বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে শুটিংয়ের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস

চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে শুটিংয়ের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও নগর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আগামী বর্ষার আগেই এই সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একইসঙ্গে তিনি জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বর্ষা এলেই হাঁটু বা কোমর পানিতে নেমে শুটিং করার যে নাটক দেখা যায়, ২০২৭ সালে তা আর দেখতে চাই না।’ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সারজিস আলম। এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক বলেন, ‘বর্ষা শেষ হয়ে শরৎ, হেমন্ত ও শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, এমপি, ক্ষমতাসীন দল ও মেয়ররা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কথা ভুলে যাবেন। পরবর্তী বর্ষায় আবার চট্টগ্রাম ডুবে গেলে তারা জামাকাপড় পরে হাঁটু বা কোমর পানিতে নামবেন, কেউ নৌকা বা মাচা নিয়ে আসবেন- এমন লোক দেখানো কর্মকাণ্ড আর দেখতে চাই না।’ তিনি বলেন, ‘এই নাটক ২০২৭ সালে আমরা আর ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দেখতে চাই না। এই নাটক আমরা এই চট্টগ্রামের মেয়র, প্রশাসক কিংবা এমপিদের থেকে আর দেখতে চাই না।’ সারজিস আলম বলেন, ‘সরকারের হাতে প্রায় এক বছর সময় রয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী, লাইফলাইন ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামকে শুধু লোক দেখানোর স্বার্থে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলে চট্টগ্রামবাসীর এমন ‘সেবক’-এর প্রয়োজন নেই।’ নগরবাসীর জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের স্টেশন রোড এলাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম। চট্টগ্রামের রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে সারজিস আলম বলেন, ‘পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে নগরের বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকার অবস্থা তিনি ঘুরে দেখেছেন। এসব সড়কের অবস্থা এমন যে, অসুস্থ মানুষের হাসপাতালে যাওয়ার চেয়ে ঘরে বসে থাকাই ভালো বলে তাদের মনে হয়েছে।’ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক রাজধানীর একজন মানুষকে চিকিৎসার জন্য কেন ঢাকায় যেতে হবে? চট্টগ্রামকে যদি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নগরী বলা হয়, তাহলে এখানকার মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি ব্যবস্থাপনাসহ নগরবাসীর মৌলিক প্রয়োজনগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।’ আগামী বর্ষার আগেই এসব সমস্যা সমাধানে আগামী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক আলাদা একটি মেগা পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সারজিস আলম বলেন, ‘চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে লোক দেখানো কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’  নগরের পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট, পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে সমন্বিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় চট্টগ্রামের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আগামী বর্ষার আগেই দৃশ্যমান ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান সারজিস আলম। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি জাতীয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরার কথা জানান।

