রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
সপরিবারে ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ

সপরিবারে ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ

চাঁদপুরে গ্রাহকদের বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে পিন্টু দাস নামে এক ব্যবসায়ী সপরিবারে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে পিন্টু দাস নিখোঁজ না কি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিন্টু দাসের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। ৫-৬ মাস আগে তিনি চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল তাঁর। সেখানে বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকায় স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দিতেন তিনি। আজ বুধবার পিন্টু দাসের স্বজন ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে জানান, স্ত্রী রিমি, ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাসকে নিয়ে শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন পিন্টু দাস। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আজ বাসায় গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে স্বর্ণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। শহরের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান বলেন, পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলাম। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস আমাকে একদিন পর যেতে বলেন। এরপর জানতে পারি, সপরিবারে তিনি বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন তারাও। বিষয়টি নিয়ে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাসসহ তাঁর পরিবারের ৪ সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানতে পেরেছি। তাঁর কাছে বন্ধক রাখা স্বর্ণ অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ব্যাংকে জমা থাকা প্রায় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্তে আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করেছে প্রশাসন।বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকার একটি কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়।নিহত ব্যক্তি উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামের বাসিন্দা তৈয়ব আলী সরকার। গত ২৩ জুন তাঁর বড় মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিরা হলেন রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার, তার স্বামী হামিদুল ইসলাম এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া।পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তৈয়ব আলীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাঁর ছোট মেয়ে রহিমা বেগম চেক বই চুরি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি তৈয়ব আলী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান এবং তাঁর হিসাব থেকে যেন কোনো অর্থ উত্তোলন করা না হয়, সে বিষয়ে অনুরোধ করেন।মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, চলতি বছরের ১৪ মার্চ চিকিৎসার কথা বলে রহিমা বেগম বাবাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে বড় মেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নিতে চাইলে তাতে বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নিয়ে দুই দফায় ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহারে আরও বলা হয়, অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত ১৯ মে রাতে অন্যান্য আসামিদের সহযোগিতায় বালিশ চাপা দিয়ে তৈয়ব আলীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি গোপন রাখতে দ্রুত তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, মরদেহ উত্তোলনের পর প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাবাকে হত্যার অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, আড়াই মাস পর মরদেহ উত্তোলন