ বস্তু, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করছেন কি না—এ বিষয়ে সরকারের বলার কিছু নেই। তবে রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান, তাহলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সচিবালয়ে কক্সবাজারকে উন্নত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে চলমান গুঞ্জন সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। যদি সেটি বাস্তবে ঘটে, তখন আমরা বিষয়টি দেখব।" এ সময় বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো ফোনালাপ হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।" রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। এরপর সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে একই অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে। এছাড়া গভীর সমুদ্রের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৭ জুলাই থেকে আবার শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্থগিত হওয়া চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট পরীক্ষা আগামী ২৭ জুলাই থেকে পুনরায় শুরু হবে। পরীক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেবেন। তবে যেসব পরীক্ষা দেশের অন্যান্য বোর্ডে অনুষ্ঠিত হলেও চট্টগ্রামে স্থগিত ছিল, সেগুলোর জন্য পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিকে, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি সৈয়দ আক্তারুজ্জামনের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার বিঘ্ন বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার জেলা প্রশাসকদের প্রতিবেদন এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের আবেদনের ভিত্তিতে আগামী ২৭ জুলাই থেকে অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো যথারীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বন্যার কারণে স্থগিত হওয়া আগের পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের অবশিষ্ট সব পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। একই সিদ্ধান্তের আওতায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও স্থগিত হয়। এছাড়া গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বন্ধ ছিল, যদিও দেশের অন্যান্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলমান রয়েছে।

২৭ জুলাই থেকে আবার শুরু হচ্ছে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা