সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

অপ্রতিম হত্যায় পুলিশের বক্তব্যে যে ৩ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি



অপ্রতিম হত্যায় পুলিশের বক্তব্যে যে ৩ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সি স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অপ্রতিমের আইফোনও।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর তুহিন অপ্রতিমকে সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে নিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতিমের নিখোঁজের বিষয়টি তদন্তে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে এবং এ ঘটনায় ফাহাদ ও তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকেও গ্রেফতার করা হয়।

তবে পুলিশের এই বক্তব্যের পরও অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে অন্তত তিনটি প্রশ্নের উত্তর পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।

পুলিশ সুপার জানান, আইফোন উদ্ধারে প্রথমে তুহিন পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়েও ফোনটি না পাওয়ার পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তুহিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

আইফোনই কি হত্যার একমাত্র কারণ?

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় আসামিরা।

তবে পুলিশই জানিয়েছে, অপ্রতিম ও অভিযুক্তদের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ছিল এবং তাদের একসঙ্গে ছবি ও ভিডিওও রয়েছে। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইফোন ছিনতাইয়ের বাইরে অন্য কোনো বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা—তা এখনো তদন্তাধীন।

এদিকে অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় কয়েকজন কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার তথ্য রয়েছে। এ কারণে তাদের কারও সঙ্গে পুরোনো বিরোধ বা ক্ষোভ থেকে অপ্রতিমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

তুহিনের বাসায় আইফোন, পরিবারের কেউ জানতেন?

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের কাছ থেকে নেওয়া আইফোন শেষ পর্যন্ত তুহিনের বাসা থেকেই উদ্ধার হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, ফোনটি বাসায় রাখার বিষয়টি পরিবারের কেউ জানতেন কিনা।

জানলে কেন তা সরানো হয়নি, কিংবা পুলিশের অভিযান শুরুর আগে ফোনটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কিনা—এসব বিষয়ও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

তুহিনের চলাফেরা নিয়ে মায়ের বক্তব্যে ভিন্নতা

অপ্রতিমকে হত্যার সময় নিয়েও পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে তুহিনের মায়ের বর্ণনায় অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।

পুলিশের দাবি, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দার নির্জন বনে অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল তার মাথায় বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

অন্যদিকে তুহিনের মা জানান, সেদিন সে জুমার নামাজ শেষে বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে আবার বাইরে যায়। বিকালের দিকে বাসায় ফিরে মাগরিবের আগে আবার বের হয়। মাগরিবের পরও কিছু সময় বাইরে থাকার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফেরে।

পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে তার বিষয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের কথাও জানান তিনি।

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অপ্রতিম হত্যায় পুলিশের বক্তব্যে যে ৩ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

প্রকাশের তারিখ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সি স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, অপ্রতিমের মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অপ্রতিমের আইফোনও।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর তুহিন অপ্রতিমকে সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে নিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অপ্রতিমের নিখোঁজের বিষয়টি তদন্তে তুহিনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে এবং এ ঘটনায় ফাহাদ ও তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার কথা জানায়। পরে ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকেও গ্রেফতার করা হয়।

তবে পুলিশের এই বক্তব্যের পরও অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড নিয়ে অন্তত তিনটি প্রশ্নের উত্তর পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি।

পুলিশ সুপার জানান, আইফোন উদ্ধারে প্রথমে তুহিন পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়েও ফোনটি না পাওয়ার পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তুহিনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

আইফোনই কি হত্যার একমাত্র কারণ?

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় আসামিরা।

তবে পুলিশই জানিয়েছে, অপ্রতিম ও অভিযুক্তদের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ছিল এবং তাদের একসঙ্গে ছবি ও ভিডিওও রয়েছে। ফলে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আইফোন ছিনতাইয়ের বাইরে অন্য কোনো বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা—তা এখনো তদন্তাধীন।

এদিকে অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় কয়েকজন কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার তথ্য রয়েছে। এ কারণে তাদের কারও সঙ্গে পুরোনো বিরোধ বা ক্ষোভ থেকে অপ্রতিমকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নও উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

তুহিনের বাসায় আইফোন, পরিবারের কেউ জানতেন?

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের কাছ থেকে নেওয়া আইফোন শেষ পর্যন্ত তুহিনের বাসা থেকেই উদ্ধার হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, ফোনটি বাসায় রাখার বিষয়টি পরিবারের কেউ জানতেন কিনা।

জানলে কেন তা সরানো হয়নি, কিংবা পুলিশের অভিযান শুরুর আগে ফোনটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কিনা—এসব বিষয়ও তদন্তে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

তুহিনের চলাফেরা নিয়ে মায়ের বক্তব্যে ভিন্নতা

অপ্রতিমকে হত্যার সময় নিয়েও পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে তুহিনের মায়ের বর্ণনায় অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।

পুলিশের দাবি, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দার নির্জন বনে অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল তার মাথায় বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

অন্যদিকে তুহিনের মা জানান, সেদিন সে জুমার নামাজ শেষে বাসায় এসে খাওয়া-দাওয়া করে আবার বাইরে যায়। বিকালের দিকে বাসায় ফিরে মাগরিবের আগে আবার বের হয়। মাগরিবের পরও কিছু সময় বাইরে থাকার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফেরে।

পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করে তার বিষয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের কথাও জানান তিনি।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অপ্রতিম হত্যায় পুলিশের বক্তব্যে যে ৩ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি
0:00 0:00
1.0x