ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয়ে বল হাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন মিরাজ। অন্যদিকে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি তাকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী স্পিনারদের মধ্যে বিশেষ তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। ২০১৯ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভারতের কুলদীপ যাদবের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সফরকারী কোনো স্পিনার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন মিরাজ। ২০১৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ উইকেট নেওয়া সফরকারী স্পিনার এখন কুলদীপ যাদব ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এর আগে ২০১০ সালে অ্যাডিলেডে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের স্পিনার গ্রায়েম সোয়ান। শুধু বল হাতেই নয়, ব্যাট হাতেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন মিরাজ। ডারউইন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি। এক টেস্টে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এটি মিরাজের ক্যারিয়ারে চতুর্থবার। বাংলাদেশের হয়ে এমন পারফরম্যান্সের তালিকায় তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬টি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩টি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১১ রান খরচ করে ৯ উইকেট নেওয়া হাসানের এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের কোনো পেসারের এক টেস্টে দ্বিতীয় সেরা বোলিং পরিসংখ্যান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অভিষেক টেস্টেই এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে হাসান মাহমুদ সফরকারী পেসারদের মধ্যেও জায়গা করে নিয়েছেন সেরাদের তালিকায়। অস্ট্রেলিয়ায় অভিষেক টেস্টে কোনো সফরকারী পেসারের এটি তৃতীয় সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। এর আগে ১৯৯০ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম ১১ উইকেট নিয়েছিলেন। একই মাঠে ১৯২৪ সালে ইংল্যান্ডের মরিস টেটও ১১ উইকেট শিকার করেছিলেন। তবে আকরাম এই ১১ উইকেট নিতে ১৬০ রান এবং মরিস টেট ২২৮ রান খরচ করেছিলেন। মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স এবং হাসানের দুর্দান্ত পেস আক্রমণের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ভেঙে পড়ে। ফলে ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টেই ৯ উইকেটের বড় জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেছে বাংলাদেশ।
দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবারও টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ডারউইনে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাচের আগে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় দোয়া চেয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। তিনি লিখেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট ফিরেছে! ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনাদের শুভকামনা ও দোয়া চাই।’অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, আর বাংলাদেশের জয় একটি। সবশেষ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছিল দুই দল।দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরলেও প্রস্তুতি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে তারা। প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে দলের অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতা টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা বাড়িয়েছে।তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ফলকে বড় করে দেখতে রাজি নন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁর বিশ্বাস, প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে মূল লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে দল।শান্ত বলেন, ২৩ বছর আগের দল আর বর্তমান দল এক নয়। প্রস্তুতি ম্যাচে খারাপ দিন যেতেই পারে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে টেস্ট ম্যাচে ভালো করার ব্যাপারে দলের বিশ্বাস রয়েছে।ফলাফল নিয়ে আগেভাগে না ভেবে পাঁচ দিন ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য বলে জানান শান্ত। তাঁর মতে, প্রতিটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ এবং সেশন ধরে ধরে এগিয়ে যেতে হবে। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্টটি ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকেতে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।
ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের হলেও দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিক দল। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ তুলে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে তাইজুল ইসলামের চোট।প্রথম ইনিংসে ১ রানে ২ উইকেট হারানোর পরও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ শেষ পর্যন্ত ৮৭.২ ওভারে ৩৫৫ রানে অলআউট হয়েছে। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। ফলে এখনো ৭৩ রানে পিছিয়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাইজুল ইসলামের চোট। একাদশে থাকলেও দ্বিতীয় দিনে তিনি বোলিং করতে পারেননি।খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানান, প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় বোলিং করা আঙুলে চোট পেয়েছেন তাইজুল। আঙুলে বলের আঘাত লাগায় সেটি ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে এবং পুরো দিন তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। আগামীকাল তার অবস্থা আবার পরীক্ষা করা হবে।তাইজুলের পরিবর্তে আজ বোলিং করেছেন মুশফিক হাসান। একাদশে না থাকলেও বিশেষ অনুমতি নিয়ে তাকে খেলানো হয়। ৪ ওভার বোলিং করে ৩৮ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি তিনি।মুশফিককে খেলানোর বিষয়ে দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল জানান, তাইজুলের চোটের বিষয়টি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের ম্যানেজমেন্ট ও আম্পায়ারদের জানিয়ে মুশফিককে বোলিং করানোর অনুমতি নেওয়া হয়।এর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন টিগ উইলি। ১৭৭ বলে ১৬টি চারসহ ১৩০ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৬ রান আসে উইকেটরক্ষক জেক ডোরানের ব্যাট থেকে।বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল হাসান মাহমুদ। তিনি ৪টি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ দুটি করে এবং সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী একটি করে উইকেট শিকার করেন।দিনের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ক্যাম্পবেল থম্পসনের বলে সাদমান ইসলাম ৭ এবং মুমিনুল হক ৬ রান করে আউট হন। দিনের শেষ পর্যন্ত তানজিদ হাসান তামিম ৭ রানে অপরাজিত আছেন।শেষ দিনে তাইজুল ইসলাম বোলিংয়ে ফিরতে পারেন কি না, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি ৭৩ রানের ঘাটতি পেরিয়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।