বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

ভোলায় ব্রিজ ধসে বিচ্ছিন্ন ৫ গ্রামের যোগাযোগ, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ



ভোলায় ব্রিজ ধসে বিচ্ছিন্ন ৫ গ্রামের যোগাযোগ, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

বালুভর্তি ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ খালে পড়ে চালক নিহত; এলজিইডির গাফিলতির অভিযোগ স্থানীয়দের

বিস্তারিত:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় বালুভর্তি একটি ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে স্কুলশিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বর্তমানে খাল পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি ছোট ডিঙি নৌকা।

জানা গেছে, উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ডা. আজাহার উদ্দিন সড়কের পূর্বপাশে চর উমেদ গ্রামের বেতুয়া খালের ওপর প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত ৪৫ মিটার দীর্ঘ আয়রন ব্রিজটি গত ২৩ জুন বালুভর্তি একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় বিকট শব্দে ধসে খালে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক নাঈম নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন হেলপার আলামিন।

ব্রিজটি ধসে পড়ার পর ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজি, চতলা, পাটোয়ারী বাজার, কাজীরবাজারসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আগে যেখানে এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যেত, এখন ঘুরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানায়নি কিংবা ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তাদের দাবি, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে প্রাণহানি ও এমন দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব ছিল।

ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নৌকায় করে স্কুলে যেতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।

তবে লালমোহন উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ব্রিজটি ভারী ট্রাক চলাচলের উপযোগী ছিল না। পানির নিচে ব্রিজের পিলারের অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় ট্রাকের চাপ সহ্য করতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয়দেরও রয়েছে।

স্থানীয়রা দ্রুত ভেঙে পড়া ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ এবং উপজেলার সব ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন ব্রিজ অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


ভোলায় ব্রিজ ধসে বিচ্ছিন্ন ৫ গ্রামের যোগাযোগ, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

বালুভর্তি ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ খালে পড়ে চালক নিহত; এলজিইডির গাফিলতির অভিযোগ স্থানীয়দের

বিস্তারিত:

ভোলার লালমোহন উপজেলায় বালুভর্তি একটি ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে স্কুলশিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বর্তমানে খাল পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি ছোট ডিঙি নৌকা।

জানা গেছে, উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ডা. আজাহার উদ্দিন সড়কের পূর্বপাশে চর উমেদ গ্রামের বেতুয়া খালের ওপর প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত ৪৫ মিটার দীর্ঘ আয়রন ব্রিজটি গত ২৩ জুন বালুভর্তি একটি ট্রাক পার হওয়ার সময় বিকট শব্দে ধসে খালে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকচালক নাঈম নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন হেলপার আলামিন।

ব্রিজটি ধসে পড়ার পর ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজি, চতলা, পাটোয়ারী বাজার, কাজীরবাজারসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের উপজেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আগে যেখানে এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া যেত, এখন ঘুরে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টানায়নি কিংবা ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। তাদের দাবি, যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে প্রাণহানি ও এমন দুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব ছিল।

ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি চিকিৎসাসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন নৌকায় করে স্কুলে যেতে হচ্ছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।

তবে লালমোহন উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানজিলুর রহমান বলেন, ব্রিজটি ভারী ট্রাক চলাচলের উপযোগী ছিল না। পানির নিচে ব্রিজের পিলারের অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় ট্রাকের চাপ সহ্য করতে পারেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিপিপি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয়দেরও রয়েছে।

স্থানীয়রা দ্রুত ভেঙে পড়া ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ এবং উপজেলার সব ঝুঁকিপূর্ণ আয়রন ব্রিজ অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।


বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ



কপিরাইট © ২০২৬ বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ভোলায় ব্রিজ ধসে বিচ্ছিন্ন ৫ গ্রামের যোগাযোগ, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ
0:00 0:00
1.0x