শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টা, স্বামী-স্ত্রী আটক

প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টা, স্বামী-স্ত্রী আটক

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি সেজে নবজাতক চুরির চেষ্টার অভিযোগে এক দম্পতিকে আটক করেছেন হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা। এ সময় তাদের কাছ থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে।সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। আটকরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা গ্রামের মৃত ভোলা মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে তালুককানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। প্রসবের পর নবজাতককে কোলে নিয়ে প্রসূতি বিভাগের ভেতরে অবস্থান করছিলেন শিশুটির দাদি জয়গুন বেওয়া।এ সময় পাশের একটি বেডে থাকা শেফালী বেগম শিশুটিকে কোলে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সরল বিশ্বাসে জয়গুন বেওয়া শিশুটিকে তার কোলে তুলে দেন। কিছুক্ষণ শিশুটিকে আদর করার পর দাদি চিকিৎসকের কাছে যান। এই সুযোগে শেফালী শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী সিরাজুল ইসলাম।বিষয়টি বুঝতে পেরে জয়গুন বেওয়া চিৎকার শুরু করেন। পরে হাসপাতালের নিচে গিয়ে দেখতে পান, শেফালীসহ কয়েকজন শিশুটিকে নিয়ে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। তার চিৎকার শুনে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা এগিয়ে গিয়ে নবজাতকসহ শেফালী ও সিরাজুলকে আটক করেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী লাল মিয়া বলেন, চিৎকার শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নবজাতকসহ ওই নারী ও তার স্বামীকে আটক করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দম্পতির সঙ্গে শিশু চুরির একটি চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। শেফালী বেগম প্রসূতি সেজে হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তার শরীরে বাঁধা অবস্থায় অতিরিক্ত কাপড় পাওয়া গেছে। ওই কাপড় ব্যবহার করে পেট উঁচু করে তাকে প্রসূতি সাজানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।ঘটনার পর হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘নবজাতকসহ আটক দুজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্যাংকে জমা থাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেছে প্রশাসন।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।নিহত ব্যক্তি উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা তৈয়ব আলী সরকার। গত ২৩ জুন তাঁর বড় মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিরা হলেন রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, তার স্বামী হামিদুল ইসলাম এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তৈয়ব আলীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁর ছোট মেয়ে রহিমা বেগম চেক বই চুরি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি তৈয়ব আলী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান এবং তাঁর হিসাব থেকে যেন কোনো অর্থ উত্তোলন করা না হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ করেন।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১৪ মার্চ চিকিৎসার কথা বলে রহিমা বেগম বাবাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বড় মেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিতে চাইলে তাতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে দুই দফায় ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত ১৯ মে রাতে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় বালিশ চাপা দিয়ে তৈয়ব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে দ্রুত তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, মরদেহ উত্তোলনের পর প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন