বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
‘পরমাণু অস্ত্র পেলেই ব্যবহার করবে ইরান’, সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প

‘পরমাণু অস্ত্র পেলেই ব্যবহার করবে ইরান’, সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প

ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হলে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ভয়াবহ প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, পরমাণু অস্ত্র হাতে পেলে ইরান তা ব্যবহার করবে। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিলেও দেশটির সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। রবিবার দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা কি সমস্যা দেখতে চান? শুধু জ্বালানিসংক্রান্ত সমস্যা নয়, প্রাণহানির সমস্যাও? ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পেতে দিন, কারণ তারা এটি ব্যবহার করবে।’ হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘র‍্যাপিড রেসপন্স ৪৭’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এমন সম্ভাবনা আছে।’ তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রেখেছেন তিনি। তেহরানের সঙ্গে ‘সুন্দর, বড় ও চমৎকার একটি চুক্তি’ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান চুক্তিতে সম্মত হলেও সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কি চুক্তিটি মেনে চলবে?’ ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান নীতিগত অবস্থান। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র পেলে তা ‘তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করবে’। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এবং সংকটের কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো। এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে ‘আরেকটি ছোট্ট এপিক ফিউরি’ অভিযানের সম্ভাবনার কথাও বলেছিলেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে সামরিক পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই কঠোর অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করেছেন ট্রাম্প। তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বললেও তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ বন্ধ করেননি তিনি। ফলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ সামরিক সংঘাতের দিকে এগোবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতায় গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘ওয়াও’: ট্রাম্প

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত **‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’**কে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তার মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তারা আরও কার্যকরভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।চুক্তিতে স্বাক্ষর করা তিন দেশের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ‘বড়, সাহসী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন।সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কথা রয়েছে। চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রে যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সামরিক শিল্পে সহযোগিতার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যও এর প্রতি ওয়াশিংটনের ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘ওয়াও’: ট্রাম্প

ইরানে হামলার জন্য ক্ষমা চাইবেন না ট্রাম্প

ইরানে হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলেও এ জন্য কোনো ধরনের ক্ষমা চাইবেন না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে ঠেকাতে এই বাড়তি খরচ মেনে নেওয়া উচিত।শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, তেলের জন্য তাদের কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য এই বাড়তি খরচ গ্রহণযোগ্য।ট্রাম্প বলেন, ইরানকে তিনি ‘বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় মদদদাতা দেশ’ মনে করেন। তার ভাষ্য, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল এবং এ জন্য তিনি কখনো ক্ষমা চাইবেন না।তিনি বলেন, বর্তমানে এক গ্যালন জ্বালানির জন্য প্রায় ৪ ডলার খরচ করতে হচ্ছে, যা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন। বরং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।এর আগে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, জ্বালানির দাম কম রাখা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা—দুটি বিষয়ই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন জ্বালানির গড় দাম ৪ ডলারের বেশি। এক বছর আগে একই সময়ে এই দাম ছিল প্রায় ৩ ডলারের কাছাকাছি। তবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে ট্রাম্প যতটা স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন, সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে তেমনভাবে দেখছেন না। একটি জরিপে ৭৪ শতাংশ আমেরিকান জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে মানুষের জীবন ও অর্থের যে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তার যথেষ্ট যৌক্তিকতা তারা দেখছেন না।

ইরানে হামলার জন্য ক্ষমা চাইবেন না ট্রাম্প