শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারীকে হত্যা, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

‎ময়মনসিংহে সাথী আক্তার (৩৮) নামের এক নারীকে হত্যা মামলায় হৃদয় মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। ‎‎আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসুদ্দিন এই রায় দেন। আসামির উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আরও বলা হয়, অর্থদণ্ডের টাকা হৃদয়ের সম্পত্তি থেকে আদায় করে নিহতের পরিবারকে প্রদান করতে হবে। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল মামলার রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মোবাইল কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বাগ্‌বিতণ্ডা ঘটে। এরই জেরে হৃদয় মিয়া ছুরিকাঘাত করে সাথী আক্তারকে হত্যা করে।’ ‎মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হৃদয় মিয়া নগরীর জুবলী কোয়াটার এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে। নিহত সাথী আক্তার একই এলাকার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। ‎মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ মে মোবাইলে কল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ২৩ মে রাত ২টার দিকে হৃদয় মিয়া আকুয়া জুবলী কোয়ার্টার এলাকায় ভাড়া বাসায় ঢুকে সাথী আক্তারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাথী আক্তারকে গুরুতর আহতাবস্থায় ফেলে চলে যায় হৃদয়। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাথী আক্তারের বোন শিউলি আক্তার বাদী হয়ে একই এলাকার বাবুল ও হৃদয়ের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে হৃদয়ের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

‘ঘন ঘন তারিখ দিলে কষ্ট হয়, আইনজীবীর ফি দিতে পারি না’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শিক্ষার্থী রাতুল হাসান। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে তিনি সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।জেরা শেষে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের আর্থিক দুর্দশার কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মামলার আসামি সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম। ঘন ঘন শুনানির তারিখ না দেওয়ার জন্য তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে অনুরোধ জানান।কথা বলার অনুমতি নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেদোয়ানুল বলেন, ‘ঘন ঘন তারিখ দিলে আমার খুব কষ্ট হয়। আইনজীবীর টাকাও দিতে পারি না। আর্থিকভাবে তেমন কোনো সঞ্চয়ও নেই। একটু লম্বা বিরতি দিয়ে তারিখ দিলে ভালো হয়।’তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে বেতন পাই, তা খুবই সামান্য। এই টাকা দিয়ে সংসার চালাব, নাকি আইনজীবীর ফি দেব, বুঝতে পারি না।’এ সময় রেদোয়ানুলের আইনজীবী শাহীনুর ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী জানান, তাঁর কাছ থেকে ‘রিজনেবল ফি’ নেওয়া হচ্ছে।এরপর প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আসামির মূল চাওয়া ঘন ঘন শুনানির তারিখ পেছানো নয়; বরং মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়া। অল্প দিনের ব্যবধানে শুনানি হলে বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, ‘রেদোয়ানুলের এই বক্তব্য আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে।’পরে অসমাপ্ত জেরার জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন অন্য কোনো মামলা রাখা হবে না বলেও জানান বিচারক।মামলায় চার আসামিমামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম। পলাতক আসামিরা হলেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চার আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

‘ঘন ঘন তারিখ দিলে কষ্ট হয়, আইনজীবীর ফি দিতে পারি না’

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৬

রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন থানায় ৫৫টি মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৫ জন, লালবাগে ৪৫, ওয়ারীতে ৬৫, মতিঝিলে ৪৭, তেজগাঁওয়ে ৪১, মিরপুরে ১২০, গুলশানে ৯৩ এবং উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে দুটি সুইচ গিয়ার, ২৭ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ২৩১টি ইয়াবা ও পাঁচ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি এনা বাস, একটি ট্রাক, ১৭টি মোটরসাইকেল ও আটটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, অভিযানে ৫৯৭ দশমিক ৭৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার, চোরাই হিসেবে দুই লাখ ৬৭ হাজার টাকা এবং চার ভরি ১৫ আনা ৫ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্য ও বিভিন্ন আলামতসহ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৬

রাজধানীতে কালো ধোঁয়া নির্গমনে ৯১৫ মামলা, সবচেয়ে বেশি মতিঝিলে

রাজধানীতে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গত জুলাই মাসে ৯১৫টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী।ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ ও যানবাহন থেকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কালো ধোঁয়া নির্গমনের দায়ে এসব মামলা করা হয়।ডিএমপির আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মতিঝিল বিভাগে। সেখানে ৩৫৪টি মামলা করা হয়েছে।এ ছাড়া রমনা বিভাগে ৩৪টি, লালবাগে ৪টি, ওয়ারীতে ১৭২টি, তেজগাঁওয়ে ১৩১টি, মিরপুরে ৩৬টি, উত্তরা বিভাগে ১২৮টি এবং গুলশান বিভাগে ৫৬টি মামলা করা হয়েছে।ডিএমপি জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণ রোধে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

রাজধানীতে কালো ধোঁয়া নির্গমনে ৯১৫ মামলা, সবচেয়ে বেশি মতিঝিলে

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্যাংকে জমা থাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেছে প্রশাসন।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।নিহত ব্যক্তি উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা তৈয়ব আলী সরকার। গত ২৩ জুন তাঁর বড় মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিরা হলেন রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, তার স্বামী হামিদুল ইসলাম এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তৈয়ব আলীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁর ছোট মেয়ে রহিমা বেগম চেক বই চুরি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি তৈয়ব আলী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান এবং তাঁর হিসাব থেকে যেন কোনো অর্থ উত্তোলন করা না হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ করেন।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১৪ মার্চ চিকিৎসার কথা বলে রহিমা বেগম বাবাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বড় মেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিতে চাইলে তাতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে দুই দফায় ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত ১৯ মে রাতে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় বালিশ চাপা দিয়ে তৈয়ব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে দ্রুত তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, মরদেহ উত্তোলনের পর প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন