বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিকে ধরে দিল ছাত্রদল নেতা কর্মীরা

মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিকে ধরে দিল ছাত্রদল নেতা কর্মীরা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে লালমাটিয়ার মিনা বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজু (৬৯) পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর বাড়ি পাবনার আমিনপুরের নাটিয়াবাড়ী এলাকায়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় মিনা বাজারের সামনে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা আরজুকে আটক করেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটকের সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি সামান্য আঘাত পান। মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, আরজু হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। আটকের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পুলিশি প্রহরায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লকআপে বসেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, দুই পুলিশকে প্রত্যাহার

সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির সময় আটক ১০ কিশোর-তরুণ থানা হাজতে বসে স্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানার ভেতরে এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। ভিডিওটি ‘আজমেরী ওসমান’ নামে একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হাজতের ভেতরে মোবাইল ফোন কীভাবে পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।  এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।  তারা হলেন-ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম ও কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক তরুণকে কিছু বক্তব্য দেওয়ার পর ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে শোনা যায়। এরপর সেখানে থাকা অন্য তরুণেরাও একই স্লোগান দেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।  এর আগে, গ্র্যান্ড চাঁদনী রেস্টুরেন্টের বিপরীতে ঢাকামুখী প্রধান সড়ক থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তাদের একজন নগরীর পাইকপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বাকিরা ফতুল্লার বিসিক এলাকার বাসিন্দা। আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলা করা হয় এবং রোববার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ফেরদৌস (১৮), আবরার আহম্মেদ (১৮), ইয়াসিন (১৮), রাব্বি (২০), শিমুল (২০) ও নয়ন (১৮)। এ ছাড়া বাকি চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া ও ফতুল্লার পঞ্চবটি বিসিক এলাকায়। ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতির সময় শনিবার রাতে ওই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের থানার হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী আটকের বিষয়টি অভিভাবকদের ফোন করে জানানোর কথা। ওসি বলেন, থানার হাজতখানায় থাকা অবস্থায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এসআই মনিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে তাদের মুঠোফোন ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। কোনো এক ফাঁকে তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির পক্ষে স্লোগান দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এদিকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গতকাল আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয় তাদের। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে তাদের বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

লকআপে বসেই ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, দুই পুলিশকে প্রত্যাহার

আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা

সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের ‘ঠিকানা’ টকশোতে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ’ বলা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়ে রুমিন বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ করেন না।সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ঘেঁষা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে টকশোতে খালেদ মুহিউদ্দীন রুমিন ফারহানার কাছে জানতে চান, তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন কি না।জবাবে রুমিন বলেন, ‘না, আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না।’আলোচনায় খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, গত এক বছরে রুমিন ফারহানার বক্তব্য পছন্দ করা অনেকের মধ্যেই এমন অভিযোগ তৈরি হয়েছে যে, তিনি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখছেন এবং আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ ধরে রাখার কাজ করছেন।এর জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, যদি এসব অভিযোগ সত্য ধরেও নেওয়া হয়, তাহলে তিনি নিজেকে ‘লাইফ সেভিং মেশিন’-এর সঙ্গে তুলনা করবেন। তার ভাষায়, বিএনপি যখন ‘আইসিইউতে’ থাকে, তখন তিনি বিএনপিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন; আবার আওয়ামী লীগ যখন ‘আইসিইউতে’ থাকে, তখন আওয়ামী লীগকেও বাঁচানোর চেষ্টা করেন।রুমিন বলেন, ‘যখন আপনার প্রতিপক্ষের হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যাবে, তখন তাকে আঘাত করা সবচেয়ে বড় কাপুরুষের কাজ। আমি আপনাকে তখনই বীর বলব, যখন আপনার প্রতিপক্ষ সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থায় থাকা অবস্থায় তাকে আঘাত করবেন।’আওয়ামী লীগ ক্ষমতাবান থাকা অবস্থায় যারা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, তাদের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। রুমিনের মতে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যায় হলে তার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে প্রতিবাদ করা উচিত।আলোচনায় আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগ যদি দীর্ঘদিন অন্যায় করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অন্যায় পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিবাদ করা কেন হবে না।জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ঘৃণার পালটা ঘৃণা যখন আপনি শুরু করবেন, তখন ঘৃণার চাষের বাইরে আপনি কিছু দেখবেন না।’তিনি বলেন, কেউ যদি আওয়ামী লীগের চেয়ে ভালো হওয়ার দাবি করে, তাহলে আওয়ামী লীগের করা একই ধরনের কাজ পুনরায় করা উচিত নয়। অন্যায়, মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির বিরোধিতা করতে হলে তা সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে করতে হবে।রুমিন ফারহানা বলেন, ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত নিলে সেটি ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নয়। তার ভাষায়, ‘যখন আমি ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদ বেছে নিই, তার মানে আমি আসলে ন্যায়কে সমর্থন করি না।’টকশোর আলোচনায় তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি অন্যায় হলে তার প্রতিবাদ করা তার কাছে নীতিগত অবস্থানের বিষয়। একই নীতি সব রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আপনি কি গুপ্ত আওয়ামী লীগ, জবাবে যা বললেন রুমিন ফারহানা

