বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
রমেক হাসপাতালে এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ বেড চালু হবে: ত্রাণমন্ত্রী

রমেক হাসপাতালে এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ বেড চালু হবে: ত্রাণমন্ত্রী

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) বেড চালু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক না থাকায় এত দিন আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে চিকিৎসক পদায়ন হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ বেড চালু করতে পারব। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে রমেক হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সার্ভিস বিল্ডিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘১৭টি বছর জুলুম এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, দেশের প্রত্যেকটা খাতই ধ্বংসের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য খাতকে।’ হাসপাতালের জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই জনবল সংকট। আমরা নিয়োগের মধ্যে চলে গিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেলে এই হাসপাতালের জনবল চাহিদা পূরণের চেষ্টা করব।’ রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গেও কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’ তদন্তে সময় লাগার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা আছে, তাই সময় লাগছে। তবে আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যারা দোষী এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের আইনের আওতায় আনা সবচেয়ে জরুরি।’ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আশা করি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কিছুদিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হবে।’

ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইন ব্যবহারে সতর্কতা

গরমে শরীর সতেজ রাখতে অনেকেই ডাবের পানি পান করেন। অন্যদিকে ডায়রিয়া, বমি কিংবা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে খাবার স্যালাইন বা ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) ব্যবহার করা হয়। তবে দুটির কাজ এক নয়। শরীরের পানিশূন্যতার কারণ ও মাত্রা অনুযায়ী ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইনের ভূমিকা ভিন্ন।ডাবের পানিতে প্রাকৃতিকভাবে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরাইড, ভিটামিন সি, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণে এটি উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে গরমে কিংবা হালকা ব্যায়ামের পর ডাবের পানি শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করতে পারে।তবে পানিশূন্যতার চিকিৎসায় ডাবের পানি সবসময় খাবার স্যালাইনের বিকল্প নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী তৈরি ওআরএসে সোডিয়াম, গ্লুকোজ ও প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে। ফলে ডায়রিয়া, বমি, জ্বর বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে গেলে তা পূরণে খাবার স্যালাইন বেশি কার্যকর।ডায়রিয়া-বমিতে খাবার স্যালাইন কেন জরুরি?ডায়রিয়া বা বমির সময় শরীর থেকে দ্রুত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। এ সময় পানিশূন্যতা তৈরি হলে খাবার স্যালাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা গ্লুকোজ ও সোডিয়ামের নির্দিষ্ট অনুপাত অন্ত্রে পানি শোষণে সহায়তা করে এবং শরীরে হারানো তরল ও লবণের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।ফুড পয়জনিংয়ের ক্ষেত্রেও বমি বা ডায়রিয়ার কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিলে ওআরএস পান করা যেতে পারে। তবে গুরুতর পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।ডায়রিয়ায় ডাবের পানি কি স্যালাইনের বিকল্প?ডায়রিয়ার সময় শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, ডাবের পানির স্বাভাবিক খনিজ উপাদান সবসময় তা পূরণ করতে পারে না। বিশেষ করে সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণে ডাবের পানি খাবার স্যালাইনের সমতুল্য নয়।তাই ডায়রিয়া বা বমির কারণে পানিশূন্যতা হলে খাবার স্যালাইনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। স্যালাইন প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিষ্কার পানিতে মিশিয়ে পান করতে হবে।কারা ডাবের পানি পানে সতর্ক থাকবেন?ডাবের পানিতে পটাশিয়াম থাকায় কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে পান করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি থাকা ব্যক্তি কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শে পটাশিয়াম গ্রহণে বিধিনিষেধ রয়েছে—তাঁদের ডাবের পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।প্যাকেটজাত ডাবের পানি কেনার ক্ষেত্রে এতে অতিরিক্ত চিনি বা অন্য কোনো উপাদান যোগ করা হয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া ভালো।তাহলে কখন কোনটি?সুস্থ মানুষের দৈনন্দিন হাইড্রেশনের জন্য ডাবের পানি একটি ভালো প্রাকৃতিক পানীয় হতে পারে। গরম আবহাওয়া বা হালকা ব্যায়ামের পর এটি পান করা যেতে পারে।অন্যদিকে ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা তৈরি হলে খাবার স্যালাইন বেশি কার্যকর।তবে পানিশূন্যতা না থাকলে অপ্রয়োজনে বারবার খাবার স্যালাইন পান করার প্রয়োজন নেই। গুরুতর পানিশূন্যতা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঘরোয়া ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডাবের পানি ও খাবার স্যালাইন ব্যবহারে সতর্কতা