মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
নাটোরে অটোভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে চালক-যাত্রীকে চাপা দিল বাস

নাটোরে অটোভ্যানকে ধাক্কা দিয়ে চালক-যাত্রীকে চাপা দিল বাস

নাটোরে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের চালক ও এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে শহরের বড়হরিশপুর বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—সদর উপজেলার জয়নগর পূর্বপাড়া মহল্লার জমশেদ আলীর ছেলে অটোভ্যান চালক সাব্বির হোসেন (২৩) এবং বড়হরিশপুর ইউনিয়নের রাজিবপুর গ্রামের হাসান আলীর ছেলে ভ্যানযাত্রী সাঈদ হোসেন (৪৫)। স্থানীয়রা জানান, রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী শিশির পরিবহনের একটি বাস বড়হরিশপুর বাইপাস এলাকায় অটোভ্যানটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানচালক ও যাত্রী ছিটকে সড়কে পড়ে যান। পরে বাসটি তাঁদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থলে রেখে চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। পরে পুলিশ বাসটি জব্দ করে। নাটোরের ঝলমলিয়া হাইওয়ে থানার ইনচার্জ জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাসের চালক ও হেলপারকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আজ ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

আন্ডারগ্রাউন্ড বৈদ্যুতিক তারের জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশের কয়েকটি এলাকায় কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।নাটোরে সকাল ৭টা থেকে ১১টাজরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য শনিবার সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বাঘা বাজার, মুর্শিদপুর, উত্তর মিলিকবাঘা, বানিয়াপাড়া ও গাওপাড়া এলাকার আংশিক অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।আড়ানী রোড চত্বরের পোল নম্বর BA-5E-58 থেকে বানিয়াপাড়ার পোল নম্বর BA-5E-80 পর্যন্ত এলাকায় এ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে বলে জানিয়েছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২।সুনামগঞ্জে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধঅন্যদিকে, সুনামগঞ্জে ৩৩/১১ কেভি জিআইএস উপকেন্দ্রের আন্ডারগ্রাউন্ড তারের জরুরি মেরামত ও সংরক্ষণকাজের কারণে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।এ সময়ে সুনামগঞ্জ শহর ও শহরতলির সব গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) সুনামগঞ্জ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ। মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

আজ ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

জলাবদ্ধতা-আবর্জনায় ভাগাড় স্কুলের মাঠ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ২৩৮ শিশু

খেলার মাঠ আছে, কিন্তু খেলতে পারে না ২৩৮ শিশু। বছরের প্রায় ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকা সেই মাঠ এখন পরিণত হয়েছে মশার প্রজননক্ষেত্র ও আবর্জনার ভাগাড়ে। ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। এমন পরিবেশেই পাঠদান চলছে নাটোরের গুরুদাসপুরের রানীগ্রাম-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের কাছিকাটা বাজারসংলগ্ন বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫২ সালে। বিদ্যালয়ের মাঠটি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ায় চারপাশের পানি এসে সেখানে জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বছরের প্রায় ছয় মাস মাঠটি জলাবদ্ধ থাকে।দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় মাঠজুড়ে জন্মেছে আগাছা ও শ্যাওলা। এর সঙ্গে বাজারের বিভিন্ন বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে সেখানে। ফলে শিশুদের খেলাধুলার জায়গাটি এখন অনেকটাই ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।সম্প্রতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে আছে। কোথাও শ্যাওলা, কোথাও ঘাস। পড়ে আছে প্লাস্টিকের বোতলসহ নানা ধরনের আবর্জনা। পচা পানির দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বন্ধ রয়েছে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও নিয়মিত সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি)। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃষ্টি বাড়লে মাঠের পানি বিদ্যালয়ের বারান্দা পর্যন্ত উঠে আসে। পচা পানির দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষেও অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে।দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘মাঠটি কাদা ও পানিতে ডুবে থাকায় শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে সব সময় ভয় ও শঙ্কায় থাকতে হয়। অনেক সময় তারা পড়ে গিয়ে পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট করে ফেলে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে অনেক শিক্ষার্থী চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের এমন দুরবস্থার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের এখানে পাঠাতে আগ্রহী নন। খুবই বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।শুধু মাঠ নয়, বিদ্যালয়ের পুরোনো আধা পাকা টিনশেড ভবনের অবস্থাও নাজুক। চালার বিভিন্ন অংশ ফুটো হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়।গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম আলমাস বলেন, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে শিশুদের কৃমিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জি, চর্মরোগ ও খোস-পাঁচড়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি বালি ভরাটের মাধ্যমে মাঠ সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আওলাদ হোসেন বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং বিদ্যালয়টির সমস্যার বিষয়ে অবগত নন। দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন করে শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হবে।

জলাবদ্ধতা-আবর্জনায় ভাগাড় স্কুলের মাঠ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ২৩৮ শিশু