শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

যাত্রাবাড়ীর দুই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলার তদন্ত শেষে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলায় সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ১০৫ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। মামলা দুটি হলো- নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলা ও বাবুল মৃধা হত্যা মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার দুই উপপরিদর্শক (এসআই) পৃথকভাবে আদালতে অভিযোগপত্র দুটি দাখিল করেন। এ বিষয়ে বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন জানান, শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে গত ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল। এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে। তবে এ মামলায় অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ১০৫ জনের মধ্যে যাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন ও আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সচিব আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক সদস্য ও সাবেক সচিব ফয়েজ আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া ও আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান এবং দৈনিক স্টার লাইনের নির্বাহী সম্পাদক মাঈন উদ্দিন। অন্যদিকে, জুলাই আন্দোলনের সময় রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্র দেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান। এ মামলায় অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন, যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মুন্না, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ড। অব্যাহতির সুপারিশ করা ৩৯ জনের মধ্যে রয়েছেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ ও লুৎফুর রহমান।

শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হককে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো অন্য তিন আসামি হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক আনোয়ার লতিফ খান। মিফতাহ উদ্দিনসহ চার আসামিকে মঙ্গলবার সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অপর আসামিরা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব মাহমুদ। এর আগে গত ২৬ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘কিসের হাসিনা! তার চেহারা কী দেখা গেছে? মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়।’ তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ তাদের এ ধরনের রাজনীতি গ্রহণ করবে না।শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। তারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। কোনো ধরনের অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা সফল হবে না।এর আগে সকালে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে তিনি কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ বিপুল রাজস্ব আয় করতে পারে। সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।তিনি বলেন, ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রকে শুধু যোগাযোগ ও পর্যটনের ক্ষেত্র হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, বন্দর, জ্বালানি ও পর্যটনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে যুক্ত করতে হবে।কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে এ জেলা আরও বড় অবদান রাখতে পারে। কক্সবাজারকে দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।একই সঙ্গে পর্যটন উন্নয়নে পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করেই পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। শুধু উঁচু ভবন নির্মাণ করলেই পর্যটনের উন্নয়ন হবে না।কক্সবাজারের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন এলাকাকে ইসিএ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যটনের বিকাশে এসব এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে জরিপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুনর্বিবেচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে কোথায় এবং কীভাবে পর্যটনের বিকাশ ঘটানো যায়, তা বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক জরিপের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে।কক্সবাজারে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ বাড়াতে মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ বাড়বে এবং দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্নাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে কক্সবাজারে চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগও বাড়বে।

কিসের হাসিনা! মাঝেমধ্যে শুধু আওয়াজ-টাওয়াজ শোনা যায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হাসিনার পরিবারের সবাই ও নিকটাত্মীয়দের বেশির ভাগই নিরাপদে দেশের বাইরে, কে কোথায়

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দেশ ছেড়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও দলীয় সূত্রের তথ্যমতে, তাদের বেশিরভাগ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এছাড়া পরিবারের কয়েকজন সদস্য যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ে রয়েছেন।সরকার পতনের দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশ ছাড়েন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। জানা গেছে, তিনি বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। ওই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে ছিলেন।শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। অপরদিকে, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), যিনি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, বর্তমানে দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন। তার স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার দুই মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। টিউলিপ দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য।পরিবারের বাইরেও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ স্বজনদের অনেকে দেশ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তার ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় রয়েছেন। আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ছাড়েন।যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরে এসেছেন বলে জানা গেছে। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সরকার পতনের আগেই ভারতে যান। তার ছেলে আশিক আবদুল্লাহও তার সঙ্গে রয়েছেন। আরেক ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আবুল খায়ের আবদুল্লাহও সরকার পতনের পর ভারতে চলে গেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।এদিকে, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাদের কলকাতার নিউ টাউন এলাকায় বসবাসের তথ্য বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে রয়েছেন। তবে শেখ সোহেলের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ ছাড়া নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) এবং মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) সরকার পতনের পর আত্মগোপনে যান। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।অন্যদিকে, শেখ হাসিনার স্বজনদের মধ্যে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে তেমন সক্রিয় ছিলেন না। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকেই সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ ও অর্থের বিনিময়ে তারা নিরাপদে দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

হাসিনার পরিবারের সবাই ও নিকটাত্মীয়দের বেশির ভাগই নিরাপদে দেশের বাইরে, কে কোথায়

শেখ হাসিনাকে আর রাখতে চাইছে না ভারত: আসিফ মাহমুদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রাখার মধ্যে ভারতের আর কোনো কূটনৈতিক লাভ নেই। তার দাবি, ভারত সম্ভবত আর শেখ হাসিনাকে রাখতে চাচ্ছে না।বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১-দলীয় ঐক্যের আয়োজিত সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা শুনলাম, ডিসেম্বরে তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশে আসতে চান। আমার মনে হয়, এটি নির্ভরযোগ্য কোনো ঘোষণা নয়। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে কেন্দ্র করে সরকারকে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এটি ভারত সরকারের যোগসাজশে হয়েছে এবং সম্ভবত ভারতও আর শেখ হাসিনাকে রাখতে আগ্রহী নয়।”তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বাংলাদেশ সরকার ভারতকে বারবার জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া না হয়। বর্তমান সরকারও একই অবস্থান বজায় রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।এনসিপির এই নেতা বলেন, ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকেও এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তার ভাষ্য, শেখ হাসিনা যদি ভারত থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তাহলে বাংলাদেশে সেটিকে ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখা হবে। এতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনাকে আর রাখতে চাইছে না ভারত: আসিফ মাহমুদ