রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
স্বামী হত্যার আসামীর বাড়ি লুটের মামলায় শিশুসহ কারাগারে ফাতেমা, মায়ের জন্য কাঁদছে অপর দু'শিশু

স্বামী হত্যার আসামীর বাড়ি লুটের মামলায় শিশুসহ কারাগারে ফাতেমা, মায়ের জন্য কাঁদছে অপর দু'শিশু

২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের কামিতার পাড়ার 'কবির বাজার-এ ছিলেন মোহাম্মদ কাশেম। কথা কাটাকাটির জেরে বাজার থেকে তাকে তাড়া করে বাড়িতে ঢুকে রাসেলসহ কয়েকজন কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে রাসেলসহ ১০জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার ৪নম্বর আসামি রাসেল। কাশেম হত্যার ওই ঘটনার এক মাস পর, ২০২৫ সালের ২৪মে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও জিনিসপত্র লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন রাসেলের মা নুর জাহান বেগম। ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট করা ওই অভিযোগে কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, তার শাশুড়ি, ভাসুর, দেবর ও ননদসহ সাতজনকে আসামি করার আবেদন করা হয়। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মহেশখালী থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। মামলাটির তদন্ত করেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাহেরুল ইসলাম। তিনি ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন। তবে, ওই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েই নানা প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তদন্ত কর্মকর্তা বাদীর দেওয়া সাতজন সাক্ষীর বাইরে আর কারও সাক্ষ্য নেননি। এমনকি সাত সাক্ষীর বক্তব্যেও দাড়ি, কমা, সেমিকোলনসহ প্রায় একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও তদন্ত প্রতিবেদনে এসআই মোজাহেরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, আমি তদন্তভার গ্রহণ করে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে বাদীনির দেখানো মতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। আলামত জব্দের চেষ্টা করি। বাদীনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। আমি তদন্তকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের জবানবন্দী ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬১ ধারা মতে লিপিবদ্ধ করি। বিবাদীদের নাম ঠিকানা যাচাই করি, মামলার ঘটনাটি প্রকাশ্যে ও গোপনীয়ভাবে তদন্ত করি, গুপ্তচর নিয়োগ করি। তবে তদন্ত কর্মকর্তা মোজাহেরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে দেওয়া অভিযোগের তদন্ত করার ক্ষেত্রে বাদীর দেওয়া সাক্ষীদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই তাদের বাইরে আর কারও সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। ২৪মে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, সেটিই তদন্তে দেখা হয়েছে এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে রাসেলকে কাশেম হত্যা মামলায় “অন্যায়ভাবে” আসামি করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই মোজাহেরুল ইসলাম বলেন, “এরকম লেখার কোনো সুযোগ নেই, আগের ঘটনা তাই আমার মনে পড়ছে না। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৪ মে সকাল ৮টার দিকে ফাতেমা বেগম, তার শাশুড়ি, ভাসুর, দেবর ও ননদরা নুর জাহান বেগমের বাড়িঘর ভাঙচুর করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যান। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্তে ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, নুর জাহান বেগমের বাড়ির পাশে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় তার ছেলে মোহাম্মদ রাসেলকে অন্যায়ভাবে আসামি করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই হত্যা মামলার ভিকটিম ছিলেন মুহাম্মদ কাশেম। অথচ তদন্ত প্রতিবেদনে কাশেম হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে করা মামলার তিন সাক্ষী নুরুন্নাহার, মুন্নি আকতার ও মোতাহারা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে করা মামলায় তারা কোনো সাক্ষ্য দেননি। এমনকি সাক্ষীদের তালিকায় তাদের নাম কীভাবে এসেছে, সেটিও তারা জানেন না। ২০২৫ সালের ২৪মে কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, ওইদিন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের দাবি, মামলায় যে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ২৩ এপ্রিল মুহাম্মদ কাশেম হত্যার দিন উত্তেজিত এলাকাবাসী ভেঙে ফেলেছিল। এতে কাশেমের পরিবারের কেউ জড়িত ছিলেন না। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান, আয়েশা বেগম, মমতাজ বেগমসহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয়। তারাও দাবি করেন, ২৪ মে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য, কাশেমকে হত্যার পর তার পরিবারকে চাপে ফেলতে এবং প্রতিশোধ নিতে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে। এরই মধ্যে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন কাশেমের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, তার শাশুড়ি রাশেদা বেগম এবং বেড়াতে আসা মেয়ে নাছিমা আকতার। ফাতেমা বেগমের শাশুড়ি রাশেদা বেগম জানান, ৩১ আগস্ট রাতে মহেশখালী থানা পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে, পুত্রবধূ ফাতেমা বেগম এবং বেড়াতে আসা মেয়ে নাছিমা আকতারকে গ্রেপ্তার করে। তখনই তারা জানতে পারেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পরে ১সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মহেশখালী দুজনকে জামিন দেন। তবে দেড় বছরের শিশুসহ ফাতেমা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। রাশেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে আমাদের বিরুদ্ধেই উল্টো মিথ্যা মামলা করেছে। আমরা জানতেই পারিনি যে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করেছে এবং ওয়ারেন্ট হয়েছে। এখন আমার পুত্রবধূকে কারাগারে পাঠিয়ে আসামিরা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। ফাতেমা বেগমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মাটির দেয়াল ও টিনের চাল দিয়ে তৈরি তিন কক্ষের ছোট্ট একটি ঘর। এই বাড়িতেই তিন সন্তানকে নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন ফাতেমা। ফাতেমার দুই মেয়ে রাজমিন আকতার চতুর্থ শ্রেণিতে এবং মিশকাত জান্নাত প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বর্তমানে তারা কুতুবজোমের তাজিয়াকাটা সুমাইয়া (রা.) এতিমখানায় থাকে। মাকে কাছে না পেয়ে কান্নাকাটি করছে শিশু দুটি। ফাতেমা কারাগারে যাওয়ার পর একদিকে দেড় বছরের শিশুটি মায়ের সঙ্গে কারাগারে, অন্যদিকে দুই শিশু সন্তান এতিমখানায়। স্বামীকে হারানোর পর এবার সন্তানদের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়েছেন ফাতেমা। কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহমুদুল হক বলেন, ২০২৫ সালের ২৪মে কোনো ঘটনা ঘটেনি। কারও ঘরবাড়ি ভাঙচুরও করা হয়নি। কাশেমকে হত্যার পর তার পরিবারকে দুর্বল করতে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় দেড় বছরের শিশুসহ ফাতেমা এখন কারাগারে। আর বাড়িতে ছোট ছোট দুটি শিশু মাকে ছাড়া রয়েছে। কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ কামাল বলেন, ঘটনা জানার পর তিনি ইউপি সদস্যকে এলাকায় পাঠিয়েছিলেন। তার কাছে জানতে পারেন, নিহত কাশেম ও অভিযুক্ত রাসেল আত্মীয়। সামান্য টাকার বিষয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে দলবদ্ধভাবে কবির বাজার থেকে দৌড়ানি দিয়ে ঘরের দরজার সামনে কাশেমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। চেয়ারম্যানের ভাষ্য, এ সময় নিহতের পরিবার শোক পালন করছিলেন। তখন উত্তেজিত লোকজন তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আসামিপক্ষ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, ওই মামলায় গত ১ সেপ্টেম্বর তিনজনকে পুলিশ ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার করে। এ সময় দুজন জামিন পেলেও কোলের সন্তানসহ একজনকে আদালত কারাগারে পাঠান। ওই মামলায় ফাতেমা বেগমের জামিন চাইতে তিনি বিনা ফিতে আদালতে যাবেন। মামলার তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা প্রতুল সেন বলেন, ওসি তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে থানার প্রতিটি মামলার তদন্ত তদারকির দায়িত্ব তার। এই মামলার বিস্তারিত তার মনে নেই। তিনি জেনে পরে জানাবেন। আর সব সাক্ষীর জবানবন্দি যদি একই হয়, আদালতের দৃষ্টিগোচর হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাচ্চাসহ ফাতেমা কারাগারে থাকার বিষয়টি জেনেছি। মামলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আদালতের এখতিয়ারাধীন। আইন তার নিজ গতিতে চলবে। মানবিক দিক বিবেচনা করে ওনাকে (ফাতেমার চাহিদামতে) প্রয়োজনীয় আইনী সহায়তা দিতে জেলা লিগ্যাল এইডের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিকেও বিষয়টি দেখভাল করতে অনুরোধ করা হবে। ডিসি আরো বলেন, এতিমখানায় থাকা ফাতেমার অপর দু'সন্তানের প্রয়োজনীয় দেখভাল করতে মহেশখালীর ইউএনওকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে আগুন, জানালার কাচ ভেঙে ৩০ যাত্রী উদ্ধার

