শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন লাবণ্য চৌধুরী। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। দীর্ঘ এই পথচলায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। সম্প্রতি অভিনয় করেছেন ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে’-তে। নতুন এই কাজ, অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
‘মিশন ডিডিএলজে’-তে অভিনয় করছেন। আপনার চরিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাই।
এখানে আমার চরিত্রের নাম দিয়া। সে খুব চঞ্চল একটা মেয়ে। তবে নব্বই দশকের প্রেমের গল্পের প্রতি তার আলাদা ধরনের আকর্ষণ রয়েছে। সে ওই সময়ের মতো একটি প্রেমের গল্প ও জীবন চায়। সেই স্বপ্ন থেকেই নিজের মতো করে সেই সময়ের প্রেমের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকে। নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক ভাইয়া গল্পটি দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। আর ‘মিশন ডিডিএলজে’ নামটির অর্থ কী, সেটি দর্শক সিনেমাটি দেখলেই বুঝতে পারবেন।
এখন নিয়মিতই বিভিন্ন ওটিটি কনটেন্ট মুক্তি পাচ্ছে। এর মধ্যে ‘মিশন ডিডিএলজে’ দর্শক কেন দেখবেন?
এই কনটেন্টের মধ্যে অনেকগুলো লেয়ার আছে। এর অন্যতম হলো নব্বই দশকের একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প। যারা নব্বই দশকের গল্প পছন্দ করেন কিংবা সেই সময়ের প্রেমের একটা আলাদা অনুভূতি পেতে চান, তারা আমাদের গল্পটি দেখতে পারেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, এখানে নব্বই দশকের অনেক সিনেমার রেফারেন্স রয়েছে। ফলে দর্শকের জন্য গল্পের মধ্যে নস্টালজিয়ার একটা ব্যাপারও থাকবে।
নব্বই দশকের প্রেমের গল্প হওয়ায় চরিত্রটি ধারণ করতে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল?
সেভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না। কারণ, এখানে মূল চরিত্রটি বর্তমান সময়ের একটি ছেলে-মেয়ে, যে নব্বই দশকের মেয়ের মতো জীবনযাপন করতে এবং সেই সময়ের মতো প্রেমের গল্প পেতে চায়। তাই আমাকে সরাসরি নব্বই দশকের কোনো চরিত্র ধারণ করতে হয়নি। যদি সত্যিকার অর্থেই ওই সময়ের একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে হতো, তাহলে চ্যালেঞ্জটা হয়তো আরও বেশি থাকত।
বর্তমানে অভিনয়ের কোন মাধ্যমে বেশি মনোযোগ দিতে চান?
নাটকে আগে খুব একটা কাজ করা হয়নি। মূলত পড়াশোনার চাপ ছিল। এখন সেই চাপ কিছুটা কমেছে। তাই আপাতত নাটকে একটু বেশি মনোযোগ দিতে চাই। তবে ভালো গল্প ও ভালো চরিত্র পেলে সিনেমা কিংবা ওটিটিতেও অবশ্যই কাজ করতে চাই।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আপনার ক্যারিয়ারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আমার জীবনের একটি বিরাট মাইলফলক। বলতে গেলে, এটি আমার ক্যারিয়ারে ১০-এ ১০ পাওয়ার মতো একটি সিনেমা। এই কাজটির জন্যই আমি সবচেয়ে বেশি দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। বিশেষ করে মিডিয়ায় আমার যোগাযোগটা আরও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে অনেক গুণী শিল্পী কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি, যা আমার অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
শুনেছি গায়িকা হওয়ার জন্য গান শিখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত অভিনেত্রী হয়ে গেলেন কীভাবে?
ছোটবেলায় আমাদের অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু জীবনের সব স্বপ্ন তো আর পূরণ হয় না। কয়েক বছর গান শিখেছিলাম। বিশেষ করে আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমি গান শিখি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গান নিয়ে আর এগিয়ে যাওয়া হয়নি। হয়তো গান আমাকে সেভাবে টানেনি বলেই এমনটা হয়েছে।
তবে নাচের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। নাচ শিখেছি। আর এখন অভিনয় নিয়েই আছি। অভিনয়ই এখন আমার সবচেয়ে বড় জায়গা।
অভিনয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?
মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যেতে চাই। আমি মনে করি, সিনেমায় সব সময় নায়িকা চরিত্রেই অভিনয় করতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। আমার লক্ষ্য একজন সুঅভিনেত্রী হওয়া। এমন একজন অভিনেত্রী হতে চাই, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন এবং নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সক্ষমতা রাখবেন।
সামনে আরও ভালো কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র এবং ভালো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।