যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে যাবে নাকি আবারও যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটবে— সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির হাতে রয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
রোববার (১৯ জুলাই) ইরানি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনী যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে, সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়া। ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি।
তিনি জানান, শনিবার রাতে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দীর্ঘ বৈঠকে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (Islamabad MOU) আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে যাওয়া হবে কি না, কিংবা নতুন করে সংলাপের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না— সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ওপর নির্ভর করছে।”
প্রসঙ্গত, পরমাণু ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয় এবং প্রায় ৪০ দিন পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পরে ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
তবে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা শুরু করে এবং পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ জারির নির্দেশ দেন। এরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ ইসলামাবাদ সমঝোতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
সাক্ষাৎকারে আরাগচি আরও জানান, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার ব্যক্তিগতভাবে এখনো কোনো সাক্ষাৎ হয়নি। কারণ, খুব সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তাই সরাসরি তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।