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি এসি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রামুর কলঘর বাজারের পশ্চিমপাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার সময় বাসটিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জানালার কাচ ভেঙে তাদের দ্রুত বের করে আনা হয়। এতে কেউ হতাহত হননি। রামু হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা। কাছাকাছি অবস্থানে থাকায় দ্রুত সেখানে গিয়ে যাত্রীদের বাস থেকে উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে যাত্রীদের মালামালও বাসের ভেতর থেকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। বাসটিতে থাকা একজন যাত্রী বলেন, ‘আমরা কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছিলাম। আমার সিট নম্বর ছিল এইচ-১। ঢাকা যাচ্ছিলাম। গাড়িতে আগুন লাগার বিষয়টি চালক বা হেল্পার আমাদের জানায়নি। প্রথমে পোড়া গন্ধ পাই, পরে আগুন দেখতে পাই। স্থানীয়রা বাসের জানালার গ্লাস ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন।’ আরেক যাত্রী বলেন, ‘আমরা পরিবারের ৭ জন কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলাম। গাড়ির ভেতরে আগুন লাগার পর ধোঁয়া ও গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। স্থানীয়রা জানালার গ্লাস ভেঙে আমাদের বের করে না আনলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।’ তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার পর চালক ও হেল্পারকে তিনি বাসের ভেতরে দেখেননি। রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণে বাসটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর বাসের যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে বাসের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের বের করে আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় বাসটির চালক ও হেল্পার আগুন লাগার পর পালিয়ে গেছেন বলে যাত্রীদের অভিযোগ। তবে তাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। ঘটনার পর সড়কে কিছুসময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।            

