বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
ভূমিকম্পের ৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছরের বৃদ্ধাকে জীবন্ত উদ্ধার

ভূমিকম্পের ৩ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছরের বৃদ্ধাকে জীবন্ত উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার চার দিন পর ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে অন্তত ৭৩ জন নিহত এবং ৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট ভূমিধসে নিতুংলিয়া গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় বাঁশের তৈরি একটি ঘর ধসে পড়লে তার নিচে আটকা পড়েন পলিনা পোবি নামের ওই বৃদ্ধা। তিনি আগে থেকেই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হওয়ায় নড়াচড়া কিংবা কথা বলতে পারছিলেন না। ফলে স্বজনরা কয়েক দিন ধরে তাকে খুঁজে পাননি।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঘটনার চতুর্থ দিনে স্বজনরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পান। কয়েক দিন খাবার ও পানি ছাড়া আটকে থাকার কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।স্থানীয় প্রশাসন এ ঘটনাকে অলৌকিক বলে উল্লেখ করেছে। উদ্ধার করার পর পলিনা পোবিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।এদিকে দ্বীপজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। তারপরও নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্গম এলাকাগুলোতে দ্রুত খাদ্য, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে সামরিক বিমান ও জাহাজ ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯৮ টন ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে।ভূমিকম্পের পর থেকে তিন হাজারের বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষজন শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়।