সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় কটূক্তির অভিযোগে সঞ্জয় কুমার দাস (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে মেহেরপুর শহরের গড়পুকুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। সঞ্জয় মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের হিরণ কুমার দাসের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে সঞ্জয় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ পুলিশের। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে গড়পুকুর এলাকা থেকে সঞ্জয়কে আটক করা হয়। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে সঞ্জয় কুমার দাসকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
নড়াইলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধর্ষণের অভিযোগে মাহবুবুর রহমান (২৫) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মাহবুবুর রহমান নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর সরদারের ছেলে ও নড়াইল পৌরসভার ডুমুরতলা তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। পুলিশ জানায়, গত ২৭ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে ডুমুরতলা তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন ২৮ আগস্ট ওই ঘটনাটি জানাজানি হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে গতকাল (৫ সেপ্টেম্বর) সদর থানার মামলা করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে গিয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ পায় পুলিশ। পুলিশ জানায়, মামলা রজুর ১০ ঘণ্টার মধ্যে নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মাগুরার মহম্মদপুরে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের কানাবিল মাঠে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কানাবিল মাঠের একটি সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি ট্রান্সফরমারটি খুলে ফেলেন। এ সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সকালে স্থানীয় কৃষকেরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে ধানখেতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মহম্মদপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় কাজীবাছা নদীর তীর থেকে ইয়াতুল ইসলাম (৮) নামে এক শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুটি গত দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। নিহত ইয়াতুল ইসলামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বিষ্টুপুর গ্রামে। আজ শনিবার সকালে স্থানীয়রা নদীর তীরে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে বটিয়াঘাটা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার স্কুলে যাওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে কালিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় ইয়াতুল। ধারণা করা হচ্ছে, নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে তার মরদেহ কাজীবাছা নদী হয়ে বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা এলাকায় চলে আসে। বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মারুফ হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে কাজীবাছা নদী ও তেঁতুলতলা এলাকায় এর আগেও একাধিক অজ্ঞাতনামা ও ভাসমান মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ ছয় বাংলাদেশির মরদেহ আজ শনিবার দেশে ফিরছে। এর মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এবং একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে।বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আসবে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, শিশুসন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবুর মরদেহ। অন্যদিকে সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে।শুক্রবার রাতে মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে নিহতদের পাসপোর্ট বাতিলের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে মরদেহগুলো কলকাতা থেকে পেট্রাপোল সীমান্তের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সচালক সাব্বির হোসেন জানান, তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো সীমান্তে নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতে মরদেহগুলো কলকাতার পিস ওয়ার্ল্ডের হিমাগারে রাখা হয়েছে।পৃথক ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য ও দাফনদেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্য ও দাফন পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পৃথক ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হবে। দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর শিশুসন্তান স্বর্ণশীষের সৎকার করা হবে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে বাবা-ছেলের সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ প্রথমে দেবাশীষের বাড়ির সামনে নেওয়া হবে। পরে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় আফসানার বাবার বাড়িতে নেওয়ার পর তাঁদের কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। বাদ মাগরিব থেকে এশার মধ্যে দাফনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মরদেহ দেশে পৌঁছানোর সময়ের ওপর দাফনের সময়সূচি নির্ভর করবে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় নয় বছর আগে আফসানা শারমীনকে বিয়ে করেন দেবাশীষ দত্ত। তাঁদের দুই সন্তান—মহিমা ও স্বর্ণশীষ। সন্তানদের ঘিরেই ছিল তাঁদের সংসার।সরকারি খরচে দেশে ফিরছে মরদেহকলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ শুক্রবার দুপুরে জানিয়েছিলেন, সরকারি খরচে নিহতদের মরদেহ দেশে পৌঁছে দেওয়া হবে। কাগজপত্রের কিছু জটিলতার কারণে শুক্রবার মরদেহ পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরে রাতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার সকালে সড়কপথে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।এদিকে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার রেবতি সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় ভারতে থাকা এক আত্মীয়ের কাছে রেখে সেখানেই শেষকৃত্য করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।চিকিৎসার জন্য গিয়ে কফিনবন্দী হয়ে ফিরছেনগত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুন লেগে দমবন্ধ হয়ে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়সহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে মরদেহগুলো সেখানে রাখা হয়। শুক্রবার রাতে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে কফিনবন্দী মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চলতি মাসের ৩ তারিখ কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছোট ছেলে স্বর্ণশীষকে নিয়ে কলকাতায় যান দেবাশীষ দত্ত। কয়েক দিন পর তাঁর শ্বশুর আকরাম হোসেনও কলকাতায় যান। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া এই পরিবারটির দেশে ফেরার কথা ছিল সুস্থ হয়ে। কিন্তু চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরছেন কফিনবন্দী
দোকানের ঝাঁপ খোলা। সামনে সাজানো চা, পান, বিস্কুট, কেকসহ নানা পণ্য। পাশে চুলার ওপর চায়ের কেটলি। দোকানে প্রয়োজনীয় সবকিছু থাকলেও নেই কোনো দোকানি। চা খেতে বা পণ্য কিনতে আসা মানুষই এখানে ক্রেতা, আবার তাঁরাই বিক্রেতা। নিজের হাতে চা বানিয়ে খাচ্ছেন, পণ্য নিচ্ছেন এবং দাম হিসাব করে ক্যাশবাক্সে রেখে চলে যাচ্ছেন। কেউ প্রয়োজন হলে বাকিও নিচ্ছেন, পরে এসে পরিশোধ করছেন।এভাবেই ব্যতিক্রমী এই দোকানটি চলছে টানা চার বছর ধরে। দোকানটির অবস্থান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানে বসে কয়েক কাপ চা তৈরি করছেন বৃদ্ধ হারুনুর রশিদ। পাশে বেঞ্চে বসে আছেন আরও কয়েকজন। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, তিনিই দোকানি। তবে কিছুক্ষণ পর বোঝা গেল, তিনিও অন্যদের মতোই একজন ক্রেতা। নিজের জন্য চা বানানোর পাশাপাশি সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্যও চা তৈরি করছেন তিনি। চা পান শেষে প্রত্যেকে নিজের বিল হিসাব করে টাকা রেখে চলে যাচ্ছেন।হারুনুর রশিদ বলেন, ‘দোকানে বেশির ভাগ সময় বিক্রেতা থাকেন না। চা খেতে ইচ্ছা করলে এসে নিজেই বানিয়ে নিই। সঙ্গে কেউ থাকলে তার জন্যও বানিয়ে দিই। খাওয়া শেষে যত টাকা বিল হয়, দোকানে রেখে চলে যাই। এই দোকানে কেউ কাউকে পাহারা দেয় না। কিন্তু সবাই নিজের দায়িত্ব বুঝে নেয়।’শুধু হারুনুর রশিদ নন, দোকানে আসা প্রায় সব ক্রেতাই একই নিয়ম মেনে চলেন। আফাঙ্গীর হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘যাঁর যখন প্রয়োজন, তখন তিনিই দোকানদার। পণ্য নিয়ে বা চা খেয়ে দাম রেখে চলে যাচ্ছেন। টাকা না থাকলে পরে এসে পরিশোধ করছেন। চার বছর ধরে এভাবেই চলছে। পণ্য নিয়ে দাম না দেওয়ার ঘটনা সাধারণত ঘটে না। মানুষের সততার ওপরই দোকানটি চলছে।’মানুষের ওপর বিশ্বাস রেখেই শুরুএই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন পাশের ভালকি গ্রামের মৃত মুরাদ আলী মণ্ডলের ছেলে সমসের আলী। তিনিই দোকানটির মালিক।প্রতিদিন সকালে দোকান খুলে চা, বিস্কুট, কেকসহ প্রয়োজনীয় পণ্য সাজিয়ে রাখেন তিনি। চুলায় কেটলি বসিয়ে আগুন জ্বালিয়ে নিজের অন্য কাজে চলে যান। সময় পেলে দুপুরে এসে দোকানের অবস্থা দেখে যান। রাতে ফিরে সারা দিনের বেচাকেনার হিসাব মিলিয়ে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন।সমসের আলী জানান, একসময় তিনি চারাতলা বাজারে অনেকটা সময় কাটাতেন। তখন অন্যের দোকানে বসে না থেকে নিজেই একটি দোকান দেওয়ার চিন্তা করেন। কিন্তু অন্য ব্যবসার কারণে সারাক্ষণ দোকানে বসে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। কর্মচারী রাখার সামর্থ্য বা ইচ্ছাও ছিল না। শেষ পর্যন্ত মানুষের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।সমসের আলী বলেন, ‘সকালে এসে দোকান খুলে পণ্য সাজিয়ে রাখি। চুলা জ্বেলে দিয়ে চলে যাই। যার যখন প্রয়োজন হয়, নিজের মতো করে চা-পান বানিয়ে খান। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা লাভ হয়। মানুষের সততার ওপর ভরসা রেখেই দোকানটি চলছে। মানুষের ওপর এতটা ভরসা করেও কখনো ঠকতে হয়নি।’বিশ্বাস আর সততার গল্পসদর উপজেলার সাধুহাটি এলাকা থেকে চারাতলা বাজারে বেড়াতে আসা আব্দুল খালেকও দোকানটির এই ব্যবস্থা দেখে বিস্মিত। তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা খুবই বিরল। মানুষের প্রতি দোকানির বিশ্বাস আর মানুষের সততা আমাকে মুগ্ধ করেছে। মানুষ সৎ হলে জীবন কত সহজ আর সুন্দর হতে পারে, এখানে এসে সেটাই বুঝলাম।’চার বছর ধরে দোকানটি চলছে কোনো পাহারাদার বা বিক্রেতা ছাড়াই। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, বসছে মানুষের আড্ডা; আর প্রতিদিনের লেনদেনে নীরবে টিকে আছে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সততার এক ব্যতিক্রমী গল্প।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।