জুমার দিন মুমিনের করণীয় ৯ আমল
মুসলমানদের কাছে সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমা। পবিত্র কোরআনে এ দিনের নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা রয়েছে। জুমার আজান হলে দুনিয়াবি কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর স্মরণে মসজিদে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।হাদিসে জুমার দিনের বিভিন্ন ফজিলতপূর্ণ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল হলো—গোসল, পরিচ্ছন্ন পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহারজুমার দিন গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও উত্তম পোশাক পরা এবং সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। এরপর মসজিদে গিয়ে অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না দিয়ে নামাজ আদায় এবং খুতবার সময় নীরব থাকা উচিত।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এসব আমল করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সংঘটিত ছোট গুনাহের কাফফারা হয়। (আবু দাউদ: ৩৪৩)আজানের পর বেচাকেনা বন্ধ রাখাজুমার নামাজের আজান হওয়ার পর বেচাকেনা ও দুনিয়াবি কাজকর্ম ছেড়ে আল্লাহর স্মরণে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে।আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনেরা, জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো।’ (সুরা জুমুআ: ৯)আগে আগে মসজিদে যাওয়াজুমার নামাজের জন্য যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, তত বেশি সওয়াবের কথা হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, ফেরেশতারা মসজিদের দরজায় অবস্থান করে আগে আগত মুসল্লিদের নাম ক্রমানুসারে লিখতে থাকেন। (বুখারি: ৯২৯)সুরা কাহফ তিলাওয়াতজুমার দিনে সুরা কাহফ তিলাওয়াত করাও বিশেষ ফজিলতের আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তা পাঠকারীর জন্য আলো হয়ে থাকে। (তারগিব, হাদিস: ১৪৭৩; মুসতাদরাক: ২/৩৯৯)বেশি বেশি দরুদ পড়াজুমার দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার কথাও হাদিসে এসেছে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন অন্যান্য দিনের তুলনায় অধিক পরিমাণে তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করতে। (আবু দাউদ: ১০৪৭)দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনাজুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন আল্লাহর কাছে করা দোয়া কবুল হওয়ার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তাই এ দিনে বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুমিন আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন। (আবু দাউদ: ১০৪৮)