বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির

আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমির

আট দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। এই দাবিনামা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, এর আগে চট্টগ্রামের লংমার্চ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে এর কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অনুরোধ করব, হতাশ হয়ে মাথা গরম করবেন না। বরং জনতার দাবি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে আট দফা, মনে রাখবেন-এটা ৯ দফা হতে পারে, ১০ দফা হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটা এক দফায়ও পরিণত হতে পারে। এক দফায় যখন পরিণত হবে, তখন কিন্তু পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শিক্ষা নিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিন।’ দাবি মেনে নিতে ব্যর্থ হলে ‘কোনো চোখ রাঙানিতে কাজ হবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুকে পরোয়া করব না।’ জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। ১৮ কোটি মানুষ ১১ দলের সঙ্গে আছে। সেই দাবি আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব।’ ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ছয় দফা দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করেছিল ১১ দলীয় ঐক্য। পরে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হয়ে দাবির সংখ্যা আটটিতে দাঁড়ায়।  

লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চসহ ধারাবাহিক কর্মসূচির ওপর বিএনপি নজর রাখছে। একইসঙ্গে বিরোধী দলের এমন কর্মসূচির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, সংসদে ও রাজনৈতিক বক্তব্যে জবাব দিলেও তারা বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিকে এখনই বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছেন না।  এমনকি পাল্টা কোনো কর্মসূচির কথাও ভাবছেন না বলেও উল্লেখ করেন তারা। সরকারে থেকে বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার চেয়ে সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির নেতারা জানান, সরকার সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। তবে দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জ্বালানি, বিদ্যুৎ–সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠের কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো। লংমার্চসহ এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে তারা।  অপরদিকে বিএনপির কোনো পাল্টা কর্মসূচি নেই। এমতাবস্থায় বিরোধীদের তৎপরতাকে ক্ষমতাসীন দল কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক চর্চার একটা অংশ হিসেবে দেখছি। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার অধিকার সবার আছে। আমরা এটাকে সেভাবেই দেখছি, এর বেশি কিছু না।’ তবে বিএনপির এই অবস্থানকে জামায়াতে ইসলামী ভিন্নভাবে দেখছে।  দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিরোধী দলের কর্মসূচিকে গুরুত্ব না দিলে কি সংসদে প্রতিক্রিয়া দেয়? আমরা মনে করি, সরকারি দলের পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার ক্যাপাসিটি নেই, বিএনপির আগের সেই নৈতিক অবস্থানও নেই।’ জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকটের সমাধান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১–দলীয় জোট ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করে। আজ জোটের রংপুর অভিমুখে লংমার্চ। পর্যায়ক্রমে খুলনা ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর অভিমুখেও একই কর্মসূচি করার ঘোষণা রয়েছে জোটের। এর আগে, প্রথম দফা লংমার্চের বিভিন্ন পথসভা থেকে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা। একাধিক পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানি তেল নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চারদিকে নাই আর নাই শব্দ। ফেনীর মহিপালের পথসভায় সরকারকে আরও সরাসরি আক্রমণ করে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ বিরোধীদের এসব বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি এখন পর্যন্ত সংসদ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যেই সীমিত থাকছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও লংমার্চের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে জ্বালানিসংকটের সমাধানে লংমার্চ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে বলেন, ‘আমরা দেখলাম, একটি বিশাল গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছিল। বাইরে বিভিন্ন মানুষ একটি কথা বলে যে জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না? গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করাই যেত, তাহলে আমরাই সবচেয়ে আগে লংমার্চের আয়োজন করতাম।’ পাশাপাশি বিরোধীদের লংমার্চের সমালোচনা করেছেন সরকারি দলের অন্য নেতারাও। তাদের বক্তব্যে মূলত এই কর্মসূচির যৌক্তিকতা, জ্বালানিসংকটের বাস্তবতা এবং সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়গুলো সামনে আসছে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য, বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির কারণে এখনই এমন কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন না, যার জন্য দলকে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। বিরোধীদের কর্মসূচি নজরে রাখলেও রাজপথে একই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন না তারা। দলটির নেতাদের ধারণা, কর্মসূচি পালন বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার। তবে কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সরকার সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। ফলে আপাতত সরকারি কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে বিরোধীদের মোকাবিলার কৌশলেই থাকছে বিএনপি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক কর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বিরোধীদের কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে না ক্ষমতাসীন দল। দলটির নেতাদের একটি অংশেরও বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বদলেছে। প্রায় দুই দশক বিরোধী রাজনীতিতে থাকার সময় রাজপথের আন্দোলন ছিল দলের প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার। এখন সরকার পরিচালনাই প্রধান দায়িত্ব। তাই বিরোধীদের কর্মসূচির জবাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে যাওয়ার তাগিদ নেই। তবে জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের মতো জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে বিরোধীরা নিয়মিত কর্মসূচি দিতে থাকলে সরকারের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা জনগণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন হতে পারে- বলে দলের ভেতরেই কেউ কেউ মনে করছেন। ক্ষমতায় আসার পর দলীয় সংগঠন কতটা সক্রিয় রয়েছে, সেই প্রশ্নও বিএনপির সামনে আসছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বড় অংশ ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, সংসদ ও প্রশাসনিক কাজে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।  এদিকে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কতটা সক্রিয় হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিরোধী দলগুলো নিয়মিত কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দেওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।  

লংমার্চের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন বিএনপির, নজরও রাখছে

জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি: ডা. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই, দেশও ভালো নেই। বিদ্যুৎ ও সারের সংকট চরমে। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা জনগণের কষ্টের কথা জাতীয় সংসদে বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথা বলতে দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি।’ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের একটি স্থানীয় মাদ্রাসা মাঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে ডা. শফিকুর রহমান একই গ্রামের ইসলামি শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠ করেন এবং শহীদ আব্দুল মালেকের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় আব্দুল মালেক গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগস্ট তিনি মারা যান। কবর জিয়ারত শেষে ডা. শফিকুর রহমান স্থানীয় মাদ্রাসায় শহীদ আব্দুল মালেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। জামায়াতের আমিরের আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই মাদ্রাসা মাঠে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান হাত নেড়ে উপস্থিত মানুষের অভিবাদনের জবাব দেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ধুনট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শুক্রবার রাতে বগুড়ায় এসে সার্কিট হাউসে রাত যাপন করেন ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার সকাল সোয়া ৫টার দিকে তিনি সার্কিট হাউস থেকে ধুনটের উদ্দেশে রওনা হন।

জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে নেমেছি: ডা. শফিকুর রহমান

গণভোট অবৈধ হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে: মামুনুল হক

গণভোটকে অবৈধ বলা হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসদরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মামুনুল হক এসব কথা বলেন। মামুনুল হক বলেন, ‘ক্ষমতার মসনদে বসে ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটকে অবৈধ বলেন, এ দুঃসাহস আপনাকে কে দিয়েছে? জনগণের ভোটাধিকারকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করলে জনগণকেই অসম্মান করা হয়। ভালোয় ভালোয় সংস্কার করেন। গণভোট যদি অবৈধ হয়ে থাকে, আপনার সরকারও অবৈধ সরকার।’ লংমার্চকে সরকারকে সতর্ক করার কর্মসূচি উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা যে যাত্রা শুরু করেছি, এটা হলো সরকারকে সতর্ক করার যাত্রা। এই লংমার্চ সরকারকে সজাগ করার লংমার্চ। সরকার যদি সতর্ক না হয়, এবার হলুদ কার্ড দেখানো হবে। এরপর আপনারা প্রত্যেকে আস্তে আস্তে লাল কার্ড প্রস্তুত করবেন। প্রস্তুত থাকবেন তো, ইনশাআল্লাহ।’ মামুনুল হক আরও বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের ক্ষমতার মসনদে কোনো ফ্যাসিবাদ জন্ম নিতে পারবে না। যে বেশি ফ্যাসিবাদী হতে চাইবে, হাসিনা হতে চাইবে, তাকেই হাসিনার পরিণাম বরণ করতে হবে।’ পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

গণভোট অবৈধ হলে বর্তমান সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে: মামুনুল হক

বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জবাসী, আপনাদের কি ২০২৪ সালের কথা মনে পড়ে? স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছেন, মনে পড়ে? আপনাদের সঙ্গে লড়াই করা শহীদ সঙ্গীদের দাবি পূরণ হয়েছে? হয়নি। আর সেই দাবি পূরণ করার জন্যই আমরা রাস্তায় নেমেছি। দাবি পূরণ করেই আমরা ঘরে ফিরব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের রাস্তায় নামার কারণ হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, ’২৪-এর চার্টার বাস্তবায়ন, আপনাদের জুলাই ফিরিয়ে দেওয়া এবং মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করা।’ গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে। প্রতারণা করছে এবং কথা দিয়ে কথার বরখেলাপ করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। ১১ দল আপনাদের পাশে আছে, আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। দেখবেন, ইনশা আল্লাহ আমাদের ঐক্যবদ্ধ এই প্রয়াস, এই চেষ্টা আল্লাহ কবুল করবেন এবং আমরা সফল হয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব, ইনশা আল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই লংমার্চ আজ শুরু হলেও এটি শেষ নয়। আমরা বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় এনপিপি নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমীন, এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, কেন্দ্রীয় খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে: ডা. শফিকুর রহমান

সংসদ ভবনের সামনে জামায়াত-জোটের অবস্থান

গুমের বিচার ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ পুনর্বহালের দাবিতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অবস্থান নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলামোটরে পথসভা করে ১১-দলীয় জোট। এরপর বেলা ৪টায় পদযাত্রা করে সংসদ ভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন তারা। জামায়াত-জোটের এই কর্মসূচির সময় কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট ও সংসদ ভবনের সামনে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পদযাত্রায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারাসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।  এর আগে, বাংলামোটরের সভায় এই কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানান ১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি জানান, সংসদের সামনে পদযাত্রা শেষ হবে। তাদের একটি প্রতিনিধিদল সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেবে বলেও জানান তিনি।  

সংসদ ভবনের সামনে জামায়াত-জোটের অবস্থান

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠক শেষে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।বৈঠক শেষে জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীসহ জোটের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এককভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়। পরে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর অলি আহমদকে জোটের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপিও ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে।১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