সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না গ্রাহক


ডেক্স রিপোর্ট
ডেক্স রিপোর্ট

কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না গ্রাহক
প্রতীকী ছবি

তিন বছর পূর্ণ করেছে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি। শুরু থেকেই আস্থাহীনতা, বিতর্ক ও বিভিন্ন পক্ষের আপত্তির কারণে নানা বাধার মুখে পড়ে সরকারের এই উদ্যোগ। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কর্মসূচিটি আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে পরবর্তী সরকার কর্মসূচি চালু রাখার পাশাপাশি এর আওতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হলেও প্রত্যাশিত হারে গ্রাহক বাড়েনি।

২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ওই দিন থেকেই বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য ‘সুরক্ষা’, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী’ এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘সমতা’—এই চারটি স্কিম চালু করা হয়।

উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কর্মসূচিতে কার্যত স্থবিরতা দেখা দেয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৩ হাজারে।

এরপরও নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ার গতি ছিল ধীর। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরের বেশি সময়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হন। পরবর্তী সাড়ে তিন মাসে আরও দেড় হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। ফলে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬০ জনে।

এসব গ্রাহক মোট ২৮১ কোটি ৫০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে তহবিলের ৩০৭ কোটি টাকার কিছু বেশি সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

কেন আস্থা হারিয়েছেন গ্রাহকেরা

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক গ্রাহক কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেন। রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম জানান, আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ‘প্রগতি’ স্কিমে নিবন্ধন করেছিলেন। দুজনই মাসে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা জমা দিতেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা আর কিস্তি দেননি।

কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র এবং ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগের তুলনায় সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আর্থিক সুবিধা কম মনে হওয়ায় কিস্তি বন্ধ করার কথা জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, যথাযথ প্রস্তুতি ও বিশ্লেষণ ছাড়াই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। ফলে চাঁদা ও পেনশন সুবিধার কাঠামো নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে তারা মনে করেন।

সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আস্থাহীনতার কারণে অনেক গ্রাহক কিস্তি দেওয়া বন্ধ করেছিলেন। তবে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে।

এ কারণে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় থাকা বেসরকারি কর্মীদের অবসরের সময় জমাকৃত অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে দেওয়াসহ বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করতে এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা সহজশর্তের ঋণে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। দ্রুত ডিপিপি প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর কথা রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদেরও আনার পরিকল্পনা

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখনো সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সুবিধা দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে তা কার্যকর করা হবে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনা। এখন পর্যন্ত পাওয়া সাড়া বিবেচনায় এই লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

বিষয় : পেনশন কর্মসূচি

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না গ্রাহক

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

তিন বছর পূর্ণ করেছে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি। শুরু থেকেই আস্থাহীনতা, বিতর্ক ও বিভিন্ন পক্ষের আপত্তির কারণে নানা বাধার মুখে পড়ে সরকারের এই উদ্যোগ। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কর্মসূচিটি আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। তবে পরবর্তী সরকার কর্মসূচি চালু রাখার পাশাপাশি এর আওতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে বিধিমালায় পরিবর্তন আনা হলেও প্রত্যাশিত হারে গ্রাহক বাড়েনি।

২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ওই দিন থেকেই বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি’, স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য ‘সুরক্ষা’, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী’ এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘সমতা’—এই চারটি স্কিম চালু করা হয়।

উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কর্মসূচিতে কার্যত স্থবিরতা দেখা দেয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৭৩ হাজারে।

এরপরও নতুন গ্রাহক যুক্ত হওয়ার গতি ছিল ধীর। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এক বছরের বেশি সময়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার নতুন গ্রাহক যুক্ত হন। পরবর্তী সাড়ে তিন মাসে আরও দেড় হাজারের বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন। ফলে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬০ জনে।

এসব গ্রাহক মোট ২৮১ কোটি ৫০ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে তহবিলের ৩০৭ কোটি টাকার কিছু বেশি সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

কেন আস্থা হারিয়েছেন গ্রাহকেরা

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক গ্রাহক কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেন। রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম জানান, আর্থিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ‘প্রগতি’ স্কিমে নিবন্ধন করেছিলেন। দুজনই মাসে ২ হাজার টাকা করে চাঁদা জমা দিতেন। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা আর কিস্তি দেননি।

কিছু গ্রাহকের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র এবং ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগের তুলনায় সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আর্থিক সুবিধা কম মনে হওয়ায় কিস্তি বন্ধ করার কথা জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, যথাযথ প্রস্তুতি ও বিশ্লেষণ ছাড়াই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। ফলে চাঁদা ও পেনশন সুবিধার কাঠামো নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে তারা মনে করেন।

সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আস্থাহীনতার কারণে অনেক গ্রাহক কিস্তি দেওয়া বন্ধ করেছিলেন। তবে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে।

এ কারণে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় থাকা বেসরকারি কর্মীদের অবসরের সময় জমাকৃত অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে দেওয়াসহ বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করতে এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা সহজশর্তের ঋণে ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। দ্রুত ডিপিপি প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর কথা রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদেরও আনার পরিকল্পনা

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখনো সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন সুবিধা দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে তা কার্যকর করা হবে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনা। এখন পর্যন্ত পাওয়া সাড়া বিবেচনায় এই লক্ষ্য অর্জনে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না গ্রাহক
0:00 0:00
1.0x