রান্না ঘরে গ্যাস লিক করলে কীভাবে বুঝবেন?
আজকাল অধিকাংশ বাড়িতে এলপিজি গ্যাসে রান্না করা হয়। গ্যাস সংকটের সময়ে এলপিজি গ্যাস বড় ভরসা। তবে এ গ্যাস ব্যবহারে সচেতন থাকা উচিত। নানা কারণেই গ্যাস লিক করতে পারে। সিলিন্ডার, রেগুলেটর কিংবা গ্যাসের পাইপে কোনো কারণে লিকেজ হলে সামান্য অসতর্কতাও ডেকে আনতে পারে বড় দুর্ঘটনা। তাই গ্যাস লিকেজের প্রাথমিক লক্ষণগুলো জানা এবং দ্রুত সতর্ক হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
নিউজ১৮-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িতে গ্যাস লিক করছে, এটা বোঝার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র গন্ধ। এলপিজি গ্যাসে বিশেষ ধরনের গন্ধযুক্ত পদার্থ মেশানো থাকে, যাতে গ্যাস বেরিয়ে গেলে সহজেই তা বোঝা যায়। রান্নাঘর বা বাড়ির অন্য কোনো অংশে হঠাৎ এমন তীব্র গন্ধ পেলে বিষয়টি একেবারেই অবহেলা করবেন না।
গ্যাস লিক হলে অনেক সময় সিলিন্ডার, রেগুলেটর বা পাইপের কাছ থেকে হালকা কিংবা জোরে ‘হিসহিস’ শব্দ শোনা যেতে পারে। সিলিন্ডারের ভিতরে উচ্চ চাপে গ্যাস থাকার কারণে লিকেজের জায়গা দিয়ে গ্যাস বেরোনোর সময় এই ধরনের শব্দ তৈরি হয়। তবে সব ক্ষেত্রে শব্দ স্পষ্টভাবে শোনা যাবে এমনটা নয়।
এছাড়াও বেশি পরিমাণে গ্যাস বেরিয়ে গেলে ঘরের বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। ফলে দীর্ঘক্ষণ বদ্ধ জায়গায় থাকলে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা অসুস্থ বোধ করার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
গ্যাস লিকেজের সন্দেহ হলে কোনওভাবেই দেশলাই, লাইটার, মোমবাতি বা অন্য কোনো আগুনের উৎস ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি বৈদ্যুতিক সুইচ অন বা অফ করাও এড়িয়ে চলা উচিত। সম্ভব হলে সতর্কতার সঙ্গে গ্যাসের রেগুলেটর বন্ধ করে জানালা-দরজা খুলে দিতে হবে, যাতে গ্যাস বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে।
গ্যাসের গন্ধ বা লিকেজের সন্দেহ হলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত বাড়ির বাইরে নিরাপদ জায়গায় চলে যেতে হবে। গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা বা জরুরি পরিষেবায় যোগাযোগ করতে হবে। সামান্য সতর্কতাই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঘটনা থেকে বাঁচাতে পারে।