সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
গাজীপুরে ব্রিফকেসে নারীর খণ্ডিত লাশের ঘটনায় গ্রেফতার মিল্টন

গাজীপুরে ব্রিফকেসে নারীর খণ্ডিত লাশের ঘটনায় গ্রেফতার মিল্টন

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পানিতে ব্রিফকেস ও বস্তায় নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে পানিতে ব্রিফকেসে এক খণ্ড এবং অন্যত্র বস্তায় আরেক খণ্ড অর্ধগলিত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। পিবিআই আরো জানিয়েছে, পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্বে ক্রাইমসিন টিম বিভিন্ন ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। নিহতের নাম ডলি আক্তার ওরফে কালিয়া (৩০)। তিনি মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবইজান গ্রামের সোহেল (৪৪)-এর ছোট বোন। স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় একাই বসবাস করতেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সোহেল অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন। ১২ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলায় পেনাল কোডের ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই দিন পিবিআই গাজীপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে। পিবিআই জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১২ সেপ্টেম্বর ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে মো: মিশন ইসলাম, তার মা বানু আক্তার এবং মিশনের বন্ধু মো: মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেফতার করেন। পিবিআই জানিয়েছে, মিশনের দেখানো মতে তার ঘর থেকে লাশ খণ্ডিত করতে ব্যবহৃত বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপ, স্যুটকেস কেনার সিসিটিভি ফুটেজ, ভিকটিমের জাতীয় পরিচয়পত্র, বাটন মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্ত অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে তামান্না গার্মেন্টসে মিশনের সাথে ডলির পরিচয় হয় এবং তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিরোধ ও আর্থিক বিষয়কে কেন্দ্র করে মিশনের ক্ষোভ তৈরি হয়। তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় গেলে তার মা বানু আক্তারের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। পরে মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন। পিবিআই জানায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিশন ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ডলি ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ২টার দিকে লুঙ্গি দিয়ে গলায় প্যাঁচ দিয়ে ও পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করা হয়। পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর লাশ চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন মিশন স্যুটকেস কিনে বটি ও ব্লেড দিয়ে লাশ কোমর থেকে দুই খণ্ড করেন। পরে মিশন ও তার মা বানু আক্তার মিশনের বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহযোগিতা নেন। তদন্ত সংস্থাটি জানায়, মিশনের বাড়িতে থাকা স্যুটকেস ও বস্তা নিয়ে তারা অটোতে রাজেন্দ্রপুর এবং সেখান থেকে সিএনজিতে ভবানীপুর যায়। পরে ভবানীপুর ব্রিজের ওপর থেকে মিশন ও মিল্টন লাশভর্তি স্যুটকেস ও বস্তা খালে ফেলে দেন। ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।