বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
গেটে জং ধরা তালা, কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন এমপি

গেটে জং ধরা তালা, কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন এমপি

আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যখাতের এক করুণ চিত্র দেখতে পেয়েছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র হঠাৎ পরিদর্শনে যান তিনি।  এসময় তিনি গিয়ে দেখেন প্রধান ফটকে জং ধরা তালা ঝুলছে। তবে গেট বন্ধ থাকলেও ভেতরে গল্পগুজবে ব্যস্ত কয়েকজন মাঠকর্মী, এ সময়ে তাদের মাঠে থাকার কথা। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর পাশের ভাঙা দেয়ালের ওপর থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে সেই দেওয়াল টপকে ভেতরে ঢুকেন তিনি। এদিন আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এ চিত্র দেখতে পান তিনি। এসময় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। সাংবাদিকদের অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, গেটে লাগানো তালা দেখে মনে হলো, বহুদিন আগে লাগানো, ইদানিং খোলা হয়নি। তালায় জং ধরে গেছে। এখানে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জনবলও নাই। প্রত্যন্ত এএ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াটা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের পক্ষেই শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়া সহজ নয়। ঢাকায় গিয়েও চিকিৎসা নেওয়া তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। তাই স্থানীয় পর্যায়েই এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম সচল থাকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল সংকটের বিষয়টিও উঠে আসে তার পরিদর্শনে। তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। জানা যায়, এমপির পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভেতরে ছিলেন গাজীপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক হাসান আল মামুন। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পার্শ্ববর্তী আজুগিরচালা গ্রামের বাসিন্দা। এ বিষয়ে হাসান আল মামুন বলেন, আমি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কেউ নই। আমি পরিবার পরিকল্পনা সেক্টরের। তবে ওই কেন্দ্রে কোনো পদে কেউ না থাকায় আমরা পরিবার পরিকল্পনার কর্মীদের নিয়ে মিটিং করি, মাঝে মধ্যে বসি। এ কারণে আমার কাছে চাবি নিয়ে রেখেছি। ওই এলাকার বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ হক বলেন, সাত থেকে আট বছর ধরে এভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পড়ে আছে। কোনো ডাক্তার নেই, কর্মী নেই। ইউনিয়ন পর্যায়ের এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষ।  চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আধুনিকায়ন ও ১০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় এমপি অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ডিও লেটার দিয়েছেন। ডিও লেটার দেওয়ার পর হঠাৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে তিনি গতকাল এমন দৃশ্য দেখতে পান।      

মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিকে ধরে দিল ছাত্রদল নেতা কর্মীরা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজুকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে লালমাটিয়ার মিনা বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার খন্দকার মো. আজিজুল হক আরজু (৬৯) পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর বাড়ি পাবনার আমিনপুরের নাটিয়াবাড়ী এলাকায়। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় মিনা বাজারের সামনে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা আরজুকে আটক করেন। পরে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটকের সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি সামান্য আঘাত পান। মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ জানিয়েছে, আরজু হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। আটকের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পুলিশি প্রহরায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপিকে ধরে দিল ছাত্রদল নেতা কর্মীরা

দেবিদ্বারে বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে এমপির অভিযোগ, ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা চেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি নীতিমালা না মানার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে তিনি এ দাবি জানান। পরে চিঠিটি ‘জবাবদিহিতা’ পেজে পোস্ট করা হয় এবং এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেবিদ্বারের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনায় তিনি দাবি করেন, উপজেলার কোনো বেসরকারি হাসপাতালই সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক নীতিমালা ও ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করছে না। চিঠিতে তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) হালনাগাদ লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অনুমোদিত বেডের দ্বিগুণের বেশি বেড স্থাপন, প্রয়োজনীয় ডিগ্রি ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ছাড়াই সার্জারি ও সিজার পরিচালনা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ BMDC রেজিস্ট্রেশনধারী চিকিৎসক ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট (SACMO) দিয়ে রোগী দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া চিঠিতে চিহ্নিত দালালের মাধ্যমে রোগী সংগ্রহ, সি-ক্যাটাগরির ল্যাবে অনুমোদন ছাড়া হরমোন ও ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা, TLD ব্যাচ ছাড়া রেডিয়েশন ঝুঁকিতে এক্স-রে করা এবং এক্স-রে কক্ষ বসবাসের জন্য ব্যবহারের মতো অভিযোগও করা হয়েছে। অন্যদিকে, অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে ভাঙা বাথরুম থাকায় সংক্রামক পরিবেশ তৈরি হওয়া, প্রসূতিদের লেবার রুম স্টোররুম হিসেবে ব্যবহার, আলট্রাসনোগ্রাফি ও CBC পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায় এবং ক্যাশ মেমোতে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করার অভিযোগও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ চিঠিতে বলেন, সরকারি প্রামাণ্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও এসব নিয়মবহির্ভূত ও মানহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া উদ্বেগজনক। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে শর্তভঙ্গকারী ও অবৈধ বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে সিলগালাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৫ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এবং এর মধ্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকালে কোনো রোগীর স্বাস্থ্যহানি বা জীবনহানির ঘটনা ঘটলে এর দায় সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এ বিষয়ে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, দেবিদ্বার উপজেলায় দেড় শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে শুধু দেবিদ্বার সদরে রয়েছে অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠান।

দেবিদ্বারে বেসরকারি হাসপাতাল নিয়ে এমপির অভিযোগ, ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা চেয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে চিঠি