শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
রমেক হাসপাতালে এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ বেড চালু হবে: ত্রাণমন্ত্রী

রমেক হাসপাতালে এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ বেড চালু হবে: ত্রাণমন্ত্রী

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ (নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) বেড চালু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, অ্যানেসথেসিয়ার চিকিৎসক না থাকায় এত দিন আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। ইতিমধ্যে চিকিৎসক পদায়ন হয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে আইসিইউ বেড চালু করতে পারব। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে রমেক হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সার্ভিস বিল্ডিংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী। দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘১৭টি বছর জুলুম এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, দেশের প্রত্যেকটা খাতই ধ্বংসের শেষ প্রান্তে উপনীত হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্য খাতকে।’ হাসপাতালের জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই জনবল সংকট। আমরা নিয়োগের মধ্যে চলে গিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেলে এই হাসপাতালের জনবল চাহিদা পূরণের চেষ্টা করব।’ রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গেও কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে কেউ জড়িত থাকলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’ তদন্তে সময় লাগার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা আছে, তাই সময় লাগছে। তবে আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যারা দোষী এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে যদি কেউ জড়িত থাকে, তাদের আইনের আওতায় আনা সবচেয়ে জরুরি।’ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘আশা করি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কিছুদিনের মধ্যেই অভিযোগপত্র দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কাজ শেষ হবে।’

নিজ জেলায় রাষ্ট্রপতি ফখরুলের প্রথম সফর, উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁও

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সরকারি সফরে জন্মভূমি ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করবেন তিনি। তাঁর আগমন ঘিরে পুরো জেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জা, বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে। প্রিয় নেতাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন স্থানীয়রা। সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ঠাকুরগাঁও নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন, ‘আমাদের ঘরের সন্তান দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন—এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্মরণীয় ও জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ রাষ্ট্রপতির এ সফরে ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য রয়েছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে জামালপুর এলাকায় এ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে জেলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও শহর ও তাঁর যাতায়াতের পথে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় তাঁর প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে গর্ব, আবেগ ও উৎসবের আবহ। চেনা শহর ও চেনা মানুষ এখন অপেক্ষায়—নিজের জেলার সন্তানকে এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে বরণ করে নেওয়ার।

নিজ জেলায় রাষ্ট্রপতি ফখরুলের প্রথম সফর, উচ্ছ্বসিত ঠাকুরগাঁও

যমজ দুই ভাই পেল জিপিএ-৫, প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন

বিদেশ ভ্রমণের প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) নিবন্ধিত সদস্য ট্যুর অপারেটরদের কাছ থেকে বাংলাদেশি টাকায় বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কেনা যাবে।রোববার (৯ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে বৈধ চুক্তি থাকা টোয়াব সদস্যরা গ্রাহকের কাছ থেকে টাকায় অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। পরে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে ওই অর্থের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারীদের কাছে পাঠানো যাবে।নিয়মিত বার্ষিক ভ্রমণ কোটার বাইরে একজন ভ্রমণকারীর জন্য প্রতি ক্যালেন্ডার বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এ ক্ষেত্রে ট্যুর অপারেটরকে ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।এ ছাড়া ভ্রমণকারীর কাছ থেকে লিখিত ঘোষণা নিতে হবে যে, অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে তিনি নির্ধারিত বার্ষিক সীমা অতিক্রম করেননি।তবে ৩ হাজার ডলারের বেশি মূল্যের প্যাকেজ কেনার সুযোগও রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্যাকেজের মূল্য আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে।বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ইনভয়েস, চুক্তি, ভ্রমণসূচি, ভ্রমণকারীদের তালিকা এবং টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করবে এডি ব্যাংক। অর্থ পাঠানোর সাত দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে এ সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে হবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পর্যটন খাতের উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, টাকায় বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ কেনার সুযোগ চালু হওয়ায় গ্রাহকদের জন্য লেনদেন সহজ হবে এবং দেশের আউটবাউন্ড ট্যুরিজম খাত আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

যমজ দুই ভাই পেল জিপিএ-৫, প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন

জুয়ার প্রতিবাদ করে আইসিইউতে কলেজশিক্ষক, স্ত্রীর কোলজুড়ে নবজাতক

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়ে আট দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫)। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গন্ধমরুয়া এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনের জেলা কমিটিতে রয়েছেন।এরই ধারাবাহিকতায় আরিফুল ইসলাম নিজ এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সচেতন করছিলেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গন্ধমরুয়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফুল তাঁদের ডেকে অনলাইন জুয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে বলে সতর্ক করেন। এরপর থেকেই তাঁর ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।এদিকে, আরিফুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গত বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আট দিন ধরে আইসিইউতে আমার ছেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। একদিকে ছেলে, অন্যদিকে ছেলের বউ ও নবজাতক—দুই দিক সামলাতে গিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’তিনি আরও বলেন, ‘সমাজকে আলোকিত করতে গিয়ে আজ আমার ছেলে অন্ধকারে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের কারণে অনেক তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে হামলা বা মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।তাঁদের দাবি, আরিফুল শুধু অনলাইন জুয়া নয়, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতেন। এ কারণে তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে।এ ঘটনায় আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে গত ২ আগস্ট রহিদুলকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার পর আটজন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত রহিদুল পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জুয়ার প্রতিবাদ করে আইসিইউতে কলেজশিক্ষক, স্ত্রীর কোলজুড়ে নবজাতক

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্যাংকে জমা থাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেছে প্রশাসন।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।নিহত ব্যক্তি উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা তৈয়ব আলী সরকার। গত ২৩ জুন তাঁর বড় মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিরা হলেন রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, তার স্বামী হামিদুল ইসলাম এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তৈয়ব আলীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁর ছোট মেয়ে রহিমা বেগম চেক বই চুরি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি তৈয়ব আলী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান এবং তাঁর হিসাব থেকে যেন কোনো অর্থ উত্তোলন করা না হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ করেন।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১৪ মার্চ চিকিৎসার কথা বলে রহিমা বেগম বাবাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বড় মেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিতে চাইলে তাতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে দুই দফায় ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত ১৯ মে রাতে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় বালিশ চাপা দিয়ে তৈয়ব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে দ্রুত তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, মরদেহ উত্তোলনের পর প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন