মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে কয়েক মাস ধরে চলা আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সমর্থক রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করছেন, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকেও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকায় বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত বিচার আদালতের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল জন্তর মন্তরে মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) আবারও ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, জনপথ, আইটিও, সুপ্রিম কোর্ট, খান মার্কেটসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশন। এর ফলে হাজার হাজার অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেককে দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে, আবার অনেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্যাক্সি বা বিকল্প পরিবহন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অতিরিক্ত মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ফলে দিল্লির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।