পেটাও না কেন ওদের, সাদ্দামকে কাদের

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের একটি ফোনালাপের রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দ্বিতীয় দিনে ওই কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। পরে আদালতে সেটি বাজিয়ে শোনানো হয়।রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত রেকর্ডে শোনা যায়, ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ওবায়দুল কাদেরকে জানান, তাদের সমাবেশ শেষ হলেও আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলছিল এবং প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীরা সংবাদ সম্মেলনের পর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে।এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পেটাও না কেন? মারো না কেন ওদের? চড়াও হতে দাও কেন? সুযোগ দাও কেন?’সাদ্দাম হোসেন জানান, ওই দিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে জামায়াতের কর্মীরাও ছিলেন। জবাবে কাদের বলেন, বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।ফোনালাপে আরও শোনা যায়, সাদ্দাম দাবি করেন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের শাহবাগমুখী না হতে এবং আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চান, এমন নির্দেশ কে দিয়েছেন।শুনানি শেষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, ২০২৪ সালের ১১ জুলাইয়ের এই ফোনালাপের রেকর্ড অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে।তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অধীনস্থ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ‘পেটাও না কেন, মারো না কেন’—এ ধরনের নির্দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং এটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পেটাও না কেন ওদের, সাদ্দামকে কাদের

হাসিনার পরিবারের সবাই ও নিকটাত্মীয়দের বেশির ভাগই নিরাপদে দেশের বাইরে, কে কোথায়

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দেশ ছেড়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, তাদের বেশিরভাগ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এছাড়া পরিবারের কয়েকজন সদস্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ে রয়েছেন।সরকার পতনের দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশ ছাড়েন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। ওই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে ছিলেন।শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। অপরদিকে, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), যিনি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, বর্তমানে দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন। তার স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার দুই মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। টিউলিপ দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য।পরিবারের বাইরেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ স্বজনদের অনেকে দেশ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তার ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় রয়েছেন। আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ছাড়েন।যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সরকার পতনের আগেই ভারতে যান। তার ছেলে আশিক আবদুল্লাহও তার সঙ্গে রয়েছেন। আরেক ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুল খায়ের আবদুল্লাহও সরকার পতনের পর ভারতে চলে গেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।এদিকে, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাদের কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় বসবাসের তথ্য বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে রয়েছেন। তবে শেখ সোহেলের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ ছাড়া নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) এবং মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) সরকার পতনের পর আত্মগোপনে যান। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।অন্যদিকে, শেখ হাসিনার স্বজনদের মধ্যে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকেই সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও অর্থের বিনিময়ে তারা নিরাপদে দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

হাসিনার পরিবারের সবাই ও নিকটাত্মীয়দের বেশির ভাগই নিরাপদে দেশের বাইরে, কে কোথায়

‘পালাব না’ বলে কোথায় ওবায়দুল কাদের, জানে না কেউ

‘আমরা এই দেশে জন্মেছি, এই দেশে মরব, পালাব না। কোথায় পালাব! পালাব না, প্রয়োজনে ফখরুল সাহেবের বাসায় গিয়ে উঠব’—২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্য করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় দেওয়া ওই বক্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলটির সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এর কয়েক মাস পরই জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই ওবায়দুল কাদেরের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।সরকার পতনের আগে প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া ওবায়দুল কাদের এখন পুরোপুরি আড়ালে। প্রকাশ্যে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—কোথাও তার উপস্থিতি নেই।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছে—এমন তথ্য মেলেনি। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতাও জানিয়েছেন, তারা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নন।দলের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ওবায়দুল কাদের সবসময় গণমাধ্যমে সক্রিয় থাকতে পছন্দ করতেন। কিন্তু সরকার পতনের পর থেকে তিনি সম্পূর্ণ নীরব। কী পরিস্থিতিতে তিনি আত্মগোপনে আছেন, তা কেবল তিনিই জানেন।এদিকে, সরকার পতনের পর শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের কেউ কেউ বিদেশ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও ওবায়দুল কাদেরের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।অন্যদিকে, তার ‘পালাব না’ বক্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে গান, মিম ও বিভিন্ন প্যারোডি, যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।ওবায়দুল কাদেরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সর্বশেষ পোস্ট করা হয় ২০২৪ সালের ৫ জুলাই। সেদিন পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় তোলা নিজের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে তার ফেসবুক পেজেও আর কোনো নতুন পোস্ট দেখা যায়নি।সরকার পতনের প্রায় এক বছর পার হলেও ওবায়দুল কাদের কোথায় আছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ হয়নি। ফলে তার অবস্থান ঘিরে রহস্য এখনো কাটেনি।

‘পালাব না’ বলে কোথায় ওবায়দুল কাদের, জানে না কেউ