সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

আলিশান ফ্ল্যাটের দামে ‘সাড়ে তিন হাত মাটি’



আলিশান ফ্ল্যাটের দামে ‘সাড়ে তিন হাত মাটি’
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন অনেকে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন কবরস্থানে একটি কবর ১৫ থেকে ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এই খাত থেকেই গত ছয় বছরে ডিএনসিসির আয় হয়েছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, তাদের আওতায় বনানী, উত্তরা (৪, ১২ ও ১৪ নম্বর সেক্টর), মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এবং রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানসহ মোট ছয়টি কবরস্থান রয়েছে। এসব কবরস্থানে সাধারণ ও সংরক্ষিত—দুই ধরনের এলাকা নির্ধারিত আছে। কবরস্থানের মোট জমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত কবরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।

২০২২ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের মাধ্যমে ১৫ বা ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ করা যায়। বনানী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য এক কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য দেড় কোটি টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে ১৫ বছরের জন্য ৭৫ লাখ ও ২৫ বছরের জন্য এক কোটি টাকা, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে যথাক্রমে ৫০ লাখ ও ৭৫ লাখ টাকা এবং উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে ৩০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা ফি দিতে হয়।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ২০ লাখ ও ২৫ বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকা এবং রায়েরবাজার কবরস্থানে যথাক্রমে ১০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাধারণ এলাকায় দাফন করা কবর সংরক্ষণ করতে বিশেষ অনুমতির পাশাপাশি নির্ধারিত ফির তিনগুণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সংরক্ষিত কবরের আকার হবে দৈর্ঘ্যে ৮ ফুট, প্রস্থে ৪ ফুট এবং উচ্চতা সর্বোচ্চ ৩ ফুট।

একই কবর পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে। কেবল পরিবারের সদস্য—যেমন স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, সন্তান বা সহোদরদের পুনঃদাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। এ জন্য বনানী কবরস্থানে ৫০ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য কবরস্থানে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা ফি দিতে হয়। এছাড়া সংরক্ষণের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়ন না করলে বরাদ্দ বাতিল হতে পারে।

ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কবর সংরক্ষণ, দাফন ও পুনঃদাফন বাবদ মোট ৫৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ, ২০২৩-২৪ সালে ৭ কোটি ২৯ লাখ, ২০২২-২৩ সালে ৭ কোটি ১২ লাখ, ২০২১-২২ সালে ১০ কোটি ৩৬ লাখ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা আয় হয়।

ডিএনসিসি জানায়, প্রতি তিন মাস অন্তর কবর সংরক্ষণের আবেদন পর্যালোচনা করা হয়। আবেদন অনুমোদনের পর নির্ধারিত অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিলে কবর সংরক্ষণের চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, গত ছয় বছরে কতটি কবর সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে এই খাত থেকে ডিএনসিসির মোট আয় হয়েছে ৫৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যার মধ্যে পুনঃদাফনের ফিও অন্তর্ভুক্ত।

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


আলিশান ফ্ল্যাটের দামে ‘সাড়ে তিন হাত মাটি’

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানী ঢাকায় প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছেন অনেকে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন কবরস্থানে একটি কবর ১৫ থেকে ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এই খাত থেকেই গত ছয় বছরে ডিএনসিসির আয় হয়েছে প্রায় ৫৪ কোটি টাকা।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, তাদের আওতায় বনানী, উত্তরা (৪, ১২ ও ১৪ নম্বর সেক্টর), মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এবং রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানসহ মোট ছয়টি কবরস্থান রয়েছে। এসব কবরস্থানে সাধারণ ও সংরক্ষিত—দুই ধরনের এলাকা নির্ধারিত আছে। কবরস্থানের মোট জমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংরক্ষিত কবরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়।

২০২২ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের মাধ্যমে ১৫ বা ২৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণ করা যায়। বনানী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য এক কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য দেড় কোটি টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে ১৫ বছরের জন্য ৭৫ লাখ ও ২৫ বছরের জন্য এক কোটি টাকা, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে যথাক্রমে ৫০ লাখ ও ৭৫ লাখ টাকা এবং উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে ৩০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা ফি দিতে হয়।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ২০ লাখ ও ২৫ বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকা এবং রায়েরবাজার কবরস্থানে যথাক্রমে ১০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাধারণ এলাকায় দাফন করা কবর সংরক্ষণ করতে বিশেষ অনুমতির পাশাপাশি নির্ধারিত ফির তিনগুণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সংরক্ষিত কবরের আকার হবে দৈর্ঘ্যে ৮ ফুট, প্রস্থে ৪ ফুট এবং উচ্চতা সর্বোচ্চ ৩ ফুট।

একই কবর পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে। কেবল পরিবারের সদস্য—যেমন স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, সন্তান বা সহোদরদের পুনঃদাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। এ জন্য বনানী কবরস্থানে ৫০ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য কবরস্থানে ৩০ হাজার ৫০০ টাকা ফি দিতে হয়। এছাড়া সংরক্ষণের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়ন না করলে বরাদ্দ বাতিল হতে পারে।

ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত কবর সংরক্ষণ, দাফন ও পুনঃদাফন বাবদ মোট ৫৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আয় হয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ, ২০২৩-২৪ সালে ৭ কোটি ২৯ লাখ, ২০২২-২৩ সালে ৭ কোটি ১২ লাখ, ২০২১-২২ সালে ১০ কোটি ৩৬ লাখ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা আয় হয়।

ডিএনসিসি জানায়, প্রতি তিন মাস অন্তর কবর সংরক্ষণের আবেদন পর্যালোচনা করা হয়। আবেদন অনুমোদনের পর নির্ধারিত অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দিলে কবর সংরক্ষণের চূড়ান্ত অনুমতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, গত ছয় বছরে কতটি কবর সংরক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেই পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে এই খাত থেকে ডিএনসিসির মোট আয় হয়েছে ৫৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যার মধ্যে পুনঃদাফনের ফিও অন্তর্ভুক্ত।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আলিশান ফ্ল্যাটের দামে ‘সাড়ে তিন হাত মাটি’
0:00 0:00
1.0x