গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সেটির রায় প্রত্যাখ্যানের ইতিহাস পৃথিবীতে নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গণভোটের গণ রায় প্রত্যাখ্যান করার কারণে দেশে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ বাস্তবায়ন উপলক্ষে বৈঠক করেন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন জামায়াত সেক্রেটারি।
দেশে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে এবং গণভোটের গণ রায় প্রত্যাখ্যান করার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ৭০ ভাগ লোকের ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া যে গণভোট, একটা গণভোটের রায়কে নির্বাচনের পরে একটা সরকার বাতিল করতে পারে, প্রত্যাখ্যান করতে পারে এমন ইতিহাস পৃথিবীতে নেই।
১১ দলের লং মার্চ কর্মসূচি নিয়ে পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি হবে নন-ভায়োলেন্ট, নিয়মতান্ত্রিক। অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, এই জাতীয় কোনো চিন্তা বা কর্মসূচি আমাদের ১১ দলের মধ্যে নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, ১১ দলের এই শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে ব্যাহত করে, দেশকে অস্থিতিশীল করে ১১ দলকে বা জাতির কাছে কোনো ভুল মেসেজ দিতে চান, সাবোটাজ করতে চান, তাদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে আমরা এখন অনুরোধ করব, আপনারা এই অপরিণামদর্শী চিন্তা থেকে ফিরে থাকবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, হতে দেব না, অহেতুক কেন আপনি পায়ে পাড়া দিয়ে গন্ডগোল করে শান্ত দেশকে অশান্ত করে তুলবেন?’
সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যাওয়ার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আপনার আছে বলেই মেজরিটি আছে বলেই আপনি কোরআন-সুন্নাহর আইনকে বদলে দিয়ে আইনের ওপরে হস্তক্ষেপ করলেন। মেজরিটি নিয়ে সব করবেন আপনি?’
তিনি বলেন, ‘মেজরিটির শক্তিকে প্রয়োগ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুদীর্ঘকালের আইনকে পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র করছেন। আপনি সব জায়গায় মেজরিটির পাওয়ার দেখালে আপনাকে শিক্ষা নিতে হবে। মেজরিটির ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই কিন্তু অনেকেই কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছিল। এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’
তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উদ্বোধনী জনসভা শুরু হবে। সকাল ৮টা পর্যন্ত তা চলবে। এরপর কাফেলা গাজীপুর হয়ে সরাসরি রংপুর জেলা স্কুল মাঠের উদ্দেশে যাত্রা করবে। সেখানে পৌঁছানো পর্যন্ত লংমার্চ অব্যাহত থাকবে।
লংমার্চের গাড়িবহরে বিভিন্ন জেলার নেতা কর্মীদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, গাড়িবহরের শেষে প্রত্যেক জেলার যাঁরা যেতে আগ্রহী হবেন, তাদের গাড়িবহর যুক্ত হবে। সর্বশেষে সাংস্কৃতিক বিভাগের সংগীত পরিবেশনের গাড়ি থাকবে। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তা, মেডিকেল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বশীলরা থাকবেন। আইটি টিম ও মিডিয়া টিমও লংমার্চের সঙ্গে থাকবে।