বেলজিয়ামের একটি বাড়ি সংস্কারের সময় দেয়ালের ভেতর থেকে প্রায় ৯ মিলিয়ন ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১২৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের ভাণ্ডার উদ্ধার করেছেন নির্মাণশ্রমিকরা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন পয়োনিষ্কাশন পাইপ বসানোর জন্য বাড়ির মাটি ও দেয়াল খোঁড়ার সময় শ্রমিকদের চোখে পড়ে স্বর্ণের বার ও মুদ্রাগুলো। ১৮ বছর বয়সী গ্রীষ্মকালীন শিক্ষার্থী কোবে এবং সাইট ম্যানেজার মারিও জানান, প্রথমে তারা এগুলোকে সাধারণ ১ ইউরোর মুদ্রা ভেবেছিলেন। পরে স্বর্ণের পিণ্ড দেখতে পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন।
এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ নিজেদের কাছে রাখা আইনগতভাবে সম্ভব নয় বুঝতে পেরে শ্রমিকরা দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পরে বহিরাগতদের গুপ্তধন খোঁজার চেষ্টা ঠেকাতে ডেনডারমন্ড স্থানীয় পুলিশ পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
বাড়িটির বর্তমান মালিক ‘সিএডব্লিউ ওস্ট-ভ্লানডারেন’ নামে একটি স্থানীয় দাতব্য সংস্থা। সংস্থাটি ডেনডারমন্ড অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গির্ট হিলার্ট বলেন, উদ্ধার হওয়া সম্পদের একটি অংশ সংস্থার কাজে ব্যবহারের সুযোগ পেলে তা অসহায় মানুষের বড় ধরনের উপকারে আসতে পারে।
বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, এই স্বর্ণের প্রকৃত মালিককে তা দাবি করার জন্য পাঁচ বছর বা ১ হাজার ৮২৩ দিন সময় দেওয়া হবে। এরই মধ্যে স্থানীয় কৌঁসুলি ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বৈধ মালিকের সন্ধান না পাওয়া গেলে এবং স্বর্ণের সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে আইন অনুযায়ী উদ্ধার হওয়া সম্পদ ভবনটির মালিক সংস্থা ও স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যে সমান ভাগে বণ্টন হতে পারে।