শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ভিসা বন্ড ব্যবস্থা আরও সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও প্রকৃত পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমানে চালু ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থা পর্যালোচনা ও সহজ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করে এ খাতে মার্কিন অধিকতর বিনিয়োগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন। রাষ্ট্রপতি এ সময় দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠান শেভরনের বিনিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন এবং বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি এ সময় বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। এ প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং আসিয়ান দেশসমূহের সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রপতি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে বিশ্বাসী উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার নীতিকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেয় বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (Agreement on Reciprocal Trade) প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে উভয় দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ চুক্তিকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার সুযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রপতি বলেন। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে তাঁর দেশের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবেরা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক হোটেলগুলোতে কড়া অগ্নি-নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। এরই মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার একাধিক সড়কে ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে হোটেল ছেড়ে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। কেউ নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রশাসনের অভিযানসংশ্লিষ্টরা জানান, ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশের অনুমতি, ফায়ার অ্যালার্ম ও জরুরি অবস্থায় বের হওয়ার সিঁড়িসহ প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাবিধি না মানায় কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর নিউমার্কেট থানার পুলিশ এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে। অভিযানে উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও অংশ নেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাজ্য সরকার কলকাতার হোটেলগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও সিইএসসির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কলকাতার ৩ হাজার ৫০০টির বেশি হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে। গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাসন সংকটে বাংলাদেশিরা হোটেল বন্ধের ঘটনায় নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বর্তমানে কলকাতায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই নিউমার্কেট এলাকায় রয়েছেন। হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে অন্য এলাকায় থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে। নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও কোথাও কোথাও আগের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কলকাতার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশি পর্যটকদের কেন্দ্র করে নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, কেনাকাটা ও বিভিন্ন সেবার ব্যবসা গড়ে উঠেছে। হোটেল বন্ধের প্রভাব এসব ব্যবসার ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে বাসগুলো যাত্রী নিয়ে কলকাতায় আসছে। কিন্তু পর্যটকদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন নেই। আশপাশের এলাকায় গেলেও অনেক হোটেলের ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণের বেশি বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন। তবে হোটেল মালিকদের কিছুটা সময় দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতো। অন্যদিকে নিউমার্কেটের রিকশাচালকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও হোটেল বন্ধের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটন ভিসা চালুর পর পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে শুরু করেছিল। এমন সময়ে একের পর এক হোটেল বন্ধ হওয়া স্থানীয় অর্থনীতির জন্য নতুন করে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি না মানা হোটেল ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২ শতাধিক হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা