মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
‘তৈফুন ব্লক-৪’ বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

‘তৈফুন ব্লক-৪’ বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

তুরস্কের তৈরি নতুন ‘তৈফুন ব্লক-৪’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে তেল আবিবে নতুন করে কৌশলগত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তুর্কি ভাষার 'তৈফুন' অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় নামের এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার। তৈফুনের সরাসরি আঘাত হানার ক্ষমতার আওতায় এখন গোটা ইসরাইল। মিডলইস্ট মনিটর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জানায়, তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা রকেটসান নির্মিত ৭.২ টন ওজনের এবং ১০ মিটার দীর্ঘ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় আকারে অনেক বড় ও ভারী। এটি তার উড্ডয়নের শেষ পর্যায়ে গিয়ে গতিপথ পরিবর্তন বা ম্যানুভার করতে সক্ষম, ফলে প্রচলিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। ক্ষেপণাস্ত্র্টি মূল লক্ষ্যবিন্দু থেকে সর্বোচ্চ ৫ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে গিয়ে আঘাত করতে পারে। সামরিক প্রযুক্তির পরিভাষায় এই সক্ষমতাকে অত্যন্ত নিখুঁত এবং কার্যকর লক্ষ্যভেদ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি প্রতি ঘণ্টায় শব্দের গতির সাড়ে পাঁচ গুণেরও বেশি বা মাক ৫.৫-এর উপরে । কোনো ধরনের মার্কিন বা ইউরোপীয় অনুমোদন ছাড়াই স্বাধীনভাবে কৌশলগত হামলা চালানোর এই ক্ষমতা তুরস্কের সামরিক শক্তিতে এক বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির তাত্ত্বিক পাল্লার মধ্যে পুরো ইসরায়েল অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, ইসরায়েলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা আপাতত এই ঝুঁকিকে কিছুটা খাটো করেই দেখছেন। তাদের মতে, অ্যারো-২, অ্যারো-৩ এবং ডেভিডস স্লিং সমন্বিত ইসরায়েলের বহুমাত্রিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের তৈরি উন্নত বালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার লক্ষ্যেই তৈরি। তা ছাড়া তুরস্ক একটি ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্র এবং এনপিটিতে স্বাক্ষরকারী। তাছাড়া তৈফুন কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়, বরং এটি সাধারণ বা প্রচলিত যুদ্ধাস্ত্র বহন করায় এর ধ্বংসক্ষমতাও সীমাবদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের অবনতিশীল কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে তেল আবিবে পৌঁছানোর সামর্থ্য নিয়ে আঙ্কারার এই বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক বাধা প্রদান ও মানসিক মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ। এর পরও ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের সাথে ইসরাইলের সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এখনো খুবই কম, মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘ওয়াও’: ট্রাম্প

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত **‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’**কে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তার মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তারা আরও কার্যকরভাবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।চুক্তিতে স্বাক্ষর করা তিন দেশের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ‘বড়, সাহসী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন।সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ আগস্ট মক্কায় এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির আওতায় তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কথা রয়েছে। চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি স্থল, নৌ, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রে যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সামরিক শিল্পে সহযোগিতার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যও এর প্রতি ওয়াশিংটনের ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘ওয়াও’: ট্রাম্প

প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের টানে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ তুরস্কের টার্কএজিয়ান

