শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা



কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা
বাংলাদেশি পর্যটকরা বাধ্য হয়ে হোটেল ছাড়ছেন। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়া অগ্নি-নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার একাধিক সড়কে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে হোটেল ছেড়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কেউ নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রশাসনের অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশের অনুমতি, ফায়ার অ্যালার্ম ও জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার সিঁড়িসহ প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাবিধি না মানায় কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট থানার পুলিশ এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানে উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অংশ নেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাজ্য সরকার কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টির বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।

গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবাসন সংকটে বাংলাদেশিরা

হোটেল বন্ধের ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই নিউমার্কেট এলাকায় রয়েছেন।

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে। নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবার ব্যবসা গড়ে উঠেছে। হোটেল বন্ধের প্রভাব এসব ব্যবসার ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে বাসগুলো যাত্রী নিয়ে কলকাতায় আসছে। কিন্তু পর্যটকদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন নেই। আশপাশের এলাকায় গেলেও অনেক হোটেলের ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণের বেশি বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন। তবে হোটেল মালিকদের কিছুটা সময় দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো।

অন্যদিকে নিউমার্কেটের রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও হোটেল বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন ভিসা চালুর পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছিল। এমন সময়ে একের পর এক হোটেল বন্ধ হওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্য নতুন করে বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেল ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিষয় : পর্যটক কলকাতা হোটেল

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়া অগ্নি-নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার একাধিক সড়কে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে হোটেল ছেড়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কেউ নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রশাসনের অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশের অনুমতি, ফায়ার অ্যালার্ম ও জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার সিঁড়িসহ প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাবিধি না মানায় কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট থানার পুলিশ এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানে উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অংশ নেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাজ্য সরকার কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টির বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।

গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবাসন সংকটে বাংলাদেশিরা

হোটেল বন্ধের ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই নিউমার্কেট এলাকায় রয়েছেন।

হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে। নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবার ব্যবসা গড়ে উঠেছে। হোটেল বন্ধের প্রভাব এসব ব্যবসার ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে বাসগুলো যাত্রী নিয়ে কলকাতায় আসছে। কিন্তু পর্যটকদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন নেই। আশপাশের এলাকায় গেলেও অনেক হোটেলের ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণের বেশি বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন। তবে হোটেল মালিকদের কিছুটা সময় দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো।

অন্যদিকে নিউমার্কেটের রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও হোটেল বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন ভিসা চালুর পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছিল। এমন সময়ে একের পর এক হোটেল বন্ধ হওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্য নতুন করে বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেল ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা
0:00 0:00
1.0x