স্বপ্ন অনেক থাকে কিন্তু সব তো পূরণ হয় না: লাবণ্য

শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়জগতে পা রেখেছিলেন লাবণ্য চৌধুরী। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। দীর্ঘ এই পথচলায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। সম্প্রতি অভিনয় করেছেন ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে’-তে। নতুন এই কাজ, অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।‘মিশন ডিডিএলজে’-তে অভিনয় করছেন। আপনার চরিত্রটি সম্পর্কে জানতে চাই।এখানে আমার চরিত্রের নাম দিয়া। সে খুব চঞ্চল একটা মেয়ে। তবে নব্বই দশকের প্রেমের গল্পের প্রতি তার আলাদা ধরনের আকর্ষণ রয়েছে। সে ওই সময়ের মতো একটি প্রেমের গল্প ও জীবন চায়। সেই স্বপ্ন থেকেই নিজের মতো করে সেই সময়ের প্রেমের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকে। নির্মাতা আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক ভাইয়া গল্পটি দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। আর ‘মিশন ডিডিএলজে’ নামটির অর্থ কী, সেটি দর্শক সিনেমাটি দেখলেই বুঝতে পারবেন।এখন নিয়মিতই বিভিন্ন ওটিটি কনটেন্ট মুক্তি পাচ্ছে। এর মধ্যে ‘মিশন ডিডিএলজে’ দর্শক কেন দেখবেন?এই কনটেন্টের মধ্যে অনেকগুলো লেয়ার আছে। এর অন্যতম হলো নব্বই দশকের একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প। যারা নব্বই দশকের গল্প পছন্দ করেন কিংবা সেই সময়ের প্রেমের একটা আলাদা অনুভূতি পেতে চান, তারা আমাদের গল্পটি দেখতে পারেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, এখানে নব্বই দশকের অনেক সিনেমার রেফারেন্স রয়েছে। ফলে দর্শকের জন্য গল্পের মধ্যে নস্টালজিয়ার একটা ব্যাপারও থাকবে।নব্বই দশকের প্রেমের গল্প হওয়ায় চরিত্রটি ধারণ করতে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল?সেভাবে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল না। কারণ, এখানে মূল চরিত্রটি বর্তমান সময়ের একটি ছেলে-মেয়ে, যে নব্বই দশকের মেয়ের মতো জীবনযাপন করতে এবং সেই সময়ের মতো প্রেমের গল্প পেতে চায়। তাই আমাকে সরাসরি নব্বই দশকের কোনো চরিত্র ধারণ করতে হয়নি। যদি সত্যিকার অর্থেই ওই সময়ের একটি মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে হতো, তাহলে চ্যালেঞ্জটা হয়তো আরও বেশি থাকত।বর্তমানে অভিনয়ের কোন মাধ্যমে বেশি মনোযোগ দিতে চান?নাটকে আগে খুব একটা কাজ করা হয়নি। মূলত পড়াশোনার চাপ ছিল। এখন সেই চাপ কিছুটা কমেছে। তাই আপাতত নাটকে একটু বেশি মনোযোগ দিতে চাই। তবে ভালো গল্প ও ভালো চরিত্র পেলে সিনেমা কিংবা ওটিটিতেও অবশ্যই কাজ করতে চাই।‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আপনার ক্যারিয়ারে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?‘বনলতা এক্সপ্রেস’ আমার জীবনের একটি বিরাট মাইলফলক। বলতে গেলে, এটি আমার ক্যারিয়ারে ১০-এ ১০ পাওয়ার মতো একটি সিনেমা। এই কাজটির জন্যই আমি সবচেয়ে বেশি দর্শক প্রতিক্রিয়া পেয়েছি। বিশেষ করে মিডিয়ায় আমার যোগাযোগটা আরও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে অনেক গুণী শিল্পী কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছি, যা আমার অভিনয়জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।শুনেছি গায়িকা হওয়ার জন্য গান শিখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত অভিনেত্রী হয়ে গেলেন কীভাবে?ছোটবেলায় আমাদের অনেক স্বপ্ন থাকে। কিন্তু জীবনের সব স্বপ্ন তো আর পূরণ হয় না। কয়েক বছর গান শিখেছিলাম। বিশেষ করে আমার মায়ের ইচ্ছা ছিল আমি গান শিখি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গান নিয়ে আর এগিয়ে যাওয়া হয়নি। হয়তো গান আমাকে সেভাবে টানেনি বলেই এমনটা হয়েছে।তবে নাচের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আমার আগ্রহ ছিল। নাচ শিখেছি। আর এখন অভিনয় নিয়েই আছি। অভিনয়ই এখন আমার সবচেয়ে বড় জায়গা।অভিনয় নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যেতে চাই। আমি মনে করি, সিনেমায় সব সময় নায়িকা চরিত্রেই অভিনয় করতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। আমার লক্ষ্য একজন সুঅভিনেত্রী হওয়া। এমন একজন অভিনেত্রী হতে চাই, যিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন এবং নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সক্ষমতা রাখবেন। সামনে আরও ভালো কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে। ভালো গল্প, ভালো চরিত্র এবং ভালো নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

স্বপ্ন অনেক থাকে কিন্তু সব তো পূরণ হয় না: লাবণ্য