বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ ঢাকা   
বনশ্রী নিউজ (Banasree News) | সত্যের সন্ধানে প্রতিক্ষণ
Topic Ads 1
রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী সোমবার ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের আশা সফরের প্রথম দিন সোমবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। একই দিন জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আগে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার হ্রাসের বিষয়গুলো সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে। একই দিন প্রধানমন্ত্রী জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। পরে তিনি জাপানের তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও তার দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। জাপানের আরও ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিকালে টোকিওর জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন। সেখানে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব খাতে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে পৃথকভাবে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটি ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন সময়ে উচ্চপর্যায়ের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেন। এসব সফরের ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাবেন। বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে ১২টি অগ্রাধিকার খাতে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত। এতে পরিবহণ ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

হাসপাতালের কক্ষে চিকিৎসকের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আকস্মিক পরিদর্শনকালে এক চিকিৎসককে নিজ কক্ষে ধূমপান করতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই ঘটনায় ওই চিকিৎসককে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশ এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ওই চিকিৎসকের কক্ষও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের এমন আচরণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সরকার প্রধান। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ সময় হাসপাতালে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিডি-প্রতিদিন/বিএম

হাসপাতালের কক্ষে চিকিৎসকের ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ জন শিশু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেয়। পরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে আসন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত রয়েছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। আজকের আয়োজনে শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের স্মারক উপহার প্রদান, স্মরণিকা ‘শৈশব’-এর মোড়ক উন্মোচন এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা বলার কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করবেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যাবেন এবং ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করবেন। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে যুবক আটক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় কটূক্তির অভিযোগে সঞ্জয় কুমার দাস (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে মেহেরপুর শহরের গড়পুকুর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। সঞ্জয় মেহেরপুর সদর উপজেলার গোভিপুর গ্রামের হিরণ কুমার দাসের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে সঞ্জয় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ পুলিশের। ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে গড়পুকুর এলাকা থেকে সঞ্জয়কে আটক করা হয়। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির অভিযোগে সঞ্জয় কুমার দাসকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগে যুবক আটক

দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনের স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশের মানুষদের সব ভালো অর্জনকে সরকার স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’ সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের আজ বৃহস্পতিবার সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এ সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন নয়। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।’ ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, তা করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য তারা সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6aaba3df84fe7" ) ); প্রধানমন্ত্রী জানান, সবার সহযোগিতায় দেশের জন্য ভালো কিছু পরবির্তন করতে চায় সরকার। বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই।’ সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন। এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

দেশের সন্তানদের ভালো অর্জনের স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

একনেকে ১২ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।  অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার সংস্থান করা হবে। সভায় অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রকল্প সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এগুলো হলো—ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বা মেট্রোরেলের লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট), রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং মেট্রোরেলের লাইন-৫ (নর্দান রুট) ও লাইন-১-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প।  রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন) প্রকল্প।  প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (২য় পর্যায়) এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন (১ম সংশোধন) প্রকল্প, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কাজের উন্নত পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতিপূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ, ভাসানচরে গ্রিন বেল্ট স্থাপন ও কক্সবাজারে বনায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন, রংপুর জোনে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু প্রতিস্থাপন, আরডিএ ভবনের সম্প্রসারণ, সিলেট বিভাগের বন্যা পূর্বাভাসের জন্য ডিজিটাল এলিভেশন (থ্রি-ডি) মডেল তৈরি এবং সিলেট-১০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্প। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সরদার এম এ মুহিত এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

একনেকে ১২ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তার সাথে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সঙ্কটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এসময় রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একইসাথে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুতই নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নীতিমালায় এসব রিকশা কোথায় ও কতটুকু চলতে পারবে, যানবাহনের মান ও কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হবে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে চলাচল শুরু করেছে। এতে মানুষের চলাচলে কিছু সুবিধা তৈরি হলেও নানা ধরনের অসুবিধাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং রিকশাচালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি এসব যানবাহন কারিগরি দিক থেকে যথেষ্ট নিরাপদ ও মানসম্মত কি না, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার খুব দ্রুত এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। কোন এলাকায় এবং কতটুকু এসব যান চলাচল করতে পারবে, যানবাহনের মান কেমন হবে এসব বিষয় নীতিমালায় নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে দ্রুত একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মৎস্য খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদীর জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়ামে মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪ জন মৎস্য পেশাজীবী, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে পদক দেওয়া হয়। তিনি বলেন, মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কৃষির বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, মৎস্য খাতও তার অন্যতম। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ডের দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর কথাও তুলে ধরেন তিনি। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে ৪৫৭ জন উপকারভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবে। এ কর্মসূচিতে সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। ফ্যামিলি কার্ডে এত বড় অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অনেক অগ্রাধিকার রয়েছে। তবে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাও সরকারের একটি বড় অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের হাতে যখন অর্থ পৌঁছাবে, তারা সেই অর্থ দ্রুতই বাজারে ব্যয় করবেন। ফলে শুধু উপকারভোগী পরিবার নয়, পুরো অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে। এই অর্থ বাজারে প্রবাহিত হয়ে চাহিদা তৈরি করবে এবং এর ভিত্তিতে নতুন ব্যবসা ও শিল্প গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।  উপদেষ্টা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ব্যয় করা প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতিতে বহুগুণ প্রভাব তৈরি হতে পারে। অর্থের এই প্রবাহের ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও তৈরি হবে। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু দরিদ্র মানুষের হাতে অর্থ তুলে দেওয়ার কর্মসূচি নয়, এর মাধ্যমে একদিকে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবন ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে অর্থনীতিতে চাহিদা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি পরিবারকে আনা হবে। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবার দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও প্রতিবছর এর আওতা বাড়ানো হবে।

ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুতই নীতিমালা প্রণয়ন করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ সফরের জন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাইছে ঢাকা। দিল্লির জবাব পাওয়ার পরই এ বিষয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী অবস্থান নির্ধারণ করা হবে।ঢাকা ও দিল্লির সরকারি সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চায় বাংলাদেশ। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আয়োজন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ। আর বর্তমানে ঢাকা-দিল্লির আস্থার সংকটের অন্যতম প্রধান বিষয় দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা।বাংলাদেশের কূটনীতিকদের মতে, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করলে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট অনেকটাই কমতে পারে। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ঘটনায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।একটি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাচ্ছেন না—এমন কথা বাংলাদেশ বলেনি। বরং সফরের বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।তিনি জানান, ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চায় ঢাকা এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চায়।এ ছাড়া আন্দোলনের পর নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ সময়ে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার সঙ্গে অভিযুক্ত একজনকে ভারতে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। তাকেও বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবি জানানো হয়েছে।সালেহ শিবলী বলেন, এই দুই বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চায় বাংলাদেশ। ভারতের জবাবের ওপর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কখন হতে পারে, সেটিও অনেকটা নির্ভর করছে। তবে বাংলাদেশ সফর বাতিল করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। জবাব পাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

ডিএনসিসি হেরিটেজ রান উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়তে নাগরিকদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ঢাকা হেরিটেজ রান’। শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আয়োজনে রাজধানীর ৪১৬ বছর পূর্তি ও ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়। এতে এক হাজারের বেশি নাগরিক অংশ নেন। মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে হেরিটেজ রানের যাত্রা শুরু হয়। উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। রানটি শাপলা চত্বর থেকে কাকরাইল মোড়, রমনা, শাহবাগ মোড়, কাটাবন মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পলাশী মোড়, লালবাগ কেল্লা ও শহিদনগর মোড় হয়ে সোয়ারিঘাট লঞ্চঘাটে গিয়ে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক রানারকে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে পদক ও সনদ দেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে খেলাধুলার পাশাপাশি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকাকে নিয়ে নাগরিকদের গর্ববোধ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। হেরিটেজ রানে অংশ নিয়ে নগরবাসী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাস্তব চিত্র দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, কোথাও ভালো রাস্তা, কোথাও ভাঙাচোরা রাস্তা, আবার কোথাও বৃষ্টিতে কর্দমাক্ত পথ—এটাই ঢাকার বাস্তবতা। এই বাস্তবতার মধ্যেই নগরবাসীর জীবনযাত্রা আরও সুন্দর করতে হবে। পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসী যত্রতত্র ময়লা না ফেললে এবং ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা সহযোগিতা করলে ঢাকাকে আরও সুন্দর রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিজ নিজ দায়িত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমবারের মতো হেরিটেজ রান আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আয়োজনের ক্ষেত্রে কিছু ভুলত্রুটি থাকতে পারে। ভবিষ্যতে সেগুলো সংশোধন করে প্রতি বছর এ ধরনের আয়োজন করা হবে। পুরান ঢাকাকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি সাইকেল চালানোর জন্য পৃথক লেন এবং হাঁটা ও দৌড়ের উপযোগী পথ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ‘আমার দায়িত্ব আমি পালন করব, আপনার দায়িত্ব আপনি পালন করবেন’—এমন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে ঢাকা শহর আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। থাকছে আরও নানা আয়োজন ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে আগামী ১৬ থেকে ২২ আগস্ট সূত্রাপুরের জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ওপর নির্মিত মঞ্চনাটক নিয়ে নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ২১ আগস্ট খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ এবং সদরঘাটে শত বছরের পুরোনো বিশেষ হেরিটেজ ক্রুজে পর্যটকদের ভ্রমণের আয়োজন রয়েছে। ২২ আগস্ট মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। ২১ থেকে ৩০ আগস্ট ঢাকার বিভিন্ন বিপণিবিতানে ‘দ্য গ্রেট ঢাকা সেল’ এবং একই সময়ে ‘লাভ লেটার টু ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে ঢাকাকে নিয়ে আবেগ ও ভালোবাসার চিঠি আহ্বান করা হবে। এ ছাড়া ২১ থেকে ২৮ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমিতে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত মঞ্চনাটক এবং ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ টেলিভিশনে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো নাটক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্প্রচারের আয়োজন রয়েছে। ২৪ আগস্ট উত্তর ধানমণ্ডির জয়নুল হক শিকদার মহিলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ‘পাখির চোখে হৃদয়ে ঢাকা’ উৎসব প্রদর্শনের আয়োজন করা হবে। ২৮ আগস্ট লক্ষ্মীবাজার থেকে নগরভবন পর্যন্ত ঘোড়ার গাড়ি, রিকশা, ভিনটেজ গাড়ি ও পালকিসহ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ আগস্ট বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হবে। ৩০ আগস্ট লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, বিশেষ ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। ১ সেপ্টেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। ৫ সেপ্টেম্বর আলমগঞ্জ জেটিতে পুরান ঢাকার পঞ্চায়েতি আড্ডার মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের সমাপ্তি হবে। উৎসবকে ঘিরে নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও নগরবাসীকে গর্ব, উৎসাহ ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ আয়োজনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ডিএসসিসি।

ডিএনসিসি হেরিটেজ রান উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)। দিনটি উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ সারা দেশে বিশেষ দোয়া মাহফিল। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কার্যালয়ে একযোগে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বেলা ১১টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে পৃথক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে খালেদা জিয়ার জন্ম। তাঁদের আদিবাড়ি ফেনীতে। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।প্রদত্ত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, ৮০ বছর বয়সে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। খালেদা জিয়ার দুই ছেলের মধ্যে বড় তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো প্রয়াত।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন আজ