শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
জুয়ার প্রতিবাদ করে আইসিইউতে কলেজশিক্ষক, স্ত্রীর কোলজুড়ে নবজাতক

জুয়ার প্রতিবাদ করে আইসিইউতে কলেজশিক্ষক, স্ত্রীর কোলজুড়ে নবজাতক

মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হয়ে আট দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩৫)। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা গন্ধমরুয়া এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাদক, জুয়া, বাল্যবিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আন্দোলনের জেলা কমিটিতে রয়েছেন।এরই ধারাবাহিকতায় আরিফুল ইসলাম নিজ এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের সচেতন করছিলেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গন্ধমরুয়া গ্রামের রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত।মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আরিফুল তাঁদের ডেকে অনলাইন জুয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হবে বলে সতর্ক করেন। এরপর থেকেই তাঁর ওপর ক্ষোভ তৈরি হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।গত ১ আগস্ট কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আরিফুলের ওপর আগে থেকে ওত পেতে থাকা একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে গুরুতর আহত করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। আট দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি।এদিকে, আরিফুলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গত বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আট দিন ধরে আইসিইউতে আমার ছেলে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছে। একদিকে ছেলে, অন্যদিকে ছেলের বউ ও নবজাতক—দুই দিক সামলাতে গিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি।’তিনি আরও বলেন, ‘সমাজকে আলোকিত করতে গিয়ে আজ আমার ছেলে অন্ধকারে মৃত্যুর প্রহর গুনছে।’নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, রহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের কারণে অনেক তরুণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে হামলা বা মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।তাঁদের দাবি, আরিফুল শুধু অনলাইন জুয়া নয়, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করতেন। এ কারণে তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে।এ ঘটনায় আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে গত ২ আগস্ট রহিদুলকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা করেন।পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার পর আটজন আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত রহিদুল পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।