বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দ্বিতীয় দিনে ওই কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। পরে আদালতে সেটি বাজিয়ে শোনানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত রেকর্ডে শোনা যায়, ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ওবায়দুল কাদেরকে জানান, তাদের সমাবেশ শেষ হলেও আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলছিল এবং প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলনের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।
এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পেটাও না কেন? মারো না কেন ওদের? চড়াও হতে দাও কেন? সুযোগ দাও কেন?’
সাদ্দাম হোসেন জানান, ওই দিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে জামায়াতের কর্মীরাও ছিলেন। জবাবে কাদের বলেন, বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ফোনালাপে আরও শোনা যায়, সাদ্দাম দাবি করেন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের শাহবাগমুখী না হতে এবং আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, এমন নির্দেশ কে দিয়েছেন।
শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালের ১১ জুলাইয়ের এই ফোনালাপের রেকর্ড অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধীনস্থ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ‘পেটাও না কেন, মারো না কেন’—এ ধরনের নির্দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।