মাগুরার মহম্মদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর জমানো প্রায় এক লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক জনপ্রতিনিধি ও এক সরকারি কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী।
জানা গেছে, উপজেলার মৃত আব্দুর রশিদের মেয়ে খুরশিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি তিনি পরিষদের একটি খোলা প্রকোষ্ঠে রাতযাপন শুরু করেন। সেখানে দরজা না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা সংগ্রহ করেন, যাতে একটি দরজা লাগানো যায়।
গত ১০ জুন খুরশিদা বেগম উপজেলা পরিষদের নাজিরখানায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ওই টাকা জমা দিয়ে দরজা লাগানোর অনুরোধ জানান।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী তাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং জমা রাখা টাকা ফেরত নিতে বলেন। কিন্তু তিনি টাকা না নিয়েই চলে যান।
এরপর ইউএনও স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে টাকাগুলো খুরশিদা বেগমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার দুই সপ্তাহ পরও তারা টাকা ফেরত দেননি।
বিষয়টি জানার পর গত ২৪ জুন ওই দুই ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন ইউএনও। নোটিশে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, একজন অসহায় নারীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সন্তোষজনক জবাব না পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, একজন অসহায় নারীর কষ্টার্জিত অর্থও যদি নিরাপদ না থাকে, তবে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।