শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
জন্ম নেওয়া নবজাতকের মুখে গোঁফ! সত্যি নাকি এআই’র কারসাজি

জন্ম নেওয়া নবজাতকের মুখে গোঁফ! সত্যি নাকি এআই’র কারসাজি

ইকুয়েডরে জন্ম নেওয়া একটি নবজাতককে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুটির ওপরের ঠোঁটের ঠিক ওপরে গোঁফের মতো দেখতে একটি গাঢ় পশমের আস্তরণ রয়েছে। শিশুটির এই ব্যতিক্রমী ও অস্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও হাজার হাজার মানুষ অনলাইনে শেয়ার করেছেন এবং বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন।  তবে এই ভিডিওটির সত্যতা এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গত ২৩ অক্টোবর ‘মেট্রো ইকুয়েডর’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ভিডিওটির উৎস এবং শিশুটির মুখের এই আপাত পশমের কোনো চিকিৎসাগত ব্যাখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।  ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে যে, শিশুটির ঠোঁটের ওপরের ওই গাঢ় দাগটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বা কোনো সোশ্যাল মিডিয়া ফিল্টারের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে কিনা। আরও পড়ুনআরও পড়ুনফুটবল খেলা দেখতে স্ত্রীকে চেয়ারে বেঁধে রাখলেন স্বামী, এরপর... বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতকদের শরীরে অনেক সময় ‘লানুগো’ নামক হালকা ও নরম লোম থাকতে পারে, যা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে জন্মের পরপরই মুখে স্পষ্ট গোঁফের মতো এমন গাঢ় পশম গজানোর ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাধারণ নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আরও পড়ুনআরও পড়ুন৩০ বছরেই ৩২ হাজার কোটির মালিক, তবু দিনে কাজ করেন ১৪ ঘণ্টা, কে এই নারী? ফলে এটি কোনো প্রকৃত চিকিৎসাগত ঘটনা হওয়ার চেয়ে ডিজিটাল কারসাজি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।  সব মিলিয়ে, ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নাকি নিছকই ডিজিটাল সম্পাদনার ফল, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।  তবে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিডিওটি পুরোপুরি ভুয়া এবং ডিজিটালভাবে কারসাজি করা। ভিডিওটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর মাথা এবং মুখভঙ্গির সঙ্গে গোঁফটি স্বাভাবিকভাবে মানাচ্ছে না। শিশুটি নড়াচড়া করার সময় গোঁফের আশপাশে সামান্য ঝিকিমিকি বা ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।  এ ছাড়া হাসপাতালের ঘরের চারপাশের আলো এবং শিশুর ত্বকের ওপর পড়া ছায়ার সঙ্গে গোঁফের আলো বা ছায়ার কোনো মিল নেই। এর গঠন ও আলো বেশ অসঙ্গতিপূর্ণ। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই ঘটনার পক্ষে কোনো হাসপাতাল, চিকিৎসক, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট রেকর্ড বা শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

নতুন ভাইরাস তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই! বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের বিরুদ্ধে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস তৈরি করেছেন গবেষকেরা। পরীক্ষাগারে এসব ভাইরাস পুনরুৎপাদনও করা সম্ভব হয়েছে। তবে এ সাফল্য একই সঙ্গে জৈব নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ক্ষতিকর জীবাণু বা জৈব অস্ত্র তৈরির চেষ্টা হতে পারে।গবেষণাটিতে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি এআই মডেল ইভো১ (Evo1) ও ইভো২ (Evo2) ব্যবহার করা হয়েছে। প্রচলিত ভাষাভিত্তিক এআই মডেলের মতো শুধু শব্দ বা বাক্য বিশ্লেষণের পরিবর্তে এসব মডেলকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ ও মানুষের জেনেটিক কোডের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ও অনুমান করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।গবেষণায় ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে পারে এমন ব্যাকটেরিওফাজ নামে পরিচিত ভাইরাসের শত শত নকশা তৈরি করে এআই। এর মধ্যে ১৬টি নকশা পরীক্ষাগারে সফলভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে।গবেষকদের মতে, এ ধরনের নতুন ব্যাকটেরিওফাজ তৈরির সক্ষমতা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর না হলে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে ব্যাকটেরিওফাজ ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে গবেষণা চলছে।স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হি বলেন, জেনারেটিভ এআই দিয়ে জটিল জৈবিক নকশা তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সম্পূর্ণ জিনোমের নকশা তৈরি এবং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যা পুনরুৎপাদন করতে পারে ও কোষের ভেতরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—এটি গবেষকদের জন্য নতুন একটি ক্ষেত্র।তবে গবেষণার ফলাফল নিয়ে সতর্ক করেছেন জৈব নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এআইয়ের মাধ্যমে নতুন ভাইরাল জিনোম তৈরি করার সক্ষমতা এখন আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নয়; বরং প্রযুক্তিটিকে কীভাবে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।গবেষণাসংশ্লিষ্ট এক মন্তব্যে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডা. টমাস ইংলেসবি ও ডা. মরিটজ হাঙ্কে বলেন, এই গবেষণা জরুরি জৈব নিরাপত্তা ও বায়োসিকিউরিটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এমন নতুন ভাইরাস তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আরও কঠোর সতর্কতা প্রয়োজন।গবেষকেরা অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁদের পরীক্ষায় মানুষের মতো জটিল জীবকে সংক্রমিত করতে পারে এমন ভাইরাসকে এআইয়ের প্রশিক্ষণ ডেটাসেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। গবেষণাটি শুধু ব্যাকটেরিওফাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় এবং সব পরীক্ষা করা হয়েছে নিয়ন্ত্রিত ও সুরক্ষিত গবেষণাগারে।গবেষক ব্রায়ান হি আরও জানান, প্রযুক্তিটির ব্যবহার যাতে ইতিবাচক উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে।তবে এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এমন এআই মডেল, যেগুলো জটিল কাজ নিজের মতো করে সম্পন্ন করতে পারে, সেগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।সব মিলিয়ে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এআই দিয়ে জীববৈজ্ঞানিক নকশা তৈরির এই সক্ষমতা প্রযুক্তির অপব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে এনেছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণায় বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পাশাপাশি কঠোর জৈব নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন ভাইরাস তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে এআই! বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা