মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
‘আমরা খুবই দুঃখিত, তবে সে যেন ভালো থাকে’

‘আমরা খুবই দুঃখিত, তবে সে যেন ভালো থাকে’

লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তে গভীরভাবে আঘাত পেয়েছে তাঁর পরিবার। দীর্ঘ ও গৌরবময় এক অধ্যায়ের সমাপ্তির বেদনার মধ্যেও অবশ্য ছেলের সুখকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মেসির মা সেলিয়া। মেসির অবসরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টিভি অনুষ্ঠান ইনত্রুসোস-এর সঙ্গে বার্তা বিনিময়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সেলিয়া। তিনি জানান, মেসির অবসের বিষয়টি পরিবার আগে থেকেই জানত। তবু আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্তটি সামনে আসার পর কষ্টটা কমেনি। সেলিয়া লিখেছেন, ‘আগে থেকেই জানতাম, তবু পরিবারের সবাই খুবই দুঃখিত।’ আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার সমাপ্তি শুধু সমর্থকদের জন্য নয়, তাঁর পরিবারের কাছেও ভীষণ আবেগের। ১০ নম্বর জার্সিতে বছরের পর বছর দেশের হয়ে খেলে যাওয়া ছেলেকে আর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে দেখতে না পাওয়ার কষ্ট থাকলেও, মায়ের কাছে সবার আগে মেসির ভালো থাকা। সেলিয়ার বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে যেন ভালো থাকে।’ জাতীয় দল থেকে মেসির অবসরের বিষয়টি অবশ্য পরিবারে নতুন কোনো আলোচনা ছিল না। সেলিয়ার ইঙ্গিত, দীর্ঘদিন ধরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত থাকতেন তাঁর বাবা জর্জেও। গত ৮ আগস্ট রোজারিওতে মারা যান জর্জে। বাবাকে হারানোর শোকের মধ্যেই মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার সিদ্ধান্ত পরিবারকে আরও বেশি আবেগাপ্লুত করে তুলেছে। বাবার সঙ্গে এ প্রসঙ্গে হওয়া কথোপকথনের স্মৃতি তুলে ধরে সেলিয়া লিখেছেন, ‘বাবা সব সময় বলতেন, ‘আমি আর খেলব না, তখন কী করব?’ আর সবকিছু একসঙ্গেই ঘটে গেল, অবিশ্বাস্য।’ নিজের বিদায়ী বার্তাতেও বাবার মৃত্যুর পর সিদ্ধান্তটি আরও দৃঢ় হওয়ার কথা জানিয়েছেন মেসি। হাতে লেখা এক চিঠিতে তিনি জানান, জাতীয় দলকে বিদায় বলার এটাই তাঁর জন্য উপযুক্ত সময়। মেসি লিখেছেন, ‘আমি শূন্য হয়ে গেছি, দেওয়ার মতো আমার আর কিছু নেই।’ চিঠির শেষ দিকে নিজের সিদ্ধান্তের পেছনের সময়টিও তুলে ধরেছেন মেসি, ‘আমি এই কথাগুলো লিখেছিলাম ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পর। আজ, আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

প্রথম টেস্টের আগে দোয়া চাইলেন মুমিনুল

দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবারও টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ডারউইনে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ম্যাচের আগে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় দোয়া চেয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। তিনি লিখেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট ফিরেছে! ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনাদের শুভকামনা ও দোয়া চাই।’অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, আর বাংলাদেশের জয় একটি। সবশেষ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছিল দুই দল।দীর্ঘ বিরতির পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরলেও প্রস্তুতি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশ। একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে তারা। প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে দলের অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতা টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা বাড়িয়েছে।তবে প্রস্তুতি ম্যাচের ফলকে বড় করে দেখতে রাজি নন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাঁর বিশ্বাস, প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে মূল লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে দল।শান্ত বলেন, ২৩ বছর আগের দল আর বর্তমান দল এক নয়। প্রস্তুতি ম্যাচে খারাপ দিন যেতেই পারে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে টেস্ট ম্যাচে ভালো করার ব্যাপারে দলের বিশ্বাস রয়েছে।ফলাফল নিয়ে আগেভাগে না ভেবে পাঁচ দিন ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলাই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য বলে জানান শান্ত। তাঁর মতে, প্রতিটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ এবং সেশন ধরে ধরে এগিয়ে যেতে হবে। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্টটি ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকেতে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। 

প্রথম টেস্টের আগে দোয়া চাইলেন মুমিনুল

অস্ট্রেলিয়ায় এবার বাংলাদেশের আরেক দুঃশ্চিন্তা

ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের হলেও দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বাগতিক দল। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ তুলে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে তাইজুল ইসলামের চোট।প্রথম ইনিংসে ১ রানে ২ উইকেট হারানোর পরও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ শেষ পর্যন্ত ৮৭.২ ওভারে ৩৫৫ রানে অলআউট হয়েছে। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৯ রান নিয়ে দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। ফলে এখনো ৭৩ রানে পিছিয়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে তাইজুল ইসলামের চোট। একাদশে থাকলেও দ্বিতীয় দিনে তিনি বোলিং করতে পারেননি।খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানান, প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সময় বোলিং করা আঙুলে চোট পেয়েছেন তাইজুল। আঙুলে বলের আঘাত লাগায় সেটি ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে এবং পুরো দিন তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে। আগামীকাল তার অবস্থা আবার পরীক্ষা করা হবে।তাইজুলের পরিবর্তে আজ বোলিং করেছেন মুশফিক হাসান। একাদশে না থাকলেও বিশেষ অনুমতি নিয়ে তাকে খেলানো হয়। ৪ ওভার বোলিং করে ৩৮ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি তিনি।মুশফিককে খেলানোর বিষয়ে দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবাল জানান, তাইজুলের চোটের বিষয়টি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের ম্যানেজমেন্ট ও আম্পায়ারদের জানিয়ে মুশফিককে বোলিং করানোর অনুমতি নেওয়া হয়।এর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন টিগ উইলি। ১৭৭ বলে ১৬টি চারসহ ১৩০ রান করেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৬ রান আসে উইকেটরক্ষক জেক ডোরানের ব্যাট থেকে।বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল হাসান মাহমুদ। তিনি ৪টি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ দুটি করে এবং সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী একটি করে উইকেট শিকার করেন।দিনের শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ক্যাম্পবেল থম্পসনের বলে সাদমান ইসলাম ৭ এবং মুমিনুল হক ৬ রান করে আউট হন। দিনের শেষ পর্যন্ত তানজিদ হাসান তামিম ৭ রানে অপরাজিত আছেন।শেষ দিনে তাইজুল ইসলাম বোলিংয়ে ফিরতে পারেন কি না, সেটিই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি ৭৩ রানের ঘাটতি পেরিয়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর চ্যালেঞ্জও রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

অস্ট্রেলিয়ায় এবার বাংলাদেশের আরেক দুঃশ্চিন্তা