বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
চাঁদপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা যাত্রী নিহত, আহত ৪

চাঁদপুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা যাত্রী নিহত, আহত ৪

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় জৈনপুর পরিবহনের বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ আরও চার যাত্রী আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে উপজেলার- নারায়ণপুর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সাদিয়া আক্তার (২৩) খাদেরগাঁও ইউনিয়নের গিলাতলী গাজী বাড়ির প্রবাসী ইসমাইল হোসেন গাজীর স্ত্রী। তার তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। আহতরা হলেন অটোরিকশাচালক মো. ফারুক (৪২), যাত্রী মো. জিলানী (৩২), হোসনে আরা (৪৫) ও পারভীন বেগম (৩৭)। তাদের সবার বাড়ি গিলাতলী গ্রামে। তারা পরস্পর আত্মীয়। স্থানীয়রা জানান, ফজরের নামাজের পর সাদিয়া আক্তারসহ চার যাত্রী অটোরিকশায় করে নাগদা গ্রামের এক আত্মীয়ের জানাজায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। নাগদা বড় বাড়ির সামনে অটোরিকশাটি থামানো অবস্থায় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে চালক ও যাত্রীরা আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সাদিয়া আক্তারকে মৃত অবস্থায় নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নুরে আলম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পারভীন বেগম, হোসনে আরা ও জিলানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মতলব দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। হাসপাতালে নিহত নারীর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, দুর্ঘটনার পর জৈনপুর পরিবহনের বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছেন। বাস ও অটোরিকশা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।

সপরিবারে ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ

চাঁদপুরে গ্রাহকদের বন্ধক রাখা স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করে পিন্টু দাস নামে এক ব্যবসায়ী সপরিবারে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে পিন্টু দাস নিখোঁজ না কি আত্মগোপনে রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিন্টু দাসের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। ৫-৬ মাস আগে তিনি চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। মার্কেটের নিচতলায় ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল তাঁর। সেখানে বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম টাকায় স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দিতেন তিনি। আজ বুধবার পিন্টু দাসের স্বজন ও চাঁদপুর শহরের গুয়াখোলা রোডের বাসিন্দা উপমা দে জানান, স্ত্রী রিমি, ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাসকে নিয়ে শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন পিন্টু দাস। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আজ বাসায় গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, পিন্টু দাস স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক নিয়ে টাকা দেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে স্বর্ণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। শহরের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান বলেন, পিন্টু দাসের কাছে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক রেখেছিলাম। পরে টাকা ফেরত দিয়ে স্বর্ণালংকার নিতে গেলে পিন্টু দাস আমাকে একদিন পর যেতে বলেন। এরপর জানতে পারি, সপরিবারে তিনি বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীর বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টু দাসের কাছে বন্ধক রাখার দাবি করেছেন। বন্ধকী স্বর্ণ ফেরত পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন তারাও। বিষয়টি নিয়ে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস বলেন, পিন্টু দাস সপরিবারে আত্মগোপনে থাকলে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাসসহ তাঁর পরিবারের ৪ সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানতে পেরেছি। তাঁর কাছে বন্ধক রাখা স্বর্ণ অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

সপরিবারে ‘নিখোঁজ’ ব্যবসায়ী, বন্ধকী স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