ইতিহাস, প্রকৃতি, নীল সমুদ্র ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতির অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তুরস্কের এজিয়ান উপকূলীয় অঞ্চল ‘টার্কএজিয়ান’ (Turkaegean) আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। তুরস্কের পশ্চিম উপকূলজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলকে দেশটির পর্যটন কর্তৃপক্ষ ‘কোস্ট অব হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দের উপকূল’ হিসেবে প্রচার করছে। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখাজুড়ে বিস্তৃত টার্কএজিয়ানে রয়েছে নীল সমুদ্র, প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন, ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্য, বিলাসবহুল রিসোর্ট এবং মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। ফলে সমুদ্রভ্রমণের পাশাপাশি ইতিহাস ও সংস্কৃতির স্বাদ নিতে চাওয়া পর্যটকদের জন্যও অঞ্চলটি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।টার্কএজিয়ানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নির্জন উপসাগর, পাইন বন, জলপাই ও লেবুর বাগান, পাহাড়ঘেরা গ্রাম এবং সমুদ্রতীরবর্তী শহর। পর্যটকদের জন্য রয়েছে ইয়ট ভ্রমণ, সার্ফিং, নৌবিহারসহ বিভিন্ন ধরনের জলক্রীড়ার সুযোগ।হাজার বছরের ইতিহাসের সাক্ষীইতিহাস ও সংস্কৃতির দিক থেকেও টার্কএজিয়ান অত্যন্ত সমৃদ্ধ। প্রায় ৮ হাজার বছর আগে থেকে এ অঞ্চলে মানব বসতির ইতিহাস রয়েছে। এফেসাস, পারগামন, আফ্রোদিসিয়াস, পামুক্কালে-হিয়েরাপোলিস, ট্রয় ও সার্দেস—এই ছয়টি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।এছাড়া প্রাচীন বিশ্বের সাত আশ্চর্যের মধ্যে দুটি—বোদরুমের মাউসোলিয়াম অব হ্যালিকারনাসাস এবং এফেসাসের টেম্পল অব আর্টেমিস—এই অঞ্চলেই অবস্থিত।ইজমির থেকে বোদরুমতুরস্কের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ইজমির টার্কএজিয়ান ভ্রমণের অন্যতম প্রবেশদ্বার। কাছেই রয়েছে চেশমে উপদ্বীপ। সৈকত, আঙুরবাগান, স্থানীয় খাবার এবং বিশ্বখ্যাত উইন্ডসার্ফিং গন্তব্য আলাচাতির জন্য এলাকাটি বিশেষ পরিচিত।এ ছাড়া কুশাদাসি বন্দর, মিলেটাস ও প্রিয়েনের প্রাচীন নিদর্শনও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে।বিলাসবহুল রিসোর্ট, আধুনিক মেরিনা, সাদা রঙের বাড়ি ও মিশেলিন-স্বীকৃত রেস্তোরাঁর জন্য বোদরুমের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী কাঠের পালতোলা নৌযান ‘গুলেট’-এ চড়ে ‘ব্লু ভয়েজ’-এর মাধ্যমে নির্জন দ্বীপ ও উপসাগর ঘুরে দেখার সুযোগও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।বোদরুম দুর্গ ও পানির নিচের প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।প্রকৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারের হাতছানিমারমারিস, গোজেক, দাতচা ও ফেথিয়ে অঞ্চলগুলো স্বচ্ছ নীল জলরাশি, ইয়ট ভ্রমণ, সামুদ্রিক খাবার ও পাহাড়ি প্রকৃতির জন্য পরিচিত। ফেথিয়ের ওলুদেনিজ লেগুন, বাবাদাগ পর্বত থেকে প্যারাগ্লাইডিং এবং ৫৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ লিসিয়ান ওয়ে ট্রেকিং রুট অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।ডালিয়ানের ইজতুজু সৈকতও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। এটি বিলুপ্তপ্রায় লগারহেড সামুদ্রিক কচ্ছপের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল।খাবারেও আলাদা স্বাদটার্কএজিয়ানের আরেকটি আকর্ষণ এর সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতি। ভূমধ্যসাগরীয় খাবারের সঙ্গে স্থানীয় উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি সামুদ্রিক খাবার, জলপাই তেল, তাজা ফল, স্থানীয় পনির ও ঐতিহ্যবাহী তুর্কি রান্না পর্যটকদের ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দেয়।স্থানীয় কৃষক ও শেফদের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা গ্যাস্ট্রোনমিক সংস্কৃতিও অঞ্চলটির পর্যটন আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলছে।ইতিহাস, প্রকৃতি, নীল সমুদ্র, সংস্কৃতি, খাবার ও আধুনিক পর্যটন সুবিধার সমন্বয়ে টার্কএজিয়ান এখন আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে তুরস্কের অন্যতম আকর্ষণীয় অবকাশযাপন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে।

প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের টানে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ তুরস্কের টার্কএজিয়ান