সহকর্মীর ছুরির আঘাতে খুন হন রাজমিস্ত্রি কামরুল: পিবিআই
ঢাকার আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে রাজমিস্ত্রি কামরুল খানের পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।নিহত মো. কামরুল খান (৪৪) খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত এলাকার মৃত করিম খানের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। তাঁর কাছ থেকে কামরুলের মোবাইল ফোন এবং হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বুধবার পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।পিবিআই জানায়, কামরুল ও আল-আমিন একই এলাকার বাসিন্দা এবং ছোটবেলা থেকেই পরস্পরের পরিচিত। কাজের সন্ধানে গত ৮ আগস্ট তারা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় আসেন। পরে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দেন।গত ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার ছুরি দিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পিবিআইয়ের দাবি।পরে কামরুলের মরদেহ কক্ষের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে আল-আমিন সেখান থেকে পালিয়ে যান। এরপর তিনি খুলনায় গিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়ার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে।এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। একই দিন খুলনার তেরখাদা থানা এলাকা থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের দাবি, গ্রেপ্তারের পর আল-আমিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।