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বাসে আগুন, জানালার কাচ ভেঙে ৩০ যাত্রী উদ্ধার

কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘কিসের হাসিনা! তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়।’ তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ তাদের এ ধরনের রাজনীতি গ্রহণ করবে না।শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। তারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। কোনো ধরনের অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা সফল হবে না।এর আগে সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে তিনি কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারে। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।তিনি বলেন, ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রকে শুধু যোগাযোগ ও পর্যটনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, বন্দর, জ্বালানি ও পর্যটনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে যুক্ত করতে হবে।কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে এ জেলা আরও বড় অবদান রাখতে পারে। কক্সবাজারকে দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।একই সঙ্গে পর্যটন উন্নয়নে পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করেই পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। শুধু উঁচু ভবন নির্মাণ করলেই পর্যটনের উন্নয়ন হবে না।কক্সবাজারের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন এলাকাকে ইসিএ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটনের বিকাশে এসব এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে জরিপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে কোথায় এবং কীভাবে পর্যটনের বিকাশ ঘটানো যায়, তা বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।কক্সবাজারে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ বাড়াতে মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ বাড়বে এবং দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্নাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে কক্সবাজারে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে।

কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লটারিতে মিলল নতুন ঠিকানা, ঝুপড়িঘর থেকে ফ্ল্যাটে উঠছে ৭৩০ পরিবার

বহু বছর ধরে পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন কাটানোর পর এবার নতুন ঠিকানায় যাওয়ার অপেক্ষায় শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভীন আক্তার। রিকশাচালক স্বামী মনিরুল আলম ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি উঠতে যাচ্ছেন কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের একটি আধুনিক বহুতল আবাসনের ফ্ল্যাটে।রোববার (২ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ লটারির মাধ্যমে প্রকল্পটির ৭৩০টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মধ্যে এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত পারভীন আক্তার বলেন, "মনে হচ্ছে আমি এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।"একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জেলে রেজাউল করিম। তিনি বলেন, "কোনোদিন ভাবিনি বহুতল ভবনে থাকার সুযোগ পাব। তালিকায় নিজের নাম দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি।"জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ হাজার ১২৮টি পরিবারকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন। এর মধ্যে ১২২টি ভবনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগে ৬০০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। সর্বশেষ লটারির মাধ্যমে আরও ৭৩০টি পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসন করা হবে।প্রকল্পে শুধু আবাসন নয়, বাসিন্দাদের জন্য মসজিদ, মন্দির, সাইক্লোন শেল্টার ও মার্কেটসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন নাগরিক সুবিধাও রাখা হয়েছে।প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজুল ইসলাম বলেন, গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে তারা কাজ করছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষকে আন্তর্জাতিকমানের, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, লটারির মাধ্যমে ৭৩০টি পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পরিবার এখন নিরাপদ ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পাবে। তাদের পুনর্বাসনে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান জানান, প্রকল্প এলাকায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লটারি অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

লটারিতে মিলল নতুন ঠিকানা, ঝুপড়িঘর থেকে ফ্ল্যাটে উঠছে ৭৩০ পরিবার

যে হত্যাকাণ্ডে কেঁদেছিল দেশবাসী, শুধু কান্নার অধিকার ছিল না স্ত্রী-কন্যার

টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় আলোচিত সেই ফোনালাপের অডিও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর শুধু স্বজন হারানোর শোকই নয়, দীর্ঘদিন নিরাপত্তাহীনতা ও নজরদারির মধ্যেও জীবন কাটাতে হয়েছে তাদের। আট বছর পর এ ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে একরামুল হক নিহত হওয়ার আগে মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে তার শেষ কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই অডিওতে তার বড় মেয়ে তাহিয়া হকের প্রশ্ন—“আব্বু, তুমি কান্না করতেছ যে?”—দেশব্যাপী আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তারা টেকনাফ ছেড়ে চট্টগ্রামে চলে যেতে বাধ্য হন। নিরাপত্তার কারণে তারা বর্তমান ঠিকানা প্রকাশ করতে চান না। একরামের স্ত্রী আয়েশা বেগমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন তারা নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের চাপের মুখে ছিলেন। মামলা করার চেষ্টায়ও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। একরামুল হকের স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, একরাম কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং তাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আয়েশা বেগম বলেন, তার স্বামীর হত্যার ন্যায়বিচারই এখন তাদের পরিবারের একমাত্র প্রত্যাশা। তিনি অভিযোগ করেন, যারা তার পরিবারকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চান।

যে হত্যাকাণ্ডে কেঁদেছিল দেশবাসী, শুধু কান্নার অধিকার ছিল না স্ত্রী-কন্যার